বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Happy♥New♥Year♥2020..যদিও এখন রাত ৩:০৫ বাজে!!হাহাহা)>>>
_________
#ইমরান খান
পর্ব-৬
<<♥♥♥>>
---আর কি বলেছে ইরা?
---অনেককিছু অন্য একদিন বলব।
ঈশানী জানালা দিয়ে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।তাসিন কানে হেড ফোন লাগিয়ে দিয়ে গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যায়।বাস তার আপন গতিতে চলতে থাকে।তাসিন ঘুমের ঘোরে ঈশানীকে কোলবালিশ মনে করে জড়িয়ে ধরে।ঈশানীর কপালে চিন্তার ভাজ পড়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে।ঈশানী দেখে সবাই সবার মত ব্যস্ত তাদের দিকে কেউ দেখছে না।ঈশানী তাসিনের কাছে থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তাসিনকে সোজা করে দেয়।তার হাত আজ পর্যন্ত কোনো ছেলে ধরেনি আর তাসিন অপরিচিত ছেলে তাকে জড়িয়ে ধরেছে।ঈশানী জানালার কাছে আরো ঘেষে বসে যেন তাসিনের শরীরের সাথে স্পর্শ না লাগে।
কিন্তু তাসিন এবার ঈশানীর ঘাড়ে মাথা রাখে।ঈশানীর এবার খুব বিরক্ত হয়।তাসিনকে কিছু বলতে যাবে তখনে ঈশানীর ফোন বেজে ওঠে।পিয়াস মানে যার সাথে ঈশানীর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।এক নাম্বারের লুচু সুযোগ পেলে ঈশানীর সাথে ঘনিষ্ট হতে চায়।ঈশানীও তাকে যতদূর পারে ইগনোর করে। বিয়ে বাড়িতে পিয়াসের জন্য যায়নি।ঈশানী ফোন রিসিভ করতে পিয়াস ওপাশ থেকে বলল,
----জান তুমি নাকি কোথায় যাচ্ছো? বিয়েতে আসোনি কেনো?
----আমি ইরা আপু এবং তার বন্ধুদের সাথে পিকনিকে যাচ্ছি।
----ওখানে কি ছেলে আছে?
----হুম আছে।
----আমার থেকে কি ওরা তোমাকে বেশি সুখ দিতে পারবে। আমি সব থেকে বেশি সুখ দিবো।
----প্লিজ চুপ করুন আপনার পায়ে পড়ি।নিজের মত বাকি সবাইকে ভাববেন না।
----কত টাকা ওরা তোমাকে দিয়েছে? কত দামের নেকলেস দিছে যে ওদের সব বিলিয়ে দিয়ে এখন ওদের পক্ষে কথা বলছো?
----আপনার মত লুচ্চু ওরা না।
----কি এত বড় কথা? তোমাকে এবার কি করি দেখো?
ঈশানী পিয়াসের মুখের উপর ফোন কেটে দেয়।পিয়াস ঈশানীকে লিভ ইন টুগেদারে থাকতে বলেছিল। ঈশানী রাজি হয়নি মুখের উপর না করে দিয়েছে ওটার প্রতিশোধ নিতে পিয়াস বিয়ের প্রস্তাব দেয় ঈশানীর বাবা মার কাছে।ঈশানী বাবা সব টাকা মদ গাজা খেয়ে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমানে ইরার বাবার গলগ্রহ হয়ে বেঁচে আছে।পিয়াসরা ধনী অনেক টাকা পয়সার মালিক তাই ওদের না করতে পারেনি ঈশানীর বাবা। পিয়াস প্রতিদিন ঈশানীর বাবাকে মদের বোতল পাঠিয়ে দেয় এতে ঈশানীর বাবা আরও খুশি হয়।পিয়াসের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে অমত করলে ঈশানীর বাবা তার মাকে মেরে ফেলতে যায়।মাকে বাচাতে ঈশানী বিয়েতে রাজি হয়।বিয়ের আগে পিয়াস অনেকবার ঈশানীদের বাড়িতে আসে ঈশানীর ক্ষতি করতে চেয়েছিল কিন্তু ইরার বাবা অর্থাৎ ঈশানীর চাচা বাচায় ঈশানীকে।ইরার বাবা মা ঈশানীকে নিজের মেয়ে ইরার মত দেখে।ঈশানীর বাবাকে মানা করে এ বিয়েতে যেন রাজি না হয়।ঈশানীর বাবা ভাইয়ের মুখের উপর বলে যে,তাদের সুখ নাকি ইরার বাবা মা সহ্য করতে পারছে না।ইরার বাবা মা সেদিনের পর থেকে তাদের কোনো সাহায্য করে না পিয়াস মাসে মাসে মোটা অংকের টাকা পাঠিয়ে দেয়।
আজ ইরার বাবা কাউকে না জানিয়ে ইরার সাথে ঈশানীকে পাঠিয়ে দেয়।ঈশানীর দু চোখ বেয়ে বৃষ্টির মত পানি ঝড়তে থাকে।মেয়েদের জীবন এমন কেনো পুরুষের লালসার শিকার হতে হবে কেনো?পিয়াস হয়তো তাকে বিয়ের পর প্রতিদিন ছিড়ে খাবে।তাসিনের দিকে তাকালে চোখের পানি কয়েক ফোটা তাসিনের মুখের উপর পড়লে তাসিন জেগে ওঠে।সে দেখল ঈশানী কি যেন ভাবছে আর কাঁদছে।চোখের কাজল লেপ্টে গেছে চুলের কাটা খুলে গিয়ে চুল মুখে আসছে।সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই ঈশানীর। তাসিন এতক্ষনে লক্ষ করলো সে ঈশানীর ঘাড়ে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলো।সে নিজে নিজে লজ্জিতবোধ করে মনে করে ঈশানী এজন্য কাঁদছে।তাসিন কয়েকবার কাশি দিয়ে গলা ঠিক করে নেয়।ঈশানীর কাশির শব্দ শুনে অন্যপাশ হয়ে চোখের পানি মুছে নিয়ে তাসিনের দিকে তাকায়।তাসিন বলল,
---সরি আমি বুজতে পারিনি কখন ঘুমিয়ে গেছি।
---ইটস ওকে।
----আমার জন্য আপনার চোখে পানি। আমার অন্য জায়গায় বসা উচিত ছিল আপনি ছেলেদের কাছ থেকে দূরে থাকেন এটা জানার পরও আমার এখানে বসা উচিত হয়নি।
---তেমন কিছু না বাসে সব সিট ব্লক হয়ে গিয়েছিল কোথায় বসতেন?আমি কিছু মনে করিনি।ঘুমের মধ্যে তো এমন করেছিলেন সেটাতো ইচ্ছে করেন নি।সরি বলতে হবে না।
----তাহলে কাঁদছেন কেনো?
----অন্য একটা কারন আছে।আপনাকে বলতে পারব না।
----আচ্ছা ঠিক আছে চোখের কাজল ঠিক করে নিন লেপ্টে গিয়ে পেত্নীর মত লাগছে আপনাকে।
ঈশানী নিজের ফোন বের করে কাজল ঠিক করে নেয়।তাসিন আবার বলল,
----এবার থেকে কাঁদার আগে আমাকে বলবেন।
ঈশানী ভ্রু কুচকে তাকায় তাসিনে দিকে।বলল,
----কেনো?
----চোখের পানি দিয়ে স্বচ্ছ লবণ তৈরী হয়। আপনি কাঁদলে আমি বাটি নিয়ে দাড়িয়ে থাকব।এতে আপনার চোখের পানি নষ্ট হবেনা।
ঈশানী তাসিনের কথা শুনে এত কষ্টের মধ্যেও হেসে দেয়।ঈশানীর মুখে হাসি দেখে তাসিনের মুখেও হাসির আভা ফুটে উঠে।তার কষ্ট সার্থক হয়েছে।ঈশানী জোরে না মুচকি হাসে হাসার সময় ঈশানীর দুই গালে টোল পড়ে।এতে তার হাসির সৌন্দর্য বেড়ে যায়।ইরার সিটের উপর দাড়িয়ে বলল,
----তাসিন আমার বোনটা এমনিতে ভীতু ওকে আবার রাগ দেখাচ্ছিস নাকি?
ইরার কথা শুনে কপালের ভাজ ফেলে তাসিন বলল,
----তোদের কি মনে হয় আমি সবসময় রাগ দেখাই?
----না মানে এমনি বললাম।
----শোন ইরা ওনি যেমন তোর বোন তেমনি আমাদের বন্ধু নতুন ওনি কেনো ওনাকে রাগ দেখাব?
ইরা কোনোকথা না বলে চুপচাপ নিজের সিটে বসে পড়ে।দিহান তাসিনকে পিছনের সিট থেকে গুতো মারে।বলল,
----ভাই তুই আমার সিটে আয় আমি তোর সিটে যাই।
তাসিন চোখ লাল করে দিহানের দিকে দিহান ঠোটে আঙ্গুল দিয়ে চুপ হয়ে যায়।ইফতি নোট করছে কে কি করছে তামিম উপন্যাস পড়ছে চোখের পানি টিস্যু দিয়ে মুছছে অলরেডি একবক্স টিস্যু শেষ।এতো ইমশোনাল হতে পারে ছেলেটা?
ঈশানী জানালার দিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করে।
,
,
,
দুপুরবেলা একটা হোটেলের সামনে বাস দাড়ায়।ড্রাইভার সবার উদ্দেশ্যে বলল,কিছু খেতে নিতে এরপর বাস আর দাড়াবে না।ঈশানী বাস থেকে নামার আগে ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে নেয়।বড় হোটেল ছিলো না মাঝারি ধরনের। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চারপাশে তবু স্নেহা মুখটা ভার করে বলল,
----তাসিন কোনো রেস্টুরেন্টের সামনে বাস থামাতে পারলে না?
স্নেহার কথা শুনে দিহান ভ্রু কুচকে বলল,
----এটা যে পাচ্ছিস সেটা তোর ভাগ্য লং ড্রাইভের আইডিয়াটা তোর ছিলো। নয়তো আমি তো বলেছিলাম পারসোনাল গাড়িতে যেতে।
স্নেহা ভেংচি কেটে বলল,
----আমি কি জানতাম এমন কিছু হবে?
ঈশানীর জুতো ছিড়ে যাওয়ায় সে বাস থেকে নামে না।তাসিন সবাইকে বলে অর্ডার দিতে।তাসিন কোথাও যায় আবার দশ মিনিট পরে ফিরে আসে। হাতে একটা প্যাকেট।
বাসে গিয়ে ঈশানীর হাতে প্যাকেটটা দেয় ঈশানী অবাক হয়ে বলল,
---কি আছে এতে?
----খুলে দেখো।
ঈশানী প্যাকেট খুলে দেখে একজোড়া স্লিপার জুতো। একদম ঈশানীর পায়ের মাপে।ঈশানী জুতো পড়ে মাথা উপরে উঠিয়ে দেখে তাসিন বাস থেকে নেমে গেছে।ঈশানীও বাস থেকে নেমে আসে।ঈশানীর পায়ে জুতো দেখে সবাই ব্যাপারটা বুঝে যায়।ইরা মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
----তাসিন একটা ভালো কাজ করেছিস তুই কোথায় পেলি?
তাসিন সুন্দর হাসি দিয়ে বলল,
----পাশের দোকান থেকে কিনে এনেছি আমরা সবাই এনজয় করবো একজন বাদে এটা হতে পারে না।
---হুম একদম ঠিক।
----তো কে কি খাবে?একটা কথা আগে বলছি এখানে রেস্টুরেন্টর খাবার পাওয়া যাবে না।
স্নেহার তাসিনের কথা মুখে কালো ছায়া নেমে আসলো।নিজে নিজেকে বকছে তার জন্য এসব হলো।ইরা বলল,
----ঈশানী কি খাবি তুই?
ঈশানী কাঁচুমাচু করে বলল,
----আপু চিংড়ি মাছ,মুরগীর গোশত,ভাত আর সালাদ।
----তাসিন আমি আর ঈশানী এসব খাব।তোরা যা খাবি অর্ডার কর।
তাসিন একজনকে ডাকলো যে যার পছন্দমত মেনু বলে দিলো। তবে মজার ব্যাপার হলো ঈশানীর বলা খাবার ছাড়া অন্য কোনোকিছু নেই।তাসিন তাই সবার জন্য অর্ডার করলো।ঈশানী লক্ষ্য করলো পেছনে কেউ তার ওড়না ধরে টানছে।
ঈশানী দেখল কয়েকটা ছেলে বসে আছে তার মধ্যে একটা ছেলে তার ওড়না ধরে টানছে।ঈশানীর দিকে তারা সবাই চোখ টিপলো এবং বাজে ইঙ্গিত করছে।ঈশানী নিজের ওড়না ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।তখন.....
....চলবে...
♦[অনেক দিনননন পরর গল্পটা শুরু করা আবার নতুন করে বলবা সবাই কেমন হয়েছে]♦
___________
#শুধু♥তোমায়♥ঘিরে
#ইমরান খান
part 7
<<♥♥♥>>
ঈশানী দেখল কয়েকটা ছেলে বসে আছে তার মধ্যে একটা ছেলে তার ওড়না ধরে টানছে।ঈশানীর দিকে তারা সবাই চোখ টিপলো এবং বাজে ইঙ্গিত করছে।ঈশানী নিজের ওড়না ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।তখন তাসিন দেখতে পায় ঈশানীর ওড়না অনেকটায় টেনে নিয়েছে ছেলেটা।তাসিন রেগে গিয়ে ছেলেগুলোকে পিটানো শুরু করে দিহান ইফতি তামিম যোগ দেয় তাসিনের সাথে।ছেলেগুলো মারতে মারতে আধমরা করে তবু তাসিন থামে না।তাসিন বলল,
---মেয়েদের সম্মান করা শিখিসনি? একজন মেয়ে তোদের মা মেয়ে। একজন মেয়ে ছাড়া কখনো বাবা হওয়া যায় না।তাদের তোরা অসম্মান করিস?
তাসিনকে সবাই মিলে থামায় ছেলেগুলো পালিয়ে যায় কোনোমতে।তাসিন তখনও রাগে গজগজ করছে।ঈশানী তাসিনকে দেখে ভাবে তার জীবনেও যদি এমন একজন থাকত পরে নিজে নিজে ধিক্কার দেয়।
সবাইকে আবার খেতে বসে।ঈশানী তাসিনের প্রতিটা স্টাইল দেখছে। ভাত হাত দিয়ে মুখে তোলার দৃশ্যটা তার মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।ইরার কাছ থেকে যখন তাসিন কথা শুনত তখন থেকে তাসিনের প্রতি অন্য রকম ভাল লাগার রূপ নিত।লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যেত ইচ্ছে করে মাটি খুড়ে ভিতরে চলে যেতে।নিজের অজান্তে তাসিনকে ভালবেসে ফেলে।আজ সকালে তাসিনকে দেখার পর ঈশানীর উত্তেজনায় মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেিয়।আবার তাসিন ঘুমের ঘোরে ঈশানীর ঘাড়ে মাথা রাখলে আলাদা অনুভূতি সৃষ্টি হয়।তাসিনের কথা বলার স্টাইল চলার ধরন সব কিছু ভালো লাগে।ঈশানীকে ইরা পিকনিকের কথা বলতে ঈশানী রাজি হয়ে যায়।এতদিন সে ইরার ফোনে তাসিনের ছবি দেখত আজ সামনাসামনি দেখা হবে।
ঈশানী ভাত মুখে না দিয়ে তাসিনের দিকে তাকিয়ে থাকে এটা ইফতি নোট করে নেয়।
খাওয়া শেষে আবার সবাই বাসে উঠে।তাসিন ঈশানীকে সাত্ত্বনা দেয় শক্ত থাকতে বলে।ঈশানী ভাবে,
---তাসিন তুমি থাকতে আমার চিন্তা নেই।
স্নেহা এবার ঈশানীর পাশে বসে।তাসিন ঈশানীর পাশে বসা সহ্য করতে পারছিল না।তাই তাসিনকে বলল ঈশানীর পাশে বসবে।তাসিনও রাজি হয়ে যায় এমনিতে অচেনা একজন ছেলের পাশে বসা ঈশানী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না।
ঈশানী ভিতরে ভিতরে রেগে ফেটে পড়ে।ভাবে,
---আমি কি বলেছি আমার পাশে বসলে আমার ক্ষতি হবে?যতসব ন্যাকা তোমার ভাগ্যে পেত্নী জুটবে।হায় আল্লাহ আমি যদি তাসিনের বউ হই তাহলে তো আমি পেত্নী।বাবা হয়তো পিয়াসের সাথে আমার বিয়ে দিবে।বিয়ে হলেও তাসিনকে আমি ভালবাসবো দূর থেকে।
স্নেহা ভ্রু কুচকে তাকাল ঈশানীর দিকে অনেকক্ষন ধরে ঈশানী এক মনে ভাবছে।স্নেহা ঈশানীর দুইবাহু ধরে ঝাকুনি দেয়।ঈশানী ঝাকুনি খেয়ে ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে আসে।স্নেহা চোখ পিটপিট করে বলল,
----'কি ভাবছো ভাবনা রানী? 'মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে।
----'কিছু না আপু।'ঈশানী মাথা নিচু করে উত্তর দেয়।কান দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে।মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে চোখের পাতা ফেলছে ঘনঘন।নিঃশ্বাস ঘন থেকে ঘনতর হচ্ছে।হার্টবিট তাড়াতাড়ি হচ্ছে মনে হচ্ছে হার্ট ছিটকে বের হয়ে পড়বে শরীর থেকে।স্নেহা ঠোটের কোণে দুষ্টুমির রেখা টেনে বলল,
----ডক্টরকে মিস করছো বুঝি।স্নেহার এমন কথা শুনে ঈশানী মাথা তুলে তাকায়।হঠাৎ তার মনে হয় গলায় কিছু আটকে গেছে।ঈশানীর কাশি দেওয়া শুরু করলে স্নেহা ওর ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে ঈশানীকে দেয়।ঈশানী একচুমুকে পানি শেষ করে দেয় সব।পানি খাওয়ার পর বুকে হাত দিয়ে বড় বড় নিঃশ্বাস নেয়।স্নেহা ব্যাগে বোতল রেখে বলল,
----হঠাৎ এমন কাশি শুরু হল কেনো?
ঈশানী ভ্যাবাচ্যাকা খায়।কি বলবে ও? স্নেহার কথার কোনো উত্তর নেই ঈশানীর কাছে।নিচু মাথা করে বলল,
----'কিছুনা আপু গলায়। '
----তুমি সাজো না কেনো?
আবার ঈশানীর কাশি শুরু হয়।সে তাসিনের জন্য সাজেনি।তাসিন সাধারন মেয়ে পছন্দ করে ঈশানী তাসিনের মত নিজেকে সাধারন রাখে।স্নেহা এবার ইরার কাছ থেকে পানি এনে ঈশানীকে দেয়।স্নেহা বলল,
----'তুমি কাউকে ভালবাসো ঈশানী?' উৎসুক চোখে তাকিয়ে আছে।
ঈশানীর গলায় পানি আটকে যায় স্নেহার কথা শুনে। ঈশানীর কাশতে থাকলে ইরা ছুটে এসে ঈশানীর পিঠে হালকা থাপ্পর দিতে থাকে।ইরার ভয় হচ্ছে ঈশানীর কিছু হলে তার বাবা মাকে কি বলবে?কাশি থামলে ইরা বলল,
----'ঈশানী তুই ঠিক আছিস তো?'অস্থির হয়ে।
----হ্যা আপু আমি ঠিক আছি।
----স্নেহা উঠ এখান থেকে কিসব উল্টা পাল্টা কথা বলে ওর এ অবস্থা করছিস।
----আমি তো জাস্ট বলেছিলাম
----একটাও কথা না যা নিজের সিটে আর তাসিন তোমাকেও বলি মেকাপ পাগলিকে এখানে বসানোর কি দরকার?এত যদি প্রবলেম হয়তো তামিম তুই বস এখানে।
তামিম নাকের ডগায় চশমা দিয়ে বলল,
----বোন আমি তো উপন্যাস পড়ি সবসময় ও বোরিং হয়ে যাবে। দিহান যাক।
----দরকার নেই দিহান তো লুচ্চা এক নাম্বারের।
দিহান কাঁচুমাচু করে বলল,
----তোর কাজিনের সামনে আমার সম্মান নিয়ে ফুটবল খেলছিস কেনো?
তাসিন ওদের ঝগড়া দেখছিল এবং মিটিমিটি হাসছে।ইফতি বলল,
----আমি যাচ্ছি ঈশানীর কাছে।
ইরা বলল,
----তাই ভাল হবে।
স্নেহার মনটা খারাপ হলেও এটা ভাল লাগছে ভেবে তাসিন ঈশানীর কাছে বসবে না।ইফতি ঈশানীর পাশে বসে।ঈশানীর মুখটা কালবৈশাখী মেঘের মত করে আছে।চোখে পানি টলমল করছে বন্যার নদীর মত।যেকোন সময় বাইরে বেরিয়ে পড়ে সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।মনটা কাঁচের টুকরোর মত ভেঙ্গে গেছে।ইফতি ঈশানীর কানে কানে বলল,
----মন খারাপ করনা। তাসিনকে ভালবাসো তাই না?'মুখে দুষ্টুমির হাসির রেখা।
ঈশানী ইফতির দিকে তাকায় অবাক হয়ে।চোখ গোল গোল হয়ে আসে।অজানা ভয়ে কেপে ওঠে পুরো শরীর। কাপা কাপা চোখে তাকায়।ইফতি বলল,
----এবার কাশি দিও না আটকে রাখো কষ্ট করে নয়তো ইরা আমার ব্যান্ড বাজাবে।
ঈশানী ফিক করে হেসে দেয়।ইফতি আবার বলতে থাকে,
----আমি শুরু নোটিশ করছিলাম তুমি আজ সকাল থেকে তাসিনের দিকে অনেকবার তাকিয়েছো।এরপর খাবারের সময় তুমি না খেয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলে।তাসিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় তোমার কানের লতি লাল হয়ে গিয়েছিলো গালগুলো লাল টমেটোর মত হয়েছিল।লজ্জা পাচ্ছিলে বোঝা যাচ্ছিলো।তাসিন না বসে স্নেহা বসলে তোমার চোখ দিয়ে বাদলধারা মনে হয় নেমে পড়বে।এসব ইঙ্গিত করছে ভালবাসো ওকে।
----আপনি যা ভাবচ্ছেন তা না।
----ঈশানী আমাকে শেখাতে এসো না ভালবাসা কি?হয়তো আজ প্রথম তোমার সাথে আমাদের দেখা হয়েছে কিন্তু ইরার কাছ থেকে শুনে হয়তো?মিথ্যা বলবে না আমি তোমাকে সাহায্য করবো।
ঈশানী মনে হয় দমবন্ধ করে মারা যাবে।এত লজ্জায় পড়তে হবে ভাবেনি কখনোও।মাথা নিচু করে ওড়না খুটতে থাকে।ইফতি দেখে ঈশানী লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।এবার পুরোপুরি বিশ্বাস করে।ইফতি বলল,
----কিছু বলতে হবে না ইশানী আমি সব বুঝে নিয়েছি জানো তোমার মত আমার একটা বোন ছিলো কিন্তু?'
ইফতি কন্ঠস্বর ভারী হয়ে আসে।বুকে কেউ পাথর চাপা দিয়েছে এমন মনে হয়।চোখ দিয়ে বৃষ্টিরধারা বইতে থাকে।দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে কান্না থামাতে চেষ্টা করছে।ঈশানী এই প্রথম কোনো ছেলেকে কাঁদতে দেখছে।ইফতি দেখে সব গুলিয়ে যাচ্ছে সে জানে যখন ছেলেরা এমনিতে কাঁদে না বেশি কষ্ট পেলে কাঁদে।কি হয়েছিলো ইফতির বোনের?ইরার তাকে সবার পরিবার সম্পর্কে বলেছিলো বাট ইফতির বোন আছে এটা বলেনি কোনোদিন।সে কি বেঁচে আছে?থাকলেও কি এমন হয়েছে যার জন্য এমন ভাবে ইফতি কাঁদছে?অনেক প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে মনে ঈশানীর।যার জবাব একমাত্র ইফতি দিতে পারবে।
....♦চলবে♦...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now