গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !
নোটিসঃ কর্টেসি ছাড়া গল্প পাবলিশ করা হবেনা । আপনারা গল্পের ঝুড়ির নিয়ম পড়ে নেন ।

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

আমার শৈশব_০৪

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শাকিম (০ পয়েন্ট)



স্কুল প্রতিদিন ঠিক সময়েই যেতাম। ফার্স্ট বেঞ্চে বসতাম, বাসার জন্য মারামারিও করতাম। ছুটির ঘণ্টা দিলেই দৌড়ে বাড়ির দিকে ছুটতাম। কে কতো আগে বাড়ি ফিরতে পারে! কে কতো আগে বই রেখে খেলায় নেমে পড়তে পারে! আমরা তখন আরেকটা খেলা খুব খেলতাম। দুটো পক্ষ হতাম, তারপর পলিথিনে ধূলা ঢুঁকিয়ে সেগুলো বোমা হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতাম। বৃহস্পতিবার হলেই মেতে উঠতাম আনন্দে। মায়ের কাছে কান্নাকাটি করে হলেও নানির বাড়ি (আমরা তাইই বলি, নানাবাড়ি বলিনা) যেতাম। বৃহস্পতিবার নানির বাড়ি গিয়ে নানার সাথে হাটে যেতাম। বাড়িতে আমার দাদা যেমন বেরসিক, বদমেজাজি, রগচটা ধরনের মানুষ, আমার নানা তেমনই রসিক আর শৌখিন মানুষ। নানার সাথে হাটে গিয়ে বিভিন্ন রকমের খাবার জিনিস কিনতাম। চানাচুর, মুড়ির নাড়ু, নারকেলের নাড়ু, পাঁপড়, ঋতুবিশেষে বিভিন্নরকম ফল কিনতাম। মজা করে খেতাম। নানির বাড়ি যাওয়ার বড় একটা কারণ ছিলো আমার মামারা। মেজো মামা ছিলো একটা রেস্টুরেন্টের ক্যাশিয়ার। রোজ বাড়ি আসার সময় বিভিন্ন মিষ্টান্ন আনতো, খেতাম মজা করে। মাঝেমধ্যে বন্ধুদের মোটর সাইকেল আনতো, চড়ে ঘুরতে যেতাম। মেজোমামা খুব সুন্দরমতো হাতির ছবি আঁকতে পারে। তার সাথে যে কতো মজা করেছি, সে যে আমার কতোটা প্রিয় ছিলো, বলে বুঝাতে পারবো না। আমিও তার অনেক প্রিয় ছিলাম। পরে মেজো মামা বিয়ে করলো, একসময় পুরো পাল্টে গেলো মানুষটা। আমার সেজো মামা মোটামুটি পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। তার সাথে খুব বেশি মজা হতো না। সবচেয়ে বেশি মজা হতো আমার ছোট মামার সাথে। ছোট মামা আমার চেয়ে সাড়ে তিন বছরের বড়। প্রায় সমবয়সীই বলা যায়। ছোট মামার সাথে কতো কী যে করে বেড়িয়েছি আমি! একটা বিষয় খুব বেশি মনে পড়ে। তখন বাজারের চায়ের দোকানে চা ছিলো দেড় টাকা করে। আমরা কোনোভাবে তখন একটাকা জোগাড় করতে পারলেই চলে যেতাম বাজারের চায়ের দোকানে। একটাকা দিলে আগে ব্যবহার করা হয়ে গেছে এমন চা-পাতি দিয়ে চা দিতো দোকানদার। আমরা মামা-ভাগ্নে সে চা ভাগ করে খেতাম। মেঝেতে বসে দোকানের টিভিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে বিভিন্ন জীবজন্তু দেখতাম। কখনো কখনো মামার সাথে স্যান্ডেল দিয়ে ব্যাডমিন্টনও খেলতাম। ক্লাশ ফাইভের পরে ভর্তি হলাম শহরের সরকারি স্কুলে। ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১৩তম হয়েছিলাম। ভর্তি হওয়ার পর আশ্চর্যজনকভাবে পড়াশোনার সাথে সম্পর্ক ছুটে গেলো। চাচাতো ভাইদের সাথেও সম্পর্ক ছুটে যেতে লাগলো। খেলাধূলার পরিমাণ কমে যেতে থাকলো। আমার স্কুল ছুটিই থাকতো বছরের বেশিরভাগ সময়, যতোদিন চলতো, যেতাম আর আসতাম। পড়াশোনা কিছুই করতাম না। সিক্স-সেভেন এভাবেই কেটেছে। না, এভাবেই না, ক্লাশ সেভেনে অতিরিক্ত বাজে হয়ে গেছিলাম। তখন আমার বয়ঃসন্ধি সময়। বাজে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে অনেক বাজে কাজ করে বেড়িয়েছি। মেয়েদের টিজ করিনি কখনো। তবে, একটা মেয়েকে খুব পছন্দ করতাম। হাই স্কুলে গিয়ে ছেলেদের ক্ষেত্রে সাধারণত এমনটা হয়ে থাকে। ছেলেদের প্রথম পছন্দ হওয়া মেয়েটা হয় খুব সুন্দরী। এবং মেয়েটা চরিত্রের দিক থেকে হয় খুবই ইয়ে। আমার বেলায়ও তা। গোটা সেভেন ওই মেয়ের পেছনে ঘুরেই নষ্ট করেছি। আমি নিজেও তখন খুব ইয়ে ছিলাম, ওই মেয়েটাও তাই। আমি দেখতে কুৎসিত, সে সুন্দরী, এইজন্যই হয়তো রিলেশনটা কখনো হয়ে উঠেনি। তাছাড়া, ওই মেয়ের আরো দু’চারজন বয়ফ্রেন্ড ছিলো আর কী! যাহোক, খুব বাজেভাবে আমার ক্লাশ সেভেনটা কেটে গেলো। ক্লাশ এইটে যখন উঠলাম, বন্ধু নাইম বললো, “দোস্ত, চল একটা কোচিং-এ ভর্তি হই। এ বছর ভালো মতো পড়তে হবে।” নাইমেরই বেছে নেয়া একটা কোচিং-এ ভর্তি হলাম। ‘আনন্দময় পাঠশালা’ তার নাম। তারপর আবারো কিছু উচ্ছৃঙ্খলতা, কিছু প্রেম, কিছু সিরিয়াসনেস, কিছু হাসাহাসি, কিছু কান্না, কিছু পড়াশোনা, অতঃপর এই আমি। এই পাঠশালার স্মৃতিটাও শৈশবের মতোই। অনেক হাসি, অনেক কান্না। কান্না তেমন না, তবে প্রতিটা মুহূর্ত ছিলো হাসির। বন্ধুদের আলোচনায় একবার সেসব কথা শুরু হলে আর শেষ হতেই চায় না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৫৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার সাপ দেখা
→ আমার পানিতে ডুবে যাওয়ার গল্প
→ আমার একটা ছোট বোন আছে
→ আমার পোষা প্রাণীর নাম টিকু!
→ "আমার জিজেতে আসার গল্প"
→ আমার কি সঞ্চয় করা উচিত?
→ করোনাকালে নিত্য ব্যবহার করা জিনিসের সাথে আমার কথা।
→ আমার প্রিয় জিজে ভাই-বোন ও আমার সমবয়সী পার্ট 1।
→ আমার প্রিয় বন্ধু অসুস্থ
→ আমার ছোটবেলার সেইদিনগুলো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...