বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#অভিমানী♥মন
.
লেখক-ইমরান খান
.
পার্ট- ৬
.
সকালেঃ
আজ তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙ্গে গেল। বাইরে দাড়িয়ে সূর্য উদয়ের অপেক্ষা করছি। পরিবেশ একদম সতেজ লাগছে। চারপাশের পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ শুনা যাচ্ছে। পাখিরা ঘর থেকে বের হচ্ছে খাবারের খোজে। রাফি আমার পাশে এসে দাড়ালো।
.
.
- কিরে এখানে কি করছিস?? (রাফি)
.
- এই সকালটাকে দেখছি অনেক দিন ধরে দেখা হয় না।
.
- চল একটু হাটা-হাটি করি।
.
- না চল,, দাদা-দাদির সাথে দেখা করতে যাবো। অনেক দিন ধরে দেখি না। যেহেতু গ্রামে কেউ নেই তাহলে সমস্যা হবে না।
.
- আচ্ছা চল।
.
.
রাফির সাথে চল শুরু করলাম বাড়ির দিকে। কিন্তু রাফি উল্ট দিকে যাচ্ছে। আমি বুজতে পরছি না।
.
- কিরে ওই দিকে যাচ্ছিস??
.
- আস আমার সাথে। (রাফি)
.
- আরে ওই দিকে তো গ্রামের গোরস্থান।
.
- আসতে বলছি আসই।
.
.
কিছুক্ষন পর আমরা গোরস্থানে পৌছে গেলাম। রাফি আমাকে দুটো কবরের সামনে দাড় করালো।
.
- কি চলে যাওয়া এক বছর পর তোর দাদা মারা যায়। উনি অনেক কষ্ট পেয়েছিলো। যখন জানতে পারে তোর বাবা তোকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আর তার এক বছর পর তার দাদিও মারা যায়। আমি মাঝে মাঝে তোর দাদির সাথে দেখা করতে যেতাম। অনেক কান্না করতেন তিনি।
.
.
কি বলবো কিছু বুজতি পারছি না। আমাকে সব চেয়ে বেশি ভালোবাসতো ওনারা। তার জন্য সব সময় ওনাদের কাছে থাকতাম। কিন্তু আজ যখন ফিরে এলাম তখন দেখি তারা কেউ নেই। আমরা আর ওখানে থাকতে পারলাম না। তাই চলে এলাম। আমার পিছনে রাফিও চলে এল। রাফির বাড়ির ফেরার পরঃ
.
.
- দুলাভাই তুমি কোথায় গিয়ে ছিলে আপু তোমাকে খুজছে। (মনিশা)
.
- সানি কে নিয়ে একটু ঘোরতে গিয়ে ছিলাম। (রাফি)
.
- সানি কে??
.
.
রাফি বুজতে পেরেছে ও আমার আসল নাম বলে ফেলেছে। আসহায়ের মতো আমার দিকে তাকালো।
.
- বলে না তো সানি কে?? তুমি এনার সাথে (আমাকে দেখিয়ে) গিয়ে ছিলে। আর ওনার নাম তো কুয়াশা। (মনিশা)
.
- হ্যা,, আসলে ওর আরেক নাম সানি। আমি ওকে সানি বলে ডাকি। (রাফি)
.
.
এবারের মতো বাচা গেল। রাফি আবার ভুল করার অভাস না জানি আবার কখন ভুল করে ফেলে।
.
- রাফি আমি একটু গ্রামটা ঘুরে আসি।
.
- আচ্ছা যা। (রাফি)
.
- দুলাভাই উনি গ্রাম চিনে না কি একা যাবে। আমি সাথে নিয়ে যাই। (মনিশা)
.
রাফি কিছু বলতে চেয়েও পারলো না। কারন সবাই জানে আমি এখানে নতুন। কেউ তো আর আমার আসল পরিচয় জানে না।
.
- আচ্ছা যাও। (রাফি)
.
রাফি আমাকে ইশারা করে বলল রাগ না করতে। না চাইতেও এই মেয়ে কে নিয়ে বের হতে হলো। আমি যাচ্ছি আমার বাড়ির দিকে সেখানে হয়তো কেউ থাকে না। না জানি বাড়ির অবস্থা কেমন।
.
.
- আপনি এমন ভাবে হাটছেন মনে হচ্ছে গ্রামটা আমনার পরিচিত। (মনিশা)
.
-....
.
- কি কেন কথা বলছেন না কেন??
.
-......
.
- আপনি এমন কেন?? কারো সাথে কথা বলেননি কেন?? সবাই আপনাকে বোবা ভাবে।
.
- আমি পিচ্চি বাচ্চাদের সাথে কথা বলি না।
.
- আমি বাচ্চা নয়। আমি অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ি।
.
- আমি ৮ বছর আগে অনার্স কম্পিলিট করেছি। তুমি তখন নতান্তই বাচ্চা।
.
- শেষ বারের মতো বলেছি বাচ্চা বলবি না।
.
- আমি কম করেও তোমার থেকে ১২-১৩ বছরের বড়।
.
- তাই বলে আমাকে বাচ্চা বলবেন।
.
.
আমি বাড়ির কাছে এসে পৌছালাম। বাড়িটাকে দেখছি। একে বড় অযত্ননে পড়ে আছে। কেউ নেই যত্ন নেবার। থাকবেই বা কেমন করে যত্ন নেওয়ার জন্য যারা ছিল তারা নেই।
.
.
- কি দেখছেন?? (মনিশা)
.
- ফেলে আসা অতীত।
.
- কি বললেন বুজলাম না।
.
- কিছু কথা না বুজাই ভালো।
.
- কি মানুষ কখন কি বলে কিছু বুজতে পারি না। (মনে মনে)
.
.
বাড়ির ভিতরে ডুকলাম। আর তার সাথে পুরনো স্মৃতি তাজা হয়ে গেছে। এই বাড়িতে খেলে বড় হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে দাদু ডাকছে। বলছে সন্ধ্যা হয়ে এল তাড়াতাড়ি বাড়ি ফের। আর আমি বলছি এত তাড়াতাড়ি ফিরে কি করবো। এই বাড়ির গাছ গুলোর সাথে আমার গভীর সম্পর্ক। কত এই গাছ গুলোতে উঠে বেরিয়েছি।
.
.
- আপনি কারো অনুমতি ছাড়া বাড়িতে ডুকলেন কেন?? (মনিশা)
.
- তুমি জানো এই বাড়ি কার??
.
- এটা আমার ক্লাসমেট রিয়াদের বাড়ি।
.
- তুমি রিয়াকে চেন??
.
- আপনি চিনেন??
.
- আমারটা নাই জানলে তুমি কিভাবে চেন??
.
- আমি আর রিয়া একই ডিপাটমেন্টে পড়ি। সেই হিসাবে চিনি। কিন্তু আপনি কিভাবে চিনেন??
.
- তুমি রিয়া সাথে আমার দেখা করাতে পারবে।
.
- পারবো,,, কিন্তু কিভাবে চিনেন তা তো বললেন না।
.
- সেটা না হয় তখনি জেন।
.
- ওকে করাবো।
.
- কবে।
.
- সেটা না হয় সেই দিনই জানবেন।
.
.
কি মেয়েরে বাবা। আমার কথা আমাকেই ফেরত দিলো। কিন্তু খুব আনন্দ লাগছে। কাল অনেক বছর পর আমার ছোট্ট বোনটাকে দেখবে পারবে। না জানি কত বড় হয়ে গেছে। আমাকে মনে রেখেছে কিনা তাই জানি না। কিন্তু আমার বিশ্বাস সবাই ভুলে গেলও আমার বোন আমাকে ভুলবে না। শুধু সময়ে অপেক্ষা কবে দেখতে পারবো। সবাইকে একবার দেখার পর আবার ফিরে যাবে যেখান থেকে এসে ছিলাম। কারন এখানে থাকার ভাগ্য আমার নেই।.............. To Be Continue
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now