বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
বিজ্ঞানী ক্যোঁৎ ও নাসির উদ্দিন হোজ্জার ঐতিহাসিক ভ্রমণ-০১
X
"বিজ্ঞানী ক্যোঁৎ ও নাসির উদ্দিন হোজ্জার
ঐতিহাসিক ভ্রমণ !"
লিখেছেনঃ সাচৌ !
=============
১
সেই যে এক বোকা রাজা ছিল মনে আছে ? ঐ
যে সবচেয়ে দামী পোশাক পড়তে
চেয়েছিলেন ! তারপর দুই ধুরন্ধর দর্জি মিলে
রাজাকে অদৃশ্য পোশাক বানিয়ে দিল । সেটা গায়ে
চাপিয়ে রাজা পুরো রাজ্য ঘুরে ফেললেন, বড়রা
সবাই মাথা দুলিয়ে বলছিলঃ বাহ ! কি সুন্দর পোশাক ।
এমন সময় এক পিচ্চি বাচ্চা আঙ্গুল তুলে চেঁচিয়ে
বললঃ রাজা মশাই ন্যাংটো ! রাজা মশাই ন্যাংটো !
সেই গল্পের কথাই বলছি । আপনারা তো শুধু
এটুকুই জানেন, এরপর বা আগে কি হয়েছিল আজ
সেটাই বলব ।
রাজার সেই পোশাক আসলে বানিয়েছিল বিজ্ঞানী
ক্যোঁৎ, কি অবাক হচ্ছেন ? অবাক হওয়ার কিছুই
নেই বিজ্ঞানী ক্যোঁৎ তখন টাইম মেশিন
আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন । এই যুগের এত
এত বই পত্রে মোল্লা নাসির উদ্দিন হোজ্জার
গল্প পড়তে পড়তে তিনি হোজ্জার বিশেষ ফ্যান
হয়ে গেলেন । আরও অনুসন্ধান করতে গিয়ে
যখন জানতে পারলেন হোজ্জা নামে আসলেই
এক মজার লোক এই পৃথিবীতে বসবাস করত,
তখন ক্যোঁৎ সোজা রওনা দিলেন টাইম মেশিনে
চড়ে তার সাথে দেখা করতে ।
২
কয়েক শতাব্দী আগুপিছু ভ্রমন করে বিজ্ঞানী
ক্যোঁৎ হোজ্জার দেখা পেল ১৭০০ খৃস্টাব্দের
এক মফঃস্বল শহরে । দূর থেকে থুতনিতে
চৈনিকের মত এক মুষ্টি দাঁড়ি, আর ঠোঁটের
ওপরের দুই পাশে তিন তিনটা গোঁফের বেণী
দেখেই তিনি বুঝতে পারলেন উনিই হোজ্জা ।
হোজ্জা মাথা নিচু করে মোমবাতি দিয়ে কিছু
খুঁজছেন ঘরের সামনে । কাছে গিয়ে জানতে
চাইলেন: হোজ্জা সাহেব কিছু খুঁজছেন ?
-হ্যাঁ, আমার একটা দিরহাম হারিয়ে গিয়েছে । মাথা না
তুলেই জবাব দিলেন ।
-কোথায় হারিয়েছে ?
-ঐ পাশের ঝোপে !
-এখানে খুঁজছেন যে ?
-তুমি বাপু বোকা নাকি ? এই আঁধারে ঝোপের
মাঝে কে যাবে অত কষ্ট করে দিরহাম
খুঁজতে ! এখানে আলো ও আছে, আর জায়গাটা
পরিষ্কার ও বটে !
বিজ্ঞানী ক্যোঁৎ সহসাই বুঝে গেলেন সেই
বিখ্যাত গল্পের পার্শ্বচরিত্রটা আসলে তিনি
নিজেই !
হারিয়েছে এক দিরহাম, সেটা একের উপর ভুল
জায়গায় তো খুঁজছেন ই হোজ্জা, তার উপর সেই
পয়সা খোঁজার জন্য তিন দিরহাম দিয়ে একটা
মোমবাতি আর আধ-দিরহাম দিয়ে একটা আগুন
জ্বালানোর শলকা কিনলেন !
ক্যোঁৎ ভাবছিল আর গভীর হতাশায় মাথা নাড়ছিল, ঠিক
এমন সময় হোজ্জা মাথা তুলে দেখলেন, একজন
আলখাল্লা পরা উস্কুখুস্কু চুলের মানব সন্তান তার
সামনে দাঁড়িয়ে আছে !
-আরে আপনার পোশাকের এই হাল কেন ? রাজার
সিপাহী দেখলে তো পাগল বলে জেলে বন্দি
করে রাখবে !
ক্যোঁৎ আতকে উঠলেন !
-আরে অত ভয় পাওয়ার কিছু নেই । চলুন
আপনাকে দোকানে নিয়ে যাই, কেউ দেখে
ফেলার আগেই ।
ঠিক সেই পোশাকের দোকানেই হোজ্জা
শুনলেন, রাজার ঘোষণা দিয়েছেনঃ যেই দর্জি
এক সপ্তাহের মাঝে রাজাকে সবচেয়ে সুন্দর
পোশাক তৈরি করে দিতে পারবে, যা আজ পর্যন্ত
কোন রাজা চোখও দেখেনি, সেই দর্জি পাবে
১০০০ দিরহাম পুরস্কার !
সাথে সাথেই হোজ্জা লাফিয়ে উঠে বললঃ আমি
পারব, আমি !
বিজ্ঞানী ক্যোঁৎের খটকা লাগল, তিনি কখনো
শুনেন নাই যে হোজ্জা দর্জি ছিল ।
তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন হোজ্জাকে
ফাঁকি দিয়ে । চোখ বন্ধ করে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুট
দিলেন তার টাইম মেশিনের দিকে, ঢের
হয়েছে হোজ্জা দর্শন এইবার পালিয়ে বাঁচি ।
কিন্তু একি ! রাজদরবারের দশ বার জন সিপাহী তার
টাইম মেশিন কাঁধে করে নিয়ে চলে যাচ্ছে ।
রাজা নাকি এই পথ দিয়েই একটু আগে গিয়েছেন ।
চায়ের পেয়ালার মত চমৎকার এই আসন দেখে তার
খুবই পছন্দ হয়েছে, এবং তিনি এই পেয়ালার মত
দেখতে টাইম মেশিনকে আজ থেকে তার
সিংহাসন হিসেবে ব্যবহার করবেন বলে ঘোষণা
দিলেন । এবং এই সিংহাসনকে রাজ পরিবারের সম্পদ
বলে ঘোষণা দিলেন !
বিজ্ঞানী ক্যোঁৎ নিরাশ হয়ে হোজ্জার কাছে
ফিরে গেলেন, এখন হোজ্জাই রাজপ্রাসাদে
ঢোকার একমাত্র অবলম্বন । কোন অভিজ্ঞতা
ছাড়াই চুপচাপ তিনি বনে গেলেন হোজ্জার
সহকারী দর্জি । এদিকে হোজ্জা ১০০০ দিরহামের
স্বপ্নে বিভোর, যদিও সে পোশাক
সেলাইয়ের ‘প’ ও জানে না ! দিনরাত খেটে
খুঁটে ৪ দিন ৪ রাত পর হোজ্জা যেটা বানাল, সেটা
দেখতে একেবারে সার্কাসের ভাঁড়দের
পোশাকের মত হল ।
এদিকে সময় ফুরিয়ে আসছে দেখে রাজা নিজেই
একদিন চলে এলেন পোশাক দেখতে ।
অতিথিশালায় আসা মাত্রই রাজার আক্কেল গুড়ুম, তাঁত
চিচিং ফাঁক । হোজ্জা ভুঁড়ি দুলিয়ে ঘুমাচ্ছে, আর
ক্যোঁৎ বসে বসে নিজের মাথার চুল টানাটানি
করছে ।
রাজা হুংকার দিয়ে জানতে চাইলেনঃ হোজ্জা, আমার
পোশাক কই ?
হোজ্জা ঘুম থেকে উঠে থত মত খেয়ে
সেই ভাঁড়ের পোশাক দেখিয়ে বলেই
ফেলেছিলঃ পপ্পপোষাক...পোশাক তৈরি !
ক্যোঁৎ হোজ্জার হাত থেকে ভাঁড়ের পোশাক
কেড়ে নিয়ে শুন্য তাঁত দেখিয়ে বললঃ আজ্ঞে
রাজা মশাই এইতো দেখুন কি সুন্দর তৈরি হচ্ছে
আপনার পোশাক ! ক্যোঁৎ শুন্যে কাঁচি চালিয়ে
পোশাক কাটতে লাগল অবলীলায়, তাই দেখে
স্বয়ং হোজ্জাও সন্দেহে পড়ে গেল, তাঁতে কি
তবে আসলেই পোশাক আছে ?!
এরপরের কাহিনী তো আপনারা জানেন ই, রাজা ও
রাজার সভাসদকে বেয়াক্কেল করে দেয়া
ক্যোঁৎের সেই অমর উক্তি, যিনি বুদ্ধিমান তিনি এই
পোশাক দেখতে পাবেন, আর যিনি মূর্খ তিনি কিছুই
দেখতে পাবেন না !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now