বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মুখোশের আড়ালে

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নিস্তব্ধ নীহারিকা (০ পয়েন্ট)

X নিউ মার্কেট এ কেনাকাটা করছিলাম। হঠাৎ একটা মেয়েকে দেখে থমকে গেলাম। খুব পরিচিত লাগল, কাছে গেলাম। আমিঃ আপনি দেবযানী আপু না? মেয়েটা: হুমম।আপনাকে ঠিক চিনতে পারলামনা। আমি : আপু আমি তাবাসসুম তুবা, চিনতে পারছ। আপু আবেগে আমাকে জড়িয়ে ধরল বলল মনি কেমন আছিস। খুব বড় হয়ে গেছিস। [বাড়িতে আমাকে মনি নামে ডাকে ] আমি : আপু তুমি কেমন আছ? রেহানদা কেমন আছে? আপু : মনি আমি আর রেহান আলাদা থাকি। চল আমার বাসায় অনেক গল্প আছে। আমি : কি? তোমরা আলাদা। আচ্ছা বাসায় ফোন করে বলি যে আমি যাচ্ছিনা। চল। [গাড়িতে যাচ্ছিলাম আর খুব অবাক হয়ে ভাবছিলাম কেন আপু আর ভাইয়া আলাদা হয়ে গেছে। কি ভালবাসা ওদের।আপু হিন্দু আর ভাইয়া মুসলমান। আমরা একই পাড়ায় থাকতাম।এখন শহরে চলে এসেছি। আপু আমাদের পাশের বাড়িতে থাকতেন। আপুর বাবা ব্রাক্ষ্মণ আর সমাজে তাদের প্রতিপত্তি ও ভাল। যদিও এখনকার যুগে প্রেম খুব সহজ ব্যাপার কিন্তু বার বছর আগেও খুব কম ছিল আর হিন্দু মুসলমানের প্রেম তো ভাবাই যায় না। ভাইয়াকে আপুর জীবন থেকে সরে আসার জন্য কি মারটাই না খেতে হয়েছে। দুজন একসাথে বিষ ও খেয়েছিল। তারপর একদিন তারা পালিয়ে চলে আসে পাড়া থেকে। অনেক খোঁজখবর করেও পাওয়া যায় নি। আর আপুর পরিবার আপুর মুখ দেখতে চায় নি।আমি তখন ছোট ছিলাম কিন্তু আপুর সাথে আমার খুব বন্ধুত্ব ছিল। ] মনি আমরা এসে গেছি। আপুর ডাকে আমার ভাবনায় ছেদ পড়ল। আপু আর আমি বাসায় ঢুকলাম। বাসাটা খুব সুন্দর। ফ্রেশ হয়ে রুম রুম ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম।আপু রান্না করতে চলে গেল।আপুর সাথে আপুর রুমে গেলাম আর একটু অবাক হলাম যে দেয়ালে মক্কা মদিনার ছবি, ঘরে কোরান ও আছে।আপু আমার চেহারা দেখেই যেন বুঝে নিল বলল বিয়ের পরই মুসলমান হয়েছিলাম আর এখন আমার নাম জুয়াইরিয়া।আপুর ফটোর অ্যালবাম দিয়ে গেলেন। আর আমি দেখতে থাকলাম যদিও রেহান ভাইয়ের কোন ছবি পেলাম না। রাতে খেয়ে আপু গল্প করা শুরু করল। "আজ থেকে বার বছর আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি শুধুমাত্র ভালবাসার জন্য; বাড়ি,সংসার, পরিবারের কথা চিন্তা না করে।মরতে চেয়েছি ওকে না পাওয়ার ভয়ে। পাসপোর্ট ভিসা করার পর সোজা লন্ডনে চলে যাই। কয়েক বছর পর চলে আসি দু সন্তান সহ। আমি আর রেহান একই কোম্পানিতে জব শুরু করি। আমরা একসাথে যেতাম একসাথে বাসায় আসতাম। বাচ্চাদের জন্য বুয়া রেখেছিলাম, মহিলা এখনও আছে আমার সাথে। পাচ বছরের সংসারে আমি খুব সুখী ছিলাম।আল্লাহর কাছে খুব শোকরগুজারি করতাম।কিন্তু বেশ কিছদিন হল রেহান আর আমার সংগে একসাথে আসতে চাইত না। বলত যাও বাচ্চারা একা আছে তুমি যাও আমার কাজ আছে।আমিও চলে আসতাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মুখোশের আড়ালে–৩
→ মুখোশের আড়ালে–২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now