বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তপুর দিনলিপি হাইস্কুল(সহানুভূতি) Part-3

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Dj BrAvO (০ পয়েন্ট)

X ওই এলাকায় হাঁটার সময় তারা বেশ কিছু পথশিশু দেখতে পেলো। এ থেকে তারা সেখানকার পথশিশুর সংখ্যা এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে একটা ধারণা পেলো। তপু ও খোকা অবাক হয়ে দেখলো তারা কতকিছু থেকে বঞ্চিত! পুরো এলাকাটা ঘুরে দেখতে সাগর তাদের বেশ সাহায্য করলো। সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার আগে তপু সাগরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো , “আমরা তোমাদের শেখাবো কি করে লিখতে পড়তে হয়!" তপুর কথা শুনে সাগরের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। পরদিন স্কুলে টিফিনের সময় তপু ও খোকা আদিবাকে তাদের পরিকল্পনার কথা বললো। খোকা বললো, “ ওদের আসলে অনেক কিছুই নেই। তবে সবচেয়ে জরুরি হলো পড়ালেখা। ওখানকার বেশীরভাগ শিশুই স্কুলে যায়না”। “আমরা কি করতে পারি”? আদিবা জানতে চাইলো। খোকা প্রস্তাব করলো , “ আমরা ওদের প্রাথমিক কিছু শিক্ষা এবং গণিত শেখাতে পারি”। আদিবা বললো “দারুণ! আমরা তাহলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা স্কুল ছুটির পর ওদের পড়াতে পারবো”। “ আচ্ছা। আমরা কি প্রথমে ১০ জন শিশুকে নিয়ে শুরু করতে পারি?” মাঝখান থেকে বলে উঠলো খোকা । “ঠিক বলেছিস। পরে চাইলে আমরা ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়াতে পারবো”। বললো তপু। “আমরা ওদেরকে পার্কের এক কোণায় যে বড় আমগাছটা আছে তার নিচে বসিয়ে পড়াতে পারি। আমি বাসা থেকে কিছু মাদুর নিয়ে আসবো”। আদিবা বললো। “কিন্তু ওদের আমরা কখন পড়াবো?” জানতে চাইলো খোকা । “সপ্তাহে তিনদিন দুই ঘণ্টা করে পড়াবো”। তপু উত্তর দিলো। আদিবা আর খোকা দুজনই তপুর সাথে একমত হলো। হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে আদিবা বললো, “আমাদের টিফিনের সময় কিন্তু প্রায় শেষ। চল আগামি রবিবার আবার সাগরের সাথে দেখা করি। কিন্ডারগার্ডেনের বাচ্চারা পড়ে এমন কিছু বই আমি সেদিন নিয়ে আসব। পড়ানোর সময় এগুলো আমাদের কাজে লাগবে”। পরের সপ্তাহে তিনদিন পথশিশুদের স্কুলে ক্লাস নিলো ওরা তিনজন। তারা প্রাথমিক গণিত, বাংলা আর ইংরেজি শেখানোর উপর জোর দিলো। পরের রবিবার আবার ক্লাস বসলো। সাগর ছাড়া আর বাকি সব ছাত্ররাই উপস্থিত ছিলো। সেখানে অন্যান্য যে সব বাচ্চারা ছিলো তপু তাদের জিজ্ঞেস করলো, “ সাগর কোথায়?” বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীই বললো ওরা কিছু জানেনা। একজন বললো, “ আমি এখানে আসার সময় সাগরকে চায়ের দোকানে কাজ করতে দেখেছি”। সেদিন ক্লাসের শেষে তারা তিনজন মিলে সাগরের খোঁজে চায়ের দোকানটায় গেলো। সেখানে সাগরকে দেখতে না পেয়ে বেশ অবাক হলো ওরা। * সাগরকে কোথায় বলতে পারেন? * ও কাজ শেষে তো বাসায় চলে গেছে। পড়ালেখা শিখতে চায় বলে ওর চাচা ওকে মেরেছে”। বললো দোকানদার। * “কি! এইজন্য মেরেছে!” তপুর গলায় ক্ষোভ। * “ওরা কোথায় থাকে বলতে পারেন?” জানতে চাইলো আদিবা। * “এই পার্কটার পরে যে বস্তিটা দেখছেন সেখানেই”। জানালো দোকানদার। দোকানদারের কথা শুনে তপু পার্কটার দিকে হাঁটতে লাগলো। খোকা আর আদিবা ওকে অনুসরণ করলো। পেছন থেকে তপুকে ডাকলো খোকা । * “তুই ওখানে যেয়ে কি করবি?” জানতে চাইলো আদিবা। * ওর সাথে কথা বলবো! তপুকে সামনের দিকে হাঁটতে থাকলো আবার। স্থানীয় লোকজনদের জিজ্ঞেস করতেই ওরা একটা জং ধরা টিনের বাড়ি দেখিয়ে দিলো। “সাগর। সাগর!” তপু ডাকতে লাগলো। “থাম তপু”। আস্তে আস্তে বললো খোকা । সাথে সাথেই একটা লোক ঘর থেকে বের হয়ে এলো। লোকটার গায়ে অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত ছেঁড়া জামা। তার পিছনে সাগর। তারা তিনজন অনুমান করতে পারলো এটাই সাগরের চাচা। লোকটা ভদ্রভাবে তাদের জিজ্ঞেস করলো, “ তোমরাই কি সাগরকে স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করছো?” তপুই উত্তর দিতে যাচ্ছিলো। কিন্তু আদিবা তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, “আমরা মনে করি সাগরকে আমরা পড়ালেখা শেখালে ওর ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর হবে”। এইবার লোকটা রেগে গিয়ে বললো, “কিন্তু এখন? এখন আমাদের খাবার কে যোগাবে? তোমরা বড় লোকের ছেলেমেয়ে। তোমাদের কোনো ধারণাই যে আমাদের কত কষ্ট করে খাবার যোগাতে হয়। আমি একজন দিনমজুর। যেদিন কাজ না করতে না পারি সেদিন আমাদের সবাইকে না খেয়ে থাকতে হয়”। লোকটার কথা শুনে তপুর সমস্ত রাগ পড়ে গেলো। * আমরা প্রতিদিন মাত্র দুই ঘণ্টা করে পড়াবো। এতে ওর কাজের কোনো ক্ষতি হবেনা। আদিবা বললো। * “হ্যাঁ। পড়াশোনা জানলে হয়তো ও আরও ভালো কাজ পাবে। মাত্র দুই ঘণ্টাই তো লাগবে”। যোগ করলো খোকা । * “আমি যাই চাচা?” চাচার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো সাগর। * “যা। তবে বেশি দেরি করবি না”। অনিচ্ছুকভাবে উত্তর দিলো লোকটা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now