বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
♥হৃদয়ের মাঝখানে♥
.
পার্ট-১১
.
সবাই গাড়িতে উঠে বসলো।
আদি গাড়ি চালাচ্ছে আবার আড় চোখে মাঝে মাঝে উপমার দিকে ও তাকাচ্ছে …….
নিঝুম আর অন্তরের চোখ এড়ায়নি যে আদি উপমার দিকে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকাচ্ছে …….
নিঝুম পিশ পিশ করে অন্তরের কানে কানে কিছু বলছে আর মিট মিট করে হাসছে।
উপমা তা দেখে বললো,,,
উপমা :নিঝুম বাবু তুমি এতো হাসছো কেন কি হইছে তোমার হঠাৎ (মোবাইল টিপতে টিপতে)
নিঝুম :কোথায়, কই কি হইছে। আমি কেনই বা হাসতে যাবো। এখানে কেউ কি কোনো হাসির কথা বলছে যে হাসতে যাবো আমি।
.
উপমা পিছে পিরে,,
উপমা :এই শুন তুই কিন্তু দিনদিন অনেক মিথ্যুক হয়ে যাচ্ছিস ……
আমার সাথে প্রায়ই দেখি তুই মিথ্যা কথা বলতেছোস ………
নিঝুম :ইন্নালিল্লাহ আমি বলে দিনদিন মিথ্যা কথা বলতেছি।
আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আমি বলি কেন আমি হাসতেছিলাম।
শুন তাহলে মনে আছে তোর ওই বিজয় দিবসের দিনের কথা ……..
উপমা :আমার জিবনে কতো বিজয় দিবসই তো গেছে কোনটার কথা মনে রাখবো বল ………
.
নিঝুম :ওই যে আমরা যখন মাধ্যমিকে পড়ি,,
বিজয় দিবসের দিন আমরা সকালে খালি পায়ে স্কুল যাইতেছিলাম …………
বিজয় দিবসের দিন………
উপমা :নিঝুম আমার কি মনে হইতেছে জানস,,
নিঝুম :এই তোর হঠাৎ কিরে মনে হইতেছে …….
উপমা :আমার মনে হইতেছে একটা ছেলেকে কিছুক্ষণ পানিতে চুবাই জানস ……..
নিঝুম :এমা কেন কেন, কি হইছে তুই হঠাৎ একটা ছেলেকে পানিতে কেন চুবাবি কারন ছাড়া ……….
উপমা :অফফফ……..
তুই না এতো বকিস কেন,,
নিঝুম মন খারাপ করে …….
নিঝুম :আমি বেশি বকি ……..
উপমা :আরে না না কে বললো তুই বেশি বকিস ওটা তো আমি এমনি বললাম তুই বেশি বকিস না। হ্যাঁ শুন যেটা বলতেছিলাম,
পিছনে দেখছোস আমাদের পিছে দুইটা ছেলে সেই বাড়ির কাছ থেকেই আসতেছে …….
নিঝুম পিছনে পিরে তাকিয়ে আবার সামনে তাকালো ………
নিঝুম :হে তো। কিন্তু এরা কেন আমাদের পিছে এমন হাটতেছে আবার হাতে ফুল ও …….
উপমা :আরে বুঝিস না ছেলেই মানেই তো কি মেয়ে দেখলে যা হয় আর কি তোকে নয় তো আমাকে পছন্দ হয়েছে তাই প্রপোজ করতে দেড়ি করছে না আর সেই জন্যই ফুল সাথে নিয়ে করে আসছে।
সালারা বিজয় দিবস উদযাপন করবো নাকি প্রপোজ দিবস. …………….
এই শীতের দিনের সকালে বেচারাদের কি হবে জানিনা, একটু ভয় নেই তাদের শরীরে। যার পিছন পিছন আসছে সে যে কি করবে তাদের যানা নেই আসলে ওয়েট জানিয়ে দিচ্ছি …….
নিঝুম :এই তুই উলটা পালটা কিছু করে বসিস না আবার …….
উপমা :তুই টেনশন নিস না আমি আছি তো ওদের কিছুক্ষণ ধোলাই দিবো তারপর চলে আসবো ………
এই নে শালটা ধর আমি এখনি আসতেছি……..
.
উপমা শালটা নিঝুমের হাতে দিয়ে ছেলে গুলোর সামনে গিয়ে দাড়ালো ……..
ছেলেগুলোর সামনে গিয়ে দাড়িয়ে দু -হাত কোমড়ে দিয়ে ……..
উপমা :আঙ্কেল কেমন আছেন আপনারা?
ছেলেরা :জ্বি আমরা কি আপনার আঙ্কেল হই,,
হুট করে যে আঙ্কেল বলে পেললেন ………
উপমা :ওমা ছি ছি আমি কি আপনাকে আঙ্কেল বলতে পারি। আপনি তো আমার দাদুর বয়সী।
ছেলেরা :এই আঙ্কেল বলছেন আবার এখন দাদু ও বলছেন কি অদ্ভুত মেয়ে আপনি ……..
উপমা :আচ্ছা যাই হোক আমাদের পিছনে পিছনে আসছেন কেনো, সেই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম আপনারা দুজন লোক আমাদের দুটো পিচ্চি মাসুম বাচ্চাদের পিছনে পিছনে আসছেন মতলব কি হ্যাঁ আপনাদের কাকু……….
ছেলেরা :এই যে শুনো আমরা তোমার কোনো কাকু, দাদা,বা আঙ্কেল নই। তোমাকে আমার ভালো লেগেছে আই লাভ ইউ (ফুলের তোরাটা সামনে দিকে ধরে)
.
উপমা :এহিহিহি……….
ফুলের তোরাটা উপমা হাতে নিলো ………
উপমা :ভালোবাসেন না আমায়…….
ছেলেরা :হ্যাঁ অনেক বেশি ……..
তুমি বিশ্বাস করো যা চাইবে আমার কাছে তাই দিবো তোমাকে ……..
উপমা :সত্যিই তাই দিবে গো……..
ছেলেরা :অবশ্যই ………..
উপমা :আমি যদি এখন ভালোবেসে আপনাকে কিছুক্ষণ ঠিক এইভাবে মারতে পারি সেটাও তো আদর করে আপনাকে আমি দিতে পারি তাইনা ………..
বলেই উপমা ফুলের তোরা দিয়ে কিছুক্ষণ মারলো ছেলেগুলোকে………
উপমা :আর আসবি আমাকে প্রপোজ করতে উগান্ডার বাচ্চা কোথাকার উগান্ডা……..
আরেকটা বার যদি পিছনে দেখি তোদের তোদের কি করবো জানিস………
ছেলেরা :প্লিজ দোহাই তোমার ছেড়ে দেও আমাদের আর কোনোদিন ও তোমাদের পিছনে যাবো না প্লিজ ………………
উপমা কিছুই না বলে তাদের গা থেকে শার্ট খুলে নিলো ……………
উপমা :মেয়েদের পিছনে ঘুরার নামই তোদের আজকে ভুলাই দিবো চল আমার সাথে ……………..
.
দুটোকে টেনে নিয়ে সামনেই রাস্তার পাশে একটা পুকুর আছে সেখানে এই শীতের দিনে ধাক্কা দিয়ে পানিতে পেলে দিলো……………..
ছেলে দুটো পুকুরে সাতার কেটে ওপারে গিয়ে শীতে কাপতে কাপতে জান নিয়ে দৌড়ালো………..
অন্তর :হাহা……………….
উপমা তুমি এতো ফাজিল কেনো শুধু শুধু ওদের শীতের দিনে পানিতে চুবানি খাওয়ালে……….
উপমা :একদম ঠিক করছি,
বেটারা বিজয় দিবসের দিন শহীদ মিনারে ফুল না দিয়ে আসছে আমাদের ফুল দিতে ……….
এগুলো বাঙালী নামে কল্ঙক।
আদি :নাহ এতোদিনে উপমা একটা গ্রেট কাজ করেছে…………….
তোমাকে কমেন্ট +লাইক দিলাম।
উপমা :ধন্যবাদ আদি বাবু………………
.
উপমা :কাহীনি এখানেই শেষ,,
চলো সবাই যেতে যেতে গাড়িতেইই বসে গানের লড়ি খেলা হয়ে যাক কি বলো…………
আদি :আমি ও একমত হয়ে যাক গানের লড়ি……..
সবাই হ্যাঁ সম্মতি দিলো……….
মেয়েরা একপক্ষ ছেলে আদি আর অন্তর একপক্ষ …………..
আদি :কে আগে শুরু করবে ………….
নিলা :আপনারা যেহেতু দুজন তাহলে আপনারাই আগে শুরু করুন ………….
নিঝুম :হ্যাঁ আগে আপনারা…….
অন্তর :ওকে……….
আমি বলি আগে ……..
ওমমম…………..
তোমরা “ব “অক্ষর দিয়ে বলো………..
উপমা :ওয়েট আমি বলি তোরা চুপ……..
নিঝুম :ওকে…………
উপমা :”বাঁশুরিয়ায় বাজায় বাসি আর নদী যানে ঢেউয়ের পালা………..
আর আমি জানি তোমার জন্য এই পৃথিবীতে আসা …..
ওরে আমার সোনা জাদু তোমায় ভাবি শুধু তুমি আমার ভালবাসা, তোমরাই জন্য এই পৃথিবীতে আসা।”
.
উপমা :এবার আমরা দিবো ……….
নিঝুম তুই দে………………..
নিঝুম :তোমরা” এ” তে বলো………….
অন্তর :আমি বলি আদি তুই চুপ ………..
“এ জিবনে যারে চেয়েছি ………….
আজ আমি তারে পেয়েছি………..
তুমি আমার প্রিয় তুমি আমার ………….
তোমারে খুজে পেয়েছি”………….
পরপর সবাই গাইলো একে একে …………
এবার সবাই মিলে এক সাথে গাইবে ……………
সবাই একসাথে……….
♬♬Jo sang tera laagi preet mohe………
Ruh baar baar tera naam le……..
Ki rab se hai maangi yehi dua……..
Tu hathan ki lakeerein tham le……………
Chup hai batein , dil kaise bayaan main karum ……………
Tu hi kahde ja baat mai kah naa sakun… …
ki sang tere paniyan sa paniya sa Bahta Rahun……..
Tu sunti raha mai kahaaniyaan si kahta rahun……………..
Ki sang tere, badlan sa badlan Udta Rahun……………
Tere ak ishara pe teri or mudta rahun♬♬
.
সবাই ঢাকা পৌঁছে গেল,,,
কিছুদিন পর সবাই শপিং নিয়ে বিজি যে যার মতো শপিং করছে……………..
অন্তর আর নিঝুমের বিয়ের জন্যে আলাদা বড় একটা বাড়ি বুক করে নিলো,,
যেনো আত্মীয় -স্বজন, মেহমান -অতিথি সবাই থাকতে পারে…………….
আদি আর উপমা লিস্ট তৈরি করছে কোনদিন কি করবে …………….
বেশ বড় সড় এক লিস্ট তৈরি করলো …………
.
আদি :এতো বড় লিস্ট,,,
নাহ বেশ ভালোই হলো সবাই একসাথে অনেকদিন মজা করতে পারবো এবং কাটাতে ও পারবো।
উপমা :হুম, তাই তো করলাম।
নিঝুম :হইছে আপনাদের?
আদি :হুম হইছে ………
নিঝুম :তা কোনদিন কি করবেন আপনারা শুনি?
আদি :ওয়েট আমি বলতেছি,,,
২০ তারিখে তোমাদের বিয়ে।
আমরা ১২তারিখ থেকে প্লেন করে রাখছি,,,
অন্তর :ওমা ৮ দিন লাগিয়ে আমাদের বিয়ে হবে,,,
উপমা :এতো তারা হুড়ো করছো কেনো শুনি,,,,
তোমার বউ তোমার কাছেই যাবে, আমরা কোনো ধরে বেধেঁ রাখবো না ওকে।
.
নিঝুম লজ্জায় মাথা নিচু করে পেললো,,
আদি :তুই হঠাৎ এতো বউ পাগল হলি কবে রে,,
আর হ্যাঁ ভাবি এতো লজ্জা পাওয়ার কি হইছে হ্যাঁ,,
আমরা আমরাই তো,,,
আর আমার বন্ধুটা একটু বেশিই পাগল তোমার জন্য তাই তারাতারি তোমাকে সাথে নিয়ে যেতে চায়।
উপমা :আমার একটা কথা বলার ছিল?
অন্তর :হ্যাঁ বলুন শালি সাহেবা,,,,,,
উপমা :তোমাদের বিয়ের পর তোমরা থাইল্যান্ডে চলে যাবা না নিঝুমকে সাথে নিয়ে (মন খারাপ করে)
অন্তর :হ্যাঁ, আমি ওখানেই থাকি। জব ,বাড়ি এখন সবকিছুই আমার ওখানে তাই ওকে সাথে করে নিয়ে যাবো।
উপমা :ওহ……..
আদি :এতো মন খারাপ করার কি আছে,,,,
তুমি চাইলে তোমাকেও সাথে করে নিয়ে যাবো আমরা। যদি তোমার সম্মতি থাকে।
উপমা :না না আমি যাব না,,,
উপমার দিকে তাকিয়ে নিঝুমের ও মন খারাপ হয়ে গেল।
নিঝুম :তোকে নিয়ে যাবো তো আমার সাথে পাগলি। ওখানে কোনো একটা রাজকুমারের সাথে তোকে বিয়ে দিবো।(উপমার কাধে হাত রেখে)
আমাদের দু বান্ধবীর বাড়ি পাশাপাশি হবে,,
আমাদের বর যখন বাসায় থাকবে না অফিসে চলে যাবে তখন আমরা দুজন একসাথে বসে গল্প করবো আরো কতো কি করবো।
উপমা :নাহ বিয়ে করার আর প্লেন নেই তোদের দেখেই আমি খুশি।
আচ্ছা বাদ দে আমরা কোনদিন কি করবো সেটা শুনে নে ……….
আদি সাহেব বলুন ওদের …….
.
আদি :হুম,,
পাস্ট আমরা বাড়িতে গিয়ে উঠবো,,
যে যার নিজের রুম বুক করে নিবো।
যেয়েই কিন্তু আবার কিছু শুরু হবে না,,,
প্রথম যেয়ে রেস্ট তার পরেরদিন,,
১২তারিখ জমিয়ে আড্ডা হবে,,,
মানে গল্প গুজব হবে নিজেদের সম্পর্ক এক আধটু জেনে নিবো।
১৩তারিখ বয়+গার্ল খেলা হবে,,
2টিম হবে হুম।
এখন খেলার নাম বলবো না ওখানে বলবো।
১৪ তারিখ একটা পার্টি আছে বয় &গার্ল উভয়ের।
১৫তারিখ মেহেদীর অনুষ্ঠান।
১৬ তারিখ মেয়েদের গায়ে হলুদ।
১৭তারিখ ছেলেদের গায়ে হলুদ।
কথা হলো গিয়ে ছেলেদের হলুদের দিন মেয়েরা সব ছাদে কাটাবে আর মেয়েদের হলুদের সময় ছেলেরা সব ছাদে কাটাবে যতক্ষণ হলুদমাখা হবে।
১৮ এবং ১৯তারিখ শুধু ডান্স হবে বর ও বউকে নিয়ে ১৮ তারিখ অন্যরা নাচবে। ১৯ তারিখ সবাই মিলে।
২০ তারিখ বিয়ে।
১০ তারিখেই আমরা সবাই ওই বাড়িতে উপস্থিত থাকবো। ১১তারিখের মধ্য আমাদের কাজিনরা চলে আসবে।
কেমন হলো এবার বলুন সবাই?
.
অন্তর :কেয়া বাত হ্যাঁ, অনেক সুন্দর হইছে আপনাদের দুজনের করা প্লেন।
নিঝুম :হুম ঠিক আছে।
উপমা আর আদি দুজন দুজনার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল।
থাইল্যান্ড থেকে আদির মা বাবা ও বন্ধুরা চলে আসলো।
১০তারিখ তারা সবাই রওনা দিলো যেই বাড়িটা বুক করেছে সেটার উদ্দেশে। দুটো বাস নেওয়া হয়েছে। বড়দের জন্য একটা আর ছোটদের জন্য মানে আদি ও তার বন্ধু উপমাদের সমবয়সীদের জন্য একটা।
বড়দের বাসটা ছেড়ে দিয়েছে।
আদিদের বাসটা এখনো ছাড়েনি,সবাই সবার মতো করে বসে গেছে। নীলার পাশেই রাহুল, ইলফা ও তার বয়ফ্রেন্ড একসাথে, আরোহী আর তার বয়ফ্রেন্ড একসঙ্গে। অন্তর -নিঝুম একসাথে, অারো অন্যরা বসে পড়েছে। আদি জানালার পাশেই বসে বাইরে দৃশ্য দেখছে, উপমা লেটলতিফ তাই তার আসতে দেড়ি হয়েছে।
উপমা দৌড়ে এসে বাসে উঠলো, গায়ে পড়া একটা মেয়েদের গেন্জি আর পরনে জিন্স পেন্ট সাথে কাধে একটা বেগ, মাথায় কেপ।
সামনে এসে দুহাত কোমড়ে দিয়ে দাড়িয়ে,,,,
উপমা :যাহ সবাই সবার মতো বসে পড়লো আমার জন্যই যায়গা নেই,,,
আদির উপমার মিষ্টি কণ্ঠটা শুনেই তার দিকে তাকালো বারি সুন্দর লাগছে তাকে।
.
অন্তর :আহারে আমার শালি সাহেবার জন্য মনে হয় আজকে যায়গা নেই,,,
এতো দেড়ি হয়ে গেল আসতে ………….
রাহুল :এই যে মিষ্টি আপু আপনার জন্য আদির পাশে একটা সিট অবশিষ্ট আছে,,,,
নিঝুম :একটা যখন খালি আছে যা গিয়ে বসে পড়,,,,
উপমা :হুম যাই,,
ওখানেই বসি না হলে অবশেষে যায়গা না পেয়ে বাসের উপর আমার বসতে হবে।
উপমা গিয়ে আদির পাশে বসে পড়লো,,,,
উপমা :আদি সাহেব ও দেখি একা বসে আছে,,,
আদি :কেউ নাই তো কি আর করার, তাই একাই এখন চালিয়ে দিচ্ছি।
দুঃখ আমার আজ একটা গার্লফ্রেন্ড নেই বলে………
এতক্ষণে বাস ছেড়ে দিয়েছে …………….
.
সবাই যে যার পাশের জনকে নিয়ে বিজি,,
উপমা :আহারে আপনার গার্লফ্রেন্ড নাই না,,
কতোবড় মিথ্যুক হলে আপনি হতে পারেন হুহু,,,
জিজুর কাছে শুনেছি আপনার নাকি কম করে হলেও ৫টা গার্লফ্রেন্ড আছে অলরেডি। আর আপনি বলছেন নেই,,
হাউ চিপ (চোখ গুলো ছোট্ট করে আদির দিকে তাকিয়ে)
আদি :দূর ওইগুলোকে কেউ বলে নাকি গার্লফ্রেন্ড,,,
উপমা :কেনো কেনো আবার কি হলো,,
আদি :মানে হলো ওইগুলো আমার কাছের গার্লফ্রেন্ড না, এই ধরো নিজের ইচ্ছায় আমার কাছে আসে আবার নিজের ইচ্ছায় চলে যায়,,,,
আমি অবসরে ওদের একটু টাইম দেই,,
ওদের সাথে থাকলে আমার নিজের কিছুদিন সময় কেটে যায়…………
উপমা :টাইম পাস করেন ওদের সাথে,,
অন্য কিছু আবার করেন না তো?
আদি :আরে না না ওইসব কিছু আবার করতে যাব কেন,,
ওইসব কিছু করে বসলে পরে আমার বউ শুনলে তার কাছে না আবার মার খেতে হয়।
উপমা :গুড। সব ভালোবাসা, অনূভুতি, আবেগ, রোমান্স বউয়ের জন্যই রেখে দেন সেটাই ভালো।
.
আদি :হুম,
আমি সবকিছু তো ওর জন্যই রেখে রাখছি,,
শুধু শুধু অন্য কাউকে বিলিয়ে দিতে যাবো কেন,,
ইতিমধ্যে আমি একটা কথা ভাবছি,,,
উপমা :ওমা আপনি আবার কি ভাবছেন?
আদি :ভাবছি এখানে আমি তো আর কয়টা দিন আছি। তো তোমার সাথে প্রেম করলে কোনো আপওি আছে মানে কিছুদিনের জন্য গার্লফ্রেন্ড আরকি,,,
উপমা :এহহহ,,,
আমার আর কাজ নেই এই কয়দিন আপনার গার্লফ্রেন্ড হতে যাবো (মুখ বাকিয়ে)
যদিও আদি কথাটা সিরিয়াসলি বলেছে কিন্তু উপমা তা ফাজলামো ভেবেছে।
রাহুল :সুন্দরী আপনার নাম কী গো?
নিলা :জ্বি আমার,,
রাহুল :এখানে আপনি আর আমি ছাড়া অন্য কেউ আছে কি,,,
নিশ্চয়ই আপনাকে বলেছি,,
নীলা :আমার নাম নীলা আহমেদ,,,
আপনার?
রাহুল :আমি রাহুল চৌধুরী,,,
নীলা :আপনাদের সব বন্ধুর নামের শেষে চৌধুরী কেন?
.
রাহুল :বোকা মেয়ে চৌধুরী বংশের ছেলে হলে শেষে চৌধুরী হবে না।
এই আপনার নাম নীলা আহমেদ নিশ্চয়ই আপনার বাবার নামের শেষে ও আহমেদ তাই। তেমনি আমাদের বাবার ও নামের শেষে চৌধুরী তাই আমাদের ও।
নীলা :হুম,,,
রাহুল :একটা কথা বলি,,,,
নীলা :হ্যাঁ বলুন?
রাহুল :চশমা পড়লে আপনাকে খুব সুন্দর লাগে।
নীলা মুছকি হেসে,,,
নীলা :ধন্যবাদ,,,,
রাহুল :চোখে সমস্যা আছে তাই পড়েন না,,,
নীলা :না, আমার ফ্রেন্ড ওই যে উপমা (উপমাকে দেখিয়ে)
ও বলছে পরতে,,,
আমাদের ভার্সিটির ক্যাম্পাসে,,,
উপমা একদিন তার এই চশমা দিয়ে বলে,,,,
উপমা :নিলু এই নে আমার চশমাটা,,,,
নীলা :এটা দিয়ে কি করবো রে আমি,,
উপমা :সুন্দরী তোকে না চশমা পড়লে ভিষণ সুন্দর লাগে, সো তুই এখন এই চশমাটা পড়বি। আর এটা তোকে মানায় ও,,,
নীলা :সেই দিন থেকেই আমি চশমাটা পড়ি,,,
রাহুল :ওই মিষ্টি আফুটা ঠিকই বলছে একদম। আপনাকে সত্যিই কি কিউট লাগে,,,
নীলা মুছকি হাসি দিয়ে অন্য দিকে পিরিয়ে নিলো মুখ।
.
উপমা :এই যে শুনেন না?
আদি :হ্যাঁ বলুন ম্যাম,,,
উপমা :আমাকে জানালার পাশে দিয়ে দিন না। বাইরের দৃশ্য আর বাতাস মিস করছি খুব(বাচ্চাদের মতো বললো)
আদি :ওকে বসো।
উপমা উঠে বসতে গেলেই বাস মোড় ঘুরে যাওয়ায় উপমা ধাস করে আদির কোলে পড়ে যায়। আদি দু হাত দিয়ে উপমাকে জরিয়ে ধরে,,
দুজন চোখাচোখি হয়……………..
.
চলবে……………………
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now