বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প (পর্ব - ৪)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প - পর্ব ৪ - সালেহ তিয়াস ৯ ব্যাপার আর কিছুই নয়। একটা স্কেলিটন! মামা তার কোন এক স্টুডেন্ট এর মাধ্যমে একসেট স্কেলিটন জোগাড় করেছে, সেইটাই পাঠিয়ে দিয়েছিল প্যাকেটে করে। আমি তো না দেখেই বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছি, আমি আসতে আসতে ফাঁদ পাতা শেষ। ফাঁদটা অবশ্য একজনেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। মামী তো স্কেলিটন দেখে প্রথমেই ঘেন্নায় নাক কুঁচকেছে, তারপর মেয়েকে বলেছে জিনিসটা আমার রুমে সুন্দর করে সাজিয়ে রেখে আসতে। হাড্ডিগুড্ডি সব তার দিয়ে জোড়া লাগানোই ছিল, মেয়ে সুন্দরমত সেটা বিছানায় সেট করে কাঁথা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। তারপর শুধু ইঁদুরের ফাঁদে পড়ার অপেক্ষা। আর আমিও ভদ্র ছেলের মত ফাঁদে পা দিয়ে একেবারে অজ্ঞান হয়ে গেছি! নাহ, পুরুষত্ব আর থাকল না, পুরা বিড়াল প্রমানিত হয়ে গেলাম। মামী মনে করেছে জিনিসটা আমার রুমে জাস্ট সাজিয়ে রাখা হয়েছে, সারপ্রাইজ দেবার ইচ্ছা মামীরও ছিল। কিন্তু এইভাবে কাঁথার নিচে সাজিয়ে রাখা, এটা ঐ একটা মস্তিষ্কেরই কাজ। ঐ ফচকে মেয়েটারই কাজ। নাহ, মেয়েটাকে পরে সময় করে টাইট দিতে হবে। ১০ ভালোই ঝামেলায় পড়েছি। মেডিকেল সংক্রান্ত ভয় আমার ভেতর থেকে দূর করার জন্য আমার মামা একটা ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ নিয়েছেন। স্কেলিটনটা ঝুলিয়ে দিয়েছেন রুমের দেয়ালে। ওটা আমার রুমের দেয়ালে হা করে ঝুলে আছে। মুখে তার গা শিউরে ওঠা রহস্যময় বাঁকা হাসি। এখন আমার রুটিনটাই হয়ে গিয়েছে অন্যরকম। প্রতিদিন যত দেরি করে পারি বাসায় ফিরি। যত তাড়াতাড়ি পারি বেরিয়ে যাই। আমার এতদিনের প্রিয় ঘরটা এখন অগোছালো হয় কম, ওটাকে আর ব্যাচেলরের রুম বলে চেনা যায় না। কোচিং শেষে প্রাইভেট পড়তে যাই। আসি সেই সন্ধ্যায়। এসেই গোসলটোসল করি, নাস্তাটাস্তা করি। তারপর বই নিয়ে ড্রয়িং রুমেই পড়তে বসি। আমার কাণ্ড দেখে মামী অবাক হন। ‘কি ব্যাপার? নিজের রুম ছেড়ে ড্রয়িংরুম?’ ‘মামী, ভিতরে খুব গরম’। ‘গরম! মামী অবাক হবার ভান করেন। এতদিন গরম কই ছিল?’ ‘না মামী, আজকাল খুব গরম পড়েছে তো’, প্রমাণ করার জন্য জামার উপরের বোতামটা খুলতে যাই আমি, ‘আর এখানে বেশ ঠাণ্ডা...’ ‘ও, তাই নাকি?’ বেশ তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বলেন মামী, ‘তা এক কাজ করলেই হয়, জামা কাপড় খুলে দিগম্বর হয়ে পড়াশোনা করলেই হয়। বরফ নিয়ে আসব?’ ধুর, মামীটা যে কি ফাজিল! হবে না আবার, মেয়ের মত মা। ‘আরে ধুর, যাও তো...’ যে আমাকে খালি পড়ার মাঝখানে উঠে ঘুরঘুর করতে দেখা যেত, সেই আমিই আর পড়া ছেড়ে নড়ি না। ভনভন করে পড়তে থাকি। রাতের খাবার সময় হলে চুপচাপ খেয়ে নিই। আবার সুবোধ বালকের মত পড়তে বসি। মামা দেখে আশ্বস্ত হন। যাক, একটা গাধা তাহলে মানুষ হতে চলেছে! এটা দেখে একটু পত্রিকা পড়েই মামা বাঁশির মত নাক ডাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গণ্ডগোলটা বাঁধে আমার ঘুমানোর সময়। ‘কি, ঘুমাবেন না?’ ‘হ্যাঁ, ঘুমাব’। ‘কখন?’ ‘এই তো, একটু পরেই’। ‘বাজে কত বলেন তো’। ‘হবে, এগারোটা। হয়নি?’ ‘এখন বাজে সাড়ে বারোটা। আপনি লাইট জ্বালালে আমার রুমে গিয়ে পড়ে, ঘুমের ডিসটার্ব হয়’। ‘ঠিক আছে বন্ধ করছি’। ‘বন্ধ করছি মানে? এখনই বন্ধ করুন’। মেয়েটা চলে যায়। আমি উঠে লাইট বন্ধ করি। তারপর চুপ করে ওখানেই বসে থাকি। কিছুক্ষণ পর মামী এসে বলে, ‘কি ব্যাপার? রাতের বেলায় কি যোগ ব্যায়াম চলছে? নাকি মেডিটেশন?’ ‘না, পড়া মনে করছিলাম’। ‘থাক, আর ঢং করা লাগবে না। ঘুমোও গিয়ে’। ‘ইয়ে মানে...তুমি একটু আসবা?’ ‘কোথায়?’ ‘এই তো, তুমি আর আমি একসাথে রুমে ঢুকবো, তারপর তুমি চলে আসবা’। ‘হি হি হি...ওরে বীরপুরুষ আমার...চলো দেখি তোমার রুমে...’ প্রথমে মামী ঢুকল রুমে। লাইট জ্বালাল। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে। ‘কি হল, ঢোকো’। তবু আমি ইতস্তত করছি। ‘কি হল, দাঁড়িয়ে কেন?’ মনে মনে খোদার নাম নিয়ে থ্রি, টু, ওয়ান, গো - বলে আমি সোজা এক লাফে বিছানায় কাঁথার নিচে! মামীর দেখে সে কি হাসি! হাসি থামতেই চায় না। ‘কি হল, এখানে না খুব গরম? এখন আবার কাঁথার নিচে ঢোকা হচ্ছে কেন?’ আমায় তখন পায় কে? চোখ খুললেই দেখব ঐ ভয়ঙ্কর কঙ্কাল আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে আর হে হে করে হাসছে! ওরে বাপরে!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্পঃ পর্ব ১১
→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প (পর্ব - ৫)
→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প (পর্ব - ৩)
→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প (পর্ব - ২)
→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প (পর্ব - ১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now