বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
বিজ্ঞানী ক্যোঁৎ ও নাসির উদ্দিন হোজ্জার ঐতিহাসিক ভ্রমণ-০২
X
৩
এদিকে যেই মাত্র রাজা পোশাক গায়ে চাপিয়ে
রাজ্য পরিদর্শনে বের হলেন সেই মাত্র
বিজ্ঞানী ক্যোঁৎ সবার অগোচরে রাজ প্রাসাদে
ঢুকে তার টাইম মেশিন চালু করার চেষ্টা শুরু করল ।
কিন্তু কিছুতেই সেটা তিনি চালু করতে পারছিলেন না
, কারণ তার টাইম মেশিন চলে হাইড্রোজেন গ্যাস
দিয়ে । আর বোকা রাজা এই মেশিনটাকে নিজের
সিংহাসন হিসেবে ব্যাবহার করতে গিয়ে এটার বাতাস
হতে হাইড্রোজেন সংগ্রাহক অটোমেটেড
ডিভাইস পুরো অকেজো করে ফেলেছেন ।
বিজ্ঞানী ক্যোঁৎ রাগে,ক্ষোভে, দুঃখে মাথার
চুল ছিঁড়ছেন । আর এইদিকে হোজ্জা ব্যাস্ত
নিজের জামা ফুটো করে দিরহাম লুকানোতে ।
এমন সময় হোজ্জার পোশাকের ভেতর
থেকে বেড়িয়ে এল তিন চারটা তেলাপোকা,
তেলাপোকা দেখামাত্রই ক্যোঁৎের মাথায় বিশেষ
আইডিয়া এল এবং সে ছুটে এসে তেলাপোকা
ধরায় ব্যাস্ত হয়ে পড়ল । চারটা তেলাপোকা
চারদিকে ছুটে আর ক্যোঁৎ হুম হাম করে তাদের
পিছু পিছু রাজ প্রাসাদের এই কোনা থেকে ঐ
কোনা ছুটে !
হোজ্জা এমন কাণ্ড দেখে বেশ অবাক, সে
ক্যোঁৎ এর আলখাল্লা টেনে ধরে থামিয়ে
জানতে চাইলঃ আরে মশাই ! আপনি তেলাপোকার
পেছন পেছন ছুটছেন কেন ?
ব্যাস্ত ভাবে ক্যোঁৎ এর উত্তরঃ আরে ছাড়ুন
আগে তেলাপোকা ধরি, তারপর না হয় বলব !
-না, না, মশাই ! আগে বলুন তারপর ছাড়ছি !
এই ফাঁকে সমস্ত তেলাপোকা পালিয়ে গেল !
ক্যোঁৎ রেগেমেগে বললঃ আরে
তেলাপোকা হল এই জগতের সবচেয়ে বেশী
আন্ত্রিক গ্যাস নির্গমনকারী প্রাণী !
উত্তর শুনে হোজ্জার আক্কেল গুড়ুমঃ আন্ত্রিক
গ্যাস ? এটা আবার কি !
-এটার অপর নাম সোজা বাংলায়…. থাক সোজা বাংলায়
মানে না জানলেও চলবে এর অপর নাম পেট নিঃসৃত
গ্যাস, যা বিশেষপথ দিয়ে শব্দহীন ও শব্দ
যোগে নির্গত হয় ! তাদের মত আর সৌভাগ্যবান
কেউ নেই যারা ইহা শব্দহীন ভাবে নির্গত করতে
পারেন !
হোজ্জা নাক কুঁচকে বললঃ এটার নাম প্রান্তিক গ্যাস
হলেই ভাল হত, হে হে । তা আপনি তেলাপোকার
গ্যাস দিয়ে কি করবেন ?
-তেলাপোকার আন্ত্রিক গ্যাসে ০-৫০% পর্যন্ত
হাইড্রোজেন গ্যাস থাকে এবং তা অত্যন্ত দাহ্য,
আমার এই সময় নিয়ন্ত্রনযন্ত্র চালু করতে হলে
তিনটা তেলাপোকার গ্যাসই যথেষ্ট ! দিলেন
তো মশাই সব ভণ্ডুল করে ! এখন রাজা ফিরে
আসলেই দুজনকে শূলে চড়াবে ! রাজ্য শুদ্ধু
লোক বোকা বানানো কি চাট্টিখানি কথা ?
এমন সময় হৈ হুল্লোড় শুনে তারা বুঝতে পারল রাজা
ফিরে আসছেন । ক্যোঁৎ প্রাসাদ থেকে
পালানোর অন্য উপায় খোঁজা শুরু করল, কিন্তু
পালানোর দরজা তো একদিকেই আর সেই দিক
থেকেই রাজা ছুটে আসছেন !
এমন সময় হোজ্জা লাফিয়ে উঠে ক্যোঁৎ কে
বললঃ আরে আপনার কিছু প্রান্ত্রিক গ্যাস ই তো
দরকার, তাই না ?
-হ্যাঁ ! ক্যোঁৎ সন্দিগ্ধ, অবাক !
-যে কারো প্রান্তিক গ্যাস হলেই চলবে ?
-আরে হ্যাঁ !
-তো আগে বলবেন না ! শব্দ বিহীন প্রান্ত্রিক
গ্যাস বিসর্জনে আমার আবার বেশ খ্যাতি আছে !
চলুন দেখিয়ে দিন কোথায় লাগবে আপনার গ্যাস !
ক্যোঁৎ হোজ্জাকে আনন্দে জড়িয়ে ধরল ।
এমন সময় রাজা প্রাসাদে প্রবেশ করল এবং দেখল
হোজ্জা সিংহাসনে জুতো নিয়ে উঠে
পড়েছে !
হোজ্জাকে দেখা মাত্র রাজার মাথায় খুন চেপে
গেল, রাজা নিজেই দৌড় শুরু করল হোজ্জাকে
পাকড়াও করার জন্য ।
ক্যোঁৎ হোজ্জাকে দেখিয়ে দিল গ্যাস
চেম্বারের ঠিক কোন পাইপে গ্যাস বিসর্জন
করতে হবে !
রাজা তার সাধের সিংসাহন কাছাকাছি পৌছা মাত্রই হোজ্জা
বিশেষ কায়দায় তার গ্যাস বিসর্জনের চেষ্টা করল
এবং এই প্রথম প্রবল উত্তেজনায় সাইলেন্সার
পাইপের ভুল ব্যাবহার করায় প্রচণ্ড শব্দে গন্ধযুক্ত
গ্যাস নির্গত হল ! রাজা নাক চেপে সেখানেই
বেহুস হয়ে গেল !
চোখের সামনেই জলজ্যান্ত সিংহাসন ঘড় ঘড় শব্দ
তুলে নিমেষেই উধাও হয়ে গেল ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now