বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জানি দেখা হবে-২০

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #জানি_দেখা_হবে Imran khan #Part_20 ... - এই রাতের বেলা ঝামেলা করবিনা। মেয়েটা এসেছিলো ঠিকই আবার চলেও গেছে। - কেন এসেছিলো ও ? কি বলেছে? ধ্রুবর মা কিছুক্ষন নিরব রইলো। মায়ের নিরবতা দেখে ধ্রুব বললো.. - কি হয়েছে মা? কিছু বলছোনা কেন? - অনেক তো হয়েছে। ওকে ফিরিয়ে নিয়ে আয় বাবা। মেয়েটা ওর ভুল বুঝতে পেরেছে। আজ আমাদের বাসায় এসে আমার পা ধরে মাফ চেয়েছে। অনেক কান্নাকাটি করেছে। আমি বুঝিয়ে সুঝিয়ে ওর বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। ধ্রুব মায়ের কথা শুনে গম্ভীর গলায় বললো.. - অসম্ভব মা। ও আমার সাথে ছলনা করেছে। ওকে আমি ক্ষমা করবোনা। - দেখ বাবা, আমি ভালো করেই জানি ও কেমন মেয়ে ছিলো। যেখানে আমি নিজেই ওকে পছন্দ করতাম না, সেখানে আমিই এখন তোকে আদেশ করছি ওকে ফিরিয়ে নিয়ে আয়। আর তাছাড়া . - তাছাড়া কি? ভ্রু কুঁচকে বললো ধ্রুব। - ওর পেটে তোর বাচ্চা। - তুরিন প্রেগন্যান্ট??? অবাক হয়ে বললো ধ্রুব। - হ্যাঁ বাবা। ওকে নিয়ে আয়। ধ্রুবর মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। তুরিনের প্রেগন্যান্সির কথাটা শুনে বুকে কেমন যেনো ধক করে উঠলো। কিন্তু সেটা প্রকাশ করলোনা। কিছু না বলেই চলে গেলো নিজের ঘরে। মা পিছু পিছু ডাকতে ডাকতে বললো.. - এখন রুমে যাচ্ছিস কেন, খেয়ে যা। অনেক রাত হয়ে গেছে। - আমি খাবোনা। বলেই রুমের দরজাটা ঠাস করে লাগিয়ে দিলো ধ্রুব। .. ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুর করতে লাগলো তুরিন। আঁতকে উঠলো ওর মা। সাথে বাবাও। দৌড়ে এলো মেয়ের রুমে। - কি হয়েছে মা? এমন করছিস কেন? বল মা আমাকে কি হয়েছে? - মা ও আমার জন্য দেখো কি পাঠিয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে ডিভোর্স পেপারটা মায়ের সামনে ধরলো তুরিন। মা বললো. - সমস্যা কি মা? ভালোই তো হয়েছে। তুইও ডিভোর্স দিয়ে দে। আর তুই তো তুষারকে ভালোবাসিস। - মা!!! চিৎকার দিয়ে উঠলো তুরিন। মেয়ের চিৎকারে অবাক হয়ে মা বললো.. - তুই ডিভোর্স টা চাস না? - না মা। আমি এইটা চাইনা। আমি ধ্রুবকে চাই। আমার স্বামী ধ্রুবকে চাই। আমার বাচ্চার বাবা ধ্রুবকে চাই। অঝোর কাঁদছে তুরিন। বাচ্চার কথা শুনে বাবা মা দুজনই অবাক হয়ে গেলো। কারণ এটা তাদের অজানা। আর মেয়ের এই রুপটাও খুব অচেনা। মা কিছু বলছেনা। তুরিনকে সহ্য করতে না পারলেও এই মুহুর্তে বাবার মনে কেমন একটা টান অনুভব হচ্ছে। মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন.. - তোর বেবী হবে? - হ্যাঁ বাবা। আমি মা হতে যাচ্ছি। ধ্রবর বাচ্চার মা। বাবা বললেন.. - সেতো খুব ভালো কথা। কিন্তু ধ্রুব কি বিষয়টা মানবে? যেহেতু ওর সাথে তুই অন্যায় করেছিস। - আমি জানিনা বাবা, আমি কিচ্ছু জানিনা। আমি ওকে চাই। ওর সাথে সংসার করতে চাই। মা বললেন.. - কিন্তু তুষার ..!! - ওর কথা ভুলেও উচ্চারণ করবে না মা। ওর জন্যই আমার আজ এই অবস্থা। ওর পাতা ফাঁদে পা দিয়ে আজ আমি স্বামী হারা। সংসার হারা। বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন.. - হারিয়ে ধন খোজলে কোনো লাভ নেই মা। তবুও তুই চেষ্টা করে দেখ কি হয়। এক মেয়েকে হারিয়েছি আমি। তোর জীবনটাও দুঃখে কাটুক সেটা আমি চাইনা। বাবা চলে গেলেন। ফ্লোরে বসে কাঁদছে তুরিন। মা মেয়ের পাশে বসে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তুরিন সামনে রাখা ডিভোর্স পেপারটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষন নাড়াচাড়া করলো। তারপর কাগজটাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরা করে ছুড়ে ফেলে দিলো সামনেই। মা বললেন.. - তুই শান্ত হো মা। আমি নিজে ধ্রুবর কাছে যাবো কাল। ওকে বুঝিয়ে বলবো সবটা। তুরিন মায়ের দিকে তাকালো। কিছু বললোনা। মা খেয়াল করলো একদিনেই মেয়ের মুখটা মলিন হয়ে গেছে। চোখের নিচে কালি পরে গেছে। নিজের মেয়েকেই আজ বড্ড অচেনা মনে হচ্ছে উনার কাছে। কৌতূহল নিয়ে বলেই ফেললেন - একটা কথা বলি মা..? তুরিন কিছু না বলে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক সম্বোধন জানালো। মা বললো.. - তুই তো তুষারকে ভালোবাসতি, আর ধ্রুবকে নিজেই ছাড়তে চাইতি। তাহলে আজ এমন করছিস কেন মা? তুরিন মায়ের দিকে ব্যথিত নয়নে তাকালো। বললো - তখন আমি ছিলাম একজন অহংকারী আর স্বার্থপর মেয়ে,, সাথে ড্যাশিং গার্ল , কিন্তু আজ আমি মা। আমার গর্ভে আমার সন্তান। মা কিছু বললেন না। হতাশ হয়ে তাকালেন সামনে। কেন যেনো একটা ভয় কাজ করছে উনার মনে নিজের মেয়েকে নিয়ে। এই অবস্থায় ধ্রুব কি রিয়েক্ট করে কে জানে। . অফিসে কিছুতেই মন বসছেনা আকাশের। অস্থির অস্থির লাগছে। এই অস্থিরতার কারণ জানেনা সে নিজেও। বাসায় সীমার নাম্বারে কল করলো আকাশ। ফোনটা রিসিভ করতেই আকাশ বললো.. - তারা কোথায় ভাবী? - বাব্বাহ, এতো মোহাব্বত? আগে জানতাম না তো। ফোন ধরে hi hello না করেই ডিরেক্ট তারা কোথায়?. - ভাবী, বলোনা ও কোথায়? কি করছে? - নিজের রুমেই আছে। কি করছে জানিনা। - একটু দেখে আসোনা প্লিজ। - পারবোনা। - প্লিজ ভাবী প্লিজ। - Ok Ok দেখছি, সীমা এগিয়ে গেলো তারার রুমে। দরজাটা হালকা ভিড়ানো। সীমা নক না করেই ভিতরে ঢুকলো। তারা একটা ব্যাগে নিজের কাপড় গুছাচ্ছে। এমন সময় ওর কাপড় গোছানো দেখে আকাশ যে ফোনে আছে সেটা ভুলে গেলো সীমা। তারাকে বললো.. - কি ব্যাপার তারা? এভাবে কাপড় গোছাচ্ছো কেন? তারা হাসলো। বললো.. - আর কতোদিন আপনাদের উপর বোঝা হয়ে থাকবো। তাই চলে যাবো। - তুমি আমাদের বোঝা? এটা তুমি ভাবলে কি করে তারা? তারা বিছানা থেকে উঠে এলো সীমার কাছে। সীমাকে বিছানায় বসিয়ে নিজেও বসলো ওর পাশে। বললো.. - আমি এভাবে বলতে চাইনি ভাবি। মন খারাপ করোনা প্লিজ। তোমরা আমাকে আশ্রয় না দিলে আমার যে কি হতো। এতো দিনে হয়তো লাশটাও কেউ খোঁজে পেতোনা। পচে যেতাম আমি। . - হায়াত থাকতে কারো মৃত্যু হয়না তারা। সে যাইহোক, তুমি বাড়ি ছাড়তে চাইছো কেন? - শুয়ে বসে থাকতে ভালো লাগছেনা। ওদিন বাইরে হাটতে গিয়েছিলাম না, তখন একটা মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। মেয়েটা আমার বয়সেরই। - তো? এর সাথে বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার কি সম্পর্ক? তারা মুচকি হাসলো। বললো. - এক কথায় দুকথায় মেয়েটার সাথে আমার ভালো ভাব জমে যায়। জানতে পারি, মেয়েটা গার্মেন্টস এ জব করে। অপারেটর বোধয়। কথায় কথায় আমি বলেছিলাম আমাকে একটা ব্যবস্থা করে দিতে। ওর ফোন নাম্বার ও এনেছিলাম। গতরাতে ফোন দিয়ে জানিয়েছে ওদের অফিসে কোয়ালিটি নিচ্ছে। - তুমি গার্মেন্টস এ চাকরী করবে? ভ্রু কুঁচকে বললো সীমা। - সমস্যা কোথায়। অনেকেই তো করছে। সীমা আর কিছু বললো না। রেগে হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে পরলো। তারা সেদিক প্রান্তে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। . অফিস থেকে বের হয়ে তারাতাড়ি গাড়িতে উঠে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলো আকাশ। চোখে তার আগুন ঝরছে। ইচ্ছা করছে মাথাটা ফাটিয়ে দিতে ওর। কত্তো বড় সাহস ওর। এমনভাবে মানা করা স্বত্বেও বাসা ছেড়ে চলে যেতে চাইছে। বাসার ঢুকেই হনহন করে তারার রুমের দিকে যেতে লাগলো আকাশ। দরজার কাছে গিয়েই দেখলো মা আর সীমা ওর রুমে। হয়তো তারার যাওয়া নিয়ে কথা বলছে বা বুঝাচ্ছে। তাই সেদিকে না এগিয়ে নিজের রুমের দিকে গেলো আকাশ। ওকে পরে দেখে নিবে ও। .. তারা দুটানায় পরে গেছে। কি করবে বুঝতে পারছেনা ও। সীমা আর মা খুব রেগে আছে ওর উপর। শুধুমাত্র বাসা ছেড়ে চলে যাবে বলে। তারা যখন চিন্তায় মগ্ন তখনই আকাশের আগমন ঘটলো। . To be Continued .........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now