বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জোনার: হরর, থ্রিলার
সেদিন অফিসে মন দিতে পারলাম নাহ। ঘুমের ঘোরে
একসময় ডেস্কে মাথা ফেলেই কুপোকাত। কপাল ভাল
অফিসে আমিই এক্সিকিউটিভ অফিসার। আমার উপরে
কেউ নেই। আমার কোন বস থাকলে এতক্ষণে সোজা
ঘাড় ধরে অফিস থেকে বের করে দিত। আজ বিকালটা
স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দীর্ঘ মনে হচ্ছে। অফিস
যেন শেষ হতেই চাইছে না। অবশেষে পাঁচটায় অফিস
থেকে বেরিয়ে সোজা বাসায় চলে এলাম। কাপড়
ছেড়ে একটা লম্বা শাওয়ার নিলাম। আয়নায় চোখ
যেতেই দেখলাম আলেস আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে আছে। এবার ওকে দেখে মোটেও ভয় পেলাম
না। বরং দুষ্টুমি করে চোখ টিপলাম। ও মৃদু হেসে মাথা
নাড়লো। ওকে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতে মন
চাইলো। অঞ্জলিতে পানি নিয়ে আয়নায় ছিটিয়ে
দিলাম। কিন্তু ততক্ষণে আলেস আয়না থেকে চলে
গেছে। শাওয়ার সেরে ডিনার রেঁধে খাবার টেবিলে
বসলাম। খাবার টেবিলে আমি একটা প্লেট টেনে
নিলাম আরেকটি প্লেট পেতে রাখলাম আলেসের
জন্যে। জানি ও খাবার দাবার সহ সকল জাগতিক
প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে চলে গেছে তবুও কেন জানি ওকে
ছেড়ে খেতে বসতে আমার বিবেকে বাধলো। খাবার
শেষে লাইব্রেরীতে ফিরে গেলাম। আলেসের
ডায়ারীটা আমার পড়ার জন্যে প্রস্তুত হয়েই আছে।
কাল বিলম্ব না করে পড়া শুরু করলাম।
" গত দুটো দিন কিছুই লিখতে পারিনি। প্রচন্ড জ্বর
এসেছিল আমার। শরীরটা সেরাতের ধকল সহ্য করতে
পারেনি। আধোঘুম আধোজাগরণেই কাটিয়ে দিয়েছি।
আজ যখন হুশ হল তখন দেখলাম মার্টিনী আমাকে ওর
কাপড় পড়িয়ে দিয়ে নিজে নগ্ন হয়ে আমার মাথার
পাশে বসে আছে। আমাকে চোখ মেলতে দেখে ও
হেসে সুপ্রভাত জানালো। নগ্ন মার্টিনীকে তখন আমার
ভেনাসের চেয়েও বেশী সুন্দরি মনে হচ্ছিলো। ও
ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বলল, "জ্বর গায়ে নগ্ন থাকা
ঠিক না। তাই আমার কাপড়টা খুলে তোমায় পড়িয়ে
দিয়েছি। আর আমি তো জানিই তুমি আমাকে কাপড়
ছাড়াই বেশী ভালবাস।" ওর কথা শুনে চোখে জল চলে
আসলো। একটাই কাপড় আমরা দুজন ভাগ করে পড়তেছি।
ও শুধু আমার জন্যে এই শীতেও সারাটি রাত নগ্ন
থেকেই কাটিয়ে দিয়েছে! হায় ঈশ্বর! এ তোমার কেমন
অসম বন্টন। তুমি মার্টিনীর হৃদয়ে যতটা ভালবাসা
দিয়েছো তার এক কানাকড়িও যদি প্রিস্টের হৃদয়ে
দিতে তবে আজ আমাদের এতটা কষ্ট পেতে হত না।
বিছানা থেকে উঠে গিয়ে মার্টিনীকে প্রাণপণে
জড়িয়ে ধরলাম। ও যে আমার জীবনের শেষ আশ্রয়। আমরা
একসাথে ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ অনুভব করলাম মার্টিনী
আমাকে ঘুমে রেখে উঠে চলে যাচ্ছে। মিটমিট চোখে
দেখলাম ও এলোমেলো পা ফেলে উঠে সেলের এক
কোণে যেয়ে বমি করলো। বুঝলাম ও অন্তঃসত্ত্বা।
প্রিস্টের সন্তান ওর পেটে। দুদিনের ব্যবধানে
আমাকেও ওর পরিণতি বহন করতে হবে। আমার পেটে
হাত বুলালাম। কিছুই টের পেলাম না। কিন্তু আমি
জানি এখানে একটা শুকরছানা ধীরে ধীরে বেড়ে
উঠছে। শুধু একটাই আশা, মৃত্যুই পারে আমাকে এসব
থেকে মুক্তি দিয়ে আমার স্রষ্টার কাছে ফিরিয়ে
নিতে। মার্টিনী ফিরে এসে আমার পাশে শুয়ে গভীর
মমতা মাখা কন্ঠে বলল, "কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞাস
করে বাচ্চাটা কার আমি সোজা তোমাকে দেখিয়ে
দেব। কি মনে হয়? পারবে তো আমার বাচ্চাটার বাবা
হতে?। আমার উত্তর শুনে ও উচ্চস্বরে হেসে
উঠলো। আমিও প্রাণ খুলে হাসলাম। এই বাহ্যিক হাসি
ঠাট্টার আড়ালে প্রকৃত সত্যটা আমরা দুজনেই জানি।
নিতান্ত ভাগ্যগুণে যদি আমরা এখান থেকে বেরুতেও
পারি তবুও আমি আলেসকে বিয়ে করতে পারব নাহ।
আমাদের সমাজ দুটো মেয়ের বিয়েকে কখনোই মেনে
নিবে নাহ, তারা একে অন্যকে যতই ভালবাসুক না
কেন।"
মনেমনে ভাবতে লাগলাম আলেস যদি এখনো বেঁচে
থাকতো তবে কতই না খুশি হত। আজ আধুনিক। ইশ যদি আমি
আলেস আর মার্টিনীর বিয়েতে উপস্থিত থাকতে
পারতাম কত না মজা হত! এসব ভাবতে ভাবতেই পরের
পৃষ্টায় গেলাম,
" আমার হৃদয়টা আজ ভেঙ্গে চৌচির হয়ে গেছে। আমি
এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না মার্টিনী আর নেই।
আর কখনোই ও আমাকে ভালবাসবে নাহ। ওর নিষ্পাপ
কচি চেহারাটা আর কখনোই আমি দেখতে পাব না! ওর
মিষ্টি চুমু যা আমার শত নির্যাতন নিষ্পেষণকে
মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিত তা আজ থেকে অতীত হয়ে গেছে।
ওর জাদুকরী হাতের স্পর্শ, সে হাত দুটো আজ নিথর হয়ে
পড়ে আছে! আজ ভোরে কতিপয় রক্ষী এসে বলল
মার্টিনীর মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর
সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই ওকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়া
হবে। ও নির্লিপ্ত কন্ঠে প্রশ্ন করলো আমার দেহটার
কি হবে? অপর এক রক্ষী উত্তর দিলো প্রিস্ট তোমার
দেহকে পরপর তিন রাত শুদ্ধিকরণ শেষে আগুনে পুড়িয়ে
দিবেন। এ গীর্জার নিয়ম অনুসারে বুঝি সকল
ডাকিণীদেরই এই নিয়মে সমাহিত করার হয়। একথা শুনে
মার্টিনী বাচ্চা মেয়েদের মতো ঢুকরে কেঁদে উঠে
বলল, "আমাকে বাঁচাও আলেস। শয়তানটা শুদ্ধিকরণের
নামে আমার মৃতদেহের সাথেও সঙ্গম করবে! ঈশ্বরের
দোহাই লাগে, আমাকে বাঁচাও।" আমি মনস্থির করে
ফেলেছিলাম। আমি বেঁচে থাকতে আমার ভেনাসকে
এখান থেকে কেউ নিয়ে যেতে পারবে নাহ। মনেমনে
প্রার্থনা করলাম হে ঈশ্বর আমায় শক্তি দাও, আমায়
গ্রহণ কর। মার্টিনীকে নিতে প্রথম রক্ষী সেলে প্রবেশ
করা মাত্র আমি ওর উপর হামলে পড়লাম। ও তাল
সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে গেল। আমি ওর
গলায় কামড় বসিয়ে দিলাম। ফিংকি দিয়ে রক্ত
বেরিয়ে আসলো ওর গলা থেকে। এমন সময় আরেকটি
রক্ষী আমার মাথার পেছনে বাড়ি মারলো। আঘাতের
তীব্রতায় আমার চোখের সামনের সবকিছু অন্ধকার হয়ে
এলো। আমি জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরলে
নিজেকে সেলে একা আবিষ্কার করলাম। বুঝলাম
মার্টিনীকে ওরা নিয়ে গেছে চিরতরে!
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now