বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Part6)
(এর পরের পার্টে এই গল্পের সমাপ্তি ঘটবে।অর্থাৎ হ্যাপি এন্ডিং হবে। কেমন লাগল কমেন্টে জানাবেন।দেরিতে দিলাম বলে পার্টটা বড় করে দিলাম।)
দুই বন্ধুই সারাদিন ঘুরলাম।পেটে জমে থাকা সব কথা একে অপরকে বললাম।বন্ধুর দেখা পেয়ে মন খুব হালকা হয়ে গেল।কলেজে ভর্তি হলেও আমার রেস্টুরেন্টটাতে কাজ চালিয়ে যেতে হত।রেস্টুরেন্টের মালিক আমার কাজে খুশি হয়ে আমার বেতন ও বেশ বাড়িয়ে দিল।এখন আমি করিম চাচা ও ফারাবিকে নিয়ে খুব ভাল আছি।যদিও মাঝে মধ্যে বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে। তবুও এখন আগের মত ইমুশনাল হয়ে যাই না কথায় কথায়।ফারাবীও একটা পার্ট টাইম চাকরি শুরু করল।কলেজ জীবন বেশ ভালভাবেই পার হয়ে যাচ্ছিল।তবে এখন পড়াশোনায় আমি বেশ মনোযোগী।এখন জীবনে সফল হওয়ার একটা লক্ষ্য আছে যা আগে ছিল না।কলেজেও বেশ কয়েকজন বন্ধু হয়ে গেল।তবে এটা সত্য যে কলেজের কিছু বড়লোকের ছেলে আমাদের মত গরিবদের দেখলে তাচ্ছিল্য করে চলে।আমরা অবশ্য এইসব পাত্তা দিই না।এমনকি একবড়লোকের ছেলেও আমার বন্ধু।তার জন্য তাচ্ছিল্য করে চলা বড়ভাইরা আমাকে ও আমার বন্ধুদের কিছু করতে পারে না।আমার বড়লোক বন্ধু জুবায়ের এর মন ও অনেক বড়।আমি,ফারাবী,
জুবায়ের ও আরো কয়েকজন মিলে আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেল। দেখতে দেখতে কলেজ জীবনও শেষের পথে।এইচ.এস.সি পরিক্ষা চলছে।সবগুলো পরিক্ষা আল্লাহর অশেষ রহমতে ভাল হয়েছে।দুই হারামী বন্ধুর পরিক্ষাও বেশ ভাল হয়েছে।এখন রেজাল্টে কি হবে তা দেখার বিষয়।পরিক্ষার পর সময়গুলো বেশ চমৎকার ভাবে কাটলো।পরিক্ষার আগে পড়ার যে চাপ ছিল এখন নেই।এখন চাপ শুধুমাত্র ভর্তি পরিক্ষার।।আমরা তিন বেস্ট ফ্রেন্ড অর্থাৎ আমি,ফারাবী ও জুবায়ের দেশের বিভিন্ন অংশ ঘুরে বেড়ালাম।যদিও খরচের বেশিরভাগই দিয়েছে জুবায়ের।রেজাল্ট বের হল।কিন্তু রেজাল্ট দেখতে আমার দুই হারামী বন্ধু গেল।আমার খুব চিন্তা হচ্ছে।ওরা এখনও আসছে না কেন কে জানে।ফোনও তুলছে না।বিকেলের দিকে দুইজনই আসল।দেখে মনে হচ্ছে মন খারাপ।আমি ভাবতে লাগলাম তাহলে কি আমার পরিক্ষা খারাপ হল।আমি জিজ্ঞেস কি হল জিজ্ঞেস করলাম।দুই হারামী চিৎকার করে বলল,"শালা কথা কম কাজ বেশি।আগে ট্রিট দে"?
-রেজাল্ট কেমন হয়েছে আগে বল প্লিজ?
-মামা তুই সেইরকম রেজাল্ট করছিস আর সাথে বিদেশে বড় একটা ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ পেয়েছিস।
-ফাজলামি করিস কেন?কেমন হয়ছে বল।
-তুই আমাদের কথা বিশ্বাস করছিস না।এই দেখ......
এই কথা বলে জুবায়ের তার মোবাইলে আমার রেজাল্ট দেখাল।তারপর হেসে বলল,"কি মামা!এইবার বিশ্বাস হল।ট্রিট দে এবার।"ফারাবীও তার সাথে একমত পোষণ করল।তারমানে আমাকে অবশ্যই ট্রিট দিতে হবে।আমি ভাবতেও পারছি না এমন রেজাল্ট আমি করেছি।আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম।আমি বললাম আগে তোদের দুইজনের রেজাল্ট বল এবার।ফারাবী ও জুবায়ের ও খুব ভাল রেজাল্ট করল।আমি বিদেশে পড়তে যেতে না চাইলেও তারা জোর করতে লাগল।জুবায়ের বলল,"আমরা দুইজন চান্স পায়নি বলে আফসোস করছি আর তুই কিনা চান্স পেয়েও এত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাচ্ছিস না।"
আমি বললাম,"আমি তোদের দুইজন ফেলে কিভাবে যাব।ফারাবী তুই বল আমি কিভাবে থাকব।"ফারাবী আমাকে সঙ্গ না দিয়ে বলে আরো বলল,"জুবায়ের তো ঠিকই বলছে।"ফারাবী সেই সাথে আমার সপ্নকেও মনে করিয়ে দিল।আমার সপ্ন ছিল বড় কিছু হয়ে তাদের দেখিয়ে দেওয়া।সফল হয়ে দেখনোর চেয়ে বড় প্রতিশোধ এই পৃথিবীতে হতে পারে না।ফারাবী জানত এই কথা বললে আমার জীদ বেড়ে যাবে।আমিও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম আমি যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য যাব।আমার শুধু কষ্ট লাগবে এই দুই বন্ধুকে ফেলে যাব বলে।জুবায়ের আমাকে সব ধরনের সহায়তা করল।পাসপোর্ট,ভিসা ও টিকেট সব জোগাড় করে দিল জুবায়ের।আজ আমার বিদায় নেওয়ার পালা।এয়ারপোর্টে চলে এলাম।বিমান ছাড়তে আর বেশি দেরি নেই।আজ কেন জানি খুব কান্না করতে ইচ্ছে।বন্ধুদের ফেলে দূরে যাওয়ার জন্য কান্না।আমি কেদে দিলাম।দুই বন্ধুও আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।যাত্রীদের বিমানে প্রবেশ করার ঘোষনা দিয়ে দিল।আমার বন্ধুদের ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করছে না।ওরাই জোর করে পাঠিয়ে দিল।আমার প্রথম বিমান যাত্রা।প্রথমে একটু অন্য রকম লাগলে ও পরে স্বাভাবিক হয়ে গেল।দীর্ঘ সময় আকাশে উড়ার পর প্লেনটি সফল ভাবে অবতরণ করল।এয়ারপোর্টের কাজগুলো সম্পাদন করে এয়ারপোর্টের বাইরে এলাম।নতুন দেশ তাই একটু অন্যরকম লাগছে।প্রথমে জুবায়েরের কথামতো একটা সেখানকার একটি সিম কিনলাম।আমি যেহেতু বেশ ভাল ইংরেজি জানি তাই কথা বলতে কোন সমস্যা হয় নি।সিমটি অপেন করলাম।জুবায়ের এর দেওয়া ঠিকানাই চলে গেলাম।জায়গাটাতে গিয়ে একজন মধ্যবয়সী পুরুষ ও দুইজন মহিলা দেখতে পেলাম।মহিলাদের মধ্যে একজন মধ্যবয়সী এবং একজনের বয়স একটু কম।একজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে বেশ অভিজাত পরিবারের বলে মনে হল।আরেক মহিলাটি বোধ হয় পরিচায়িকা।চিকন সুদর্শনা মেয়ে,দেখেই মনে হয় বাঙ্গালী না।এখানকার পরিবেশ বেশ শান্ত।গাছপালায় ঢাকা বাড়িটা অনেক বড়।আমি ভেবেছিলাম যুক্তরাজ্যে বোধ হয় শুধু বড় বড় দালান থাকবে।কিন্তু আমার ধারণা ভুল এখানে বড় বড় বিন্ডিং আছে ঠিকই কিন্তু সব বিল্ডিংই প্রায় সবুজে ঘেরা।গিয়ে ইংরেজিতে বললাম,"জুবায়ের আমাকে এই ঠিকানায় পাঠিয়েছে"।মধ্যবয়স্ক লোকটি বলল,"অহ!তুমি জুবায়েরের বন্ধু।আমি জুবায়েরের আংকেল।ও আমাকে আগেই খবর দিয়েছিল তুমি আসবে।আসতে কোন সমস্যা হয়নি তো।আর একটা কথা আমার সাথে ইংরেজিতে কথা বলার দরকার নেই।পরিচয় করিয়ে দিই এটা আমার স্ত্রী।"মধ্যবয়সী ভদ্রলোক সম্ভান্ত্র মহিলাটিকে দেখিয়ে দিলেন।মহিলাটি বললেন,"আজ থেকে তুমি এখানে থাকবে।আর আমাদের পর ভেবো না।আমাকে আন্টি আর উনাকে আংকেন ডাকবে।জার্নি করে এসেছ রুমে গিয়ে বিশ্রাম নাও।"ভদ্র মহিলাটি তার পরিচায়িকাকে ডেকে বলল,"মার্গারিটা ওকে দুই তালার দক্ষিণের ঘরে নিয়ে যাও।আজ থেকে ও এখানে থাকবে।"মার্গারিটা নামের মেয়েটি বলল,"আসুন আমার সাথে"।এই বিদেশি মেয়ের মুখে এমন সাবলীল বাংলা দেখে অবাক হয়ে গেলাম।মেয়েটি বোধহয় বিষয়টা বুঝতে পেরেছে তাই বলল,"আমি এখানে দশ বছর ধরে আছি।স্যার আর ম্যাডাম খুব ভাল মানুষ।তাদের কাছ থেকেই আমি বাংলা শিখেছি।আমার স্বামীও এখানে কাজ করে"।আমি বুঝতে পারার মত মাথা নাড়ালাম।রুমে গিয়ে নতুন সিম একটিভ করে ফারাবী ও জুবায়েরকে পৌছে যাওয়ার খবরটা দিলাম।তারা আমার সাথে সামান্য কথা বলে তারপর আমাকে ঘুমিয়ে যেতে বলল।তাদের সাথে কথা বলার পর আমিও ক্লান্তিতে রুমে ঘুমিয়ে গেলাম।
To be continued...............
Waiting for next part.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now