বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#অবশেষে♥ভালোবাসি
#writer :ইমরান খান
#পার্টঃ৮
রিয়াদঃ হ্যালো??
.........................
রিয়াদঃহ্যালো??
ওপাশে কেউ একজন কান্না চাপার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা রিয়াদ বুঝতে পারে।।।রিয়াদের বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠলো।।।।সাদিয়া কাঁদছে!!!!!
রিয়াদঃ সাদিয়া??কি হয়েছে??? কিছু বলো,,,,,প্লিজ।।কাদঁছো কেনো??
সাদিয়াঃ (এবার ফুপিয়ে ওঠলো,,,নিজেকে সামলাতে পারলো না)
রিয়াদ অস্থির হয়ে ওঠেছে।।জানে না,,,এই অস্থিরতার কারন কি? শুধু জানে কান্নারত সাদিয়ার কন্ঠ শোনা তার পক্ষে সম্ভব না।।।অদিতির সাথে রিলেশনের একবছর হতে চললো,,,,,এখনো সাদিয়া কাদঁলে রিয়াদের মনটা আগের মতোই অস্থির হয়ে ওঠে,,, এটা রিয়াদেরও জানা ছিলো না।।আর সহ্য করতে না পেরে,,,,,
রিয়াদঃ প্লিজ সাদিয়া,,,স্টপ ক্রায়িং,,,এন্ড সে সামথিং ডেমেড(একটু জোরে)
সাদিয়াঃ রি,,,য়া,,য়াদ,,,,,বা,,,বা,,,বাব
া(হেচকি দিয়ে)
রিয়াদঃ বাবা?মানে আঙ্কেল??কি হয়েছে আঙ্কেলের??
সাদিয়াঃ রিয়াদ,,বাবা স্টোক করেছে,,,মা বাবাকে হসপিটালে নিয়ে গেছে।।।বাবার অবস্থা ভালো নয় রিয়াদ।।।আমি বুঝতে পারছি না কি করবো।।।আপুও দুলাভাইয়ের সাথে দেশের বাইরে আছে।।।।মা ওখানে একা।।।আমি এক্ষুনি চট্টগ্রাম যাবো,,,তুমি আমাকে নিয়ে চলো প্লিজ(অঝরে কাদঁছে)
রিয়াদঃ সাদিয়া শান্ত হও ,, প্লিজ।।।।এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না,,
সাদিয়াঃ রিয়াদ,, তুমি বুঝতে পারছো না,,,,আমার বাবা হসপিটালে।।।ডাক্তার বলেছে অপারেশন করা লাগবে।।অবস্থা খারাপ।।আর তুমি আমাকে শান্ত হতে বলছো??না আমি এই মূহুর্তে যাবো,,,তোমার প্রবলেম থাকলে ইটস ওকে আমি একা চলে যেতে পারবো।।।
রিয়াদঃ এতো বেশি বুঝো কেন??আমি কি তোমাকে বলছি নিয়ে যাবো না??এই রাতে একা চট্টগ্রাম যাবা??সাহস কেমনে হয় তোমার??দিবো একটা কানের নিচে লাগিয়ে,,,,,পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমি আসছি,,,,তুমি বের হও।।।
সাদিয়ার দাদুবাড়ি চট্টগ্রাম।।সাদি
য়ার বাবার চাকরির সুবাদেই ওদের ঢাকায় থাকা।।।সাদিয়ার বাবার ইচ্ছা,,, শেষ বয়সটা নিজের পৈতৃক বাড়িতেই কাটাবে,,,তাই রিটায়ার হওয়ার পর পর চট্টগ্রাম সিফট্ হওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল।।।কিন্তু হঠাৎ নাদিয়ার বিয়ে ঠিক হওয়াতে আর যাওয়া হয়নি।।।।তাই নাদিয়ার বিয়ের পর পরই ওরা সিফট্ করে,,,,,, সাদিয়া পড়াশুনা কমপ্লিট করার জন্য ঢাকায় থেকে যায়।।।।এবার গল্পে ফেরা যাক,,,
রিয়াদঃ হুম চলো,,,ট্রেনের টিকিট করে ফেলেছি।।।৮ টায় ট্রেন,,,৭:৪০ বাজে তাড়াতাড়ি চলো।।।
সাদিয়াঃ হুম চলো।।
রিয়াদ আর সাদিয়া ট্রেনে ওঠে গেলো।।রিয়াদ সাদিয়ার একাকিত্ব দূর করতে গিয়ে যে,অদিতিকে একা ফেলে রেখে এসেছে তা ওর মাথাতেই নেই।।।রিলেশনশিপের ১বছর পূর্তিতে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ঠিক আটটায় রিয়াদকে রেস্টুরেন্টে ডেকেছিলো অদিতি।।।রিয়াদ অদিতির কাছে যাওয়ার জন্য তৈরিও হয়েছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিয়াদের পদক্ষেপটা সাদিয়ার দিকেই এগিয়ে গেলো,,,,আর অদিতি পরে রইলো মনের একটি কোনে নিরবে।।।।রাত দশটা বেজে গেছে অদিতি এখনো ফাঁকা রেস্টুরেন্ট টাতে বসে আছে হাজারো দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে।।।রিয়াদের কিছু হলো না তো?ফোনটা কেনো তুলছে না??কতো হাজারো প্রশ্ন।।।কিন্তুমেয়েটা জানে না ঠিক একই সময়ে তার ভালোবাসার মানুষটি অন্য একটা মেয়ের কান্না থামাতে ব্যস্ত,,,অন্য একটা মেয়ের মুখে হালকা খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তায় মগ্ন।।মাঝরাতে কোনো মেয়ে যে তার জন্য অস্থির হয়ে ওঠছে,,,,তার একটা কল বা মেসেজের আশায় ঘুম শূন্য চোখে বসে আছে,,,,,সে খেয়াল তার নেই।।
★ ★ ★
আজ ৮ দিন হতে চললো।।।সাদিয়ার বাবা এখন অনেকটায় সুস্থ।।নাদিয়ার পাঠানো টাকায় অপারেশনও হয়ে গেছে ঠিকভাবে।।।এই কদিন রিয়াদ ওদের সাথেই ছিলো বাড়ি যায় নি।।।ঘরের ছেলের মতো সবদিক খেয়াল রেখেছে।।।ওর ওপর ভরসা রেখেই সবাই নিশ্চিত।। সাদিয়ার বাবা-মা রিয়াদের প্রশংশায় পঞ্চমুখ।।সাদিয়াও এ কদিনে রিয়াদের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।।সাদিয়ার সেনসিটিভ পয়েন্ট হলো ওর বাবা।।।আর রিয়াদ ওর বাবা - মার যে খেয়াল রাখছে তাতে সে দু্র্বল হতে বাধ্য।।নিজেকে আটকে রাখার ক্ষমতা আর তার নেই,,, ভালোবেসে ফেলেছে সে রিয়াদকে।।আজ রিয়াদ-সাদিয়া ঢাকায় ফিরছে।।।এই আটদিনে রিয়াদের অদিতির কথা মনে পড়ে নি।।।।তার ফোনে যে হাজারো মিসডকল আর মেসেজের ছড়াছড়ি তা তারর চোখে পড়েনি।।বাস্তবতা কতো নির্মম।।রিয়াদ সাদিয়াকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ফিরে যাচ্ছিল হঠাৎ সাদিয়া ডেকে ওঠলো,,,,
রিয়াদঃ কিছু বলবে?
সাদিয়াঃ বলছিলাম,,,,চার বছর আগের অফারটার মেয়াদ কি এখনো আছে নাকি এক্সপায়ারড্ হয়ে গেছে?
সাদিয়া কথাটা বলেই মুচকি হেসে চলে গেলো।।রিয়াদ যতোক্ষণে বুঝতে পারলো ততক্ষণে সাদিয়া ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।।।রিয়াদ যেন ফ্রিজড হয়ে গেছে।।নড়ার ন্যূনতম শক্তি আজ তার নেই।।।সাদিয়া কি বললো এটা? সাদিয়া ওকে ফিরে চায়?নিজের কানকে সে বিশ্বাস করতে পারছে না।। রিয়াদের চোখ টলমল করছে,,,চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে,,,এই কান্নাটা প্রাপ্তির।।১২ বছর ধরে যে মেয়েটিকে সে শুধু ভালোই বেসে এসেছে সেই মেয়েটি আজ তার দিকে হাত বাড়িয়েছে।।।।এর চেয়ে প্রাপ্তি আর কি হতে পারে???হঠাৎ মুঠো ফোনটা কেঁপে ওঠলো,,,ফোনে ভেসে ওঠা নামটা দেখে রিয়াদ চমকে ওঠলো।।।মনে পড়লো অদিতির কথা।।ফোনটা কেঁপেই চলেছে যেন তারা রিয়াদের অনুভূতিগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।।রিয়াদ ফোনটা না তুলে অফ করে ফেললো,,,অদিতির মুখোমুখি হওয়ার ক্ষমতা আজ তার নেই।।
রিয়াদ ৩ ঘন্টা যাবৎ শাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে আছে।।।কি করবে সে জানে না।।হাজারো প্রশ্নের মাঝে সে ঘোমড়ে মরছে।।আজ তার খুশির দিন নাকি দুঃখের সে তা বুঝতে পারছে না কিন্তু এটা বুঝতে পারছে সে আজ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।।।সে কাকে বেঁছে নিবে?সাদিয়াকে তো সে ছাড়তে পারবে না,,,সাদিয়া ওর রক্তে মিশে আছে,,পারবে না ছাড়তে।।। আবার অদিতির হাতটাও তো এভাবে মাঝপথে ছেড়ে দিতে পারে না,,,,মেয়েটা যে ওকে খুব ভালোবাসে।।।।ওওফফফ্ আর ভাবতে পারছে না রিয়াদ।।সে আজ নির্বাক।। শাওয়ার শেষে বিছানায় গাঁ এলিয়ে দেয়।।।শরীর নয় মনটা আজ অনেক ক্লান্ত তার।চোখটা ঘুম শূণ্য।।একটা উত্তরের আশায় নির্ঘুম রাত।।
★ ★ ★
সকালে ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই অবাক হলো রিয়াদ।।অদিতি বিছানায় বসে আছে।।।মেয়েটার মুখটা মলিন হয়ে আছে।।।খুব রোগাটে হয়ে গেছে।।মুখটা শুকনো।।চোখের নিচে কালি।।
রিয়াদঃ অদিতি?তুমি এখানে?এতো সকালে?
অদিতি ঃ তুমি বাধ্য করলে আমায়।
রিয়াদঃ মানে?
অদিতিঃ মানেটা কি তুমি সত্যিই জানো না??নাকি ইচ্ছা করেই জানতে চাচ্ছো না?
রিয়াদঃ কি বলছো,, বুঝতে পারছি না।।
অদিতিঃ আটটা দিন রিয়াদ,,,, আটটা দিন কেটে গেলো তুমি একটা ছোট্ট মেসেজ দিয়েও জানতে চাও নি আমি কেমন আছি?এতো অবহেলা কেন রিয়াদ?জানতে পারি কি?
রিয়াদঃ সরি। বিজি ছিলাম।
#চলবে ,,,,,
।
।
♣♣♣
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now