বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প
(পর্ব - ১)
-সালেহ তিয়াস
প্রারম্ভিকা
‘গ্রীষ্মের কাঠফাটা দুপুরে ঢাকা শহরের এক ঝাঁক
মানুষ দেখল, একটা উনিশ বছরের কিশোর ফুটপাথ
দিয়ে দৌড়াচ্ছে। ঘেমে তার জামাকাপড় সব ভিজে
গেছে।
কিন্তু সে কোনদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে
দৌড়াচ্ছে। মুখে তার স্মিত হাসি।‘
...এই দৌড় কি শেষ হবে? সে কি পৌঁছাতে পারবে
অভীষ্ট লক্ষ্যে?
১
এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ হবার ঠিক দশ দিন পর মামা
জলদগম্ভীর কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ‘তুমি ডাক্তার
হবে’।
মামার সব কথাতেই বুঝে না বুঝে মাথা নাড়ানো
আমার অভ্যাস। যথারীতি ঘাড়টা শকুনের মত কাঁত
করে বললাম, ‘জি আচ্ছা’...
বলেই বুঝলাম, কি ভয়ঙ্কর একটা ভুল করে
ফেলেছি। ডাক্তার? ওরে বাপরে!
নিজের অজান্তেই অজানা ভয়ে মুখ শুকিয়ে গেল
আমার, ধড়ফড় করে উঠল বুকটা।
মামা আমার ভাব দেখে বললেন, ‘কি, আপত্তি
আছে?’
আপত্তি নাই মানে? অবশ্যই আপত্তি আছে।
একশবার আপত্তি আছে। হাজারবার আপত্তি আছে।
কিন্তু গলা দিয়ে সে কথা বেরুল না। মিনমিন করে
বললাম, ‘ইয়ে মানে’...
‘কি মানে?’- ধমকে উঠলেন মামা। মনে হল যেন
বক্সিং শুরুর আগে মাইক টাইসন হুঙ্কার দিচ্ছে। লাফ
মেরে সরে গেলাম। বললাম, ‘মানে’...
‘কোন মানে মানে বুঝি না। কাল থেকেই
তোমার কোচিং শুরু’।
ওরে বাবা! মনে হল কেউ যেন করাত কলে কাঠ
কাটছে। এত জোরে কেউ কথা বলে?
মামা দুপদাপ বেরিয়ে গেলেন। উফফ...স্বস্তির
নিঃশ্বাস ফেলে সোফায় বসে পড়লাম আমি।
২
পরেরদিন মামী এসে বললেন, ‘কি ব্যাপার,
মেডিকেলকে ভয় পাও নাকি?’
মামার সামনে আমি যতই কেঁচো সাজি না কেন,
মামীর সামনে বেশ ফ্রি। বললাম, ‘না, মানে পড়ার
চাপ বেশি তো’...
উনি হেসে ফেললেন। ‘ও মা, এই বয়সে
তোমার মত ছেলে কষ্ট না করলে কষ্টটা
করবে কে শুনি?’
আমি বললাম, ‘তাও, হাড়ভাঙ্গা খাটুনি’...
উনি বললেন, ‘তার মানে? তুমি কি বিনা পরিশ্রমেই
গ্র্যাজুয়েট লেভেলটা উতরে যেতে চাও?’
তা অবশ্য আমি চাই না। মামীটা না, কিচ্ছু বোঝে না।
একটু বেশি বোঝারও চান্স আছে।
এবার একটু অন্যভাবে ট্রাই করলাম। বললাম, ‘তাছাড়া,
কঙ্কাল, লাশ, এইসব নিয়ে নাড়াচাড়া করা লাগে তো,
একটু ভয় ভয় লাগে’...
‘ও মা, ছেলের কথা শোন’ - যেন এমন কথা
কেউ বলতেই পারে না - ‘এইসব দেখে ভয়?
কথা শুনে মনে হচ্ছে যেন কতদিন ধরে নাড়াচাড়া
করছে! দাঁড়াও, আজকেই তোমার মামাকে বলছি,
বীরপুরুষ আমার কঙ্কাল দেখে ভয় পায়’...
‘না মামী, শোন’...
মামী আর কিছু না শুনেই চলে গেল।
ধুর, মামীটাকে নিয়ে আর পারা গেল না।
এক্কেবারে ছেলেমানুষ!
৩
রাতে মামা এলেন। ‘এই তুমি কি বলেছ?’
‘কি বলেছি?’
‘তুমি নাকি বলেছ কঙ্কাল দেখে ভয় পাও?’
‘ইয়ে মানে...মানে...মানে...মানে...’
‘মানে মানে করছ কেন?’
‘মানে...মানে...মানে...মানে...’
‘ঠিকমত বল!’ (হুঙ্কার)
‘মানে হ্যাঁ...!’
‘আর তুমি কি মেডিকেলে পড়তে চাও না?’
‘চাই!’
‘পড়তে না চাইলে অসুবিধা নাই। একটা ঠেলাগাড়ি
কিনে দিব, সারাদিন ঐটা ঠেলবা’।
‘বুঝেছ?’
‘বুঝেছি!’
‘কি বুঝেছ?’ (হুঙ্কার)
‘আ...আ...আপনি একটা ঠেলাগাড়ি কিনে দিবেন...’
‘ও, এই বুঝেছ? সারাদিন যে এত খাও, সব যায়
কোথায়? মাথায় তো যায় না একফোঁটাও! ইন্টার
পাশ করে ছেলে ঠেলাঅলা হবে! আমাকে
ঠেলে ঠেলে একেবারে ভবসমুদ্র পার করে
দেবে!’
আমি চুপ।
‘কালকে থেকে কোচিং, বলেছি না? মনে
থাকে যেন’।
‘জি আচ্ছা। মনে থাকবে’।
‘কি মনে থাকবে? ঠেলার কথা?’
‘ন্না...কোচিং...’
‘আর এইসব ‘বেশি পড়া তাই মেডিকেল পড়ব না’
বিজনেস বাদ দাও। দেশের এত এত ভাল ছেলে,
ডাবল গোল্ডেন পাওয়া ছেলে, অথচ সব
ছোটে হয় ইঞ্জিনিয়ারিং নইলে বিদেশ। আর
বাপের টাকা থাকলেই, প্রাইভেট প্রাইভেট।
যতোসব রাবিশের দল! আর গাধাগরুগুলা ঢোকে
সব মেডিকেলে। উফ...ক্লাস যে কি একটা অসহ্য
যন্ত্রণা, গাধাগুলা কিচ্ছু বোঝে না...কিচ্ছু জানে
না...’
এই রে, শুরু হল শিক্ষকসুলভ বুলি কপচানো! এ
মেশিন তো সহজে থামবে না।
উনি টানা প্রায় পাঁচ মিনিট লেকচার দেবার পর সাহস
করে বলেই ফেললাম, ‘মামা, একটু বাইরে যাব’।
লেকচার চলছেই।
‘মামা, বাইরে যাব’।
হ্যাঁ, এবার লেকচারে সাময়িক বিরতি। ভাগ্যে থাকলে
সাময়িক বিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি বিরতিতে রূপান্তর
করা সম্ভব।
‘কোথায় যাবে?’
‘বাইরে’।
‘এত রাতে? কোথায়?’
‘না মানে, টয়লেটে’।
‘টয়লেটে?! আর সময় পেলে না?’ কেমন
ভয়ানক দেখায় মামার চোখ, যেন ঐ দৃষ্টি দিয়েই
আমায় ভস্ম করে ফেলবে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now