বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাসভ্রমণের অনেক অভিজ্ঞতা থাকলেও রেলভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। ছোটবেলা থেকেই রেলে ভ্রমণের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা আছে। এই দুর্বলতা জন্মেছে কবি শামসুর রাহমানের সেই ছড়াটি পড়ে —
"ঝক্ ঝক্ ঝক্ ট্রেন চলেছে রাত দুপুরে অই।
ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে, ট্রেনের বাড়ি কই?"
কল্পনার কান পাতলেই যেন শুনতে পেতাম তীব্র হুইসেল বাজিয়ে ঝিকঝিক্ শব্দ করে চলে যাচ্ছে ট্রেন। একদিন সেই স্বপ্নের রেলভ্রমণের সুযোগও এসে গেল। বড়মামার বিয়ে। ঢাকায় বিয়ে হচ্ছে। বড় মামার বিয়ে উপলক্ষে আমরা সপরিবারে ঢাকায় যাব ট্রেনে।
সকাল সাড়ে সাতটায় "ঊর্মি অরুণা" করে আমরা চট্টগ্রাম থেকে রওনা হলাম। নির্দিষ্ট সময় হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন হেলেদুলে চলতে শুরু করল। বাবা বললেন, ‘একটু ধৈর্য ধর’ পাহাড়তলি স্টেশন পেরুলেই গতি বাড়বে। সত্যি তাই, আমি অবাক হয়ে দেখলাম, মাঠ-ঘাট, গাছপালা, গ্রাম, বাড়িঘর, বন কেমন সাঁই সাঁই করে ছুটে যাচ্ছে। ইলেক্ট্রিকের থাম, টেলিফোন খাম্বা দ্রুত যেন অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। আমার খুব মজা লাগছে।
ট্রেনের যাত্রীরা কেউ ঝিমোচ্ছে, কেউ কথা বলছে, কেউ আড্ডা দিচ্ছে, হাসছে। এর মধ্যে বাদামওয়ালা ‘বা-দা-ম, বা-দা-ম’ বলে হেঁকে গেল। একটা চা-ওয়ালা বিশেষ ভঙ্গিতে বলছে, ‘চা-গরম, চা-গরম’। আর ট্রেন চলছে ছন্দ তুলে।
বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে এসে ট্রেন থাকলে আমার রেলভ্রমণ শেষ হয়। পথে ভিক্ষুক, ফেরিওয়ালার হাঁক-ডাক, যাত্রীদের নানা ক্রিয়াকান্ড দেখতে দেখতে আমার রেলভ্রমণের সময়টা বেশ আনন্দে কেটেছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now