বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-সরি,অনন্যা আমি আর তোমার সাথে এই রিলেশনটা টিকিয়ে রাখতে পারছি না।
ফাহিমের এরকম একটা মেসেজ পেয়ে আমার পায়ের তলার সবটুকু মাটি যেন মূহুর্তের মধ্যেই সরে গিয়েছিল। আমি নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, ফাহিম আমাকে কখনো এমন একটা মেসেজ দিতে পারে। যার সাথে গত দুইদিন আগেও রুম ডেট করলাম আর সে কি না বলে, আমি আর এই রিলেশনটা টিকিয়ে রাখতে পারছি না। আমি কি বাজারের কোন পুতুল, যে মন চাইলো খেললো তারপর খেলা শেষ হল আমায় ফেলে দিল। তাই ওর থেকে জানতে চাইলাম কেন রিলেশন কেন করবে না।
ফাহিমের কাছ থেকে আমি এর উপযুক্ত জবাব পাই নি। ওর একটাই কথা আমাকে নাকি তার আর ভাল লাগে না। ভাল লাগে না তাহলে সম্পর্কে জড়িয়ে গেল ?
আমি তো ফাহিমকে প্রফোজ করি নি। সে তো নিজেই আমার পিছনে ঘুর ঘুর করে বেড়াত । আমি প্রথম প্রথম রাজিও ছিলাম না। এরপর যখন দেখলাম ছেলেটা আমার পিছনে আঠার মত লেগে আছে তখন আমি ভাবতে লাগলাম ফাহিম মনে হয় আমাকে সত্যিই সত্যিই অনেক ভালবাসে । ফাহিম অনেক সুন্দর করে মোবাইলে কথা বলতে পারত তাই ওর প্রেমে পড়তে আমার খুব একটা বেশি সময় লাগলো না। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের প্রেমটা গভীর থেকে গভীরতর হয়ে গেল।
এখন এইসব কিছু এত তাড়াতাড়ি ঘৃনায় পরিনত হয়ে গেল ? আমি জানতাম না, ফাহিম কেন আমার সাথে এমন করছে । পরে অবশ্য আমি ওর ব্যাপারে খোজ নিয়ে জানতে পেরেছিলাম, সে নাকি অতীতেও অনেক মেয়ের সাথেই রিলেশন করেছিল। আর এদের সবার সাথেই নাকি রুম ডেট করার পর ব্রেকাপও করেছে। আর আমিও সেই পরিস্থিতির স্বীকার।
কিন্তু আমি অন্য মেয়েদের মত না। এত সহজে আমি ফাহিমকে ছাড়বো না। ওর সাথে আমি খুব রকমের বারাবারি করা শুরু করে দিলাম। প্রথমে ওকে আমি ভয় দেখালাম শেষ মেষ যখন কাজ হলো না তখন আমি উপায় না পেয়ে ওর ফেমিলীতেও জানালাম। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হল না। পরে ভাবলাম থানায় মামলা করব। কিন্তু কিভাবে করি, আমি তো একটা মেয়ে মানুষ। তাছাড়া ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গেলে সমাজের সবাই আমাকে সবাই বাকা চোখে দেখবে । সবাই বলবে অনন্যা মেয়েটা অনেক খারাপ। তাছাড়া বাপ মায়ের মুখেও চুলকানী লেগে যাবে। তাই মনের ব্যাপার মনেতেই চেপে রাখলাম।
এরপর থেকে আমার আর ঘুম হয় না। সারা রাত একা, একা কাদতে থাকি। মাথার ভেতর এরকম একটা মানসিক শাস্তি নিয়ে ঘুমানোর মত কঠিন কাজ মনে হয় আর নেই । যার মন ভেংগেছে সেই শুধু বুঝেছে এর ব্যাথা কতটুকু। আমার শুধু বার, বার ফাহিমের কথায় মনে হতে থাকে। সারা রাত ওর সাথে কথা বলা, এখানে যাওয়া,ওখানে যাওয়া আর রুম ডেটে যাওয়ার প্রতিটা দৃশ্যই আমার চোখের সামনে ভাসতে থাকে । অন্যদিকে ফাহিম নতুন শিকার নিয়ে ব্যস্ত থাকত । কিন্তু ফাহিমের মত এমন প্রতারককে কি ছাড় দেওয়া ঠিক হবে ?
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম,ওকে শাস্তি দিব। প্রয়োজনে আমি নিজেও মরব ওকেও মারবো । প্রথমে ভাবলাম, সুইসাইড করে ওকে ফাঁসাবো। পরে ভাবলাম আচ্ছা আমি যদি মরেই যাই তাহলে তো ফাহিমের শাস্তি দেখতে পারবো না। তাছাড়া আমার এক পরিচিত কাজিন আমার মতোই এমন পরিস্থিতিরই শিকার হয়েছিলেন। পরে তিনি একটা সুইসাইড লেটার লিখে তার বয়ফ্রেন্ডের শাস্তি কামনা করে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন। পরে দেখা গেল ছেলেটার সেরকম কিছুই হল না। তাই এমন একটা কিছু করতে হবে যাতে ফাহিমের শাস্তি আমিও দেখে যেতে পারি । কিন্তু এমন কিছু করা কি আমার পক্ষে আদৌ সম্ভব ?
.
চারবছর পরের ঘটনা।
আমার শরীরে এইডসের জীবানু বইছে। গত মাসে ফাহিমের রক্তেও এইডসের জীবানু পাওয়া গেছে। এই জীবানুর বাহক যিনি ছিলেন তিনি আমার কাছে সমপুর্ন অপরিচিত একজন লোক। অনেক কস্টে আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হই। এরপর তার সাথে আমি নিজের ইচ্ছেতেই সেক্সুয়াল রিলেশনে জড়িয়ে যাই । এর প্রায় বছর খানেক পর রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আমি নিশ্চিত হয়ে যাই আমারো এইডস হয়েছে । আর তখনই আমি ফাহিমকে ইনিয়েবিনিয়ে ওর সাথে আবারো ফিজিকাল রিলেশনে জড়িয়ে যেতে থাকি । আর এই ফিজিকাল রিলেশনই ফাহিমের মৃত্যুকে হাত ছানি দিয়ে ডাকতে
থাকে । ফাহিমের মত ছেলেদের এভাবেই শাস্তি হওয়া উচিত। তবে যারা ফাহিমের মত এরকম পাপ কাজে লিপ্ত আছেন তাদের উদ্দ্যেশ্যে একটা কথাই বলতে চাই, খারাপ কাজের ফল সর্বদা খারাপই হয় আর অন্যদিকে ভাল কাজের ফল সর্বদা ভালোই হয়। আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত অন্যায় আর পাপকর্ম কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
.
#প্রতারকের শাস্তি
#রাসেল_আহমেদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now