বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জোনার: হরর থ্রিলার
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা
গল্পটি না পড়লেই ভালো। সমালোচকরাও বিরত থাকবেন)
(৬ষ্ঠ পর্ব)
মার্টিনির জন্যে আমার হৃদয়টা হাহাকার করে উঠলো।
স্রষ্টাকে খুব নিষ্ঠুর মনে হতে লাগলো আমার কাছে।
এভাবে পুতুলের মতো একটা মেয়েকে অকালে এভাবে
নিয়ে গেল কেন? কি দোষ ছিলো তার? একজন বা
কয়েকজনের প্রাণ নিলে সে খুনি। কিন্তু একে একে যে
সবার প্রাণ যে হরণ করে সেই ঈশ্বর। জগতের কি অমোঘ
লীলা! পরের পৃষ্টায় গেলাম,
আলেস লিখেছে,
"কাল রাতে একটুও ঘুমুতে পারিনি। চোখ বন্ধ করলেই
মার্টিনীর চেহারাটা ভেসে উঠছে! জানি আজ রাতে
ওর মৃতদেহটাকে শুদ্ধিকরণের নামে প্রিস্ট ভোগ উৎসবে
মেতে উঠবে। আমি যেন ওর আত্মার আর্তচিৎকার
শুনতে পাচ্ছিলাম। গীর্জার ঐ উপরের তলায় সে
সাহায্যের জন্যে হাহাকার করছে। ওর অতৃপ্ত আত্মাটা
হয়তো অসহায় হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখছে, নিজের
প্রাণহীন দেহটাকে কিভাবে ঐ জানোয়ারটা খুবলে
খুবলে খাচ্ছে! ছিঃ। কোন মানুষ তার স্বজাতির
মৃতদেহের এমন অমর্যাদা করতে পারে তা আমার জানা
ছিলো নাহ। তাও আবার ঈশ্বর গৃহ গীর্জার ভেতরে
বসে! হে ঈশ্বর তোমার গজব দিয়ে এই নষ্ট গীর্জাকে
ধ্বংস করে দাও। এই শয়তানের আখড়া পুড়িয়ে ছাই
করে ফেলো! প্রতিদিনকার মতো আজ সকালেও ওরা
খাবার দিয়ে গেছে। চারটে রুটি। কিন্তু আজ আমি
কার সাথে ভাগ করে খাব? মার্টিনী তো চলে গেছে।
তাই খাবারের পুটলিটা আমি সেলের ফাঁক গলে ওদের
উপর ছুড়ে ফেলে দিলাম। আর চিৎকার করে বললাম,
তোদের খাবার তোরাই খা। শুধু আমার মার্টিনীকে
ফিরিয়ে দে। এক শয়তান রক্ষী ভেঙ্গচি কেটে বলল, "ঐ
ডাইনিকে নরকে পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই তোকেও
সেখানে পাঠানো হবে।" যদিও আমি খুন না করেও
খুনের দায়ে দোষী তবুও জীবনে কখনোই আমার মনে
কারো প্রাণনাশের স্পৃহা জাগেনি। কিন্তু আজ প্রচন্ড
ইচ্ছা করছিলো ঐ রক্ষীকে মেরে নরকে পাঠিয়ে দেই।
একরাশ থুথু ওর মুখে ছিটিয়ে দিলাম। শয়তানটা অপর
রক্ষীর হাত থেকে চাবুক নিয়ে আমার সেলে ঢুকে
আমাকে খুব পিটালো। নিয়মিত চাবুক খেতে খেতে
আমার পিটে পূঁজ হয়ে গেছে। ও যখন এই ক্ষত বিক্ষত
পিঠে আবার মারলো তখন মনে হলো প্রতিটা চাবুক
যেন পিঠ ভেদ করে হৃদপিন্ডে আঘাত করছে। খুব
বেশীক্ষণ এ আঘাত সহ্য করতে হয়নি আমায়। দুচারটা
চাবুক খাবার পরেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। যখন জ্ঞান
ফিরলো তখন সেলে সম্পূর্ণ একা আবিষ্কার করলাম।
একাকীত্ব আর শূন্যতা পুরো হৃদয়কে গ্রাস করলো। এই
একাকীত্ব থেকে বাঁচতেই বাইবেলটা নিয়ে লিখতে
বসলাম।"
এ পৃষ্ঠাটা পড়ে চোখ বন্ধ করতেই যেন আলেসের ক্ষত
বিক্ষত পিঠটা দেখতে পেলাম। ওহ! এই সাহসী
মেয়েটা এতকিছু সহ্য করতে পেরেছে শুধু মার্টিনীর
অপমান ছাড়া। তাই রক্ষীটা যখন মার্টিনীকে নরকে
পাঠানোর কথা বলে তখনই সে সাপের মতো ফুসে
উঠেছে। নির্যাতন নিশ্চিত যেনেও এর প্রতিবাদ
করেছে! শুধু অনুভব করলাম জেলের অন্ধপ্রকোষ্টে এই
দুই নারীর প্রেম অবলীলায় লাইলি-মজনু, শিরি-
ফরহাদের মত প্রেমগাথাঁকে ম্লান করে দেবার
যোগ্যতা রাখে।
পরের পৃষ্টায়,
"সেদিনের ঘটনার পর থেকে আজ দুদিন হয়ে গেল, ওরা
আমাকে খাবার দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আর সপ্তাহ
খানেক আগের সেই নোংরা শুদ্ধিকরণের পর থেকেই
ওরা আমাকে নগ্ন করে রেখেছে। ধীরে ধীরে গ্রীষ্ম
এগিয়ে আসছে বলে ঠান্ডা থেকে কিছুটা রেহাই
পেয়েছি। কিন্তু পিপাসায় বোধ শক্তি ধীরে ধীরে
লোপ পেতে শুরু করেছে। গতরাতে স্বপ্নে দেখেছি
মার্টিনীকে আমার সেলের ভেতর ফাঁসীতে ঝুলানো
হয়েছে। ওর ঘাড় ভেঙ্গে ধড়টা বেকায়দা ভাবে ঝুলছে।
মৃত্যু যন্ত্রনায় সুন্দর মুখটা হা হয়ে জিহ্বা বেরিয়ে
এসেছে। ওর খোলা মুখ থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়ছে
আর আমি তৃষ্ণার তাড়নায় মেঝে থেকে সে রক্ত চেটে
চেটে খাচ্ছি। উহঃ। কি বীভৎস স্বপ্ন। সকালে ঘুম
থেকে উঠে আমি অনেক ক্ষণ কেঁদেছিলাম। কিন্তু
তৃষ্ণায় সবটুকু পানিই শুকিয়ে গেছে। চোখ থেকে
বেরুনোর মত আর কোন পানি অবশিষ্ট ছিলো না।
দুপুরের দিকে তৃষ্ণার জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে অঞ্জলি
ভরে নিজের মুত্র পান করেছি। হলুদ বিস্বাদ তরলটা
যেন আমার পিপাসাটাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
বুঝতে পারছি, তাড়াতাড়ি খাবার -পানি না পেলে
আজ রাতই আমার জীবনের শেষ রাত। তাই শরীরের
শেষ শক্তিটুকু দিয়ে এখন লিখতেছি। জীবনের শেষ
অক্ষরমালা। জীবনের শেষ শব্দ, মার্টিনী।"
(চলবে).....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now