বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(ফ্যন্টাসি)
চ্যাপ্টার ১:
দুঃস্বপ্ন
প্রচণ্ড এক বিস্ফোরণে পুঞ্জ পুঞ্জ বস্তু খুব
দ্রুত বেগে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো।এর নাম
বিগ ব্যাং।বিস্ফোরণের পর-মুহূর্ত থেকেই মনে
হচ্ছে যেন একটা স্টপ ওয়াচ চালু হয়ে গিয়েছে।
টিক টক টিক টক করে চলছে সে ঘড়ি।
বিস্ফোরণের আগ মুহূর্তে অভিকর্ষজ শক্তির
কারণে সব কিছু একসাথে পুঞ্জিভূত হয়ে ছিল।হঠাৎ
সেখানে একটি বিপরীতমুখী অভিকর্ষজ শক্তি
কাজ করতে লাগলো,যার নাম ফলস ভ্যাকুয়াম।বিস্ফ
োরণের পর সেই ফলস ভ্যাকুয়াম ভেঙ্গে
গিয়ে অনেকগুলো ভ্যাকুয়াম বা স্পেস তৈরি
করলো যাকে বলে বাবল।প্রতিটা বাবল একই রকম
পদার্থ দিয়ে তৈরি।সেই বাবলগুলোর প্রত্যেকটি
থেকে তৈরি হল একেকটি মহাবিশ্ব।এই আলাদা
মহাবিশ্বগুলোকে বলা হয় প্যারালাল ওয়ার্ল্ড।
প্রতিটি প্যারালাল ওয়ার্ল্ড একই রকম পদার্থ দিয়ে তৈরি
হলেও তাদের মাঝে পার্থক্য রয়েছে।কিছু কিছু
ক্ষেত্রে পার্থক্য এতই বেশি যে তাতে গঠিত
জীবন আমাদের এই পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ
আলাদা।এই গল্পটি এমনি এক প্যারালাল ওয়ার্ল্ড
নিয়ে,যেটি আমাদের ওয়ার্ল্ড এর মত একই পদার্থ
নিয়ে গঠিত,কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম আলাদা,সময় আলাদা।
সেটি ভিন্ন এক পৃথিবী।
এই পৃথিবীতেও মানুষ আছে।তবে প্রাকৃতিক
নিয়মের ভিন্নতার কারণে তাদের মাঝে অদ্ভুত
রকমের ক্ষমতা সৃষ্টি হয়েছে।তারা সাধারণ মানুষ নয়।
তারা উইজার্ড।তাদের সেই অদ্ভুত জগত নিয়েই এই
গল্প।
জাদুর দুনিয়ায় সবাইকে স্বাগতম।
বিশাল লেকের অপর পাশে অনেক বড় একটা
প্রাসাদ।দেখতে আর দশটা সাধারণ প্রাসাদ এর মত
হলেও এটা সাধারণ কোন প্রাসাদ না।এখানে যারা
থাকে তারা সাধারণ কোন মানুষ নয়।তারা উইজার্ড।জাদু
ক্ষমতা নিয়ে জন্মানো মানুষ।প্রাসাদটার নাম,"দ্যা
সার্কেল ক্যাসেল অফ ব্রিস্টব্যান'স উইজার্ডস
এন্ড উইচেস।"ব্রিস্টব্যান হচ্ছে জাদুকরদের
একটা কমিউনিটি যাকে ওরা সার্কেল বলে থাকে।
আমাদের ভাষায় দেশ বলতে যা বোঝানো
হয়,সার্কেল বলতে জাদুকররাও ঠিক তাই বুঝে
থাকে।।আর এই প্রাসাদটা হচ্ছে ব্রিস্টব্যান
সার্কেলের পুরো উইজার্ডিং কমিউনিটির
কেন্দ্রস্থল।ব্রিস্টব্যানের প্রশাসনিক ব্যাপার স্যাপার
এই সার্কেল প্রাসাদ থেকেই পরিচালনা করা হয়ে
থাকে।আবার ব্রিস্টব্যান এর জাদুকরদের জাদু শিক্ষা
দেয়ার দায়িত্বও এই সার্কেল প্রাসাদেরই।এই
প্রাসাদটা একই সাথে একটা মন্ত্রণালয় আবার একই
সাথে একটা স্কুলও বটে।
আমাদের গল্পের শুরু এখান থেকেই।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে ব্রিস্টব্যান এর
অধিবাসীদের হাঁসফাঁস অবস্থা।তাই আজ ক্লাসগুলো
অনেক তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও বাড়ী ফিরে গেছেন।
অন্যসব ছাত্র ছাত্রীর মত এলিস এলফিয়্যান আর
অ্যারন এথ্রেন্ডিল ২ বন্ধু লেকের পাড়ে এসে
বসেছে।অ্যারনের মাথায় লম্বা লম্বা কালো চুল যা
এলোমেলোভাবে আঁচড়ানো।নাকটা একটু ভাঙা।
কিভাবে ভেঙ্গেছে কে জানে।আর এলিস
দেখতে বেশ সুন্দরী,মাথা থেকে কোমর
পর্যন্ত লম্বা কালো চুল।তারা ২জনেই ব্রিস্টব্যান
স্কুলে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল ১ এ পড়ে।বসে
বসে ২ জনেই "ম্যাজিকেল হিস্ট্রি" সাবজেক্ট
এর হোম-ওয়ার্ক করছে।প্রশ্ন,"ম্যাজিক এর সঠিক
ব্যাবহার এবং তার নিয়ন্ত্রণে ১২১০ সালের ওয়ার্লক
কনভেনশন এ নেয়া সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা
আলোচনা করো।"
-"অ্যারন দেখ তো...এর শুরু কিভাবে করা
যায়...আমার তো মাথায় ঢুকছে না কিছুতেই।"এলিস
এলফিয়্যান বলল।
-হুম।বই এর ৫৭৪ পৃষ্ঠায় দেখ।লেখা আছে,
"১২১০ সালের ওয়ার্লক কনভেনশন এ ম্যাজিক এর
ব্যাবহার এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি আলোচনা
প্রস্তাব আনা হয়।প্রস্তাবনায় বলা হয়,ম্যাজিক্যাল
ক্ষমতা শুধু মানব কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।ধ্বংসে
নয়।এ লক্ষে প্রত্যেক জাদুকর গোষ্ঠীকে
অনেকগুলা সার্কেল এ ভাগ করা হয়।প্রত্যেকটা
সার্কেল স্বতন্ত্র ক্ষমতার অধিকারী।তবে
যেকোনো সার্কেল এই অধিবেশনে সৃষ্ট
সন্ধিপত্রের বিভিন্ন শর্ত মেনে চলতে বাধ্য।
ম্যাজিকেল ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে
প্রত্যেক জাদুকরকে ৭ বছর বয়স থেকে
সংশ্লিষ্ট সার্কেল এ শিক্ষা নিতে হয় যা বাধ্যতামূলক।
কেউ যদি শিক্ষা নিতে অস্বীকৃতি প্রদান করে
তাহলে তার জাদু ক্ষমতা জোর পূর্বক কেড়ে
নেয়া হবে।"অ্যারন একনাগাড়ে বলে চলল।
চোখ কপালে উঠে গেছে এলিসের।
-"কি বলছিস।আমি তো কখনো শুনিনি কারো জাদু
ক্ষমতা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়া হয়েছে?"
-"শুনিসনি কারণ আমাদের বর্তমান সমাজে কেউই
চায় না যে তার সন্তান জাদু ক্ষমতা হারিয়ে এক ভয়ানক
পরিণতি বরন করুক।"
-"ভয়ানক পরিণতি?"
-"হুম।মৃত্যুর চেয়ে বিষাদময়।"
-"মৃত্যুর চেয়ে বিষাদময় আর কি হতে
পারে?"ভাবতেই এলিসের গায়ে কাঁপুনি দিয়ে
উঠলো।
-"হতে পারে পাগলি।হতে পারে।দেখ,তুই
চাইলেই কোন জাদুকরের 'শুধুমাত্র' ম্যাজিকেল
পাওয়ারটা নিয়ে নিতে পারবি না।"
-"কিছু বুঝলাম না।"
-"বুঝাই তোকে।ধর একটা পানি ভর্তি পাত্র।এখন যদি
তুই সেখান থেকে পানি সরিয়ে নিস তাহলে আর কি
থাকে?"
-"শূন্য পাত্র?"
-"ঠিক তাই।জাদুকররাও সেই পানি ভর্তি পাত্রের মতই।
তাদের শরীরটা হচ্ছে শুধুই একটা পাত্র।একটা
কন্টেইনার।যেই কন্টেইনার শুধু ম্যাজিক ধারণ করার
জন্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে।আর কিছু নয়।একজন
জাদুকরের আবেগ,ভালোবাসা,রাগ,দুঃখ,ক্ষোভ,জ
িঘাংসা,হিংসা,তার বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি এ সব কিছুর
মিলিত ফলাফলই হল তার ম্যাজিক।তার জাদু ক্ষমতা।
অতএব তুই যদি কারো জাদু ক্ষমতা কেড়ে নিতে
চাস,তোকে এসব কিছুই কেড়ে নিতে
হবে।"তিক্ততার সাথে বলল অ্যারন।
এলিসের যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে
কষ্ট হচ্ছিলো।
-"তুই বলতে চাস যাদের জাদু ক্ষমতা কেড়ে
নেয়া হয় তারা স্রেফ একটা শরীর সর্বস্ব
প্রাণীতে পরিণত হয়?"
-"তার চেয়েও খারাপ।তারা আত্মাহীন একটা খালি
পাত্রে পরিণত হয়।"
এলিসের আর কিছু ভালো লাগছিলো না।একজন
জাদুকর কিভাবে তার স্বজাতির উপর এতোটা নিষ্ঠুর
হতে পারে?
* * * *
সে রাতে এলিস ঘুমের ভেতর অদ্ভুত অদ্ভুত
স্বপ্ন দেখতে লাগলো।প্রথমে কিছু বিচ্ছিন্ন
স্বপ্ন।দেখল ওর বয়স ৭ বছর।ওকে কিছু জাদুকর
তাড়া করেছে।বলছে,"তুমি ১২১০ সালের ওয়ারলক
কনভেনশনের নিয়ম ভেঙ্গেছ।তুমি ম্যাজিক দিয়ে
তোমার টেডিবিয়ারের একটা পা উড়িয়ে দিয়েছ যা
১২১০ সালের সংবিধানের ১২তম অনুচ্ছেদের
পয়েন্ট 'সি' এর বিরুদ্ধে যায়।যাতে স্পষ্ট লেখা
আছে তোমার টেডিবিয়ারের জীবনের নিরাপত্তা
বিধান করা তোমার দায়িত্ব।যা করতে তুমি ব্যর্থ
হয়েছ।তাই এই আদালত তোমার জাদু ক্ষমতা
কেড়ে নিয়ে তোমাকে একটি আত্মাহীন খালি
কন্টেইনার এ পরিণত করার হুকুম দিচ্ছে।"
হঠাত স্বপ্নটা পরিবর্তন হয়ে গেলো।এখন সে
দেখতে লাগলো নতুন কোন স্বপ্ন।একটা বিশাল
লম্বা গাছ।গাছটি আগুনে পুড়ে একদম কয়লা হয়ে
গিয়েছে।গাছটার পাশেই একটা কবরস্থান।তার
সামনেই একটা পোড়ো বাড়ি।ভয়ংকর বিষণ্ণ সে
বাড়ি।পুরো বাড়িটাকেই কেউ যেন জ্বলন্ত আগুন
ছেড়ে দিয়েছিল।জায়গায় জায়গায় পোড়া দাগ।
দেখে মনে হচ্ছে এখুনি ভেঙ্গে পড়বে।
এলিস স্বপ্নের ভেতরেই ভাবতে থাকে নিশ্চয়ই
কোন ম্যাজিক এই বাড়িটাকে দাঁড় করিয়ে
রেখেছে।এলিস সামনে এগিয়ে যায়।সদর দরজায়
পোড়া পোড়া হরফে লেখা:
"দ্যা হাউস অফ ফ্র্যাঙ্কস"
দরজায় আলতো করে টোকা দেয় এলিস।সদর
দরজাটা সাথে সাথে খুলে যায়।যেন দরজাটা
এলিসের প্রতীক্ষাতেই ছিল এতদিন।সামনে
এগোয় এলিস।বিশাল হল রুম।যার অপর পাশে
গোলাকার সিঁড়ি।দেয়ালে ঝোলানো নানা জীব
জন্তুর ছবি।তবে সবগুলো ছবিকে ছাপিয়ে একটা
বড় পোর্টরেট সবার আগে চোখে পড়ে।
একটা ৭-৮ বছর বয়সী বাচ্চা ছেলের
পোর্টরেট।ছেলেটা হাসছে।হাসতে হাসতে
তাকে সিঁড়ির দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে
দিলো।
টিপটিপ পায়ে সিঁড়ি দিয়ে এগিয়ে যায় এলিস।ধাক্কা
দিয়ে ল্যান্ডিং এর সামনে থাকা বড় দরজাটা খুলে
ফেলে সে।সামনে একটা বৃত্তাকার রুম।সেই
রুমে অনেক দরজা।তার মাঝে কেবল একটা দরজা
খোলা।সেই দরজা দিয়ে এগিয়ে গেলো সে।
একটা বিশাল করিডোর।করিডোর এর একদম শেষ
মাথায় একটা রুমের খোলা দরজা দিয়ে মোমবাতির
আলো এসে বাইরে পড়ছে।সেই খোলা দরজা
দিয়ে কার যেন করুন সুরে কান্নার আওয়াজ
ভেসে আসছে।একটা মেয়ে কাঁদছে।রুমের
সামনে দাঁড়াতেই মেয়েটির কান্না থেমে
গেলো।অন্ধকারে বসে আছে সে।তার মুখ
বোঝা যাচ্ছেনা।এলিসকে দেখতে পেয়েই খুব
মিষ্টি এবং অদ্ভুত রকম ঠান্ডা গলায় বলে উঠলো,
"এসো এলিস,এটার জন্যেই তো অপেক্ষা করছি
এত বছর।"
ধড়মড় করে জেগে উঠে এলিস।সারা শরীর
ঘামে ভিজে গেছে।হাঁপাতে লাগলো
ভীষণভাবে।এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার শুয়ে
পড়লো।কিন্তু ঘুম আর আসলো না।শুয়ে শুয়ে
আবছা আলোয় সিলিংটার এর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে
ভাবছিলো এ স্বপ্নের মানে কি হতে পারে।
এ কি শুধুই এলোমেলো স্বপ্ন?নাকি কেউ
চেয়েছে সে এই স্বপ্ন দেখুক?যে
চেয়েছে তার কি দরকার ওর সাথে?আর এই
মেয়েটিই বা কে?
চ্যাপ্টার ২:
রিডবারগের উত্তরাধিকারী
পরেরদিন ক্লাসে পৌছাতে অনেক দেরি হয়ে
গিয়েছিল এলিসের।সে যখন 'অ্যাডভান্সড
ম্যাজিকেল স্পেলস এন্ড দেয়ার ইউজেস' এর
ক্লাসে প্রবেশ করলো ততক্ষণে সবাই
নিজেদের প্র্যাকটিস শুরু করে দিয়েছে।
প্রোফেসর হিটর্ফ তাকে দেখে খানিকটা
বিরক্তিসূচক শব্দ করলেন।প্রফেসরকে দেরি
করার জন্যে সরি বলে সে সামনের বেঞ্চে
অ্যারন এর পাশে গিয়ে বসলো।
-"তুই মিস করলি।প্রোফেসর হিটর্ফ আমাদেরকে
'স্লিপিং স্পেল' কিভাবে প্রয়োগ করতে হয় তা
শিখাচ্ছিলেন।সে এক কেলেঙ্কারি কাণ্ড।"দাঁত
বের করে হাসতে হাসতে অ্যারন বলল।
-"কেন কি হয়েছে?"
-"প্রফেসর স্পেলটা আমাদের দেখানোর
জন্যে মারজিয়া স্পিনেটকে গিনিপিগ হিসেবে
ব্যবহার করেছিলেন।মারজিয়া প্রফেসর এর
স্পেলে ঘুমিয়েও পড়েছিলো।কিন্তু বিপত্তি বাঁধল
যখন মারজিয়া ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখা শুরু
করলো।প্রফেসর হিটর্ফকে তাদের বাড়ির বাটলার
ভেবে বসলো।তার জুতো জোড়া যেখানে
সেখানে রেখে দেয়ার জন্যে অকথ্য ভাষায়
গালিগালাজও করলো খানিক্ষন।শেষে তাকে এক
কাপ কোল্ড কফি বানিয়ে দেয়ার জন্যে হুকুম
দিয়ে ফের নাক ডাকতে শুরু করলো।"
২ বন্ধুই এক সাথে অট্টহাসি দিয়ে উঠলো।
প্রোফেসর হিটর্ফ বিরক্ত চোখে সেদিকে
তাকালেন।মারজিয়া স্পিনেটকে বিভ্রান্ত এবং লজ্জিত
দেখাচ্ছিল।প্রোফেসর তাদেরকে জোড়ায়
জোড়ায় ভাগ করে দিয়ে সঙ্গীদের উপর
স্পেল প্র্যাকটিস করতে বললেন।মারজিয়া স্পিনেট
ঘুমের ভিতর আরও কয়েকবার কোল্ড কফির
অর্ডার করে বসল।
ক্লাস শেষে করিডোর ধরে ওরা এগিয়ে
যাচ্ছিলো।হঠাত এলিসের মনে হল গতরাতের
স্বপ্নের কথা।অ্যারনকে বলল।সে হেসেই
উড়িয়ে দিলো।মন খারাপ হয়ে গেলো এলিসের।
সে ভেবেছিল,আর কেউ ব্যাপারটা না
বুঝুক,অন্তত তার বেস্ট ফ্রেন্ড অ্যারন
ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দেবে।তবে সে মুখে আর
কিছু বলল না।খানিক্ষন ঘাসের উপর বসে সময়
কাটিয়ে তারা ফের ছুটল 'এন্টি স্পেলস এন্ড
কার্সেসঃগ্রেড ১' এর ক্লাস করতে।
ওদের ক্লাস টিচারের নাম প্রফেসর এন্ড্রিয়ানা।
বেশ লম্বা মধ্যবয়সী এক মহিলা।চোখে চশমা।
চুলটা পনিটেইল করে রেখেছেন খুব
সুন্দরভাবে।উনি ব্রিস্টব্যান স্কুলের ডেপুটি হেড
মিস্ট্রেস এবং সহকারী সার্কেল প্রধানও বটে।
-"বসে পড়ো সবাই।ম্যাজিক ওয়ান্ড এবং ম্যাজিক
স্টাফগুলো হাতে নাও।বই এর ৪৯৩ পৃষ্ঠা
খুলো।"প্রফেসর এন্ড্রিয়ানা তাগাদা দিলেন।
ছেলেমেয়েরা সবাই তাঁর কথা অনুসরণ করলো।
-"তোমরা এখন সবাই ইন্টারমিডিয়েট লেভেল ১ এ
আছো।তাই তোমাদের সিলেবাস এ এই অতি
প্রয়োজনীয় জাদুবিদ্যা অন্তর্ভুক্ত করা
হয়েছে।এখন দেখো,৪৯৩ পৃষ্ঠায় লিখেছে:
"আপনি যত বড় জাদুকর বা জাদুকরীই হন না
কেন,আপনার নিজের জানা প্রত্যেকটি স্পেল এর
এন্টি স্পেল যতক্ষণ না আপনার জানা
থাকবে,ততক্ষণ আপনাকে নিজের মহামূল্যবান ধড়
এর জন্যে চিন্তায় থাকতে হবে।কারণ
যেকোনো মুহূর্তে আপনার নিজেরই একটি
স্পেল অথবা কার্স আপনার নিজের মৃত্যু ডেকে
আনতে পারে।তাই যেসব স্পেল বা কার্স এর এন্টি
স্পেল বা এন্টি কার্স আছে সেগুলো জানা থাকা
প্রয়োজন।"
প্রফেসর বলে চললেন,"অনেক অনেক দিন
আগের একটা ঘটনা বলি।স্যার গিল্ডমোর নামক এক
জাদুকরের স্ত্রী সবসময় তাঁর জাদু নিয়ে হাসি ঠাট্টা
করতো।তাঁর জাদুকে শিশুসুলভ বলে বান্ধবীদের
সামনে তাঁকে অনেক পচাতো।তো একদিন তাঁর
স্ত্রী তাঁর ম্যাজিক নিয়ে নিজের বান্ধবীদের
সাথে মস্করা করছিলো দেখে তিনি মাথা ঠিক
রাখতে পারেন নি।স্ত্রীকে শায়েস্তা করবেন
বলে ঠিক করলেন।আড্ডার কেন্দ্র স্থলে গিয়ে
জাদুবলে একটা বিশাল বুনো মহিষ নিয়ে
আসলেন।"
ছাত্র ছাত্রীরা টানটান উত্তেজনা নিয়ে স্যার
গিল্ডমোর আর তার বুনো মহিষের গল্প শুনতে
লাগলো।ক্লাসে এই একটা জিনিস তারা খুব
মনোযোগ দিয়েই করে থাকে।
-"মহিষ দেখে তো স্ত্রী আর তাঁর বান্ধবীরা
যে যেদিকে পারে ছুটাছুটি শুরু করে দিয়েছিল।
স্ত্রী কান্নাকাটি করে তাঁকে সরি বলতে যাবে
এমন সময় মহিষটা কি মনে করে যেন দিক
পরিবর্তন করে উলটো স্যার গিল্ডমোরকেই তাড়া
করতে শুরু করে দিলো।স্যার গিল্ডমোর সে
যাত্রা প্রাণে বেঁচে গেলেও স্ত্রীর কাছে
ইজ্জত বাঁচাতে পারেন নি।এন্টি কার্স না জানার
কারণে তাঁর নিজের জাদুতে নিজেরই কিস্তিমাত
হয়েছিল।"
কথা শেষ হতেই সবাই অট্টহাসিতে ফেটে
পড়লো।২,৪ জন অতি উৎসাহী ছাত্র সিটিও বাজাতে
লাগলো।দুষ্টু প্রকৃতির নিয়ালাস ব্রাইটন ক্লাসের
পেছনের ব্যাঞ্চে বসে একটা সাদা কাগজে
"আমরা স্যার গিল্ডমোরের একনিষ্ঠ ভক্ত" লিখে
পুরো ক্লাসকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছিল।
প্রফেসর 'হাহ' করে একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেললেন।সিরিয়াস মুখেই বললেন,"বাচ্চারা।এই
জন্যেই তো এই সাবজেক্টটা তোমাদের
জন্যে অনেক বেশি প্রয়োজন।তোমাদের
যাতে স্যার গিল্ডমোর এর মত পরিণতি না হয় সে
জন্যে তোমাদের কিছু কার্স বা স্পেল এর এন্টি
স্পেল শিখতে হবে।এখন দেখো,কিছু কার্স
আছে যেগুলোর এন্টি কার্স খুব সহজ।কার্স করার
সময় ওয়ান্ড অথবা স্টাফ যেদিকে ঘুরাচ্ছিলে,এন্টি
কার্সের
ক্ষেত্রে ঠিক তার বিপরীতে ঘুরাতে হয়।"
ওরা বাকি সময়টা একটা অতি সাধারণ কিন্তু ছাত্র
ছাত্রীদের মাঝে অতি জনপ্রিয় 'ইয়ার ওয়াইডেনিং'
স্পেল এর এন্টি স্পেল শিখতে লাগলো।
রদ্রিগেজ তার পার্টনার ম্যাক্স এর উপর প্রয়োগ
করতে গিয়ে স্পেলটা মিস হয়ে ভুলক্রমে সিলিয়ার
কানে গিয়ে লাগে।সিলিয়ার কান হাতির মত বড় হয়ে
গেলো।সিলিয়া নিজেকে আয়নায় আবিষ্কার করে
চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো।সাথে সাথে
প্রফেসর অ্যান্টি স্পেল প্রয়োগ করে সিলিয়ার
কান স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসলেন।
-"থামো,থামো সবাই।"চিৎকার কর উঠলেন
প্রফেসর।
ক্লাসে জগাখিচুড়ি অবস্থা।কারো কান ড্রাগনের মত
বিশাল হয়ে গেছে।কারো বা এন্টি স্পেল এর
ভুলের কারণে ছোট হতে হতে নাই হয়ে
গেছে।
-"মিস ফসজিন,তোমার এন্টি স্পেল প্রয়োগের
সময় কি তুমি হাতের ওয়ান্ডটা এন্টি ক্লক ওয়াইজ এ
দুবারের বেশি ঘুরিয়েছিলে?এই জন্যেই তোমার
কান ছোট হতে হতে এখন নাই হয়ে গেছে।
এন্টি ক্লক ওয়াইজে শুধু একবার ঘোরালেই
হবে।"
ক্লাস শেষে তারা যার যার ডর্মিটরিতে গেলো
ঘুমানোর জন্যে।সে রাতে একটু আগে আগেই
ঘুমুতে যায় এলিস।মাঝরাতে আবার সেই স্বপ্নটা
দেখে।গতরাতের সেই স্বপ্ন।এইবার এলিস জানে
কোথায় যেতে হবে,তাই স্বপ্নটা আগের
বারের চেয়ে তাড়াতাড়ি শেষ হল।
তবে স্বপ্নটা শেষ হওয়ার আগে মেয়েটি নতুন
আরেকটা কথা বলে গেলো।বললঃ
"রিডবারগের উত্তরাধিকারী,সাবধান।"
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now