বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#জানি_দেখা_হবে
#Part_06
..
- কে করেছে সেটা জানিনা। তবে এতে তোর আর আমার নিজের বাবার হাত আছে এটা আমি নিশ্চিত।
- কি বলতে চাইছিস তুই?
- বুঝতে পারছিস না আমি কি বলতে চাইছি??
- ভনিতা না করে সোজাসুজি বল।
- তোরা আগে থেকেই চাইতি তুরিনের সাথে আমার সম্পর্কটা না টিকুক। সে জন্য আগেও আমাকে মানা করেছিলি ওর সাথে মেশার জন্য। তখন তোদের কথাকে আমি সিরিয়াসলি নেইনি। ভাবিনি তোরা আমার সাথে এমন করবি। এখন যখন দেখলি বাবাও এটার বিরুদ্ধে, তাই এটাকেই চাল হিসেবে ব্যবহার করলি? আমার লাইফটাকে এভাবে বরবাদ করে দিলি? কাঁদো কাঁদো কন্ঠে ধ্রুব বললো.।
- মুখ সামলে কথা বল। যা জানিস না সেটা নিয়ে এতো কনফিডেন্টলি কথা বলিস কেন? আরে, তুই যদি তুরিনকে নিয়ে সুখে থাকতিস তাহলে আমাদের প্রব্লেমস টা ছিলো কোথায়? তোর মতো তুই থাকতি আর আমাদের মতো আমরা। আর আংকেলের কথা বলছিস, আঙ্কেল তো নিজে গিয়েছিলো তোর আর তুরিনের বিয়ে ঠিক করতে তাইনা? তাহলে আমরা কেন এমন করবো? এই সহজ কথাটা কেন বুঝতে চাইছিস না তুই? ওই মেয়েটা যতো নষ্টের মুল। আজ এর জন্যই এমন হচ্ছে। অন্যদিকে ফিরে কথাটা বললো রবি।
-
ধ্রুব রেগে গিয়ে বললো..
- খবরদার বলছি, তুরিনকে মীন করে একটা কথাও বলবিনা বলে দিলাম।
- একশ বার বলবো, হাজারবার বলবো। দেখি কে আটকায়। বেশ ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো রবি।
ধ্রুব রাগে আর ক্ষোভে কিছু না বলেই সেখান থেকে উঠে চলে আসলো। রবি একবারের জন্য বাধাও দিলোনা। ওর মাথাতেও যে রাগ চড়েছে।
-
কলিংবেলের আওয়াজে দরজার সামনে দৌড়ে গেলো ধ্রুবর মা। দরজা খোলতেই ছন্নছাড়া অবস্থায় ভিতরে ঢুকলো ধ্রুব। মা ব্যস্ত হয়ে বলতে লাগলো..
- কোথায় ছিলি সারাদিন? আর একি হাল করেছিস চেহারার? তোর কি কোনো কান্ডজ্ঞান নেই নাকি? কি হলো কথা বলছিস না কেন?
মায়ের কথার কোনো পাত্তা না দিয়েই ধ্রুব উপরে যেতে লাগলো। তারার সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে হটাৎ ই থামলো ও। কিছুক্ষন সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো তারার দিকে। যেনো এক্ষুনি ওকে কাচা খেয়ে ফেলবে। আচমকাই বাবা বললো..
- আগামীকাল সকাল সকাল যেনো কোথাও বেরিয়ে পরোনা।
- কেনো? কপাল কুঁচকে বললো ধ্রুব।
- আগামীকাল তারাকে নিয়ে ওদের বাসাতে যেতে হবে তাই।
- কে নিয়ে যাবে ওকে?
- কেনো, তুই।
- আমি কোথাও যাবোনা। বিশেষ করে ওর বাসাতে তো নয়ই।
- যাবোনা বললেই তো আর হবেনা। যেতেতো তোকে হবেই। তাই বলছি কোনো অশান্তি করবি না। শান্ত গলায় বললো ধ্রুবর বাবা।
- আহ ছেলেটা সবে ফিরেছে। এইসব নিয়ে পরেও কথা বলা যাবে। তুই যা, ফ্রেশ হয়ে নে বাবা। সারাদিন কিছু খাসনি। মুখটা একদম শুকিয়ে গেছে।
পাশ থেকে ধ্রুবর মা বলে উঠলো। ধ্রুব আর কিছু বললো না। হনহন করে উপরে চলে গেলো। তারা কিছু বললো না। এতোক্ষন সব কথায় শুনলো ও। বাড়ি যাওয়া নিয়ে যে বেশ ঝামেলা হবে সেটা বেশ বুঝতে পারলো ও।
..
রাতে বালিশে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আধশোয়া অবস্থায় আছে ধ্রুব। তারাদের বাসায় যাওয়া নিয়ে বেশ ভাবাচ্ছে ওকে। একবার ভাবছে যাবেনা তো আরেকবার ভাবছে যাবে। তারার উপর রেগে আছে, ওর সাথে বিয়েটা মেনে নিতে পারছে না, তাই ভাবছে যাবে না। আবার যখন ভাবছে ওখানে গেলে তুরিনের ব্যাপারে জানতে পারবে, ইনফ্যাক্ট ওকে পেতেও পারে ওখানে, তখনই ভাবছে যাবে। আসলে বেশ দুটানায় পরে গেছে ও। সবশেষে ডিসিশন ফাইনাল, ও আগামীকাল যাবে। শুধু তুরিনের জন্য।
..
সবকিছু ঠিকঠাকমতো সেড়ে রুমে আসলো তারা। ধ্রুব আগের মতোই আছে। কারো আসার শব্দে চোখ মেলে তাকালো ধ্রুব। কিছু বললোনা। তারা একটা ব্যাগ ফ্লোরে রেখে নিজের কিছু কাপর আর জিনিস গুছাতে লাগলো। ধ্রুব আড়চোখে তা পরখ করছে। তারা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললো..
- কাল বাবার বাসায় যাবো তো, তাই গোছগাছ করছি। আপনি চাইলে আপনারটাও করে দিতে পারি।
- আমারটা মানে?
- মানে আপনারও তো কিছু গুছানোর আছে নাকি। সেগুলোর কথা বলছি।
ধ্রুব রেগে গিয়ে বললো_
- বলেছি না বেশি অধিকার ফলাতে আসবেনা। একদিন না যেতেই দেখছি অধিকার ফলাতে শুরু করেছো!
- যার সাথে সারাজীবন থাকতে হবে তার উপর অধিকার দেখাবো না তো কি পরপুরুষের উপর অধিকার দেখাবো? কথাটা বলেই মুচকি হাসলো তারা। তারার হাসি দেখে রাগে ফেটে যাচ্ছে ধ্রুব। তাও নিজেকে যথেষ্ট কন্ট্রোল করে বললো-
- জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা ভালো। তবে জানোতো, সব স্বপ্ন সত্যি হয়না। যেখানে আমি পুরোটাই তুরিনের, সেখানে তোমার আমাকে নিয়ে সারাজীবন কাটানোর চিন্তাটা অনেকটা জোকস হয়ে যাচ্ছেনা?
যাইহোক, আমার জিনিস আমি নিজেই গোছাতে পারবো। তোমার চিন্তা করতে হবেনা।
.
ধ্রুবর এরুপ কথায় তারা অনেকটা কষ্ট পেলেও মানিয়ে নিয়েছে। আবার ধ্রুবর
ওদের বাড়িতে যাওয়ার বিষয়টা এতো সহজে মেনে নিয়েছে কিভাবে সেটাও ওকে ভাবাচ্ছে। সবকিছু গুছানো হলে সব চিন্তা বাদ দিয়ে নিচে একটা চাদর বিছিয়ে শুয়ে পরলো তারা। নিজেকে যথেষ্ট স্বাভাবিক রাখতে চাইলেও পারছে না কোনভাবেই। চোখের কোন বেয়ে অঝোরে পানি বেয়ে পরছে। যেভাবেই হোক, ধ্রুব ওর স্বামী। নিজের স্বামীর মুখে যখন শুনে সে অন্য কাউকে নিয়ে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখছে নিজেকে সামলাতে পারেনা তখন সে। দুচোখের পাতা এক করার চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু ঘুম যেনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ধ্রুব ঘুমিয়ে গেছে অনেক্ষন আগেই।
.
কিছুক্ষন আগেই নিজের বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছে তারা। ধ্রুবও সাথে আছে। একই গাড়িতে। কিন্তু পাশাপাশি নয়। পিছনে তারা আর সামনের ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেছে ধ্রুব। যদিও এটাই অনেক তারার কাছে। ওতো ভেবেছিলো শেষ পর্যন্ত ধ্রুব না আবার বেকে বসে। কিন্তু নাহ, এমন কিছুই করেনি ও। খুব স্বাভাবিক ভাবেই ওদের বাসায় যাচ্ছে ধ্রুব। যেটা তারাকে খুব ভাবাচ্ছে।
বাসায় পৌছোতেই তারার বাবা আর তুরিনের খালাতো বোন মানে রবির বউ এসেছে ওদের বরন করে নেওয়ার জন্য। তারা রবির বউকে জরিয়ে ধরে বললো..
- কেমন আছো আপু?
- ভালো রে। তুই তো দেখছি দুদিনেই কেমন শুকিয়ে গেছিস।
- কি যে বলো না।
রবির বউ হাসিমুখে ধ্রুবর দিকে তাকিয়ে বলল
- আপনি কেমন আছেন ভাইয়া?
- ভালো। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে কথাটা বললো ধ্রুব। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে রবির বউ তারাকে বললো
- আয় ভিতরে আয়।
.
বাসায় এসেছে অনেক্ষন আগে। এসেই চোখদুটো শুধু তুরিনকে খোজেছে। কিন্তু পায়নি। এখন পর্যন্ত তারার মায়ের দেখা ও পায়নি ধ্রুব। ব্যাপারটা ও বুঝতে পারছে না। যেভাবেই হোক ও তো এ বাড়ির জামাই। নিশ্চয়ই ধ্রুবর সাথে দেখা করার উচিৎ ছিলো উনার। তারা নিচে বসে আছে রবির বউ এর সাথে। আর ধ্রুব উপরে রুমে শুয়ে আছে। অনেক কিছুই ভাবছে সে। এমন সময় দরজাটা খোলার শব্দ পেয়ে দরজার দিকে তাকালো ধ্রুব। একজন মধ্যবয়সী মহলা এলো ধ্রুবর কাছে। ধ্রুব উনাকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো
- আপনাকে ঠিক চিনলাম না।
- আমি তুরিনের মা। বেশ শান্ত গলায় বললো কথাটা।
.
তুরিনের নাম শুনেই বুকের ভিতর ছ্যাঁৎ করে উঠলো ধ্রুবর। সবকিছু ভুলে গিয়ে সরাসরি তটস্থ হয়ে বললো
- আমার তুরিন কোথায়?
মহিলাটি নিরবে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললো
- জানিনা আমার মেয়েটা কোথায় আছে। কতো খুশি ছিলো আমার মেয়েটা নিজের বিয়ে নিয়ে। কিন্তু ওরা.. এতোটুকু বলেই তিনিই ঢুকরে কেদে উঠলেন। তারপর আবারও বললেন
- ওরা আমার মেয়েটার সাথে ছলনা করে এতো বড় সর্বনাশ করে দিল। আবারও আঁচলে মুখ গুজলেন তিনি। ধ্রুব উৎকন্ঠা হয়ে বললো
- কারা? কারা আমার তুরিনকে ছলনা করে আমার কাছ থেকে দুরে সরিয়েছে?
- কারা আবার, ওরা বাপ মেয়ে। কটুক্তি করে বললেন তুরিনের মা
- মানে?
- তুরিনের বাবা আর উনার মেয়ে তারা।
ধ্রুব আশ্চর্য হয়ে বললো
- কিন্তু তারা তো আপনারও মেয়ে তাইনা?
- না ও আমার মেয়ে না। ও আমার সৎ মেয়ে।
- সৎ মেয়ে? অবাক হয়ে বললো ধ্রুব।
- সৎ বলেই তো আমার মেয়েটার এতো বড় সর্বনাশ করলো। আপন মেয়ে হলে কি নিজের বোনের সাথে এইরকম বেইমানি করতে পারতো।
ধ্রুবর চোখ মুখ রাগে লাল হয়ে যাচ্ছে। রাগি কন্ঠেই বললো
- সেদিন কি হয়েছিলো আমার তুরিনের সাথে?
- বিয়ের জন্য যখন ওকে পার্লারে নেওয়া হলো তখন সাথে নিজের মেয়ে মনে করে তারাকেও পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু বউ বেশে তুরিন না, এসেছিলো তারা। সাথে তোমার শশুরও ছিলো। এখন বুঝো ওরা কিরকম ভাবে ঠকিয়েছে আমার মেয়েটাকে। তুরিনের মা আবারও কাঁদছে। ধ্রুব রাগে ফুসছে। তুরিনের মা সেটা বুঝতে পেরে বললো
- আমি এখন যাই বাবা। দেখো, তারার সাথে আবার রাগারাগি করোনা যেনো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now