বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেই তুমি
Written by
Mehjabin Ebnat (Era)
বৃহস্পতিবার,ক্লাস শেষে সবাই হইহুল্লড় করছে।কিন্তু, ক্লাসের একপ্রান্তের এক বেঞ্চে মনমরা হয়ে বসে আছে ইশান।রাকার সাথে ব্রেকআপের আজ দ্বিতীয় দিন।ভালোলাগছে না কিছুই।রাকা ছিল তার গার্লফ্রেন্ড।কিন্তু রাকা কেমন যেন আর আগের রাকা নয়।সে এখন ইশানের সাথে আর আগের মত দেখা করে না।ইশানের সাথে ভালোভাবে কথা বলে না।যখন ফোন দেই শুধুই টাকার কথা বলে।ইশান জানতে পারে যে,রাকা এখন আরেকজনকে ভালোবাসে।আর সে শুধু ইশানকে টাকার জন্য ভালোবেসেছিল।সেই জন্য ইশান ইচ্ছা করে রাকার সাথে ব্রেকআপ করেছে।অনেক ধনী পরিবারের ছেলে ইশান।তার বাবা শহরের একজন নামকরা বিজনেসম্যান।
হঠাৎ এমন সময় পেছন থেকে হাসান বলল,"কিরে ইশান কি হয়েছে,কি ভাবছিস এত?চল বাইরে থেকে ঘুরে আসি।
-নারে এখন যাব না।ভালো লাগছে না।
এমন সময় একটি মেয়ে আসলো।তার আসার সাথে সাথে পুরো ক্লাস চুপচাপ হয়ে গেল।
ইশান এতে রীতিমতো অবাক হলো।ইশান এ ক্লাসের ফার্স্ট বয়।এতক্ষণ ধরে সে এখানে বসে ছিল,কেউ চুপ করেনি।আর এ মেয়েটি আসা মাত্রই পুরো ক্লাস চুপচাপ।
সে হাসানকে জিজ্ঞেস করল,
-এ মেয়েটি কে?একে আগে তো দেখি নি।
-এ মেয়েটি কালকে আমাদের ইউনিভার্সিটিতে যোগ দিয়েছে।নাম ইরা।প্রচুর ট্যালেন্ট।বুদ্ধিতে সে তোকেও হারিয়ে দেবে।
-বলিস কি?তুই কীভাবে জানলি?
-কাল শ্রেয়া আর সিজা গিয়েছিল তাকে অপমান করবে বলে।কিন্তু ইরা তাদেরকে এমনভাবে টাইট দিল যে,লজ্জায় তারা আজকে ক্লাসে আসতেই পারিনি।
-কি বলছিস?শ্রেয়া আর সিজার মতো মেয়েকে সে টাইট দিতে পারলো।
তাদের এ গল্প করা শুনে ইরা তাদের দিকে আসলো।
-এইযে,তোমরা এত উশৃঙ্খল কেন?দেখছো না যে,ক্লাসের সবাই চুপচাপ।
-এই মেয়ে,কে তুমি?
-আমি ইরা।
-তা তুমি কি জান না যে,এ ক্লাসের ফার্স্ট বয় আমি।আর তুমি আমার সাথে এইভাবে কথা বলছ।
-ওহ সরি,আমি আসলে জানতাম যে তুমি এ ক্লাসের ফার্স্ট বয়।প্লিজ ডন্ট মাইন্ড।(এ বলে সে তার হাত ইশানের দিকে বাড়ালো হ্যান্ডসেক করার জন্য।)
এরপর তাদের পরিচয় হলো।তারা খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যায় ধীরে ধীরে।
ইশান মনের অজান্তেই কখন যে ইরাকে ভালোবাসে ফেলে সেটা সে নিজেও বুঝতে পারে নি।
একদিন ইশান আর ইরার দেখা হলো।
ইরা- কিরে, কেমন আছিস?অনেক দিন দেখা নাই।
-সত্যিই, আমিও অনেক busy থাকি।তাই তোর সাথে কথা বলা হয় না।কিছু মনে করিস না প্লিজ।
-আরে বাদ দে ওসব কথা।অ্যামেরিকা গিয়ে তোর লেখাপড়া কেমন চলছে?
-ভালোই চলছে।আর তুই মালয়েশিয়াতে কয়টা বর পেলি?
-তবে রে_ _ _
-ইরা, আমি আজ তোকে কথা বলতে চাই।
-কি কথা?
-I Love You.I Love You very much.
-(অবাক হয়ে)What?You are just my friend.
-বন্ধু হয়েছি তাই বলে কি ভালোবাসা নিষেধ?আমি তোকে অনেক ভালোবাসি।(এই বলে সে ইরার হাত ধরল)
-ইশান,এটা সম্ভব না।
-কেন?
-কারণ,আর কয়েকদিন পরে আমার বিয়ে।
-(চোখের জল লুকিয়ে)সত্যিই!তো এটা আগে বললেই তো পারতি।
-তুই কি বলার সুযোগ দিলি।
-কতদিন কারো বিয়ে খায়নি।
-কিন্তু এক্ষুণি যে এসব বললি।
-আরে ওসব তোর সাথে মজা করছিলাম।বিয়েতে কি গিফট নিবি বল।
-তুই শুধু সারাজীবন আমার বন্ধু হয়ে থাকিস।
-ওকে,Good bye.
অনেক সাহস নিয়ে আজ সে ইরাকে তার মনের কথা বলতে পেরেছিল।কিন্তু সেটাও বিফলে গেল।
আজ ইশান ভাবছে সেইদিনের কথা,যেইদিন ইরার সাথে ইশানের সাথে প্রথম পরিচয় হয়েছিল।ভাবছে সেই অতীতের স্মৃতিগুলো।আর তার চোখ দিয়ে ঝরছে রাশি রাশি অশ্রু।
এমন সময় ইরা আসল।
-ইরা,তুই এখানে?
-ইশান আমি পারব না তোকে ছাড়া অন্য কারো কাছে থাকতে।আমি বুঝতে পেরেছি,তুই আমার সব।(এই বলে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরল)।আজ তারা একসাথে।এখন তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসেয়
(সুপ্রিয় পাঠকগণ,আমার গল্পটি পড়ার জন্য ,ধন্যবাদ।আজকে আমি প্রথম গল্প লিখলাম।যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে,তাহলে অবশ্যই জানাবেন।গল্পটি কেমন লাগলো তা জানাতে ভুলবেন না।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now