বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিস্টার জ্বিনম্যান!

"মজার অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (০ পয়েন্ট)

X আজীবন জেনে এসেছি, জ্বীন-ভূত একই কথা। ভয় দেখানো গল্পের সময় ভূত ডাকতে হয়, অাধ্ম্যাতিক কিছুর বয়ান দিতে গেলে জ্বীন, আর আরো আধ্মাতিক সাথে রহস্যময় ইংলিশ মুভি টাইপ কাহিনীতে মনে হয় আত্মা বা স্পিরিট ডাকার নিয়ম। যাহোক, যে গল্পটার কথা এখন বলতে যাচ্ছি সেখানে যে ছিলো সে জ্বীন ছিলো নাকি ভূত ছিলো নিজেরাই দেখুন। কলেজে আমা্দের ব্যাচের প্রায় কারোরই অজানা থাকার কথা না। কারণ ক্যাডেট কলেজের ফ্রেন্ডদের মধ্যে প্রাইভেসি বা সেক্রেসীর ব্যপারটা একটু কমই থাকে। কারো একটা ঘটনা একজনের কানে যাওয়া মানেই হলো পুরা ইন্টেকের কারো আর জানা বাকি নাই। এমন অনেক কিছুও ছিলো যেগুলো ওখানে থাকতে হয়তো শোনা বাকি ছিলো, বাইরে আসার পর অন্ততঃ সেইটাও ফ্ল্যাশ বা খোলাসা হয়েছেই কোনও না কোনও রাত জাগা আড্ডার ফাঁকে। এই কাহিনীটাও তেমন সিক্রেটগুলোর একটা। এখনি খোলাসা হবে gj আমরা তখন ক্লাস ইলেভেনে। হাউজের মিড্‌ল ব্লকটা আমাদের। ব্লকের দুই মাথায় আড়াআড়িভাবে চলে গেছে সিনিয়র ব্লক আর জুনিয়র ব্লক। মিড্‌ল ব্লকের একটা সুবিধা হলো সামনে পেছনে দুইদিকেই দরজা। দরজা থেকে বেরুলেই দু’দিক থেকেই বারান্দা। দাবড়ানি বা হয়রানির সময় করে স্যারদের সাথে লুকোচুরী খেলার জন্য পারফেক্ট। এই ব্লকেরই সিনিয়র এন্ডের ২টা রুম আগে আমার রুম। আমি, রাজী আর আলীম। তিন রুম্মেট আমরা। কাহিনীর হিরো এদের কেউই না। হিরো আরেকজন। কিন্তু ব্যপক পরহেজগার গোছের বুজুর্গ আমাদের এই হিরো। নাম মাহমুদ। আদর করে আমরা ডাকতাম ”পাপা-টাইগার”। (এই নামেরও আরেক হিস্ট্রি আছে, সুযোগ হলে অন্য আরেকদিন বলা যাবে) সবসময় নামাজ-কালাম নিয়ে থাকতো, আর প্রয়োজনের অতিরিক্ত (আমাদের দৃষ্টিতে) ইবাদত-বন্দেগী নিয়ে মেতে থাকার কারণেই পরহেজগার বলা। তাছাড়াও রহস্যময় কিছু কারণে আমরা কতিপয় সাপ্তাহিক-নামাজী, বেরোজদার পাব্লিক তাকে নিয়ে মজা করার পাশাপাশি ক্যানজানি কিঞ্চিত ভয়ও পেতাম। যেমন- সারাদিন অবসর পেলে মন্ত্রের মত কী জানি বিড়বিড় করা, গভীর রাতে হঠাৎ করে উচ্চস্বরে ”আল্লাহু আকবর” বলে চিৎকার করে ওঠা, চোখে মাঝেমধ্যেই সুরমার ব্যবহার, চার-রাকাত-এর নামাজ ২০ রাকাত’সম টাইম লাগিয়ে পড়া ও আরো নানান ব্যাপারস্যাপার তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বাকিগুলান উল্লেখযোগ্য না। একবার হুট করেই গুজব উঠলো মাহমুদের কাছে নাকি জ্বীন আছে। মানে সে নাকি জ্বীন পোষে। একজন না তাও আবার। দু দু’টা জ্বীন, খবর নাকি একেবারে পাক্কা। একজনের নাম মীম, আরেকজন হামজা। দুঃখের বিষয় মেয়ে জ্বীন না, পুং জ্বীন। L তবু আমাদের এত ক্লোজ এক ফ্রেন্ডের কাছে জ্বীন আছে আর আমরা দেখবো না! এই সুযোগ ছাড়া যায়! নাই বা হলো পরী। শুরু হলো আমাদের তেলানী অভিজান। নানা সময় সুযোগ পেলেই মাহমুদকে রুমে ডেকে এনে তেলানো, অনিচ্ছ্বা-সত্ত্বেও ধৈর্যের সাথে তার মুখে পরকালের বয়ান শোনা, আর চান্স পেলেই জ্বীন বিষয়ে নানান ঢংগের প্রশ্ন। এগুলায় রাজী ছিলো চরম এক্সপার্ট। ইনিয়ে বিনিয়ে ফুসলায় ফাসলায় একদিন কিভাবে যেন সত্যি সত্যি মাহমুদকে স্বীকার করায় ফেললো ও! আমি, আলীম, আরাফাত তো শুনে অবাক! তার মানে আসলেই ঘটনা সত্যি!!! আমাদের আর পায় কে? জ্বীন এবার দেখেই ছাড়বো। চরম পর্যায়ের ত্যালানো শুরু করলাম ওকে। যেখানেই পাই, হাতে পায়ে ধরি পারলে, “দোস্ত প্লীজ একটা দিন দেখা করায় দে না, খালি একটা দিন, খালি একটা…..”। সেও কম শেয়ানা হুজুর না। এত্ত সহজেই দেখায় দিবে নাকি। আমাদের ধারণা, এই আধ্মাতিক পাওয়ার পাইতে তাকে বহুত সাধনা করতে হইসে। রাত জেগে চিৎকার করতে হইসে, ফরিয়াদ জানাইতে হইসে, মুখে বিরবির করে দোয়া পড়তে হইসে, আকাশ দিয়ে ঐ মুহুর্তে মীম-হামজা উড়ে যাচ্ছিলো, উনারা নিচে চিৎকার চেচামেচি শুনে মাটিতে নেমে এসে দেখসেন এক বান্দার অসামান্য ভক্তি-শ্রদ্ধার অনুপম দৃষ্টান্ত, তবেই না হলো এই জ্বীন-প্রাপ্তি। এত সহজেই সাক্ষাত পাবো আমরা তাই কি হয়?? এজন্যই হয়তো প্রথম দিকে রাজি হইসিলো না আমাদের পাপা-টাইগার। পরে তার রিসেন্টলী গড়ে ওঠা নতুন এই চার নিষ্পাপ ভক্তের মুখের দিকে তাকিয়ে শেষমেষ ক্যানজানি রাজি হয়ে গেলেন তিনি! আমাদের আনন্দ আর দেখে কে!! আরো কিছুক্ষণ তেল-মষলা দিয়ে-ঠিয়ে দিনকাল ঠিক করা হলো অমুক দিনের অমুক সময় হামজা-মীম-কে নামানো হবে। ও হ্যা, তাঁদের বাসা নাকি ‘কোয়েকাফ’ নামের এক শহরে। চিনবেন না আপনারা। এইটা পৃথিবীর মাটিতে না তো। হাওয়ায়ই থাকে নাকি জ্বীনের রাজ্য। (‘নাকি’ বলতেসি কারণ আমি এখনো কনফিউজড) অধীর অপেক্ষার প্রহর শেষে দেখতে দেখতে সেই দিন টা চলে আসলো। আমি, রাজী, আলীম, আরাফাত রুমে বসে সেক্রেট মিটিং-এ বিজি। পুরা ব্যাপারটা চরম গোপনীয়তার সাথে করতে হবে। হামযা-মীম-দের সাথে পাপা’র নাকি কথা হয়েসে আগের দিন। এম্নিতে উনারা নাকি সহজে কাউকে দেখা দিতে চান না। আমরাও সেকথা বিশ্বাসও করে নিয়েছি। আমাদের চারটার মত কুবান্দা-র সাথে দেখা করতে রাজি হওয়াটাও তো পাপের মধ্যেই পরার কথা। তো আমাদের পাপা অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে নাকি তেনাদের রাজি করায় ফেলসেন। কিন্তু শর্ত জুড়ে দিয়েসেন জ্বীনদ্বয়, এই সাক্ষাতের কথা আজীবন কাউকে বলা যাবে না, বললে তার উপর লানত বর্ষণ হবে নাকি। ভয়ের কথা। আর তাই তো প্ল্যান প্রোগ্রাম করতে এই মিটিং। ও ও…, আমাদের তো আবার এরই মাঝে নিজেদের চাহিদার লিস্টও রেডি। কে কী আবদার করবো জ্বীনের কাছে। জ্বীনওয়ালা কার্টুন, সিনেমায় তো অন্তঃত তাই দেখে এসেছি ছোট থেকে। ঐ যে তিনটা ইচ্ছে পূরণ করে যে…। রাজীর শখ সে পিজ্জা হাটের পিজ্জা খাবে, আলীম জ্বীনের ছালায় করে আকাশে একটু ঘুরান দিবে, আর আরফাত একটু মুম্বাই যাবে, কারিনা ওর খুব ফেবারিট তখন, ওকে একনজড় সামনা সামনি দেখার খুব খায়েশ ওর। আমার কোন জানি একটা এক্সাম খুব খারাপ হইসিলো, আমার আবদার-সেই খাতাটা চুপ করে স্যারের বাসা থেকে নিয়ে আসা হোক, আরো দুইটা এ্যান্সার লিখে তারপর আবার সেই খাতা গাট্টির মধ্যে রেখে আসা হোক। ব্যস এতটুকুই খায়েশ আমাদের। দিনের শুরু থেকেই চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো। ইভনিং প্রেপ, ডিনার শেষে নাইট প্রেপ…. সময় যেন ভারী হয়ে গেছে। আর আগায়ই না!!! মরার প্রেপ কখন শেষ হবে, কখন হাউজে যাবো, কখন ১২ টা বাজবে? কখন হামযা-মীম সাহেব আসবেন আর তারপরেই না হবে আমাদের ইচ্ছা পূরণ! একে একে সব হলো। লাইটস আউটের বেল দিয়ে দিয়েছে। ১২ টা বাজতে হাতে আরো কিছু সময় আছে এখনো। কিন্তু আশেপাশের রুমের সবাই ঘুমিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত কিচ্ছু করা যাবে না। জানাজানি হয়ে গেলে লানত বর্ষণের একটা ব্যপার আছে। রিস্ক্‌ নেয়া ঠিক হবে না। সব যার যার বেডে চুপচাপ চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি, ১২ টা বাজার অপেক্ষায়। শেষমেষ ১২টাও বাজলো। পাশের রুম থেকে কারিনা প্রেমী আরাফাতকেও ডেকে আনা শেষ। চারটা মিলে অপেক্ষা করছি মাহমুদের জন্য। তিনি আর আসেন না!! ওর আবার কোনো প্রবলেম হলো না তো!! জ্বীনরা আবার গো ধরে বসে নি তো, “বেনামাজী কারুর সামনে যামু না আমরা, আমারার এট্টা প্রেস্টিজ আছে না?” আশেপাশের গুলার দিকে তাকালাম সবার মুখেই ক্যামন যান বাঁকা হাসি হাসি ভাব। ব্যাপারটা কেউই বিশ্বাস করতেসে বলে মনে হলো না। শুধু রাজি-কেই দেখলাম ক্যামন যেন একটু বিচলিত আর একটু ভয় ভয় ভাব। আমার মনে যে একটুও ভয় ছিলো না তা না। তবু ভাব নিতেসিলাম, দেখিস সব ভুয়া। কিন্তু মনে মনে ক্যান যেনি লানত-এর ভয়টা একটু করে খোঁচা দিয়েই যাচ্ছে। লানত-ঠানত কোনদিন খাই নি, খাইলে কী টাইপ বিদিখিস্তি অবস্থা হয় তাও জানি না। সো ভয় থাকা অস্বাভাবিক না। যা হোক, ঠিক এই মুহুর্তেই দরজায় টোকা পড়লো। মাহমুদ এসেছে। গায়ে সাদা পাঞ্জাবী,পাজামা, সাদা টুপি। ঘরে ঢুকতেই বিকট তীব্র আতরের সেন্ট পাওয়া গেলো। এই সেন্ট তো কখনো পাই নি মাহমুদের কাছ থেকে!!! নাকি আজকের বিশেষ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এক্সট্রা সাঁজের অংশ। নাকি এইটা মাহমুদ-ই না!!!! পেটের মধ্য দিয়ে শিরশির একটা ওয়েব পাস্‌ হলো যেন। আমি একা না, সাথের তিনটাও কিছুক্ষণের জন্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলাম। সবাইই কনফিউজড, ইনি মাহমুদ তো??? যা হোক, উনি মাহমুদই ছিলেন। মানে ভয়ের কিছু হয় নাই। খুব আদবের সাথে ধীর পায়ে হেটে হেটে আলীমের বিছানায় আসন নিলেন, এরপর কিছু দুরুদ কালাম জাতীয় কী যেন পড়তে বললেন পাপা। আর কী যেন একটা উনার সাথে সাথে উচ্চারণ করতে হবে। করে গেলাম। আগেই বলে রাখসিলেন- জ্বীন-হামযার সাথে যেন কোনো খারাপ ব্যবহার না করা হয়। তেনারা অতিথি, ভদ্র ভাষায় যেন কথা বলা হয়। জীনেদের নাকি আবার রাগ বেশি, খেপে গেলে আগুন-ঠাগুন নাকি ছূড়ে মারেন উনারা। আর মাহমুদের উপরেই জ্বীনদের মধ্যে একজন অবতীর্ণ হবেন। সো, উলটাপালটা কিছু করে তাদের খেপায় দিলে মাহমুদের আবার কোন ক্ষতিটতি করে বসলে বিপদ। আর তাই এই প্রীকশানমূলক বয়ান। তারপর দোয়া কালাম এর চ্যাপ্টার শেষে তার নিজের একক দোয়া-দরূদ শুরু হলো। সামনের আর পেছনের জানালায় কম্বল টানানো হয়েসে আগেই। জ্বীনদের নাকি আবার আলোতে এলার্জী টাইপ আছে । স্ট্রীট ল্যাম্পের আলোও যাতে না আসে ঘরে তাই এই কম্বল থেরাপী। ভেন্টিলেটরের ফাঁকগুলো দিয়ে মিহি একটা আবছা আলোই যা সম্বল। অনেক্ষণ অন্ধকারে থাকলে চোখটা অনেক সয়ে যায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারেও একটু হলেও দেখা যায়। অন্ধকারের মধ্যে সেই মিহি আবছা আলো, সামনে সাদা কাপড় পরা একজন বিরবির করে মন্ত্রের মত কী যেন পরে যাচ্ছে, আতর আর আগরবাতির গন্ধ, ধোয়াটে একটা গা ছমছম করা পরিবেশ। প্রথমবারের মত একটু ভয় লাগা শুরু হলো। বাকি ৩ জনও চুপ। মুখের বাকা হাসি হঠাৎ করেই গায়েব যেন! ঠিক এই সময় সবাইকে চমকে দিয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠলো মাহমুদ!!! তাকিয়ে দেখি জোরে জোরে যেন অনেক কষ্ট করে শ্বাস নিচ্ছে ও!! তারপরই ঠাস করে চিত হয়ে শুয়ে পড়লো!!! তারপর আর নিঃশ্বাস নেয়ার নাম নেই। সব নিস্তব্ধ। এতক্ষণে রঙ তামাশা সব উধাও হয়ে গেলো যেন আমাদের মন থেকে। একজন আরেক জনের হাত চেপে ধরে আছি আমরা। ধ্যাত, খামোখাই ঝামেলাটা না করলেই হতো আসলে? এসময়ই শুনতে পেলাম- ”আসসালামুয়ালাইকুম’। নাহ্‌ গায়েবী কোনো আওয়াজ তো না? মাহমুদের মুখ থেকেই তো আসছে আওয়াজ!! কিছুটা সন্দেহ আবার কিছুটা ভয় ভয় অবস্থাতেই কথা হলো জ্বীনের সাথে। কিন্তু আমাদের সাদ-আহ্লাদের কথা বলতেই জ্বীন’জ্বী আমতা আমতা উত্তর দেয়া শুরু করলো। না সম্ভব হবে না আজ, অমুক তমুক হ্যান-ত্যান নানা অযুহাত। এইবার একটু সন্দেহ হলো ক্যান জানি। তাঁকে প্রশ্ন করলাম- – আপনি তো অনেক শক্তিধর, নিমিষেই নাকি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যেতে পারেন? তাই না হুজুর? জ্বীনের ভারী গলায় উত্তর- হুম, পারি। -তো বলেন তো, আরাফাত যে কারিনার কাছে যেতে চাইলো, তার এক বোন আছে, সেও ইন্ডিয়ার নায়িকা। তার নাম কী?? (এই প্রশ্নের কারণ, মাহমুদ হিন্দি ছবি দেখতো না, কিছু জানতোও না। পরহেজগারতার জন্য দেখতো না কীনা তাও জোর গলায় বলা যাচ্ছে না, কারণ সে আবার বাংলা ছিঃনেমার অস্থির ভক্ত ছিলো!! যা হোক, স্বভাবতই এই শুয়ে থাকা জ্বীনটা যদি জ্বীন না হয়ে মাহমুদের ভুত হয়ে থাকে তাইলে এই প্রশ্নের এ্যান্সার দিতে পারার কথা না।) এবং সত্যি!! সে পারতেসে না!!!! বলে কী- “এই প্রশ্নটার উত্তর আসলে আমার জানা নাই। আমরা যে সব কিছু জানি তা না তো। -আচ্ছা তাহলে মুম্বাইয়ে গিয়ে দেখে এসে বলেন। নাইলে বাইরে থেকে কোনো ম্যাগাজিন পড়ে এসে তো বলেন… -হামযা সাহেব আর কথা বলেন না। রাজী বাদে বাকি সবারই ততক্ষনে বোঝা শেষ মাহমুদের ভন্ডামীর কথা। রাজীর ভ্রু তখনো কুচকানো। যদিও নিজেও পুরোপুরি শিওরও হতে পারছিলাম না তখনো। আলীম না আরাফাত কে যেন জোরে চিমটিও দিলো জ্বীন বাবার পায়ে। (এখনো ভেবে পাই না, ক্যামন করে সহ্য করে ছিলি সেই চিমটির ব্যাথা, দোস্তো?) নাকের কাছে গিয়ে দেখা গেলো শ্বাস-প্রশ্বাসও নরমাল। চিমটি খেয়েও এখন পর্যন্ত কোন আগুনের গোলা ছুড়ে দেয়া হয় নাই। সো জ্বীন-টিন কিচ্ছু নাই এই রুমে। এইটা মাহমুদেরই ভুত। বুঝতে বাকি থাকলো না কারো। ঠিক করলাম মাহমুদরে বুঝতে দিবো না যে আমরা টের পেয়ে গেসি। এত্ত চালাক কিছু প্রানীকে কিছুটা সময় হলেও বোকা বানায় পার পেয়ে যাবে পাপা!!! (একটু লজ্জাও পাচ্ছিলাম নিজেদের গাধামী’র কথা মনে করে) তারপর আর বিটলামি কারে কয়। ভদ্র ভাষায়ই নানান প্রশ্ন করতে থাকলাম, অযথাই জ্বীনের ভূয়সী প্রশংসা, আপনারা নাকি আলো খেয়ে বাঁচেন, কিভাবে খান, রোজ কতটুকু করে খান, মিষ্টি না তিতা? আপনার কয় ছেলে মেয়ে, মেয়েটা দেখতে ক্যামন, আপ্নের বউ দেখতে ক্যামন। (আরো নানা সেন্সর্ড কথা…) খুব ভদ্রতার সাথে সফটলি একদিকে যেমন প্রশ্ন করা হচ্ছিলো, আর অন্য দিকে পেটে দেয়া হচ্ছিলো কাতুকুতু (হার্ডলি)। প্রথম দিকে কয়েকটা উত্তর দিয়ে, পরে আর উত্তর দিচ্ছিলেন না জ্বীন বাবা। কাতুকুতুও কয়েক সেকেন্ড সহ্য করে পরে আর পেরে উঠেন নাই তিনি। তারপরো উঠে তার সে কী অভিনয়!!! এতক্ষণ নাকি উনি সেন্সলেস ছিলেন!! কিচ্ছু নাকি টেরই পান নাই!!!! হাসবো না কাঁদবো আজো ডিসাইড করতে পারিনা, যতবারই সেই দিনটার কথা মনে পড়ে পেট-চাপা হাসি বের হয়ই। জানি, আমার মতো রাজী, আলীম, আরাফাত যে যেখানেই আছিস, এইটা পড়ে ঐদিনের কথা মনে করে ক্যামন হাসিটা পাচ্ছে। মাহমুদের এই ভন্ডামীর জবাবে আরেকটা প্রতিশোধ আমরাও নিয়েছিলাম, সেটার কাহিনী পরের কোনো এক পোস্টে দেয়া যাবে। আপাতত বিদায়। ও হ্যা…… এই সেক্রেট ঘটনা এই পর্যন্ত অনেক জনের সাথে শেয়ার করা শেষ। রাজী-ও এইটা নিয়ে একটা গল্পোও লিখছিলো ক্যাডেট কলেজ ব্লগে। আজ আমিও ফ্ল্যাশ করে দিলাম। অথচ এখন পর্যন্ত কোনো লানত বর্ষন হয় নাই কিন্তু!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now