বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অজানা ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মেঘ বালক(guest) (০ পয়েন্ট)

X মায়াঃ কি বলতে চাস? তুই। (রাগী গলায়) . কথাঃ এটাই যে তুমি ইউনিক।(মুচকি হেসে) . মায়াঃ তুই কিন্তু আমাকে indirectly অপমান করছিস।(ভ্রু কুচকে) . নীলঃ আরে সেরকম কিছু না। মজা করে বলেছে। তুমি কিছু মনে করো না। এই কথা, sorry বলো। . কথাঃ sorry, আপু। . নীলঃ আমি যাই। ডাব নিয়ে আসি। . আরিয়ানঃ ডাব পরে আনা যাবে। দুপুরের দিকে খাবে। এখন না। . মায়াঃ এখন কি ডাব ও আপনার অনুমতি নিয়ে খেতে হবে? . আরিয়ানঃ যেহেতু তোমাদের দায়িত্ব আমার সেহেতু হবে। সব স্টুডেন্ট দের একেকটা টিম এ ভাগ করা হয়েছে। আর একেকটা টিম এর দায়িত্ব একেক জন টিচার কে দেওয়া হয়েছে। তোমাদের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে? . মায়াঃ দেওয়া হয়েছে? নাকি ইচ্ছা করে নিয়েছেন? . আরিয়ানঃ যা খুশি ভাবতে পারো।( হেসে) . ১১ টা পর্যন্ত সবাই দ্বীপের পূর্ব দিক টা ঘুরে রেস্ট নেওয়ার জন্য হুমায়ুন আহমেদ এর কোটেজ এ উঠলো। . মায়া কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে গোসল করে কোটেজ থেকে বের হলো।নীল আর কথা তখন ছবি তুলছিল। . মায়াঃ এই, তোরা আমাকে ছাড়াই ছবি তোলা শুরু করে…. কথা বলতে বলতে মায়া সামনের দিকে তাকালো। তাকিয়ে দেখে আরিয়ান থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরে এদিকে আসছে।সম্পূর্ন ভিজে আছে। সিক্স প্যাক বডি। ফোটা ফোটা পানি শরীরে। . আরিয়ান এসে মায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল- I know. I am looking hot. সেজন্য যদি তুমি এভাবে তাকিয়ে থাকো তাহলে তো তোমার নজর লেগে যাবে। . আরিয়ান মায়ার চোখথেকে একটু কাজল নিয়ে তার কানের পিছনে দিয়ে মায়ার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হেসে চলে গেল। . মায়া এখনও সেভাবে তাকিয়া আছে। নীল আর কথা মুখ চেপে হাসছে। . কথাঃ আপু, চলে গেছে তো। আর কত তাকিয়ে থাকবে। ( মায়াকে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে) . মায়াঃ মানে? . নীলঃ কিছুনা। চলো। লাঞ্চ করে নিবে। . মায়া লাঞ্চ করে সমুদ্রের পাড়ে চলে গেল। নীল আর কথা কোটেজ চলে গেল।আর আরিয়ান মায়ার পিছু পিছু আসলো মায়াকে না বলে। . আরিয়ান দূর থেকে অনেক্ষণ যাবত খেয়াল করছে মায়া কাগজে কিছু লিখছে। লেখা শেষে মায়া কাগজ টা ভাজ করল। আর কাগজ দিয়ে একটা নৌকা বানালো।নৌকা টার উপর ভাজ করা কাগজ টা লিখে ভাসানোর জন্য পানিতে রাখলো তখন ই কথা এসে পিছন থেকে ডাকল। . কথাঃ আপু, আব্বু কল করেছে। মায়া কাগজ আর নৌকা রেখে চলে গেলো। আরিয়ান তাড়াহুড়ো করে কাগজের নৌকার উপর থেকে ভাজ করা কাগজ টা নিয়ে নিল আর কাগজের নৌকা টা পানিতে কিছু দূরে রেখে দিলো। নৌকা টা আস্তে আস্তে ডুবে গেলো। । । মাহবুব রহমানঃ দুপুর বেলা বিচে তোমার কাজ টা কি? (রাগী গলায়) . মায়াঃ কেন? আব্বু।দুপুর বেলা কি বিচে যাওয়া নিষেধ? . মাহবুব রহমানঃ মুখে মুখে তর্ক করবে না। গতকাল রাতে বাসে ছিলে। ভালোমতো ঘুম হয়নি। আজ আবার জার্নি করতে হবে৷ এখন চুপচাপ ঘুমাও। . মায়াঃ জি, আব্বু। . মাহবুব রহমানঃ রাখছি। . কথাঃ কি বললো? আব্বু। . মায়াঃ কি আর বলবে? ঝারছে ইইচ্ছামতো । আর তুই মহা সত্যবাদী। বিচে গেছি বলার কি দরকার ছিল? . কথাঃ কি বলতাম? তাহলে। . মায়াঃ অন্য কিছু বানিয়ে বলা যেত না? . কথাঃsorry. আপু তুমি বিচে কি করছিলে? . কথা র প্রশ্নে মায়ার কাগজটার কথা মনে পরলো। মায়া আবার বিচে গিয়ে কাগজটা খুজলো কিন্তু পেলোনা। ভাবলো ডুবে গেছে হয়তো। মায়া আবার কোটেজ এ গিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো ঘুমানোর জন্য। . বিকালে মায়া ঘুম থেকে উঠে দেখে কথা নেই। বাহিরে বের হয়ে দেখলো আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে। মায়াকে দেখে আরিয়ান এগিয়ে আসলো। . আরিয়ানঃ কথা নীলের পশ্চিম আইল্যান্ড এ গেছে। আমরাও যাচ্ছি। চলো। মায়া আরিয়ান এর পিছে গেলো। আরিয়ান একটা সাইকেল এ চড়ে বসলো। আর মায়াকে হাত দিয়ে ইশারা করে সামনে এসে বসতে বলল। মায়া চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো। . আরিয়ানঃ কি ব্যাপার? আসছো না কেন? . মায়াঃ আমি সাইকেলে যাবো। . আরিয়ানঃ আমি সাইকেলেই যাবো আর তুমিও যাবে। আসো। . মায়াঃ আমি হেটে যাবো। . আরিয়ানঃ যাও। হারিয়ে গেলে আমার দোষ নেই। বলে সাইকেল চালানো শুরু করলো। . মায়াঃ দাড়ান।যাবো আমি। মায়া হেটে সাইকেল এর কাছে গেল।আরিয়ান বাম হাত টা সাইকেল এর হ্যান্ডেল এর উপর থেকে সরালো। মায়া গিয়ে সামনে বসলো। . আরিয়ানঃ রিলাক্স।রাকিব রাজ যথেষ্ট ফ্রি মাইন্ডের মানুষ। সে এই ব্যপারটা নেগেটিভ লি নিবে না। . মায়াঃ আপনি রাকিব রাজ এর কথা কিভাবে জানলেন? . আরিয়ানঃ আমি সবই জানি। . মায়াঃ কিভাবে? . আরিয়ানঃ বলবো না।জিজ্ঞাস করে লাভ নেই। . মায়া আর কিছু বললো না। আরিয়ান সাইকেল চালাচ্ছে। মায়ার মাথা আরিয়ান এর বুকের সাথে লেগে আছে। আরিয়ান এর হার্টবিট মায়া অনুভব করছে। অন্য রকম এক ভালো লাগা কাজ করছে। . মায়াঃ আপনার হার্টবিট এত বাড়ছে কেন? . আরিয়ানঃ সাথে সুন্দরী ললনা আছে তো তাই। . মায়াঃ মানে? . আরিয়ানঃ রিলাক্স। সাইকেল চালাচ্ছি তো তাই হয়তো হার্টবিট বাড়ছে। . আরিয়ান সাইকেল চালাতে ব্যস্ত আর মায়া ভাবনায় মশগুল হয়ে আছে।মায়া তার অনুভূতি গুলো নিয়ে দন্দের মধ্যে আছে। . আরিয়ানঃ এই যে, কোথায় হারিয়ে গেলে? চলে এসেছি তো। নাকি আরো বসে থাকার ইচ্ছা আছে? . মায়া আরিয়ান এর দিকে তাকালো। আরিয়ান মায়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে সাইকেল এর উপর থেকে একটা হাত সরিয়ে নিলো আর মায়া সাইকেল থেকে উঠে দাড়ালো। . আরিয়ান গাছের সাথে সাইকেল লক করে হাটা শুরু করলো।মায়া ও হাটছে। সমুদ্রের তীরে এসে দুজনে দাড়ালো।অনেক গুলো শিলা আছে এখানে। জোয়ারের সময় এগুলো ডুবে যায়। মায়া গিয়ে একটা শিলায় বসলো। আরিয়ান মায়ার পাশে বসলো। আকাশে গাংচিল উড়ছে। কিছুক্ষন পর সূর্য ডুবে যাবে। সূর্য এক অন্য রূপ ধারন করেছে। চারদিকে বাতাস বইছে। মায়া মুগ্ধ নয়নে আকাশের দিকে তাকিয়ে গাংচিল এর পাখা ঝাপটানো দেখছে। বাতাসে মায়ার ওড়না র কিছু অংশ এসে আরিয়ানের মুখে পরছে কিন্তু আরিয়ান চোখ বন্ধ করে মূহূর্ত্ব টা অনুভব করায় ব্যস্ত। ওড়না টা সরানোর কোন ইচ্ছা নেই। বাতাসের সাহায্যে ওড়না টা খেলছে কোন এক চাতকের অনুভূতি নিয়ে। । । কথা আর নীল বিচ সাইডে খালি পায়ে হাটছে। কথা নীলের এক হাত জড়িয়ে কাধে মাথা রেখে হাটছে। নীলের আন ইজি লাগছে। হাতটা সরিয়ে নিতে চাচ্ছে কিন্তু কোন এক ভালো লাগার অনুভূতি বাধা দিচ্ছে বার বার। . ৭টার পর ওরা আবার এসে পূর্ব আইল্যান্ড এ এসে পৌছালো। . কথাঃ আপু, তুমি ডাব খাওনা তবুও আজ খেলে তাহলে কাকড়া খাচ্ছো না কেন? . মায়াঃ তুই খাচ্ছিস। খা না! আমার পিছে পরলি কেন?আমি মুড়ি খাবো… বলতে না বলতেই আরিয়ান মায়ার দিকে এক প্যাকেট মুড়ি এগিয়ে দিলো। মায়া অবাক হয়ে আরিয়ান এর দিকে তাকালো। . আরিয়ানঃ নাও।তোমার মতো করেই বানানো হয়েছে। ঝাল ছাড়া। ঘুম্নি বেশি। লেবু ও আছে। . মায়াঃ আপনি কিভাবে জানলেন? আমি এভাবে মুড়ি খাই। . আরিয়ানঃ বলবো না। নাও। . মায়াঃ আপনি যে কিছু করেননি তার কি নিশ্চয়তা আছে? . আরিয়ান কিছু না বলে একটু মুড়ি খেয়ে মায়ার দিকে প্যাকেট টা এগিয়ে দিলো। মায়া প্যাকেট টা নিয়ে মুড়ি খাওয়া শুরু করলো। খাওয়া শেষে আরিয়ান মায়াকে বলল- “আমার এটো খেতে চাও,আগে বললেই তো হতো। এত ঢং করার কি দরকার ছিল?” কথাটা বলে একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো। কথা আর নীল ও হেসে দিল। . মায়াঃ হাসবি না (ধমক দিয়ে) । । আজ পূর্নিমা। পূর্নিমার সময় চাদের আলোয় সেন্ট মার্টিন আরো সুন্দর হয়ে উঠে। যেন কোন শ্যামলা মেয়ের চোখে কাজল পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছা করছে রাত টা এখানেই কাটিয়ে দিতে কিন্তু ইচ্ছা টা পূর্নতা পেলো না। সবাইকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। জাহাজ সমুদ্রের মাঝে চলে এসেছে। মায়া রেলিং এর পাশে দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আনমনে কি যেন ভাবছে। আজ আকাশে চাঁদের সাথে সোনায় সোহাগা হিসেবে তারা দেখা দিচ্ছে। অপরূপ সৌন্দর্য্য। হঠাৎ সমুদ্রের ঢেউ এ জাহাজ কিছুটা অসাভাবিক হয়ে উঠলো। মায়া ব্যালেন্স হারিয়ে পরে যেতে নিলে তখনই আরিয়ান এসে মায়াকে কোমর জড়িয়ে ধরে নিলো। মায়া আরিয়ান কে ধন্যবাদ দেওয়ার বদলে এক অদ্ভুত আচরণ করে ফেললো। আরিয়ান এর গালে থাপ্পড় মারলো। মায়া এমন কেন করলো, নিজেও বুঝলো না। অনেক সময় মানুষ নিজের অনুভূতির সাথে লড়াই করতে গিয়ে সে কি আচরণ করছে তা সে নিজেও বুঝতে পারে না। এমন টাই আজ মায়ার সাথে ঘটলো। . কথাঃ আপু এটা করা কি খুব দরকার ছিল? উনি তো তোমার ভালো র জন্য ই এমন টা করলো। . মায়া এসে কথা কে জড়িয়ে কান্না করে দিলো। মায়া আর নীল অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। . আর এদিকে আরিয়ান অন্য দিকে চলে গিয়ে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে আর রাগ করার পরিবর্তে হাসছে।হয়তো মায়ার অনুভূতি টা বুঝতে পেরেছে। @মেঘ বালক


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩২০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অজানা ভালোবাসা ( পার্ট -2)
→ অজানা ভালোবাসা
→ অজানা ভালোবাসা
→ অজানা ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now