বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
বিজ্ঞানী ক্যোঁৎ ও নাসির উদ্দিন হোজ্জার ঐতিহাসিক ভ্রমণ-০৩
X
৪
নাসির উদ্দিন হোজ্জা গত দুই বছর ধরে বানরের
সাথে বসবাস করছে এক গহীন জঙ্গলে ।
বলতে গেলে সারা দিনই এখন অবসর । সকালে
বানর বন্ধু মিকুর কাতুকুতু খেয়ে ঘুম ভাঙ্গল । এই
বদের বদ বানর সম্প্রদায়ের সাথে মিকুর মাধ্যমেই
পরিচয় । বনবাসের ২৯ তম দিনে হোজ্জা যখন
নিজের পাগড়ি দিয়ে কলাগাছের সাথে ফাসি দেওয়ার
চেষ্টা করছিল । ঠিক তখনই মিকুর সাথে তার দেখা ।
মিকু তার আধখাওয়া কলা হোজ্জার দিকে বাড়িয়ে
দিয়েছিল বলেই হোজ্জা বুঝতে পেরেছিল
সে একেবারেই ফেলনা নয়, এই পৃথিবীতে
কেউ একজন আছে যে তাকে ভালবাসে ।
প্রথমে বানর সম্প্রদায় প্রবল আপত্তি জানিয়েছিল
হোজ্জাকে তাদের দলভুক্ত করার বিষয়ে, কিন্তু
বানর সম্প্রদায়ের রানীর হোজ্জাকে এতই
পছন্দ হল যে নিজের স্বামীকে ত্যাগ করে
সে হোজ্জাকেই বানর সম্প্রদায়ের রাজা ঘোষণা
করে। ফলাফল স্বরুপ বানর সম্প্রদায়ের রানীর
সাথেই এখন ঘুমাতে হয় হোজ্জাকে । রাজা
হিসেবে হোজ্জা বেশ আরামেই আছে, সকাল
বিকাল একপাল বানর এসে তার মাথার উকুন দেখে,
হাত পা টিপে দেয়, ইশারা করতেই খাবার দাবার এনে
দেয় । হোজ্জা ইতিমধ্যেই বানরদের ভাষা শিখে
ফেলেছে, বানররা ভাব আদান প্রদান করে মুলত
উ, এ, ক, গ আর চ এই পাঁচ বর্ণের সমন্বয়ে ।
সারা দিন হোজ্জার ভালোই কাটে কিন্তু রাতে
হোজ্জাকে ঘুমাতে হয় রানীর কোলে, দশটা
না পাঁচটা না একটা মাত্র রানী, তার উপর তার এই
একটাই চাহিদা । হোজ্জা মাঝে মধ্যে কাকুতি মিনতি
করে একটু মাটিতে ঘুমানোর জন্য । তারউপর
গাছের উপর ঘুমাতে তার বেশ ভয় লাগে, একবার
নিচে পড়লেই সেরেছে ।
কাঁচা ফল মূল আর নিরামিষ খেয়ে খেয়ে
হোজ্জার মুখে অরুচি ধরেছে ভীষণ । চোখ
মুদলেই আমিষের ছবি ভেসে উঠে দৃশ্যপটে ।
কিন্তু কিছুই করার নেই । মন খারাপ করে বনের
এক কোনে গাছের উপর বসে হোজ্জা
আজকাল সেই কুক্ষনে দিনের কথা ভাবে । বেশ
ভালই চলছিল ক্যোঁতের টাইম মেশিন । কে জানত
মাঝপথে এসে অবিরাম গ্যাস সাপ্লাই বন্ধ হয়ে
যাবে, হোজ্জা কল্পনাও করতে পারে না সেই
দুর্বিষহ সময়ের কথা । একফোঁটা গ্যাসও সে
বের করতে পারল না চেপে চুপে ! ভ্রমনের
মাঝসময়ে ক্যোঁতের সাধের মেশিন ক্রাশ ল্যান্ড
করে সময়-পথে । জ্ঞান হারাবার পর হোজ্জা
নিজেকে এইখানে আবিষ্কার করে, কে জানে
ক্যোঁৎ কোথায় আছে ? আহা ! বেচারা ভোলা
ভালা মানুষ ছিল ।
হোজ্জা বসে বসে ভাবছে এমন সময় এক পাল
বানর তাকে ঘিরে ফেলল চারপাশ থেকে, তারা
বেশ উত্তেজিত, ডজন খানেক কলার কাঁদি তাদের
হাতে । হোজ্জা ভাবলঃ রানী বুঝি তাকে চমৎকৃত
করার নতুন কোন উপায় আবিষ্কার করেছেন ।
কিন্তু না ! সেই আশায় গুঁড়ে বালি । এই বানরের
পালকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বানর সম্প্রদায়ের রানীর
প্রাক্তন স্বামী চিকু । হোজ্জা চোখ বুজে
ফেলল ভয়ে, আজ আর তার রেহাই নেই ।
রানীর ভালবাসা ফিরে পেতে এক দিওয়ানা রাজা কি না
করতে পারে !
রাজা চিকুর চোখমুখ রাগে জ্বলজ্বল করছে ।
সে এক কাঁদি কলা এগিয়ে দিল হোজ্জার দিকে ।
এই শাস্তির নাম কলা থেরাপি ! মৃত্যুর আগ পর্যন্ত
কলা খেয়ে যেতে হবে একটানা, খাওয়া বন্ধ
করলেই তাকে গাছের উপর থেকে ছুড়ে
ফেলা হবে !
গাছ থেকে পড়ে ল্যাংড়া লুলা হওয়ার চেয়ে কলা
খাওয়াই শ্রেয় !
হোজ্জা মনে হচ্ছিল সে খেয়েই চলেছে
যেন অনন্ত কাল ধরে, কিন্তু একটু খেয়াল
করতেই সে দেখল মাত্র দুই কাঁদি কলা খাওয়া
হয়েছে । হোজ্জা ইশারা ইঙ্গিতে বানর কূলের
রাজা চিকুর কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইছে ।
কিন্তু চিকুর কোন ভাবান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না ।
তবে কি এভাবেই মৃত্যু লেখা ছিল হোজ্জার
কপালে !
ঠিক এমন সময় বিকট শব্দ করে এক চায়ের পেয়ালা
আকৃতির যান গাছের উপর এসে থামল, অপার্থিব
আলো বের হচ্ছিল সেটার চারপাশ থেকে । বানর
পাল তারস্বরে চেঁচামেচি শুরু করে দিল । হোজ্জা
চিকুর কোলে উঠে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে
ধরল ।
কড়াৎ শব্দ করে যানটার জানালা খুলল । সেখান
থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে এল জমকালো
আলখাল্লা পরা একজন মধ্য বয়সী মানব, যার চুল কাঁধ
পর্যন্ত লম্বা । সে হোজ্জার দিকে আঙ্গুল তাক
করে বললঃ এই যে হোজ্জা আপনি, আমার সাথেই
আসুন ! চিকু হোজ্জাকে কুনুই দিয়ে গুঁতো
দিয়ে সেই মানবের দিকে ঠেলে দিল ।
হোজ্জা কিছুই বুঝতে পারছে না, আলখাল্লা পরা
রহস্যময় লোকটা কে ? সে কি সেই বোকা
রাজার দেশ থেকেই এসেছে ? ফুটন্ত কড়াই
থেকে তবে কি এইবার জ্বলন্ত উনুনে পড়ল
হোজ্জা ? এ যাত্রায় আর শেষ রক্ষা হল না !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now