বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাইনি-০৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাইনি (তৃতীয় অংশ) জোনার:হরর,থ্রিলার মার্টিনিকে আরো শক্ত করে আমার বুকে জরিয়ে ধরলাম।কিছুক্ষন পর ও ঘুমিয়ে পড়লো। আমি ওকে কোলে নিয়েই লিখতে লাগালাম। পৃষ্টাটা উল্টাতেই গিয়ে খেয়াল হলো আমার চোখের জলে অর্ধেকটা ভিজে গেছে।মনের মাঝে ঐ সব ধর্ম বেপারী প্রিষ্টদের জন্য তীব্র ঘৃণা অনুভব করলাম।তখনই ফোনটা বেজে ওঠলো, আম্মু ফোন দিয়েছে।আমাকে কাঁদতে দেখে তিনি জানতে চাইলেন আামার বাগদত্তের সাথে কোন ঝগড়া হয়েছে কিনা। কথাটা এড়িয়ে গেলাম। আম্মুর সাথে কথা শেষ করে বাথরুমে গেলাম হাত মুখ ধুতে। যখন মাথা তুল্লাম আয়নায় আমার প্রতিবিম্ব ছিল না। ছিল আরেকটি মেয়ের ক্ষত বিক্ষত যন্ত্রনাক্লিষ্ট চেহারা।সহ্য করতে পারলাম না।মাথা ঘুরে পরে গেলাম।পরেরদিন ঘরির এলার্মে ঘুম ভাঙ্গলো।আমি এখনু বাথরুমের ফ্লোরে পরে আছি।মাথায় খানিকটা কেঁটে গিয়ে রক্ত জমাট বেঁধে আছে।টলমটল পায়ে ওঠে দরিয়ে আয়নার দিকে তাকালাম। না এখন শুধু আমার প্রতিবিম্বই।বাথরুম থেকে বেরিয়ে নাস্তা সেরে অফিসে চলে গেলাম।অফিস সহকর্মীদের মাথার আঘাত সম্পর্কে বল্লাম পরে গিয়ে আঘাত পেয়েছি।সে দিন অফিস সেরে কটেজে এসে কাপাড়চোপড় গোছাতে লাগলাম।আমি আর এ কটেজে থাকবো নাহ।আর যাওয়ার আগে এলেসের ডাইরিটা পুড়িয়ে দেব।হয়তো এতে করে এলেসের মুক্তি মিলবে।লাইব্রেরিতে গেলাম এলেসের ডাইরিটা আনতে।লাইব্রেরিতে ডোকা মাত্র দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল।আমি ভয়ে দরজা ধাক্কাতে লাগলাম। ও পাশ থেকে ভয়ংকর আত্নচিৎকার ভেসে এলো। আমি ভয়ে কাঠ হয়ে গেলাম।তারপর সারা বাড়িতে যেন নরক নেমে এলো।জিনিসপত্র ছোড়ার আওয়াজ,কান্নার শব্দ, দেয়ালে আচঁড় কাটা আরো বিদঘুটে নানা শব্দ। একসময় অসহ্য হয়ে চিৎকার করে বল্লাম ----এলেস তুমি কি আমাকে মেরে ফেলবে। ----নাহ, চলে যেও না বন্ধু আমাকে সাহায্য কর! অনেকটা অস্পষ্ট যেন একসাথে অনেক মানুষ নিশ্বাস ফেলছে।অতঃপর দরজাটা খুলে গেল। আমি দৌড়ে আমার রুমে চলে আসলাম।যে ভাবে ভাঙ্গাচোরার শব্দ শুনছিলাম মনে হচ্ছিল আমার রুমে কিছুই অবশিষ্ট নেই।কিন্তু রুমের সবকিছু স্বাভাবিক সাজানো গোছানো। ভয়ে আতংকে কাঁধতে লাগলাম। আমি জানি না এলেস কে,তার উপর হওয়া অত্যাচার আামাকে কষ্ট দেয়।তার মানে এই নয় যে আমার কটেজে কোন আশারীর উপস্থিতি মেনে নিব।কাঁদতে কাঁদতে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। রাতে আবারও একটা অদ্ভুদ স্বপ্ন দেখলাম।প্রতিবিম্বের সে মেয়েটি আমার পায়ের কাছে বসে কাঁদছে। সে কিছু বলতে চাইছে কিন্তু তার মুখ কালো কাপড়ে বাঁধা।একসময় সে তার কটিবস্ত্র থেকে বাইবেলটা বার করে আমার হাতে ধরিয়ে দিলো।মাঝরাতে স্বপ্নটা দেখে ভয়ে গলাশুকিয়ে গেল।ঘুৃম থেকে ওঠে দুই গ্লাস পানি খেলাম।ফ্রিজ থেকে দু টুকরা স্যন্ডুইচ নিয়ে রওনা হলাম লাইব্রেরির দিকে। রহস্যের সব জট এখন ঐ বাইবেলের দিকে করছে যাতে এলেস তুলে ধরেছে তার জীবনের শেষ দিনগুলো। আবার পড়া শুরু করলাম আজ সকালে রক্ষীরা আমাদের খাবারের সাথে মার্টিনীর জন্য দুই প্রস্থ কাপড় ও দিয়ে গেলো।নীল কাপড়ে ওকে রাজকুমারীর মত লাগছে।আমি ওর উপর থেকে চোখ ফেরাতে পারছিলাম না।বিষয়টা ওর নজরে এড়ালো না।মৃদু হেসে জানতে কেমন লাগছে ওকে।আমি শুধু একটা কথায় বলতে পারলাম অসাধারন! রাতে সে আমাকে জড়িয়ে শুয়ে পড়লো।তবে কি সেও আমাকে ভালবাসে।নাকি এটা নিছক ভাল থাকার অভিনয়। এ পৃষ্ঠাটা পরে আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম মেয়ে দুটা প্রমাণ করেছে ভালবাসা স্থান,কাল,জাত, লিঙ্গ এসব কিছুই মানে না। পরের পৃষ্টায় গেলাম। কাল এক স্বপ্নময় রাত কাটিয়েছি আমি আর মার্টিনী। আমি ওকে এভাবে কাছে পাব কল্পনাও করি নি।মেয়েটা দেখতেই সুন্দরিই না, বিছানায় ও অসাধারন। ঈশ্বরের এক অপূর্ব সৃষ্টি। আজ ধরে আনার সাতদিন পর আমাকে আর মার্টিনিকে একটি ছোট পুকুরে নিয়ে গেলো। পুকুরের উষ্ঞ প্রস্রাবনে গা ডুবিয়ে দিতেই চাবুকের ক্ষতগুলোতে অসহ্য যন্ত্রনা শুরু হলো।কিন্তু মনটা প্রশান্তিতে ভরে ওঠলো।আমি আর মার্টিনী জল ছিটানোর খেলায় মেতে ওঠলাম।কিন্তু বেরসিক রক্ষিদের তা পছন্দ হলো না।একটা নেতা গোছের রক্ষি এসে আমাদের দিকে পাথার ছুঁড়ে মারতে লাগলো।মার্টিনীর আহত মাথায় আবারও একটা পথর এসে আঘাত করলো।আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। কেহ আমার সামনে আমার প্রিয়া কে আঘাত করতে পারে না।আমি ওদের চিৎকার করে অভিশাপ দিলাম যাতে তারাতাড়ি নরকে যায়।আমার অভিশাপে রক্ষিটা ভয়ে পিছিয়ে গেলো।ওরা আমাকে ডাইনি ভাবে তাই ভয় পেয়েছে।নিজেকে কিছুটা হলেও ক্ষমতাবান মনে হলো।আমাদের কে আবার সেলে নিয়ে আসা হলো।এ রকম সময়েও মেয়ে দুটু প্রেমে পরেছিলো।এবং জেলখানাতেও শত প্রতিকূলতার মাঝে চুটিয়ে প্রেম করে যাচ্ছিলো।নিঃসঙ্গ কটেজে একজন সঙ্গি পাওয়া মন্দ না। হোক না সে আশরীর। এলেসের প্রতি আমার ভয় ভীতি সব কেটে গেল। (চলবে..)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now