বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৭ বাকি অংশ (শেষ)

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ড. মাহজুনসহ সবার চোখে-মুখে বিস্ময়। ডিজিপি মাহির হারুন বলল, ‘তাহলে মিসেস অ্যানোশ আব্দুল্লাহ তার নামের শেষে এই নাম গ্রহণ করেছেন কেন?’ ‘সেটাই তো প্রশ্ন। তিনি মুসলিম হয়ে এ নাম গ্রহণ করেছেন কেন? এ জন্যেই তার ব্যাপারে অনুসন্ধানের কথা আমি বলেছি। হতে পারে, তার পরিচয় আরও আছে। হতে পারে, তিনি ঐ তিনজনের ব্যাপারে যা বলেছেন, গোটাটাই মিথ্যা।’ আহমদ মুসা বলল। ড. মাহজুন মাজহার নীরব। নীরব ডিজিপি মাহির হারুন এবং গোয়েন্দা অফিসারও। গোয়েন্দা অফিসার কানে কানে কি বলল ডিজিপি মাহির হারুনকে। মাহির হারুন বলল, ‘তাহলে তো স্যার আমার গ্রেফতার করতে পারি মিসেস গাজেনকে। গ্রেফতারের জন্যে যথেষ্ট দলিল আমাদের হাতে আছে। আমি সেই কথাই ড. মাহজুন মাজহার স্যারকে বলছিলাম।’ ‘না মি. ডিজিপি, তাকে গ্রেফতার না করে তাকে ফলো করে তার সম্পর্কের সূত্রগুলো বের করাতেই লাভ বেশি। আমরা চাই তার পেছনে কারা আছে, সেটা জানতে। একসময়তো তাকে গ্রেফতার করতেই হবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ স্যার, আমরা এটাই করব। তবে তার বিরুদ্ধে একটা কেস দায়ের...।’ ডিজিপি মাহির হারুনের কথার মাঝখানেই তার ওয়্যারলেস অস্থিরভাবে বিপ বিপ করে উঠল। কথা বন্ধ করে ‘এক্সকিউজ মি স্যার!’ বলে সে ওয়্যারলেস তুলে নিল। ওয়্যারলেস তুলে নিয়ে কথা কিছুটা শুনেই ‘হোল্ড অন’ বলে কলটাকে হোল্ড করে সে আহমদ মুসার দিকে উত্তেজিত কণ্ঠে বলল, ‘স্যার, ঘটনা ঘটেই গেছে, মিসেস গাজেন নিহত হয়েছেন।’ ‘কোথায়?’ দ্রুত প্রশ্ন করল আহমদ মুসা। ‘স্যার, আমাদের পুলিশ তার বাড়ির চারদিকে পাহারা বসিয়েছে। তারাই জানাল, মিসেস গাজেন তার বাগানে কাজ করছিলেন, এ সময় গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। বাগানের পাশে দাঁড়ানো একটা গাড়ি থেকে তাকে গুলি করা হয়। পরপর দু’টি গুলি করার পরই গাড়িটি পালিয়ে যায়।’ বলল ডিজিপি মাহির হারুন। ‘তার বাড়িতে আর কে আছে?’ বলল আহমদ মুসা। ‘একজন পরিচারিকা এবং একজন আয়া ছাড়া তার বাড়িতে আর কেউ নেই। পরিচারিকা বাড়ির কাজকর্ম করে আর আয়া রাঁধা-বাড়াসহ মিসেস গাজেনের স্টাফ হিসেবে কাজ করে।’ বলল ড. মাহজুন মাজহার। ‘মি. ডিজিপি, আত্মীয়ের পরিচয়ে বা অন্য কোন কথা বলে তার বাড়িতে লোক ঢুকতে চেষ্টা করতে পারে। তাদের বাঁধা দিতে হবে। কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়া যাবে না। আর আপনার পুলিশ বাড়িতে ঢুকে পরিচারিকা ও আয়াকেও গ্রেফতার করবে। দরকার হলে আরও পুলিশ যেতে বলুন সেখানে।’ আহমদ মুসা বলল। ডিজিপি তার ওয়্যারলেসের কল অন করে বলল, ‘ওখানে এখন কি অবস্থা?’ ওপারের কথা শুনতে গিয়ে ডিজিপি মাহির হারুনের চোখে-মুখে বিস্ময় ফুটে উঠল। কথা শোনার মাঝখানেই সে বলে উঠল, ‘শোন, বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দেয়া যাবে না। বাড়াবাড়ি করলে গুলি কর। লাশ ওখানেই এখন থাকবে। আর তোমরা কয়েকজন ভেতরে ঢুকে যাও। বাড়িতে পরিচারিকা, আয়া বা যাকে পাও তাকেই গ্রেফতার কর। ওখানে কতজন পুলিশ পৌঁছেছে? দরকার হলে আরও পুলিশ ডেকে নাও। আমিও বলে দিচ্ছি। ওকে। যখন যা হয় আমাকে জানাবে। বাই।’ কথা শেষ করে ডিজিপি তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘স্যার, আপনার কথা ঠিক। আত্মীয়ের পরিচয়ে কয়েকজন লোক এসেছে, তারা বাড়িতে ঢুকতে চাচ্ছে এবং লাশও হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তাদের গ্রেফতার করলে কেমন হয়?’ ‘এতক্ষণে ওরা চলে গেছে। বাঁধা পাওয়ার পর, পুলিশ বলে আঁচ করতে পারলে, এক মুহূর্তও আর তাদের থাকার কথা নয়। গ্রেফতার করলেও খুব একটা লাভ হতো বলে মনে হয় না। ওরা সম্ভবত ভাড়াটিয়া লোক হবে। আমার মনে হয়, ওদের পাঠানো হয়েছিল বাড়ি থেকে কম্পিউটার, ডায়েরি, নোটবই ইত্যাদির মত কিছু জিনিস নিয়ে যেতে, অথবা বাড়ির ঘরগুলো জ্বালিয়ে দিতে।’ কোন কথা না বলে ভ্যানের পুলিশ প্রধান ডিজিপি মাহির হারুন ওয়্যারলেস তুলে নিয়ে যোগাযোগ করল মিসেস গাজেনের বাড়িতে পাহারায় থাকা সংশ্লিষ্ট পুলিশের সাথে। সংযোগ হতেই সে দ্রুত বলল, ‘ওরা যারা বাড়িতে ঢুকতে যাচ্ছিল, তাদের কি খবর?’ শুনল ডিজিপি মাহির হারুন ওপারের কথা। ওপারের কথা শেষ হলে ‘ওকে’ বলে লাইন অফ করেই বলল, ‘স্যার, এবারও আপনি ঠিক বলেছেন। বাঁধা পাওয়ার পরই কিছু একটা সন্দেহ করেই দ্রুত ওরা পালিয়েছে।’ কিছু বলার জন্যে মুখ খুলেছিল আহমদ মুসা। তখনই তার মোবাইল বেজে উঠে তাকে থামিয়ে দিল। ‘এক্সকিউজ মি’ বলে মোবাইল বের করল পকেট থেকে। মোবাইলের স্ক্রীনে কলারের নাম দেখেই মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল আহমদ মুসার। টেলিফোন করেছে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান জেনারেল মোস্তফা কামাল, ইস্তাম্বুলের কাজে আহমদ মুসার সবচেয়ে বড় সাথী। আহমদ মুসা কল অন করেই বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম। হ্যালো জেনারেল মোস্তফা। কেমন আছেন?’ ‘ওয়ালাইকুম সালাম। আমরা ভালো আছি। আমরা খুব খুশি হয়েছি, আমরা আপনাকে যেতে দিলেও তুরস্ক আপনাকে যেতে দেয়নি।’ বলল ওপার থেকে জেনারেল মোস্তফা। ‘হ্যাঁ, সেটাই ঘটেছে জেনারেল। একজন বিপদগ্রস্ত মেয়ের আবেদন আমি উপেক্ষা করতে পারিনি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কি ঘটনা বলুন তো?’ জিজ্ঞাসা ওপার থেকে জেনারেল মোস্তফার। ড. আজদার ইন্টারনেট আপীলের বিষয়টা সংক্ষেপে জানানোর পর বলল, ‘ড. আজদার বলা ঘটনাগুলো আমার কাছে খুব বড় ঘটনার আইসবার্গ বলে মনে হয়েছে। তাই ওদের পাঠিয়ে আমি ভ্যানে যাত্রা বিরতি করেছি।’ ‘যে সব রিপোর্ট এখানে পেয়েছি, তাতে বিষয়টাকে খুব রহস্যপূর্ণ ও বড় কোন বিষয় বলে আমারও মনে হয়েছে। আপনি তো সরেজমিনে আছেন। ব্যাপার কি বলুন তো?’ ‘আমি কাজ সবে শুরু করেছি। এখনও ঘটনার গভীরে যেতে পারিনি। তবে আমি ড. আজদার ইন্টারনেট থেকে যা আঁচ করেছিলাম, তাতে মনে হয়েছিল, আর্মেনিয়ার কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠন এর সাথে জড়িত। কেন জড়িত, কি চায় ওরা এ ব্যাপারটা খুব স্পষ্ট নয় এখনও। এই মাত্র আমরা খবর পেলাম, মিউজিয়ামে ডাকাতির ব্যাপারে আমাদের সামনে এগোবার একমাত্র লিংক পারসনকে ওরা হত্যা করেছে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘বিষয়টা ওখানে খুব জটিল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একটা কথা আপনি বলুন, বিষয়টার সাথে কোন রাজনীতির গন্ধ আছে কিনা।’ ওপার থেকে বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘খুব নিশ্চিত করে বলতে পারবো না। তবে ওদের সকলের বাহুতেই মাউন্ট আরারাতের উল্কি আছে। আর আমি যা মনে করেছি, এদের গোড়া যদি আর্মেনিয়ায় থাকে, তাহলে এর সাথে ধর্ম ও রাজনীতি দুই-ই জড়িত আছে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘এটা একটা খুব বড় ব্যাপার। আমাদের একটা অনুরোধ মি. খালেদ খাকান।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘বলুন মি. জেনারেল।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া যে, আপনি ওখানে হাজির। আমাদের সবার অনুরোধ, ওখানকার বর্তমান বিষয়ে অনুসন্ধানের নেতৃত্ব আপনি নিন। ড. আজদার সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনার চ্যাপ্টার তো আপনি দেখছেনই। এখন গোটা বিষয়টার দায়িত্ব দয়া করে আপনাকে নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্টের সাথেও আলাপ করেছেন। রাজনৈতিক বিষয় জড়িত থাকায় বিষয়টি জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে নিশ্চয় আপনি দেখেছেন, আমাদের পুলিশ ও আমলাতন্ত্রে কিছু কিছু প্রশ্নে সমস্যা আছে। এই তদন্তের ব্যাপারটা সে ধরনেরই একটি বিষয়।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘বুঝেছি জেনারেল মোস্তফা। আপনি যে সমস্যার কথা বললেন, সেটা আসলেই একটা বড় সমস্যা। ঠিক আছে, উল্কিওয়ালাদের বিষয়টা কি, সেটা দেখার আমারও একটা আগ্রহ আছে। আল্লাহ ভরসা।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের বাঁচালেন মি. খালেদ খাকান। এখানকার আর্মেনীয় নাগরিক ও আর্মেনিয়া আমাদের জন্যে একটা মাথা ব্যথা। কিছু ঘটলেই এর সাথে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ যুক্ত হয়। সেই জন্যেই বিষয়টির নিশ্ছিদ্র ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন।’ মুহূর্তের জন্যে থামল জেনারেল মোস্তফা কামাল। আবার বলে উঠল, ‘ওখানকার পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে আমরা কথা বলব।’ ‘এখানে ভ্যানের পুলিশ প্রধান ডিজিপি মাহির হারুন আমার সামনেই আছে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘প্লিজ মি. খালেদ খাকান, ওকে একটু দিন। আমার পাশে পুলিশ প্রধান নাজিম এরকেনও আছেন।’ বলল জেনারেল মোস্তফা ওপার থেকে। ‘ওকে, দিচ্ছি।’ বলে আহমদ মুসা তার মোবাইলটি ডিজিপি মাহির হারুনের দিকে এগিয়ে ধরে বলল, ‘আংকারা থেকে সিকিউরিটি চীফ জেনারেল মোস্তফা কামাল কথা বলবেন।’ মোবাইল নিয়েই লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম, স্যার আমি মাহির হারুন।’ তারপর ডিজিপি মাহির হারুন ‍শুধু অবিরাম ‘স্যার’, ‘স্যার’ বলে কথা শুনতেই লাগল। কথা শোনা শেষ হলে ডিজিপি মাহির হারুন মোবাইল আহমদ মুসার দিকে এগিয়ে দিয়ে বল, ‘স্যার, স্যাররা আপনার সাথে আরেকটু কথা বলবেন।’ ওপারের সাথে সালাম বিনিময়ের পর বলল, ‘হ্যাঁ মি. নাজিম এরকেন, কেমন আছেন আপনি?’ ‘হ্যাঁ, ভালো আছি মি. খালেদ খাকান। আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা আপনি গ্রহণ করুন। জেনারেল মোস্তফা আপনার সাথে আর একটু কথা বলবেন।’ ওপার থেকে বলল তুরস্কের পুলিশ প্রধান নাজিম এরকেন। ‘আচ্ছা দিন তাকে।’ আহমদ মুসা বলল। ওপার থেকে জেনারেল মোস্তফার কণ্ঠ শোনা গেল। বলল সে, ‘ডিজিপি মাহির হারুন খুব সৎ ও দেশপ্রেমিক পুলিশ অফিসার। তার সহযোগিতা আপনি পাবেন। আর যখনি বলবেন, আমি ও নাজিম এরকেন ওখানে যাব।’ ‘কিন্তু সমস্ত কেসের সাথে আমার জড়িত থাকার বিষয় গোপন থাকতে হবে। ডিজিপি মাহির হারুন ছাড়া পুলিশের আর কেউ জানবেন না, এটা আমার শর্ত।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ঠিক আছে, ডিজিপি মাহির হারুনকে এটা বলে দেব। আপনিও এটা তাকে নির্দেশ দিন।’ জেনারেল মোস্তফা বলল। ‘ঠিক আছে, এখনকার মত তাহলে কথা শেষ।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ওকে মি. খালেদ খাকান, আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘ জীবন দিন এবং তিনি যা পছন্দ করেন, সব নিয়ামত আপনাকে দিন। আসসালামু আলাইকুম।’ কথা শেষ করল জেনারেল মোস্তফা। আহমদ মুসা সালাম নিয়ে কল অফ করে দিল। আহমদ মুসা কল অফ করতেই ডিজিপি মাহির হারুন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘স্যার, আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। আপনার সাথে কাজ করার সৌভাগ্য আমার পুলিশ জীবনের বড় পাওয়া হবে স্যার। আপনার নির্দেশে সবকিছু চলবে স্যার।’ ‘বসুন অফিসার। এটা আপনার স্যারদেরকেও বলেছি আপনাকেও বলছি, আমি যে এই তদন্তে পুলিশের সাথে যুক্ত, এ বিষয়টা আপনি ছাড়া পুলিশের আর কেউ জানবে না। আমি ভিন্নভাবে কাজ করব, পুলিশকে যখন যা করতে হয় আমি আপনাকে বলব।’ আহমদ মুসা বলল। ডিজিপি মাহির হারুন বসেই এ্যাটেনশন হয়ে বলল, ‘ঠিক আছে স্যার। আমি বুঝেছি স্যার। স্যার, মিসেস গাজেন হত্যাকাণ্ড ঘটনার এখন কি করব স্যার?’ ‘আপনি চলে ‍যান সেখানে। আইন অনুসারে যা করার তা করুন। আমিও আসছি। আমি মিসেস গাজেনের বাড়ি সার্চ করব। আমি যাওয়ার আগে বাড়ির কোন কিছুতে কেউ হাত দেবেন না।’ আহমদ মুসা বলল। আহমদ মুসা থামতেই ড. মাহজুন মাজহার বলল, ‘এসব খুব বড় ও জটিল বিষয়। এ ব্যাপারে কিছু বলা বা করার যোগ্যতা আমার নেই। তবে, আলহামদুলিল্লাহ, খুব খুশি হয়েছি যে, তদন্তের ব্যাপারে সবাই সচেতন হয়েছেন। বিশেষ করে আবু আহমদ আব্দুল্লাহকে এর সাথে যুক্ত করায় তার অসাধারণ বুদ্ধি ও শক্তির সাহায্যে আমরা সফল হবো ইনশাআল্লাহ। কিন্তু একটা কথা জনাব আবু আহমদ আব্দুল্লাহ। ইস্তাম্বুলে আংকারায় আপনি ‘খালেদ খাকান’, আর এখানে আপনি আবু আহমদ আব্দুল্লাহ কেন?’ আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘নানা কারণে সত্য অনেক সময় প্রকাশ করা যায় না। ইস্তাম্বুল-আংকারা এবং এখানে সেটাই ঘটেছে। আসল পরিচয়টা গোপন করেছি স্যার। আপাতত তা গোপনই থাক, স্যার।’ ‘ঠিক আছে, যার মধ্যে কল্যাণ বেশি সেটাই হওয়া উচিত।’ ‘ধন্যবাদ স্যার!’ বলে আহমদ মুসা একটু থেমেই আবার বলল, ‘স্যার, এবার আমাদের উঠতে হয়।’ ‘অবশ্যই, অবশ্যই। আমার একটু বাইরে বেরুতে হবে।’ বলে উঠে দাঁড়াল ড. মাহজুন মাজহার। আহমদ মুসারাও উঠে দাঁড়াল। ভাড়া করা ট্যাক্সি। ড্রাইভারকে মিসেস গাজেনের বাড়ির ঠিকানা দিয়ে সীটে গা এলিয়ে দিয়েছে আহমদ মুসা। মিসেস গাজেনের চিন্তাই তার মাথায়। গাজেনকে ওরা হত্যা করল কেন? মিসেস গাজেন যদি ওদের ভেতরের লোক হতো, তাহলে হত্যা না করে তাকে সরিয়ে নিত। তাকে হত্যা করা হয়েছে নিশ্চয় কোন কিছু ফাঁস হবার ভয়ে। তাহলে মিসেস গাজেনের সাথে তাদের কি সম্পর্ক ছিল? মিসেস গাজেনের নামের বৈশিষ্ট্য বলে যে, সে আর্মেনীয় অথবা আর্মেনীয় বংশোদ্ভূত। জাতিগত কারণেই মিসেস তাদের সাহায্য করতো, না কোন আর্থিক সুবিধা নিতো সে, কিংবা সে কোন ভীতি বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার ছিল কিনা। যাই হোক, মিসিং লিংক পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যে কোন একটা কিছু তাদের দরকার। সাহিবা সাবিতের কাছে এই মাত্র জানতে পেরেছে, মিসেস গাজেনের লেখার অভ্যাস ছিল। মাঝে মাঝে ছদ্মনামে তিনি পত্রিকার মতামতের কলামে লিখতেন। আরেকটা বড় খবর জানা গেছে তার কাছ থেকে। মিসেস গাজেনের জীবন একটা ট্র্যাজেডি। প্রথম যৌবনে একটা ছেলেকে ভালোবাসতো সে। কিন্তু ছেলেটির কাছ থেকে সে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়। তারপর সে বিয়েই করেনি। এই ব্যাকগ্রাউন্ডের মেয়েরা হতাশাবাদী অথবা প্রতিহিংসাপরায়ণা হয়। দেখা যাক, মিসেস গাজেনের ভাণ্ডার থেকে কি পাওয়া যায়। কিছু পাওয়া যাক বা না যাক, এটা স্পষ্টতই আঁচ করা যাচ্ছে যে, মাউন্ট আরারাত ঘিরে অথবা মাউন্ট আরারাতের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে একটা ষড়যন্ত্রের কুণ্ডলী দানা বেঁধে উঠছে। একটা নতুন বিপদ ঘনিয়ে আসছে আনাতোলিয়ার ওপর। কি বিপদ, কি সে ষড়যন্ত্র? এই অঞ্চলে, এই ভূ-খণ্ডে ষড়যন্ত্র নতুন নয়। কিন্তু পূর্ব আনাতোলিয়ার ওপর এবার এই ষড়যন্ত্রের ছোবল উদ্যত হয়েছে কেন? আহমদ মুসার গাড়ি এসে মিসেস গাজেনের বাড়ির লনে প্রবেশ করল। কিছু পুলিশ ছুটে এসে ঘিরে ধরল গাড়ি। ডিজিপি মাহির হারুন ছিল কাছেই। সে দ্রুত এসে পুলিশদের আহমদ মুসাকে দেখিয়ে বলল, ‘ইনি একজন সিনিয়র সাংবাদিক। একে আমরা ডেকেছি। তিনি ঘটনা ও বাড়ির সবকিছু দেখতে ও জানতে এসেছেন। আমিই ওকে ভেতরে নিয়ে যাচ্ছি।’ ওদিকে আহমদ মুসাও গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে। সালাম বিনিময় করল দু’জনে। তারপর ডিজিপি মাহির হারুন বলল, ‘কিলিং স্পটটা আগে দেখবেন চলুন। এরপর ভেতরটা দেখা যাবে।’ বলে হাঁটতে লাগল ডিজিপি মাহির হারুন। তার সাথে হাঁটতে লাগল আহমদ মুসাও। সাইমুম সিরিজের ৪৮ তম গল্প এটি পরবর্তী বই বিপদে আনাতোলিয়া


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now