বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অপরাধ প্রচারে সতর্কতা কাম্য

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান K.M.Tafsirul Islam Rakib (০ পয়েন্ট)

X মানুষ মাত্রই ভুল করে। গুনাহ করে। কিন্তু তারাই শ্রেষ্ঠ মানুষ, যারা তা থেকে তাওবা করে। এবং তা গোপন রাখে। কারণ গুনাহ করে তা আবার প্রচার করা কিংবা যেকোনো মন্দ কথা প্রচার করাই আল্লাহ পছন্দ করেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মন্দ কথার প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে কারো ওপর জুলুম করা হলে ভিন্ন কথা। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪৮) তাফসিরবিদদের মতে, কোনো খারাপ কথা প্রচার করে বেড়ানো আল্লাহ পছন্দ করেন না। তবে হ্যাঁ, কেউ জুলুমের শিকার হলে সে তা যথাযথ জায়গায় বলার বিষয়টি ভিন্ন। (তাফসিরে কুরতুবি) বর্তমানে বিভিন্ন এফএম রেডিওগুলোতে অনেকে এসে তাদের জীবনের গল্প বলেন, সেখানে অনেকেই তাদের অন্ধকার জীবনের গল্প বলেন। কেউ বলেন অবৈধ প্রেমের গল্প। কেউ বলেন বিভিন্ন অপরাধ কিভাবে সংঘটিত করেছিলেন সেই গল্প। আবার অনেক দেশি-বিদেশি চ্যানেলে দেখানো হয় বিভিন্ন অপরাধমূলক অনুষ্ঠান। যেগুলোর উদ্দেশ্য থাকে মূলত মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটাই ঘটে। প্রেম থেকে শুরু করে খুন। সবই এখন হচ্ছে ফিল্মি স্টাইলে। অনুসরণ করা হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রচারিত কলাকৌশল। এভাবে চলতে থাকলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরো বেড়ে যাবে। কারণ মানুষ অনুকরণপ্রিয়। বিভিন্ন সিনেমায়, অনুষ্ঠানে দেখা প্রিয় চরিত্রগুলোতেই মানুষ নিজেকে কল্পনা করতে ভালোবাসে। কেউ যদি বাস্তবজীবনে তা প্রয়োগ করে বসে তখনই ঘটে বিপত্তি। এ কারণেই ইসলাম অপরাধমূলক ঘটনা ও নিজের গুনাহর বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে নিষেধ করেছে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আমার সব উম্মতকে মাফ করা হবে, তবে প্রকাশকারী ছাড়া। আর নিশ্চয়ই এ বড়ই অন্যায় যে কোনো লোক রাতের বেলা অপরাধ করল, যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে সকাল হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক! আমি আজ রাতে এই এই কাজ করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত কাটাল যে আল্লাহ তার কর্ম লুকিয়ে রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার ওপর আল্লাহর দেওয়া আবরণ খুলে ফেলল। (বুখারি, হাদিস : ৬০৬৯) ইবনে হাজার (রহ.)-এর মতে (মুজাহির), ‘প্রকাশকারী’ মানে হলো, যারা নিজের গুনাহ মানুষের কাছে প্রচার করে বেড়ায়। যেগুলো আল্লাহ গোপন করে রেখেছিলেন। (ফাতহুল বারি) এই হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, যেকোনো জায়গায় গিয়ে নিজের অন্ধকার জীবনের কথা বলে বেড়ানো ইসলামের দৃষ্টিতে অমার্জনীয় অপরাধ। এতে অন্যদের মধ্যেও একই ভাবে অপরাধ করার আইডিয়া সৃষ্টি হতে পারে। কেউ এ গল্প থেকে শিক্ষা না নিয়ে এটিকে নিজের অপরাধকর্মের মাইলফলক হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। ফলে যারা এভাবে অপরাধ ও অশ্লীলতার প্রচার করে বেড়ায়, তারাও ওই গুনাহর সমপরিমাণ গুনাহর ভাগীদার হবে। কেউ যদি সমাজে অশ্লীলতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের আয়োজন করে থাকে, তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যারা চায় মুমিনদের সমাজে অশ্লীলতার প্রসার ঘটুক, তারা দুনিয়ায় ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে। (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯) তাই আমাদের সমাজকে সুন্দর করতে হলে এ ধরনের অশ্লীলতার চর্চা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সমাজে বিপর্যয় নেমে আসবে। নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব ঘটবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার সাহাবায়ে কেরামকে পাঁচটি বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার মধ্যে একটি ছিল, যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা আগের লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০১৯) বাস্তবেও বর্তমান যুগে এমন এমন রোগের আবির্ভাব হচ্ছে, যেগুলো আগে কখনো দেখা যায়নি। তাই আমাদের উচিত, সব ধরনের গুনাহ থেকে খাঁটি তাওবা করে নেওয়া। এবং অশ্লীলতা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ায় এমন সব কাজ বর্জন করা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now