বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হযরত উৎবা বিন গোলাম (র)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (০ পয়েন্ট)

X আসসালামু আলাইকুম ভাই এবং বোনেরা। জীবনের গল্প: হযরত উৎবা বিন গোলাম (র) উৎসর্গঃ গল্প এর ঝুড়ির সদস্যদের এক রূপসীর প্রেমে পড়ে গেলেন এক তরুণ। প্রচন্ড আসক্তি।তাঁর এ প্রেমের কথা অবশ্য গোপন না করে তিনি সুন্দরীর কাছে পৌঁছে দিলেন।রূপসী শুধু রূপসীই নন,পরম বিদুষীও বটে।তিনি তরুণের প্রেমশক্তির খবর শুনে এক দাসীকে তাঁর কাছে পাঠালেন।যে তরুণের কাছে জেনে আসবে, তিনি তাঁর দেহের কোন অঙ্গটি দেখে এতদূর আসক্ত।দাসী তরুণ এর কাছে উপস্থিত হয়ে সে কথাটি জিজ্ঞেস করে।তিনি বললেন,আমি তো তার কোন অঙ্গ দেখেনি শুধু চোখ দুটো আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঐ চোখের জন্য ই আমি তার প্রেম এ পাগল হয়েছি।উত্তর নিয়ে দাসী ফিরে এল।আর সে রূপসী তরুণী তার নিজের চোখ দুটো উপরে ফেলে দাসীর হাতে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন তরুণের কাছে। শিউরে উঠলেন তরুণ। এও কি সম্ভব? শুধু সম্ভব নয় সত্যও।যার প্রতি সে আসক্তি ছিল সেই তার চোখ দুটো তাঁকে উপহার পাঠালেন।বিপুল ভাবান্তর সৃষ্টি হল তাঁর মনে।মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবী মিথ্যে হয়ে গেল।হায় আসক্তি। মানুষকে তুমি কোথায় নামিয়ে দেও!কাল-বিলম্ব না করে তিনি ছুটলেন হযরত হাসান বসরী (র)- এর কাছে।আর তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করলেন।শুরু হয়ে গেল তাঁর কঠোর জীবন-সাধনা।এবং অনন্ত করুণাময়ের অশেষ ইচ্ছায় তিনি সিদ্ধলাভ করলেন।সফলকাম এ সাধকের নাম হযরত উৎবা বিন গোলাম (র)।হযরত হাসান বসরী (র)এর মুরীদ এক উজ্জল ভক্ত।যেমন গুরু তেমন শিষ্য।তিনি দিব্যি পানির উপর দিয়ে হাঁটতে পারেন।তিনি ছিলেন চাষী।নিজেই চাষবাস করতেন।নিজের হাতে গম পেষাই করে রুটি বানিয়ে খেতেন।একখানি রুটি খেয়ে এক সপ্তাহব্যপী আল্লাহর উপসনায় মগ্ন থাকতেন।তিনি বলতেন,আমার দু কাঁধের দুই ফেরেশতা কিরামুন-কাতেবীনের পাপপূণ্যের হিসাব লেখার কথা মনে পড়লে আমার লজ্জা আসত। তখন শীতকাল।কনকনে শীত।একদিন দেখা গেল,মাএ একটি জামা গায়ে চড়িয়ে হযরত উৎবা বিন গোলাম (র) বিমুর্ষমুখে দাঁড়িয়ে আছেন এক প্রতিবেশীর বাড়ির দেয়ালের কাছে। ভীষণ শীতেও তাঁর জামাটি ভিজে উঠেছে ঘামে। এভাবে এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,কিছুদিন আগে তাঁর বাড়িতে কয়েকজন অতিথি এসেছিলেন।খাবারের পর তাঁরা হাতের তেল চর্বি ছাড়াবার জন্য ঐ দেয়ালের কিছু মাটি খসিয়ে নিয়ে হাত মর্দন করেন।তারপর পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেন।কিন্তু বাড়ির মালিকের অনুমতি নেওয়া হয়নি।তিনি অবশ্য প্রতিবেশিকে সে কথা জানিয়ে তাঁর কাছে মাফ চেয়ে নেন। কিন্তু তবুও কী যে হয় এখন দিয়ে গেলেই তাঁর অপরাধ বোধ জেগে ওঠে।বিনা অনুমতিতে দেয়ালের মাটি ব্যবহার করা ঠিক হয়নি।আরেকবার এক রাতে তিনি সপ্ন দেখেন, জান্নাতের এক হুর এসে তাঁকে বলছেন, উৎবা বিন গোলাম (র) আমি তোমার প্রপ্রতি আসক্ত। তাই অনুরোধ, কখন এমন কাজ করনা, যা তোমার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে।হযরত উৎবা বিন গোলাম (র) স্পষ্ট ভাষায় উত্তর দেন, আমি তো আল্লাহর প্রেমে বিভোর হয়ে দুনিয়া বর্জন করেছি।অতএব আমি আপনার উপর দৃষ্টি রাখতে পারি?একদিন তিনি তাঁর দরবারে উপস্থিত হলেন।কিন্তু পরনে তাঁর মামুলি পোশাক নয়।বরং পরিপাটি পোশাক অবস্থায় রয়েছেন।তাঁর দিকে চোখ রেখে হযরত সাম্মাক (র) বলেন,আপনাকে দেখে দেমাকি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন,তা হতেই পারে। আমি এক অধম দাস।কিন্তু মহাপ্রতাভশালী আল্লাহ র দাস।অতএব তাঁর কি কোন প্রভাব আমার উপর পরবেনা।এ কথা বলার সাথে সাথে তাঁর মৃত্যু হয়। বিদ্রঃআমি যে বই থেকে ওনার জীবনি পড়েছি সে বইয়ে তাঁর জন্ম তারিখ ও মৃত্যু তারিখ দেওয়া নাই। আর গল্প এ ভুল হলে মাফ করবেন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now