বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Part7)
(অনেক চেষ্টা করলাম এই পার্টে গল্প শেষ করে দিতে কিন্তু সম্ভব হল না।এখানে যেহেতু অনেকে ইংরেজি বুঝবেন না তাই গল্পের নতুন নায়িকার ভাষাও বাংলা দিলাম।আপনারা আবার প্রশ্ন করিয়েন না যে,বিদেশি মেয়ে কিভাবে বাংলায় কথা বলে)
আমি যেহেতু যুক্তরাজ্যে নতুন তাই আমার ভার্সিটি বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করার জন্য আমার সাথে আংকেল গেল।প্রথম দিন গিয়ে শুধু ভর্তি ও পুরো বিশ্ববিদ্যালয় দেখে আসলাম।অনেক বড় জায়গা জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এরিয়া।দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক বড় মাপের প্রকৌশলীর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন করা হয়েছে।মুগ্ধ নয়নে কিচ্ছুক্ষণ দেখে থাকলাম।আংকেল বিষয়টা বুঝতে পেরে বললেল,"এইরকম ভাল মানের ও সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীতে বেশি নেই।তোমার সৌভাগ্য তুমি এখানে চান্স পেয়েছ।এখানে আরো গুটিকয়েক বাঙ্গালী আছে।তোমাকে তাদের সাথে দেখা করিয়ে দেব।"
আংকেলের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম কিন্তু এক জায়গায় গিয়ে চোখ থেকে গেল।এক সুর্দশনা নারী এক ব্রিটিশ নারীর সাথে যাচ্ছে।দেখে মনে হচ্ছে ভারত-উপমহাদেশর বাসিন্দা।কাল লম্বা চুল। কৃষ্ণ চক্ষু দুটো টানা টানা।গোলাপী গালের মধ্যে নিখুত নাক।মেয়েটি কুঞ্চিত ঘনকালো কেশবতী এবং তাম্রবর্ণ নখ ও সুন্দর ভ্রূ।হাসলে গালে গালে টোল পড়ে।সব দিক দিয়ে পার্ফেক্ট।বাংলাদেশীও হতে পারে।একি আমি কি ভাবছি!আমি কি মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেলাম।না এটা হতে পারে না।আমি একবার ভালবেসে যে কষ্ট পেয়েছি তা আর পেতে চাই না।কিন্তু আমি মেয়েটার দিক না দেখে থাকতে পারছি না কেন।একেই কি কবিরা প্রথম দেখায় প্রেম বলে।আমি আবার প্রেমে পড়ে কষ্ট পেতে চাই না।"এই আবির তুমি কি এত ভাবছ"?আংকেলের ডাকে সন্বিত ফিরল।
-না মানে কিছু না।চারপাশটা দেখছিলাম।
-অনেক তো ঘুরলাম চল বাড়ি যাই।
-হুম আংকেল।
কথাটা বলে আবার মেয়েটার দিকে তাকালাম।একি!কোথায় গেল কৃষ্ণ কেশবতী সুন্দরী!চলে গেল এত তাড়াতাড়ি।যাক ভালই হল মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই।আংকেল বলল,"আবার কি ভাবছ?আজ কি বাসায় যাবে না"?আমি জবাব অপ্রস্তুত হয়ে জবাব দিলাম,"আসেন আংকেল"?সেদিনকার মত বাড়ি ফিরে এলাম।রাতে ঘুমোবার সময় মেয়েটির কথা খুব মনে পড়ছিল।টানা টানা চোখ দুটি ভুলতে পারছি না।তবুও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখলাম।কয়েকদিনে শহরটা ঘুরে দেখলাম।মুটোমুটি সব পথ চিনে নিয়েছি।না চিনলেও কোন চিন্তা নেই গুগল ম্যাপের মাধ্যমে বের করে ফেলতে পারি।এখানেও একটা পার্টটাইম চাকরি করব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম এবং আংকেলকে ও জানালাম।তিনি আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে বললেন,"পরিশ্রম করা মানুষ আমি খুব পছন্দ করি।আমি আজ আমার উচ্চতায় আসতে পেরেছি পরিশ্রমের মাধ্যমে।তুমি কি কাজ করতে চাও?"
আমি বললাম,"আমি বাংলাদেশে একটা রেস্টুরেন্টে চাকরি করতাম।রেস্টুরেন্টে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার আছে।তাই যদি কোন রেস্টুরেন্টে কাজ পেতাম"।
-তাহলে তো ভালোই।আমার বন্ধুর একটা রেস্টুরেন্ট আছে।সেখানেই কাজ করতে পারবে।কখন থেকে শুরু করবে?
-কাল থেকে হলে ভাল হয়।
-আচ্ছা আমি দেখি।আজ সন্ধ্যায় বের হব।
-আচ্ছা।
সেদিন সন্ধ্যায় বের হয়ে রেস্টুরেন্টের পার্টটাইম চাকরি নিশ্চিত হয়ে গেল।কাল থেকে ইউনিভার্সিটিতে যেতে হবে।পরদিন গোসল করে ভালভাবে পরিপাটি হয়ে ভার্সিটিতে গেলাম।আংকেলের কাছ থেকে আগেই আমার কক্ষ দেখে নিয়েছিলাম বলে যেতে কোন সমস্যা হয় নি।ক্লাসটা অনেক বড় যেন একটা বিশাল হলরুম।ক্লাসে ঢুকে বেঞ্চে বসে পড়লাম।কি ভাবে কারও সাথে বন্ধুত্ব করব তা চিন্তা করছিলাম।বন্ধু ছাড়া তো জীবন চলে না।তখনো প্রফেসর ক্লাসে প্রবেশ করে নি।এইসব হাবিজাবি চিন্তা করছিলাম এমন সময় একটা ডাকে সম্বিত ফিরল।
"হাই,আমি হিনা।তোমার নাম কি?" একটা মেয়ের ডাকে বেঞ্চের পাশের দিকে তাকালাম।একি!এযে সেই কৃষ্ণ কেশবতী সুন্দরী।আবার দেখা হয়ে গেল তাও আমার সাথেই পড়ে।আমি চোখের পলক না ফেলে তার দিকে চেয়ে থাকলাম।মেয়েটি আবার বলল,"হেই মিস্টার.আমি তোমাকেই বলছি তোমার নাম কি?"আমি কিচ্ছুক্ষণ ইতস্তত করে জবাব দিলাম,"আমার নাম আবির"।
-তুমি মুসলিম!তোমাকে তো এখানকার মানুষ বলে মনে হয় না।
-হুম।আমি বাংলাদেশি।স্কলারশিপ নিয়ে এখানে পড়তে এসেছি।
-ওহ!তুমি তো আমাদের প্রতিবেশী।
-মানে?
-আমি পাকিস্তানি বংশদ্ভূত।জন্ম থেকেই অবশ্য এখানে থাকি।তপাকিস্তান আর বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র তাই বললাম ।
আমি ভেবেছিলাম মেয়েটি হয়ত বাংলাদেশি হবে।কিন্তু আমার ধারণা ভুল সে পাকিস্তানী।মেয়েটি আমার বলল,"তুমি কি সবসময় এই রকম চুপচাপ থাক?"
-না।তেমন কিছু না।
-তাহলে আমার সাথে ভালভাবে কথা বলছ না কেন।নাকি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কারণে আমাদের এখনও শত্রু মনে কর।মেয়েটার কথা শুনে এইবার আমি হেসে দিলাম।মেয়ের একটু বাচ্চাদের মতো স্বভাব আছে।মেয়েটাকে বললাম,"আচ্ছা সরি।শত্রু মনে করব কেন?তোমার নাম কি যেন বলেছিলে?
প্রায় চিৎকার করে বলল,"তুমি সামান্য নাম মনে রাখতে পার না।ভাল করে মনে রাখবে আমার নাম হেনা।পুরো নাম হেনা আলী।আমরা যেহেতু একসাথে পড়ি তুমি আমার নাম ধরে ডাকতে পার।"
আমি মেয়েটার পাগলামী উপভোগ করছিলাম।আমি হেসে বললাম,"আচ্ছা তুমিও আমার নাম ধরে ডাকতে পার মিস... । ওর নামটা বলতে গিয়ে থেমে গেলাম।হেনা বাচ্চার মত হেসে বলল,"তুমি এখনও স্বাভাবিক হতে পার নি।তোমরা বাংলাদেশীদের এইটা আমার খুব ভাল লাগে যে তোমরা মেয়েদের সাথে কথা বলতে লজ্জা পাও।"
-তোমার কি আর কোন বাংলাদেশীর সাথে পরিচয় আছে যে আমরা মেয়েদের সাথে কথা বলতে লজ্জা পাই তা জান।
-তা অবশ্য নেই।কিন্তু তোমাকে দেখে ধারণা করলাম আরকি।
-একজনকে দিয়েই কি সব বুঝা যায়?
-না।তবে..........
ততক্ষনে প্রফেসর প্রবেশ করল।হেনা আর কিছু বলল না।ক্লাস শেষে হেনা আমার নাম্বার নিল।তখনকার মত বাসায় চলে আসলাম।
To be continued...............
Waiting for next part........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now