বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইন দি হসপিটাল-০২

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দুই. শিশির অপুকে বলল,"তাড়াতাড়ি যা আমার ব্যাগ থেকে ব্যান্ডেজ নিয়ে আয় । অনেক রক্ত বের হচ্ছে ।" অপু গিয়ে ব্যাগে ব্যান্ডেজ খুজেঁ পেল না । শিশিরকে ডেকে বলল ,"একটু এদিকে আয় তো ব্যান্ডেজ খুঁজে পাচ্ছি না ।" শিশির লোকটাকে ওইখানে রেখেই অপুর কাছে গেল । ব্যান্ডেজ নিয়ে ফিরে এসে দেখলো লোকটা নেই । তার চেয়েও অবাক করা বিষয় হল সেখানে কোন রক্ত বা রক্তের দাগও নেই । ভয়ে হাত পা যেন অবশ হয়ে গেল ওদের । তখনই আবারও চিৎকার চেচাঁমিচি ভেসে আসতে লাগলো দুইতলা থেকে । ওরা উপরের দিকে তাকিঁয়ে দেখলো আবারও আলো জ্বলছে দুইতলার রুমগুলোতে আর ভেসে আসছে সেই রোগীর আর্তনাদ,"আমাকে বাচাঁও ।" আর সহ্য করতে পারলো না ওরা । এক দৌড়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেল । রাস্তার উপর দাড়িঁয়ে হাফাঁতে লাগলো দুজনেই । হঠাৎ দেখলো একটা লোক ওদের দিকেই হেঁটে আসছে । রাত তখন প্রায় তিনটা । ওরা ভাবতে লাগলো এত রাতে এই লোকটা এখানে কি করে । লোকটা ওদের কাছাকাছি আসতেই রক্ত হিম হয়ে গেল দুজনেরই । এ যে সেই চাদর গায়ে দেওয়া লোকটা । আবারও দৌড় দিল ওরা । এবার সোজা ওদের রুমে । দরজা জানালা লাগিয়ে চুপচাপ বিছানার উপর শুয়ে রইলো ওরা । উপর থেকে চিৎকার চেচাঁমিচি আর মানুষের পায়ের আওয়াজ ক্রমাগত ভেসেই আসতে লাগলো । সময় যেন কাটছেই না । ওরা বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে কখন ভোর হবে । হঠাৎ কে যেন ওদের দরজা নক করলো । কিন্তু ওরা ওদের জায়গা থেকে নড়লো না । বেশকিছুক্ষণ পর দরজায় নক করা বন্ধ হয়ে গেল । চারদিক নীরব । উপর থেকে কোন আওয়াজও আসছে না । তখনই ঘটলো অঘটনটা । আগে শিশিরই দেখলো দরজার নিচ দিয়ে রক্ত ওদের রুমে ঢুকছে । আস্তে আস্তে বাড়তে লাগলো রক্তের প্রবেশ গতি । কিছুক্ষণবাদে রুমের পুরো মেঝ রক্তে ভরে গেল । চোখ বন্ধ করে আল্লাহ্ নাম জপতে লাগলো দুজনে । তখনই ওদের কানে ভেসে আসলো ফজরের আযানের সুমধুর আওয়াজ । চোখ খুলে মেঝেতে তাকিঁয়ে দেখলো একদম পরিষ্কার । রক্তের কোন ছিঁটেফোঁটা দাগও নেই । হাফঁ ছেড়ে বাচঁলো যেন ওরা । কিছুক্ষণ বাদে দরজা খুলে বাহিরে বেরিয়ে আসলো ওরা । আলো ফুটতে শুরু করেছে চারদিকে । ভোরের পাখিরা কিচির মিচির করছে । আকাশের পূর্ব কোণে সূর্য টা উঁকি মারলো । হাসপাতালের উঠানে এসে দাড়াঁলো ওরা । পুরাতন এই দু’তলা বিল্ডিংটাকে এখন খুব অসহায় মনে হচ্ছে । এখন দেখে কে বলবে এই অসহায় বিল্ডিংটাই রাতে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় । রাতের ঘটনাগুলোকে স্রেফ দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে ওদের কাছে । ফ্রেশ হয়ে নাশতা করে নিল ওরা । নাশতা করতে করতে শিশির বলল,"বুঝলি অপু আমার কাছে মনে হয় দুইতলায় কোন রহস্য লুকিয়ে আছে । চল দুইতলায় গিয়ে একটু ঘুরে আসি ।" অপু হ্যা সম্মতি দিল । নাশতা শেষ করে ওরা উপরে গেল । জং পরা তালাটাকে ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকলো ওরা । ভেতরটা অন্ধকার । টর্চের আলোতে পুরো রুমটাতে চোখ বুলালো ওরা । মাকরশার জালে পরিপূর্ণ রুমটা । পুরানো সিট,বোতল আর কিছু প্যাকেট পড়ে আছে । একটু সামনে এগোলো ওরা । একটা ডেস্ক আর চেয়ার পড়ে আছে । ডেস্কের উপর ছোট একটা কার্ড । ময়লার আস্তর জমে আছে ওটার উপর । অপু সেটা পরিষ্কার করলো । তাতে লিখা : ডা: মাহাবুব মুনতাসির । নিচে সাক্ষাতের সময় উল্লেখ করা আছে । কার্ড টা পকেটে ঢুকালো অপু । ডেস্কের ড্রয়ার খুলে শিশির একটা চিরকুট পেল । অনেকদিন আগের লিখা । অস্পষ্ট হয়ে গেছে লেখাগুলো । শিশির পড়তে লাগলো চিরকুটটা ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৫৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now