বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প -
পর্ব ৩
- সালেহ তিয়াস
৭
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতে পারলাম না। রাত হয়ে গেল।
বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে বাসায় ফিরলাম।
বাসায় পা দেবার সাথে সাথে দেখি সবাই আমার
দিকে ভ্রূ কুঁচকে তাকাচ্ছে। তা মেয়েদের
স্বভাবই এইটা, তারা কিছু হোক বা না হোক ভ্রূ একটু
কুঁচকাবেই। সুতরাং আমি আর সেটাকে আমল দিলাম
না।
কিন্তু বাসাটা যে অস্বাভাবিক রকম চুপচাপ হয়ে
গেছে তা টের পেলাম একটু পরেই।
রুমে ঢুকতে যাব, হঠাৎ মামী বলে উঠলেন, ‘সব
ভালো তো’।
অস্বাভাবিক সময়ে স্বাভাবিক প্রশ্ন। ‘হ্যাঁ, কেন কি
হয়েছে?’
‘না, এমনি’...
হঠাৎ দেখি মামা লুঙ্গি পরে বেরিয়ে এসেছেন
ওনাদের ঘর থেকে। কি ব্যাপার? এত তাড়াতাড়ি তো
উনি বাসায় আসেন না!
কিছু একটা হয়েছে!
আমি দুর্বলভাবে হেসে ঐখানেই দাঁড়িয়ে থাকলাম।
কি করব বুঝতে পারলাম না।
একটু পরে মামা বললেন, ‘হা করে কি দেখছ, যাও
ভিতরে যাও’।
বোনটা বলে উঠল, ‘বাবা’...আবার চুপ মেরে
গেল সে।
ব্যাপারটা কি?
মামা বললেন, ‘কি হল, যাও’।
মামার আদেশ অমান্য করা বা একটু দেরিতে মান্য
করার চেয়ে বটির নিচে গলা পেতে দেয়া
অনেক সহজ। সুড়সুড় করে আমি আমার রুমে
ঢুকে গেলাম।
ভিতরে অন্ধকার। হাতড়ে হাতড়ে লাইটের সুইচটা
অন করলাম।
লাইট জ্বলল।
আরে, আমার বিছানায় ও কে শুয়ে?
ভাবলাম বেরিয়ে গিয়ে মামীকে জিজ্ঞেস করি।
কিন্তু ওখানে মামা আছে যে! সাহসে কুলাল না।
আবার বিছানার দিকে তাকালাম। আপাদমস্তক কাঁথামুড়ি
দিয়ে শুয়ে আছে কে ওটা? লম্বায় তো আমারই
মত।
ধীরে হাত বাড়িয়ে মাথার কাছ থেকে কাঁথাটা তুললাম
আমি।
তারপরই একেবারে অজ্ঞান!
৮
জ্ঞান ফিরল কার যেন থাপ্পড়ে।
ধীরে ধীরে চোখ খুললাম। দেখি কারা যেন
তাকিয়ে আছে।
‘কে আমি?’
‘মানে?’
‘কে তুমি?’
‘এসব তুমি কি বলছ? আমি কে মানে?’
‘আমি কোথায়?’
‘তুমি তো তোমার ঘরে...হায় হায় কি সব উল্টাপাল্টা
বকছে...’
এমন সময় কোথা থেকে এক মুশকো জোয়ান
এসে বলল, ‘কি অবস্থা ওর?’
রিনরিনে একটা কণ্ঠ বলল, ‘দেখ কাউকে চিনতে
পারছে না, উল্টাপাল্টা বকছে’...
‘চিনতে পারছে না? দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা’...সম্ভবত
খেয়ে ফেলার উদ্দেশ্য সেই দানব যেই না
আমার মুখের কাছে ঝুঁকেছে...অমনি সব মনে
পড়ে গেল কাঁচের মত পরিষ্কার...
চিৎকার করে বলতে গেলাম, ‘মামা’...
কিন্তু গলা দিয়ে স্বর বেরোল না। হায় হায়, গলা
দিয়ে তো কিছুই বেরুচ্ছে না!
বলতে চাইছি, ‘মামী!’ শব্দ হচ্ছে, ‘ঘো
ঘো...’
বলতে চাইছি, ‘আরে!’ শব্দ হচ্ছে, ‘মু মু...’
বলতে চাইছি, ‘কি ব্যাপার?’ শব্দ হল, ‘ক্যা ক্যা...’
হায় হায়, আমি কি শেষমেশ বোবাই হয়ে গেলাম?
ওদিকে স্পষ্ট শুনছি মামী বলছে, ‘হায় হায়
ছেলেটা কি বোবাই হয়ে গেল নাকি...এই বাবা,
কথা বলিস না ক্যান?...’
তখনই মামার গলা শোনা গেল, ‘বোবা! দাঁড়া, ওর
বোবাগিরি ছুটাচ্ছি!’ তারপর উনি আবার আমার মুখের
উপর ঝুঁকে আসলেন। ‘বোবা, না? দেখি হা
কর...’
‘ওরে বাপরে খেয়ে ফেলল রে...’ নিজের
অজান্তেই বিশাল একটা চিৎকার দিয়ে ফেললাম।
সাথে সাথে বুঝলাম, আর যাই হই, বোবা হই নি।
মামী তো আনন্দে আটখানা। ‘এই তো কথা
বলেছে! তা বাবা আমাদের চিনতে পারছ তো?’
বলি বলি করেও বলতে পারছিলাম না, এমন সময় মামার
ঐ ভয়ানক চেহারা আবার সামনে চলে এল, অমনি
বলে উঠলাম, ‘হ্যাঁ চিনতে পারব না কেন?’
‘এই তো, গুড!’ হঠাৎ হাততালি দিয়ে উঠল কে
যেন। আরে, কে এটা? এটা দেখি আমার সেই
ফটকু বোন!
‘তোমার কি হয়েছিল? অমন অজ্ঞান হয়ে
পড়েছিলে কেন?’ - মামীর প্রশ্ন।
আমার কি হয়েছিল? আসলেই তো, আমার কি
হয়েছিল? অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম নাকি? কেন?
‘হ্যাঁ, তুমি তো রুমে ঢুকলে। তারপর? কিছু
দেখেছ?’ মামী আমাকে কথা ধরিয়ে দিলেন।
আস্তে আস্তে আমার অনেক কিছু মনে পড়তে
লাগল। দেখেছি তো বটেই। কিন্তু ওটা কি সত্যি?
যা দেখেছি তা বিশ্বাস করার মত না।
‘কি দেখেছ?’ এই প্রশ্নটা মামার।
বলার ডিসিশন নিলাম। ‘হ্যাঁ, আমি তো রুমে ঢুকে
লাইট জ্বালালাম। তারপর বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখি
কে যেন...’
মামী অবাক হয়ে গেলেন। ‘কে যেন কি?’’
আমি বললাম, ‘কে যেন শুয়ে আছে কাঁথামুড়ি
দিয়ে...’
‘শুয়ে আছে?’ যেন আকাশ থেকে পড়লেন
মামী। আকাশ থেকে এভাবে ধুপধাপ পড়াই ওনার
স্বভাব। ‘কে শুয়ে থাকবে?’
ইতস্তত করছিলাম। বলার পর যদি পাগল ঠাওরায়!
‘কি হল, বল’।
নাহ, বলতেই হচ্ছে শেষ পর্যন্ত। ‘তারপর আমি
কাঁথা তুললাম। দেখলাম যেন...একটা কঙ্কাল!!!!
একটা ভয়ঙ্কর মাথার খুলি!!!!!!!! ভয়ে...’
মা মেয়ের দিকে তাকাল। মেয়ে মায়ের। দুজন
মিলে তাকাল বাপের দিকে। তিনজন মিলে তাকাল
আমার দিকে।
বয়ে গেল নিশ্চুপ পাঁচটি সেকেন্ড।
তারপরই হা হা হা হা...বিকট হাসিতে ফেটে পড়ল বিশাল
বাড়িটি। মা হাসে, মেয়ে হাসে। মেয়ে হাসে, মা
হাসে। এমনকি অমন ভয়ানক বাপটাও হা হা করে হাসে,
শুনে পিলে চমকে ওঠে। এইভাবে হেসেই তারা
পার করল পাঁচ পাঁচটা মিনিট।
আমি তখন নেহায়েত ভালোমানুষ, কি হল যে এরা
অমন করে হাসছে? নির্ঘাত পাগল ঠাউরেছে!
তারপরই মামী মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এই
কাজটা তোর, তাই না?’
মেয়েটা ঠোঁট উলটে বলল, ‘নয়তো কি? তুমি না
বলেছিলে সাহসী, এখন তো দেখছি ভিতুর
ডিম্বাণু...হি হি হি...’আবার হাসা শুরু করে মা মেয়ে।
নাহ, মেয়েদের সামনে প্রেস্টিজ পাংচার হয়ে
যাচ্ছে! আমি বললাম, ‘ব্যাপারটা কি? কিছুই তো
বুঝলাম না’।
মামী হাসি না থামিয়েই বললেন, ‘বুঝবে কি করে,
দেখেই তো ফিট হয়ে গেলে...হি হি হি...আবার
বলে কিনা কে আমি, কে তুমি...হি হি হি...সবাইকে
যদি দেখাতে পারতাম...হি হি হি...’
কথায় বলে, মেয়েদের হাসিতে নাকি ঝর্ণা
নেমে আসে, টপটপ করে মুক্তো পড়ে। এই
মুক্তোঝরা ঝর্ণার মাঝে শুয়ে থেকে আমি চিন্তা
করতে লাগলাম, আসলে হয়েছিল কি?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now