বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছয়.
অমিত সাহেব বললেন," এক মিনিট দাড়াও । আগে আমাকে সবকিছু খুলে বলো কি হয়েছে ? আর তোমরাই বা এখানে কি করে আসলে ?" পাবন বলল," আগে আপনার ফুফুর শাদ্ধ করতে হবে আর মৌ রায়ের সেই শ্রাদ্ধে উপস্থিত থাকতে হবে । যা করার ১২টার মধে্যই করতে হবে ।তারপর সব খুলে বলবো ।জয় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল," ১০টা বাজে । পাবন আর জয় গেলো সবকিছু গোছগাছ করতে । । তাদেরকে সাহায্য করলো অমিত রায়,সেতু আর মৌ রায় । শুভ গেল ওঝা আর পুরোহিত আনতে । ১১ টার মধে্য সবকিছু ঠিক হয়ে গেল । ওঝা আর পুরোহিতও চলে আসলো । পুজা রায়ের ঘরের ভিতরেই চলল তার শ্রাদ্ধের কাজ । শ্রাদ্ধ শেষ করার পর ঠিক ১২টায় ঘরটাতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল ।সবার চোখের সামনে জ্বলে ছাই হয়ে গেল একজন রহস্যময়ী কম্পিউটার সাইনটিস্টের অতীত স্মৃতি ।
দুপুরে শাকিল সাহেব আসলো । সবাই মিলে একসাথে বসল অমিত রায়ের ঘরে । চা খেতে খেতে শাকিল সাহেব বলল," পাবন, এখন আমাদের সবকিছু খুলে বলো তো । কি ঘটেছিল আসলে ।অমিত সাহেবও সেই কথায় সায় দিল ।
পাবন বলল," মাসখানেক আগে আমরা একটা পুরাতন কম্পিউটার কিনেছিলাম । কিন্তু কম্পিউটারটা প্রতি বুধবারে অদ্ভুত আচরণ করতো আর আমাদের কোন না কোন ক্ষতি হত । ঘটনাটা আসলে কি জানতে দোকানদারের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে এই বাড়িটাতে আসলাম । এসে দেখি অতীশ চন্দ্র নামের ওই সাইনটিস্টা অমিত রায় সেজে আপনার ঘরে বাস করছে । প্রথমে বুঝতে পারি নি উনি অমিত রায় নন । ডায়েরিটা পড়ে বুঝতে পারলাম ।ডায়েরিতে দুর্বোধ্য ভাষায় ৫ জনের নাম লিখা ছিল । সেখানে অতীশ চন্দ আর দ্বীপ ঘোষ নামের দুইজন সাইনটিস্ট এর নাম লিখা ছিল ।তখন হাতকড়া পড়া লোকটাই ছিল দ্বীপ ঘোষ । যাই হোক ৫ জন লোকের ছবিও ছিল কম্পিউটারে । সেদিন অতীশ যখন ওঝা আনতে গেলো আমি কম্পিউটারটা অন করে সি-ড্রাইভে Pooja নামের একটা ড্রাইভ পেয়েছিলাম । সেখানেই ছবিগুলা পেয়েছিলাম । অতীশ সাহেবের ছবি দেখেই আমি বুঝতে পারলাম তিনিই অমিত সাহেব সেজে আছেন । আর তাছাড়া ওই ডায়েরিটার অদ্ভুত ভাষাগুলো অনুবাদ software এর মাধ্যমে আমি,জয় আর শুভ পড়েছিলাম । সেখানে লিখা ছিল ." আমি আত্মহত্যা করার পর অতীশ আমার ঘরে এসে আমার ভাইয়ের ছেলেকে অপহরণ করে এবং তাকে দ্বীপের কাছে বন্দি করে রাখে । তাদের দুইজনের ইচ্ছা আমার ভবিষ্যত গণনার software টা ওরা চুরি করে নিয়ে যাবে আর অনেক টাকায় ওটা বিক্রি করবে । কিন্তু আমি আমার কম্পিউটারের সিস্টেমটা এমন করে দিলাম যাতে ওটাতে অন্য কোন ডিভাইস সাপো্রট না করে । তাই ওরা software টা চুরি করতে পারলো না । আর যখন দেখলো আমি ৩ জনকে মেরে ফেলেছি তখন কম্পিউটারটা ও এই ঘর থেকে নিয়ে গেল ।আর গৌতমের লকেটটাও নিয়ে গেল । তাই আর মারতে পারলাম না । " অর্থাৎ মৃতু্যর পরও পুজা রায় ডায়েরীতে লিখতেন ।
জয় বলল,"এই জন্য অতীশ সাহেব চাইতেন না যে আত্মাটা তার প্রতিশোধ নিক । কারণ মরার সিরিয়ালে তো তিনিই ছিলেন । পাবন বলল," বিপদ দূর করার জন্য অতীশ সাহেব কম্পিউটারটা বিক্রি করে দিলেন । ভাবলেন software না পাই এই জায়গা সম্পত্তি তো পাবো । কিন্তু ওটা বিক্রি করেও বিপদ দূর হলো না । শেষে বুঝতে পারলেন কম্পিউটার ছাড়া এই বিপদ দূর করা যাবে না । ভেবে চিন্তে দোকানদারের কাছে ঠিকানা দিয়ে আসলো ।ভাল করেই জানতো যে কম্পিউটারটা কিনবে তার ক্ষতি হবেই আর খোজঁ নিবে কার কম্পিউটার এটা ? খুজঁতে খুজতেঁ ঠিকই ঠিকানা দেখে কম্পিউটার নিয়ে চলে আসবে এই জায়গায় । তবে তার প্লানমতই আমরা এই বাড়িতে চলে এসেছিলাম ঠিকই কিন্তু বাকী কোন কাজই তার প্লান মোতাবেক করিনি । ওঝাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে ওইদিন পাঠিয়ে দিলাম । পুজা ফুফুর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী শ্রাদ্ধে মৌ রায়কে আনার জন্য জয় আর সেতুকে মিথ্যা অসুস্থের অভিনয় করিয়ে ওনার বাড়িতে পাঠিয়ে দিলাম । শেষ ইচ্ছাটা আর মৌ রায়ের বাড়ির ঠিকানা ডায়েরীতে লিখা ছিল । আর কম্পিউটারে দ্বীপ ঘোষের ছবির নিচে ওনার ঠিকানা ছিল । শুভকে পাঠিয়ে দিলাম ওই ঠিকানায় । যাওয়ার আগে ফোন দিয়ে সাথে নিয়ে নিল শাকিল সাহেবকে । তার সাহাযে্যই দ্বীপকে আটক আর অমিত সাহেবকে উদ্ধার করা সম্ভব করা হয় ।
পাবন বলতে থাকলো,"মঙ্গলবার রাতে যখন ওঝা যখন আসলো আমার কাছে আমি ওনাকে নিয়ে গেলাম পুজা রায়ের ঘরে । মন্ত্র পড়ে আত্মা টাকে বশ করলো ওঝা । বুঝিয়ে বললাম যে আমি ওনার হয়ে শয়তানগুলোর প্রতিশোধ নিব ,আমাকে একটু বিশ্বাস করতে । আমার কথা উনি শুনলেন । আমি ওনার কাছে প্রতিজ্ঞা করলাম যেভাবেই হোক শয়তানগুলোর উচিত শিক্ষা আমি দিব । সব শুনে তিনি আত্মাটা বলল," ঠিক আছে আমি চলে যাব । আমার শ্রাদ্ধ করালেই আমার মুক্তি হয়ে যাবে আর তারপর আমার ঘরটা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিবে ।
আর জানতাম সবকিছু যখন অতীশ বাবু জেনে যাবে তখন তিনি বাচাঁর জন্য কিছু একটা করতে চাইবেন । তাই অরকিয়াকে গাড়ির ভিতরেই থাকতে বলেছিলাম ।
সবকিছুই আমাদের প্লানমোতাবেক হইছে । সবকিছু শুনে অমিত সাহেব বললো," তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ ।তোমরা আমার অনেক বড় উপকার করেছো । ছুটি হলেই তোমরা এখানে চলে আসবে বেড়াতে । "
পাবন বলল," ঠিক আছে আসবো । কিন্তু এখন আমাদের যেতে হবে । আমরা আসি । " এটা বলেই অমিত আর মৌ রায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওরা চলে গেল ।
গাড়িতে যেতে যেতে শুভ অরকিয়াকে বলল," তুই এত জোরে লোকটার মাথায় বাড়ি দিলি কিভাবে ?" অরকিয়া বলল," আরেকটা বাশঁ এনে দে তোর মাথায় বাড়ি দিয়ে দেখাই কিভাবে দিয়েছিলাম । সেতু বলল," কিরে তোরা আবার ঝগড়া শুরু করলি ?" সামনের সিট থেকে শাকিল সাহেব বলল," ঝগড়া করার অপরাধে শুভ আর অরকিয়ার ১০ বছরের জেল দিলে কেমন হয় ?" তখনই গাড়ির ভেতর হাসির রোল পড়ে গেল ।
THE END......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now