বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিচার নেই

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরিফুল ইসলাম(guest) (০ পয়েন্ট)

X বাদশার কঠিন অসুখ।সারা দিন তিনি বিছানায় শুয়ে থাকেন।শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।মনে কোনো সুখ নেই।কাজকর্ম করতে পারেন না।বেঁচে থাকার আর কোনো আশা নেই।বাদশাহ বুঝলেন,মৃত্যু তার দুয়ারে এসে হানা দিয়েছে।দূর থেকে চিকিৎসকেরা এলেন।নানা রকম ঔষধ দিলেন।কিন্ত কিছুতেই কোনো উপকার হয় না।শেষে এক চিকিৎসক এলেন গ্রীস থেকে।গ্রীসের চিকিৎসক বেশ কয়েক দিন ধরে সব ধরনের পরীক্ষা করলেন বাদশাহকে ।নাড়ি টিপে দেখলেন।শরীরের তাপ নিলেন।তারপর তিনি বললেন,এ বড় কঠিন অসুখ।তবে এর চিকিৎসা আছে।একজন অল্প বয়সের বালক প্রয়োজন,যার হৃদপিন্ড থেকে ঔষধ তৈরী করতে হবে।সেই ওষুধে বাদশাহ সুস্থ হয়ে উঠবেন।বাদশাহর অসুখ।প্রয়োজন অল্পবয়সের বালক।দিকে-দিকে লোক ছড়িয়ে পড়ল।খুঁজতে খুঁজতে একটা ছেলেকে পাওয়া গেল।ছেলের বাবা টাকার বিনিময়ে খুব অনায়াসে ছেলেটিকে বিক্রি করে দিল বাদশাহর লোকদের কাছে।টাকাও পেল বিপুল পরিমাণে।কাজি বিচারসভায় রায় দিলেন,এই ছেলের জীবন বধ করা অন্যায় কোনো কাজ নয়।কারণ,এই তুচ্ছ জীবনের বিনিময়ে বাদশাহর মূল্যবান জীবন রক্ষা পাবে।ছেলেটি এসব ঘটনা দেখে আর সারাক্ষণ মিটিমিটি হাসতে থাকে।জল্লাদ তাকে হত্যা করার জন্য ধরে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে বধ্যভূমিতে।তার হৃদপিন্ড থেকে তৈরী হবে ওষুধ।ছেলেটি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হাসতে লাগল।বাদশাহ পিছনে ছিলেন।ছেলেটির হাসির শব্দ শুনে খুব বিচলিত হলেন।একটু পরে তার মৃত্যু হবে।মাটিতে লুটিয়ে পড়বে তার সুন্দর দেহ।তা হলে ছেলেটি প্রাণ খুলে হাসে কেন?বাদশাহ তাকে ডেকে পাঠালেন।তুমি মৃত্যুর মুখে দাড়িয়ে এমনভাবে হাসছ কেন?ছেলেটি হাসতে হাসতে বলল,হায়,আমার জীবন!আমি হাসব না তো কে হাসবে বলুন?পিতামাতার উচিত সন্তানদের রক্ষা করা।কিন্তু টাকার বিনিময়ে আমার বাবা আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে।কাজির দরবারে মানুষ যায় কেন?সুবিচারের আশা নিয়ে।কিন্ত কাজি সাহেব অন্যায়ভাবে বাদশাহর পক্ষ নিলেন।আমাকে হত্যা করার হুকুম দিলেন।আর বাদশাহর কর্তব্য কী?বাদশাহ তো গরিবদের রক্ষা করবেন।কিন্তু এখন কী ঘটতে যাচ্ছে আমার জীবনে?বাদশাহর নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য অন্যের জীবন তুচ্ছ করে দিয়েছেন।কিন্তু অপরের জীবন যে তার কাছে অতি মূল্যবান এই সামান্য কথা তিনি মনে রাখলেন না।হায়!একটু পরেই আমার মৃত্যু হবে।আমি হাসব না তো কে হাসবে? বাদশাহ এ কথা শুনে অবাক হলেন।ছেলেটির প্রতি অসীম মমতায় তিনি কাতর হয়ে উঠলেন।তিনি ছেলেটিকে মুক্ত করে দিলেন।আর আশ্চর্যের ব্যাপার।তার কিছুদিন পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিচার নেই[দুটি শব্দে লেখা]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now