বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Part 3)
মিরা হেসে পরে বলব বলে চলে গেল।আমি তো তখন খুশিতে পাগলের মত নাচতেছি।যাই হোক এখন ভাজা মাছও উল্টিয়ে খেতে পারি না এমন একটা ভাব দিতে হবে।আমাকে তো চিনে না। আমি মিরাকে দিয়েই আগে প্রপোজ করাব।আস্তে আস্তে মিরা আর আমি আর ও ক্লোজ হয়ে গেলাম।পরের দিন মিরাকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম।মিরাকে নিয়ে একটা পার্কে আসলাম।চারদিকে সকল কাপলদের সাথে আমাকে আর মিরাকে দেখতে একদম এতিম এতিম লাগছে।অবশ্য আমাদের প্রথম দেখাতে সকলে কাপল ভাববে।
- আমি আইসক্রিম খাব(মিরা)
- আমি পারব না।
- শুধু তুমি না তোমার চৌদ্দ গোষ্ঠী পারবে।আমি কিন্তু চাচ্চুকে বলে দিব।
- আচ্ছা(আব্বার কথা বলাতে না গিয়ে পারলাম না)
ওর জন্য আইসক্রিম নিয়ে আসলাম।তারপর যা ঘটল তাতে তো আমি পুরো অবাক।মিরা আমাকে সরাসরি propose করে বসল।
-I love you.Do you love me?
আমার তো খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছিল।কিন্তু প্রেম করমু বাট ভাব নিমু না তা কি হয়।মেরা মিশন আব খতম হু গেয়া।আমি মুখে গাম্ভীর্য্য এনে বললাম,"আমি এখন সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।পরে বলব"।
-Ok.আমি অপেক্ষা করব।সেদিন পার্ক থেকে চলে আসলাম।সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে কাটালাম।তাই মিরার সাথে আর দেখা করতে পারি নি।সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম।এমন সময় কে জানি আমার কলার ধরে আমার রুমে ঢুকিয়ে ফেলল।
- কে রে?(আমি)
- আমি তোর যম।তুই আমাকে ইগনোর করতেছিস কেন।
- আমি কই তোমাকে ইগনোর করলাম?
- সেই সকালে চলে গেলি আর আমার সামনে আসিস নি।আর উত্তর টা ও দিলি না।
- কিসের উত্তর?(ঢং করে)
- কুত্তা ভুলে গেলি।propose এর বিষয়টা।
- আমার লজ্জা লাগে না বুঝি।
- ওমা!ছেলের বুঝি লজ্জা ও আছে।ঢং না করে উত্তর বল বাবু।
একসেপ্ট এর আগেই বাবু বলা শুরু করে দিছে দেখি।কালকে একসেপ্ট করে ফেলতে হবে।শুভ কাজে দেরি করতে নেই। পরদিন মিরার কাছে গিয়ে বললাম,"চল পার্কে যাই"।
-বাবু তুমি তাহলে একসেপ্ট করলে?
-মাথা খারাপ না পেট খারাপ।কি একসেপ্ট করব?আমি তো ভাবলাম প্রতিদিন মা তোমাকে ঘুরতে যাওয়ার জন্য প্যারা দেয় তাই আগ বাড়িয়ে বললাম।
-কুত্তা কি বললি!তার মানে তুর আমাকে পছন্দ হয় নাই।
-না মানে ইয়ে।আগে পার্কে তো চল তারপর দেখা যাবে।মিরা রাগে কিছু বলল না।মনে হয় এই মেয়ের ধৈর্য বলতে কিছু নেই,
একটু ওয়েট করলে কি?
রাস্তায় মিরা একটাও কথা বলল না।বুঝলাম রাগ করছে।এখন না ভেঙে একেবারে চমকে দিব।প্রতিদিনের মত আজকে ও কাপলে কাপলে ভরপুর।পার্কের চিপায় চিপায় শুধু কাপল।আমি মিরাকে বললাম,"তুমি এখানে বস আমি তোমার জন্য ফুচকা নিয়ে আসি"।মিরা সন্দেহের চোখে বলল,"এই তোর মতলব কি বলত?তুই কি আমাকে ফেলে চলে যেতে চাচ্ছিস?
-কি যে বল না।তার মানে তুমি ফুচকা খাবে না।
-যা নিয়ে আয়।
ফুচকা নেওয়ার নাম করে গোলাপ কিনতে গেলাম।মিরার সামনে গিয়ে হাটু গেড়ে বললাম,"তুমি কি আমার রাণী হবে?তুমি কি আমার রাতের ঘুম কাড়া সপ্ন হবে?তুমি কি আমার শূন্য হৃদয়ের ফুল হবে?তুমি কি আমাকে আমার মত ভালবাসবে?
-ঔ আমার ফুচকা কই?
কি,এই মেয়ে বলে কি! আমি ওকে প্রপোজ করলাম আর ও কিনা ফুচকা নিয়ে পরে আছে।আমি মুখ ভেংচে বললাম,"মানে কি।আমি তোমাকে প্রপোজ করলাম আর তুমি কোন উত্তর দিচ্ছ না।
-বাবু।তুমি কি আবাল?আমিই তো তোমাকে আগে propose করলাম।
আবাল কথাটি সরাসরি আমার প্রেস্টিজে গিয়ে আঘাত হানল।নতুন propose করলাম তাই কিছু বললাম না।
-অহ!তাই বলে একটা formalities আছে না।আমি তাকিয়ে দেখলাম সব কাপল আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে।আমি আবার লজ্জা বেশি পাই।তাই লজ্জায় আমি গুলুমুলু হয়ে গেলাম।মা বলত লজ্জা পেলে আমার নাক নাকের ডগা নাকি লাল হয়ে যায়।এই বিষয়টা পরিক্ষা করার মূখ্য সময় পেয়ে ও পরিক্ষা করতে পারলাম না,কারণ সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে।আফসোস!বড়ই আফসোস!এইসব মহান বিষয় নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট না করার কারণে কত বিজ্ঞানী যে অবেলায় ঝরে গেল।আমিও ঝরে যাচ্ছি।আহা বড় কষ্ট!মিরা হেসে বলল,"ফুচকা কিন্তু এখন ও খেলাম না বাবু।
-আস যাই।
আমার এক প্লেট শেষ হতে না হতে মিরার তিন-চার প্লেট ফুচকা শেষ তবু ওর থামার কোন নাম গন্ধ নেই।তাই জোর করে ফুচকাওয়ালা মামাকে বিল দিয়ে মিরাকে টেনে নিয়ে এলাম।পরদিন মিরা এমন একটা আমাকে খুব কষ্ট দিল।এই কথা আমাকে যেন ভিতর থেকে কুড়েকুড়ে খেয়ে ফেলবে বলে মনে হল।যে আমি জ্ঞান হবার পর থেকে কোনদিন কাদিঁনি সেই আমার ও কাদঁতে হল।
(এই পরের পার্ট থেকে শুরু হবে বিশ্বাসঘাতকতা ও তারপর সফল হয়ে বিশ্বাসঘাতকতার জবাব দেওয়া)
waiting for next part...............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now