বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক.
শিশির আর অপু দুই জন একসাথেই এই বছর মেডিকেল থেকে পাশ করেছে । ওদের দুজনেরই ইচ্ছে প্রত্যন্ত কোন গ্রামের হাসপাতালে গিয়ে মানুষের সেবা করা । একদিন ওরা বেরিয়ে পড়লো । শহর থেকে অনেক দূরে এক গ্রামে এসে হাজির হল । খুবই নির্জন গ্রামটি । মানুষজনও খুব কম । গ্রামের অদূরেই একটা পরিত্যক্ত হাসপাতাল আছে । হাসপাতালটি দুই তলা । বহু বছর আগে এই হাসপাতালে রোগীদের সেবা হত,গ্রামের মানুষদের চিকিৎসা হত । কোন এক অজানা কারণে হাসপাতালটি বন্ধ হয় যায় । সেই থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এটি । শিশির আর অপু এই হাসপাতালটাকে নতুন করে চালু করার চিন্তা করলো ।
বিকাল তখন ঘনিয়ে আসছে । হাসপাতালের নিচের তলায় একটা রুম পরিষ্কার করলো ওরা আজকের রাতটা কাটানোর জন্য । প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র গ্রাম থেকে আনিয়ে নিল ওরা । বলা তো যায় না রাতে কখন কি লাগে । আর হাসপাতাল থেকে গ্রামের সবচেয়ে কাছের বাড়িটাতে যেতেও ১০ কি ১৫ মিনিট লাগবে । তাই আলো থাকতে থাকতেই গ্রাম থেকে জিনিসপাতি আনিয়ে নিল ওরা ।
সন্ধ্যা হল । অন্ধকার নামলো চারদিকে । হাসপাতালের আঙ্গিনায় বসে কথা বলছে শিশির আর অপু । তখনই চাদর গায়ে দেওয়া একটা লোক আসলো । ওদেরকে বলল,"এখনও সময় আছে চলে যাও এখান থেকে । জায়গাটা ভালো না ।" শিশির বলল,"আংকেল,আমরা ভয় পাই না । কোন সমস্যা নেই । আপনিও চাইলে আমাদের সাথে থাকতে পারেন ।" কথা শুনে লোকটা চলে গেল । যাওয়ার সময় বিড়বিড় করে বলে গেল,"কপালে দুঃখ আছে তোমাদের ।"আবারও আড্ডা শুরু করলো ওরা ।
হাসপাতালের দুইতলার সবগুলো রুম তালাবন্ধ । অনেক পুরানো তালা । জং ধরে গেছে । বিল্ডিংটাও খুব পুরানো । চুন, সুড়কি খসে পড়ছে । চাদেঁর আলোয় আবছা আলো বিরাজ করছে চারদিকে । চাদেঁর আলোয় হাসপাতালের অবয়বটাকে মনে হচ্ছে যেন তন্দ্রাচ্ছন্ন কোন দৈত্য; যে কোন সময় জেগে উঠবে । হাসপাতালের পিছনের গাছগুলো হালকা বাতাসে নড়ছে । পাতাগুলো যেন ফিসফিস করে বলতে চাইছে,"তোমরা চলে যাও এখান থেকে ।"
আড্ডা মারতে মারতে কখন যে ১১ টা বেজে গেছে টেরই পেল না ওরা । খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লো। সবে মাত্র ঘুম ধরেছে ওদের চোখে । এমন সময় উপর তলা থেকে চিৎকার চেচাঁমিচি আর মানুষের পায়ের আওয়াজ ভেসে আসতে লাগলো । অবাক হল ওরা । উপরের তলার সবগুলো রুমই তো তালা মারা। তাহলে আওয়াজ আসছে কি করে ।হাতে লাইট নিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলো ওরা । গিয়ে দেখলো সবগুলো রুমই খোলা । ভিতরে মোমবাতি আর হ্যারিকেন দিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে । দুইজন নার্স একজন রোগীকে ধরে রেখেছে । কিন্তু ওদের দিকে তাকাচ্ছে না কেউ । রোগীটা চেচাঁচ্ছে আর বলছে,"আমাকে বাচাঁও ।" ভয়ে হাত পা কাপঁতে লাগলো শিশির আর অপুর । অপু একটু এগিয়ে গিয়ে কাপাঁ কন্ঠে বলল,"ওকে ধরে রেখেছেন কেন আপনারা ?" ঘাড় ঘুড়িয়ে অপুর দিকে তাকালো নার্স আর রোগীটা । ওদের চেহারা দেখে মুহূর্তের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে গেল অপু । শিশির কোন রকমে টেনে অপুকে রুম থকে বের করলো । রুম থেকে বের হতেই সবকিছু আগের মত হয়ে গেল । এখন আর কেউ নেই । রুমগুলোও তালাবদ্ধ ।
পানির ছিটা দিতেই জ্ঞান ফিরলো অপুর । কিন্তু ভয়ে হাত পা কাপঁছে দুইজনেরই । হঠাৎ নিচ থেকে বিকট এক চিৎকার শুনা গেল । ওরা দৌড়ে নিচে গেল । নিচে গিয়ে দেখলো মাটিতে উপুর হয়ে পড়ে আছে সন্ধ্যা বেলা চাদর গায়ে দিয়ে আসা সেই লোকটা । মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now