বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই পৃথিবীতে কে না চায় বড় মনের মানুষ হতে? প্রশস্ত হৃদয় সব মানুষেরই আরাধ্য বিষয়। কিন্তু কিভাবে আমরা বড় মনের মানুষ হব? প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার উপায়গুলো কী কী? এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে চাই, পৃথিবীর প্রশস্ততম হৃদয়ের অধিকারী মহামানবের অনুসরণ করলেই প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হওয়া যাবে। তিনি আর কেউ নন, আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও রাসুল শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ (সা.)।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাকে সম্বোধন করে বলেছেন, ‘আমি কি তোমার কল্যাণে তোমার হৃদয় প্রশস্ত করে দিইনি?’ (সুরা : ইনশিরাহ, আয়াত : ১)
অর্থাৎ তিনি নিশ্চিতভাবে প্রিয় নবী (সা.)-এর হৃদয় প্রশস্ত করে দিয়েছেন। তাই তিনিই পৃথিবীর প্রশস্ততম হৃদয়ের অধিকারী। তাঁর চেয়ে বড় মনের মানুষ আর কে হতে পারেন?
তাই বড় মনের মানুষ হতে হলে, প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হতে হলে তাঁর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। তাঁর দেখানো পথে নিজেকে পরিচালিত করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার যেসব উপায় তিনি বাতলে দিয়েছেন, তা নিজের ভেতর ধারণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা আমাদের করতে হবে। এ লেখায় আমরা সেসব উপায় জানার চেষ্টা করব।
এক. তাওহিদ : প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস যত বলিষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ হয়, বিশ্বাসীর হৃদয় তত প্রশস্ত হয়; তার বক্ষ তত উন্মুক্ত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ যার হৃদয় উন্মুক্ত করেছেন এবং যে তার পালনকর্তা প্রদত্ত আলোতে আছে, সে কি তার সমান যে এমন নয়?’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ২২)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাইলে তিনি তার হৃদয় ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন। আর কাউকে বিপথে নিতে চাইলে তিনি তার হৃদয় খুবই সংকীর্ণ করে দেন। তখন তার কাছে ইসলামের অনুসরণ আকাশে আরোহণের মতো দুঃসাধ্য হয়ে যায়।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১২৫)
তাই আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস মুমিনের হৃদয় খুলে দেয়। আর শিরক ও ভ্রষ্টতা বন্ধ করে দেয় হৃদয়ের দুয়ার।
দুই. ঈমানের আলো : ঈমানের কারণে আল্লাহ মানুষের হৃদয় আলোকিত করেন। বক্ষ প্রশস্ত করেন। বড় মনের মানুষ বানিয়ে দেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘হৃদয় আলোকিত হলে তা উন্মুক্ত ও প্রশস্ত হয়ে যায়।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তার আলামত কী হবে হে আল্লাহর রাসুল?’ তিনি বলেন, ‘জান্নাতের চিরস্থায়ী জীবনের প্রতি মনোযোগী হওয়া, গর্ব-অহংকারের এই দুনিয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা এবং মৃত্যুর আগে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা।’ (বায়হাকি, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা. ২৫৮) সেই আলো যত বেশি হবে, হৃদয়ও তত উন্মুক্ত হবে।
তিন. জ্ঞান : জ্ঞান মানুষের হৃদয়ের দুয়ার খুলে দেয়। জ্ঞানীর হৃদয় পৃথিবীর চেয়েও বেশি প্রশস্ত। তবে সব ধরনের জ্ঞানের ক্ষেত্রে এ কথাটি সত্য নয়। মহানবী (সা.)-এর রেখে যাওয়া উপকারী জ্ঞানই পারে বক্ষ উন্মুক্ত করতে। তাই এই জ্ঞান যারা বক্ষে ধারণ করতে পারে, তারাই পৃথিবীর প্রশস্ততম বক্ষের অধিকারী হয়। সুন্দরতম চরিত্রের অধিকারী হয়। পৃৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ তারাই।
চার. তওবা : আল্লাহর দরবারে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করলে হৃদয় প্রশস্ত হবেই। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ‘করা’ এবং তার অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ‘না করা’ প্রকৃত মুসলমানের পরিচায়ক। এটিই আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা। এই ভালোবাসা কত মধুর, শুধু তারাই জানে, যাদের হৃদয় আল্লাহর ভালোবাসায় ভরপুর। সেই সুখানুভূতি প্রকাশ করার সাধ্য শব্দ-বাক্য-ভাষার নেই।
পক্ষান্তরে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে গেলে হৃদয় সংকুচিত হয়ে পড়ে। বুকজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। দুনিয়ার মোহে আক্রান্ত হলে ব্যাপক হতাশার সৃষ্টি হয়। প্রশস্ত পৃথিবীকে মনে হয় কারাগারের সংকীর্ণ কুঠির। হতাশা তাকে কুরে কুরে খায়। তার চেয়ে বড় হতভাগা আর কে হতে পারে!
পাঁচ : আল্লাহর স্মরণ : সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ হৃদয় উন্মুক্ত করে। অন্তর প্রশান্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)
আর আল্লাহর স্মরণবিমুখ মন সংকুচিতই হতে থাকে। এক বুক হতাশা ও কষ্ট নিয়ে এসব লোক দিনাতিপাত করে।
ছয়. দান করা : আল্লাহর পথে দান করলে বড় মনের মানুষ হওয়া যায়। সৃষ্টির কল্যাণ কামনা করলে এবং মানুষের সেবা করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। দানশীল মানুষ বড়ই সুখী হন। কৃপণের অন্তরটা খুবই ছোট হয়। জীবনে সে বড়ই দুঃখী। রাসুল (সা.) দানশীল ও কৃপণের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘দুই ব্যক্তির সামনে লোহার দুটি প্রাচীর। একজন দান করে। সেই প্রাচীর আস্তে আস্তে খুলে যায় এবং জায়গাটা তার জন্য প্রশস্ত হয়ে যায়। আরেকজন দান করে না। সেই জায়গাটা আগের মতোই রয়ে যায়। মোটেও প্রশস্ত হয় না তা। (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৮৭০)
এটিই এই দুজনের পার্থক্য। দানের ফলে একজনের হৃদয় প্রশস্ত হয়। কৃপণতার ফলে অপরজনের হৃদয় সংকুচিত হয়।
সাত. সাহসিকতা : সাহসিকতা বক্ষ উন্মুক্ত করে। হৃদয় প্রশস্ত করে। ভীরু-কাপুরুষের মন সংকীর্ণ হয়। সেই মনে কোনো আনন্দ নেই। খুশি নেই। পাশবিক উন্মত্ততা ছাড়া সেখানে কোনো উপভোগ্য জীবন নেই।
আট. আত্মশুদ্ধি : মনের ভেতর ধরা সব মরীচিকা পরিষ্কার করতে হবে। হৃদয় করতে হবে পরিশুদ্ধ। তাহলে তা প্রশস্ত হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ এবং তাদের পবিত্র করেন।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ২)
নয়. অতিরঞ্জন পরিত্যাগ করা : সব কাজেই অতিরঞ্জন পরিত্যাগ করলে হৃদয় প্রশস্ত হয়। ভোজন-বিলাসিতা পরিহার করতে হবে। মানুষের সঙ্গে অতিরিক্ত মেলামেশা কমাতে হবে। বেশি ঘুমও পরিত্যাজ্য। বাচালতাও কল্যাণ বয়ে আনে না। বেশি দেখা এবং বেশি শোনাও হৃদয় সংকুচিত করে। এসব অতিরঞ্জন দুঃখই বাড়ায়। দুনিয়া-আখিরাতে বেশির ভাগ শাস্তিই অতিরঞ্জন ও সীমা লঙ্ঘনের কারণে হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯০)
হৃদয় প্রশস্তকারী এসব ভালো গুণ যারা অর্জন করতে পেরেছে, তারা কতই না ভাগ্যবান! আর যারা এসব গুণের বিপরীতটাই আঁকড়ে ধরেছে, তারা কতই না হতভাগা! আল্লাহ তাআলা বলেছেন, সৎকর্মপরায়ণরা জান্নাতে যাবে এবং পাপিষ্ঠরা যাবে জাহান্নামে। (সুরা : ইনফিতার, আয়াত : ১৩-১৪)
আসুন, এই গুণগুলো নিজের ভেতর ধারণ করি। বড় মনের মানুষ হই। পৃথিবীর বুকে নিজের প্রতি ইনসাফ করি। একটি সুখময় ও তৃপ্ত জীবন যাপন করি। আখিরাতেও হই সফলকাম। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now