বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তপুর হাইস্কুল দিনলিপি (সহানুভূতি) Part -1

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Dj BrAvO (০ পয়েন্ট)

X নতুন বছর এসেছে এক মাস হলো। তপু এখন ক্লাস নাইনে পড়ে। আগের থেকে স্কুলে যেতে এখন তার বেশি ভালো লাগে। ফলাফলও ভালো হচ্ছে। স্কুল ক্রিকেট টীমের ক্যাপ্টেনের দায়িত্বটিও সে পালন করছে। আজকাল নিয়মিতই স্কুল ছুটির পরে ক্রিকেট অনুশীলন করে তপু। আজ স্কুল থেকে ফেরার সময় হঠাৎ একটা ছোট্ট ছেলে এসে তপুর সামনে দাঁড়ালো। ছেলেটার গায়ে ময়লা কাপড়। গেঞ্জির একটা হাতা পুরোপুরি ছিঁড়ে গেছে আর পেটের কাছটায় ও আরেকটা ছিদ্র দেখা যাচ্ছে। গায়ে প্রচুর ময়লা। বোধহয় কেঁদেছিলো। মুখের ময়লা কিছু পরিস্কার হয়ে যে লম্বা রেখা দেখা যাচ্ছে সেটা শুকিয়ে যাওয়া কান্নার দাগ। ছেলেটা কিছুটা ভয়ে ভয়ে এগিয়ে এসে তপুর কাছে কিছু টাকা চাইলো। সারাদিন যে কিছুই খাওয়া হয়নি সেটা ওর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তপুর মায়া হলো খুব। বহু খোঁজাখুজির পর পকেট হাতড়ে সামান্য কিছু নোট আর কয়েন মিলিয়ে মোট ১২ টাকা পেলো সে। ছেলেটা টাকাগুলি পেয়ে খুব খুশি হলো। একদৌড়ে চলে গেলো কাছের একটা চায়ের দোকানে। একটা পাউরুটি কিনে গোগ্রাসে খেতে লাগলো। তপুর মনে হলো ছেলেটাকে আরও কয়টা টাকা দিতে পারলে ভালো হতো। কিছুদিন পরের কথা। সেদিন ক্রিকেট খেলা শেষে বাড়ি ফিরছিলো তপু। রাস্তার ধারের যে চায়ের দোকানটার পাশ দিয়ে সে প্রতিদিন যায় সেখানে আজ মানুষের ভিড়। সে একটু কাছে যেয়ে ঘটনাটা বুঝতে চেষ্টা করলো। তপু অবাক হয়ে দেখলো চায়ের দোকানের মালিক একটা ছোট ছেলেকে মারছে। সে আরও অবাক হলো যখন দেখলো ছোট ছেলেটা সেদিনের সেই টাকা চাওয়া ছেলেটা! * “আমাকে মাফ করে দেন। আর মারবেন না”। কাঁদতে কাঁদতে বললো বাচ্চা ছেলেটা। ছেলেটার এতো কাকুতি মিনতি সত্ত্বেও লোকটার দয়া হলনা। সে ছেলেটাকে মারতেই থাকলো। তপুর প্রচণ্ড খারাপ লাগছিলো। * আর কোনোদিন কাপ ভাঙবো না। আজকের মতো আমাকে মাফ করে দিন। আবার বললো ছেলেটা। এবার আর তপু নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। দ্রুত যেয়ে লোকটার কাছ থেকে ছেলেটাকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো, “ থামুন দয়া করে। একটা বাচ্চা ছেলেকে কেন এভাবে মারছেন?” তপুকে দেখে আরও অনেকেই এগিয়ে এলো। দুইজন লোক এসে বাচ্চাটাকে দূরে সরিয়ে নিলো। আর লোকটাকেও কোনোরকমে শান্ত করলো। তপু বাচ্চা ছেলেটার কাছে যেয়ে মাথায় হাত রেখে ওকে সান্ত্বনা দিতে লাগলো। - “আর কেঁদোনা। কেউ তোমাকে মারবেনা আর”। বললো তপু। - “আমার মার খাওয়াই উচিৎ। আমি কতগুলো কাপ ভেঙ্গে ফেললাম”। কাঁদতে কাঁদতে বললো ছেলেটা। - “মানুষের ভুল হতেই পারে। মন খারাপ করোনা। কি নাম তোমার?” তপু জানতে চাইলো। - সাগর। - বাহ! চমৎকার নাম তো। আমার নাম তপু। রাস্তার ওপারে যে স্কুলটা ওখানে আমি পড়ি। -প্রথম শ্রেণির পরেই আমি পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছি। এখন এখানে কাজ করি। বললো সাগর। -ওহ! তুমি কোথায় থাকো? তপুকে জানতে চাইলো। -এই বস্তিতেই আমার চাচার সাথে থাকি। -তোমার মা বাবা? -আমাকে জন্মের সময় আমার মা মারা গিয়েছিলো। আমার মাকে আমি কোনোদিন দেখিনি। আর আমার বয়স যখন দুই তখন বাবাও মারা গেলো। বলেই আবার কেঁদে ফেললো সাগর। সাগরের কথা শুনে তপুকে খুব খারাপ লাগছিলো। কি বলে ওকে সান্তনা দেবে বুঝতে পারছিলো না। এমন সময় দোকানের মালিক আসলো। চায়ের কেতলি চুলায় চড়িয়ে দোকানের ভেতর যেয়ে বসলো লোকটা। নিঃশব্দে উঠে গেলো সাগরও। পড়ে থাকা চায়ের কাপগুলিকে ধুতে লাগলো। তপু বুঝতে পারলো সাগরের সাথে আর কথা বলা যাবেনা। আরেকদিন এসে কথা বলা যাবে এই ভেবে সাগরের কাছ থেকে বিদায় নিলো তপু।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তপুর দিনলিপি হাইস্কুল(সহানুভূতি) Part-4
→ তপুর দিনলিপি হাইস্কুল(সহানুভূতি) Part-3
→ তপুর হাইস্কুল দিনলিপি (সহানুভূতি) Part-2

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now