বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Part5)
(এই পার্টটা তেমন মজাদার হবে না।এর পরের পার্ট অনেক সুন্দর হবে।সাথে থাকুন।আমি যেহেতু চট্টগ্রামের মানুষ তাই করিম চাচার ভাষাটা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা দিতে চেয়েছিলাম।কিন্তু আপনারা বুঝবেন না বলে দিলাম না।ভুল ত্রুটি মাফ করবেন)
চট্টগ্রাম।আমার নতুন শহর।এই শহরেই শুরু হবে আমার নতুন স্বপ্ন ও বেচে থাকার লড়ায়।আমি বাসে যেতে যেতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম এই শহরের মাধ্যমে হয়ত আমি সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌছে যাব নতুবা কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাব।এইসব চিন্তা করতে করতে চট্টগ্রাম শহরে পৌছে গেলাম।প্রথমে মাথায় আসল থাকার চিন্তা।কোথায় থাকব,কি খাব?যা টাকা আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকা-খাওয়া যাবে।তারপর কি করব।আল্লাহর উপর যথেষ্ট ভরসা আছে বলে এখনও ধৈর্য হারায়নি।বাস থেকে প্রথমে কিছু খেয়ে নিলাম।খুব সাশ্রয় করে চলতে হবে।ভাত খেকে থাকার ছোট একটা জায়গায় জন্য পাগলের মত ছোটতে লাগলাম।এই বিল্ডিং থেকে ওই বিল্ডিং।কেউ বাসা ভাড়া দিলে চাই নি।অনেক রাত হয়ে এল।ভাবছি রাস্তার ধারে কোন এক জায়গায় রাত কাটিয়ে দিব।কিন্তু সেখানেও সমস্যা ছিনতাইকারির ভয় আছে।পথে পথে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাটছি।এমন সময় মনে হল কে যেন আমার নাম ধরে ডাক দিল।আমি ভাবলাম মনের ভুল।তাই আমার আগের মত হাটছি।এইবার স্পষ্ট শুনতে পেলাম কেউ আমাকে ডাকছে।আমি পিছনে ফিরে দেখতে পেলাম এক ছায়ামূর্তি আমার দিকে এগিয়ে আসছে।আমি ভাবছি কে হতে পারে যে এখানে আমার নাম জানে।লোকটা সামনে এসে জিজ্ঞেস করল,"বাজান তুমি আবির না।তুমি এইহানে কি কর?"।এইবার লোকটাকে চিনতে পারলাম।লোকটা করিম চাচা।আমাদের গ্রামের লোক।তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন।আমি উনাকে করিম চাচা বলেই ডাকতাম।কয়েক বছর আগে নিজ আয় বাড়ানোর জন্য শহতে এসেছিলেন।তবে তিনি চট্টগ্রাম এসেছিলেন তা আমি জানতাম না।উনাকে সালাম দিয়ে উনার প্রশ্নের উত্তরে হ্যা-সূচক হিসেবে মাথা নাড়ালাম।
-তুমি কি আমারে চিন নাই?আমি তোমার করিম চাচা।
-চিনেছি চাচা।কেমন আছেন?
-ভাল।কিন্তু তুমি এইহানে কেন এত রাতে?তোমার সাথে কে আইছে বাজান?
-কেউ আসেনি চাচা।
-বাড়ি থেকে পলায় আইছ।
-না।মা-বাবা বের করে দিয়েছে।
-কেন বাজান তুমি কি করছ?
আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব বললাম।করিম চাচা আক্ষেপ করে বলল,"ছি!ছি!রফিক(আমার বাবা) এত খারাপ কাজ কইরল।অন্যের কথা হোইনা এত ছোড পোলাডারে বাড়ি থেকে বাইর করি দিল।কামডা ভালা করে নাই।তা তুমি কোথায় উডছ?"
-কোথায় জায়গা পায়নি চাচা।ভাবছি কোন এক ফুটপাতে থাকব।
-ছি ছি!কি কও?আমি থাকতে আমার বাজান রাস্তাতে ঘুমাইব তা কেমনে হয়।আমি ওই সামনের বিল্ডিংডাটে নাইটগার্ডের চাকরি করি।ওইহানে একটা বাসা আমারে দিছে।তুমি ওইহানে থাকবা।
-চাচা আপনার কষ্ট হবে।
-আহা বাজাম।শরম পাও কেন।আমি কি তোমার পর।আহ আমার সাথে।আমি ওনাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,"চাচা আপনি যদি জায়গা না দিতেন জানি না কোথায় থাকতাম।"করিম চাচা পরম স্নেহে বললেন,"তুমি কি আমার পোলা নও বাজান।পোলার লাইগা কি আমি কিছু করুম না।"করিম চাচার রুমে পৌছে গেলাম।ছোট রুম।কিন্তু দুইজন সহজেই থাকতে পারবে।করিম চাচা বাসায় পৌছার পর বলল,"রাতে কিছু খায়ছ?"
-হুম চাচা।
-হাছা কয়তাছ?
-জ্বি।বাস থেকে নেমে খায়ছি।এখন আর ক্ষিধে নেই।
-তাইলে ঘুমাও বাজার।আমার পাহারা দিতে হয়ব।
করিম চাচা চলে গেলেন।আমি ঘুমানোর চেষ্টা করেও পারলাম না।দিনে বিভিন্ন ব্যস্ততার মাঝে ছিলাম তাই তেমন মন খারাপ ছিল না।কিন্তু এখন আমার সব কিছু মনে পড়ছে।আর ধরে রাখতে পারলাম না।কেদে দিলাম।পরক্ষণেই নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম এই ভেবে তারা যদি আমাকে ভুলে থাকতে পারে তবে আমি কেন পারব না।এইসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়লাম নিজেও জানি না।সকালে উঠতে একটু দেরি হল।করিম চাচা রান্না করছেন।আমাকে বললেন,"উঠ বাজান।হাত মুখ ধুইয়া লও।ভাত খায়বা।"
করিম চাচার রান্নার হাত অনেক ভাত।উনার কাছ থেকে জানতে পারলাম উনি সকালে ও বিকালে নিজে রান্না করেন ও রাতে হোটেলে খান।কোন কাজ করলে নাকি দুঃখ ভুলে থাকা যায়।তাই সিদ্ধান্ত নিলাম একটা কিছু করব।এতে করিম চাচারও লাভ হবে।ভাত খেতে খেতে চাচাকে বললাম,"চাচা আমার একটা চাকরি দরকার।কিছু তো করতে হবে"।
-তুমি পড়ালেহা করবা না।
-আর কি ভাবে পড়ালেখা করব চাচা।
-তুমি চিন্তা কইর না।তোমারে আমি ভর্তি করাইয়া দিমু।
-না চাচা তবু একটা পার্টটাইম চাকরি নাহলে টিউশনি দরকার।
-ঠিক আছে বাজান দেখবুনি।
কয়েকদিন চাচা আমার জন্য টিউশনি খুজলেন।কিন্তু পেলেন না।একটা এস.এস.সি পাশ ছেলেকে কেই বা টিউশনি দেবে।আমি অন্য সাব্জেটে মোটামোটি ধরনের ভাল হলেও ইংরেজিতে বেশ ভাল ছিলাম।চাচা একটা দামি রেস্টুরেন্টে চাকরির জন্য নিয়ে গেলেন।ইংরেজিতে বলতে পারার কারণে চাকরি হয়েও গেল।রেস্টুরেন্ট দামি হওয়ার কারণে কাজের অনুপাতে বেতন অনেক বেশি।বাড়ি ছাড়ার আগে কয়েকটা কলেজে আবেদন করেছিলাম।চট্টগ্রাম কলেজ ও সেই কয়েকটার মধ্যে।জানি না কিভাবে চট্টগ্রাম কলেজে চান্স পেয়ে গেলাম।এটাই বাড়ি ছাড়ার পর প্রথম সুখবর।প্রতিদিন এ ফারাবীর সাথে কথা হত।চট্টগ্রাম কলেজে চান্স পাওয়ার খবরটা তাকে বললাম।তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজ-পত্র নিয়ে এলাম।করিম চাচার সাহায্যে ভর্তিও হয়ে গেলাম।ফারাবীও নাকি চট্টগ্রাম কলেজে চান্স পেয়েছে কিন্তু আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য বলেনি।আজ সরাসরি আমার সাথে দেখা করে চমকে দিল।বহুদিন পর দুই বন্ধু মিলে অনেক কথা হল।বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলে বলল সবাই ভাল আছে।আমাকে ছাড়া সবাই কতই ভাল আছে।ফারাবীও কলেজে ভর্তি হয়ে গেল।ফারাবী কোথায় থাকবে তা জিজ্ঞেস করলে ও বলল,"কোন মেসে অথবা হলে থাকব।আমি বললাম,"না তা হবে না।তুই আমাদের সাথে থাকবি।"করিম চাচাকে বললাম, "চাচা আমরা আরেকটা বাসা ভাড়া নিব।"
-ঠিক আছে।এই কয়দিন কষ্ট করে ছোট বাসায় থাকতে হবে।
-হুম চাচা।
দুই বন্ধুই সারাদিন ঘুরলাম।পেটে জমে থাকা সব কথা একে অপরকে বললাম।বন্ধুর দেখা পেয়ে মন খুব হালকা হয়ে গেল।
To be continued..................
Waiting for next part...........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now