বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩.
খুব সাবধানে রাবারের আবরণটা ছিঁড়ে ৬-৬-৬ ইঞ্চির
প্রায় দুই কেজি ওজনের G9 সিরিজের TPT90
কপোট্রনটি বের করে রিশান, ভয় মিশানো বিস্ময়
নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে এটার দিকে, আহঃ!
পৃথিবীর প্রথম মানবিক আবেগ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন
কপোট্রনট ! কিছুক্ষণের মধ্যেই নড়েচড়ে
উঠে রিশান, নাহঃ! অনেক কাজ বাকি, আগামী এক
সপ্তাহের মধ্যে কাঠামো দাড় করাতেই হবে ।
একে একে প্যাকেট আর বাক্স খুলে সে বের
করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ।
পরবর্তী সপ্তাহে ল্যাবরেটরি থেকে
একবারের জন্যেও বের হয়নি রিশান, কখন সূর্য
উঠেছে আর কখন অস্ত গিয়েছে সেই দিকে
বিন্দুমাত্র খেয়াল ছিলো না তার, সারাক্ষণ
কেটেছে অপটিক্যাল ফাইবার, ল্যান্স,
ঝিনঝেনিয়ামের তার, স্ক্র ড্রাইভার, রাবার, এই সব
নিয়ে । পুরা কাঠামোটা দাড় করানো হয়ে গেলে
কিছুক্ষণ স্থির চোখের তাকিয়ে থাকে রিশান,
আবার ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রতিটি
যন্ত্রাংশের সংযোগস্থল, উচ্চতা, ওজন। পুরো
কাঠামোটা দাঁড়িয়ে গেলে একটু ছোট মনে হয়
তার কাছে; হঠাৎ রিশান মাথাটা একটু ডানে বামে খুব
দ্রুত ঝাঁকিয়ে দুই হাত একটু উপরে তুলে নিজে
নিজে বলতে থাকে, " শান্ত হও রিশান, শান্ত হও,
মাথা গরম করার কোন দরকার নেই "
পাঁচ সেকেন্ড পর বড় করে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে
আবার প্রথম থেকে মাপজোক শুরু করে রিশান।
হিসাব আগের বারের মত ঠিকঠিক মিলে যায় কিন্তু
খালি চোখে তার কাছে কাঠামোটা এবারও একটু
ছোট মনে হয়। তবে এইবার সে ভুলটা ধরতে
পারে, আসলে ইস্পাতের পায়ের কাঠামোর ওপর
যখন অর্ধ ইঞ্চি পরিমাণ কৃত্রিম মাংসপেশি ও তার উপর
সংবেদনশীল সিনথেটিক চামড়া লাগানো হবে এবং
মাথার খুলির উপর সিল্কের কৃত্রিম চুল লাগানো শেষ
হবে তখন কাঠামোটা প্রায় দুই ইঞ্চির মত উঁচুই
মনে হবে।
অবশেষে ঠিকঠাক মত যখন কাঠামোটা দাড়
করানো শেষ হয় ততক্ষণে ক্লান্তির শেষ
সীমানায় পৌঁছে যায় রিশান, উত্তেজনার চোটে
গত কয়েক দিন ক্লান্তি টের পায়নি সে
একফোঁটাও । আর একটা মাত্র কাজ বাকি প্রথম
পর্যায়ের, এখন শুধু ইস্পাতের কংকালের উপর
কৃত্রিম মাংসপেশি স্তরে স্তরে বসাতে হবে, তার
উপর সংবেদনশীল সিনথেটিক চামড়া লাগালেই কাজ
শেষ। তবে এই কাজটা সয়ংসম্পূর্ণভাবে কম্পিউটারই
করবে, রিশান শুধু ত্রি-মাত্রিক মডেলটার বিভিন্ন
প্যারামিটারগুলো সেট করে দিবে। একটা ৪-৬ ফিট
ক্যাপসুলে বিভিন্ন কেমিকেল ঢেলে পূর্ণ করে
তার সাথে কম্পিউটারের সংযোগ দেয় রিসান, সাথে
সাথে ক্যাপসুলটার দুই পাশে হাজার খানেক সুচ সচল
হয়ে উঠে । তারপর খুব যত্ন করে ধীরে
ধীরে ক্যাপসুলের ভেতর ইস্পাতের কংকালটা
রেখে বিড়বিড় করে " ঈশ্বর আমার এই স্বপ্নটা
তুমি বিফল করে দিও না" বলেই রিমোট
কন্ট্রোল চেপে প্রসেস চালু করে দেয় সে
। সাথে সাথে ক্যাপসুলের মধ্যে একটা
আলোড়ন শুরু হয়ে যায়, খুব দ্রুতগতিতে নড়াচড়া
করতে থাকে সুচগুলো সমগ্র কংকাল জুড়ে।
সমগ্র টিসু প্লানটেশন প্রসেস শেষ হতে
চোদ্দ ঘণ্টা সময় লাগবে, তারপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে
গলে বের হয়ে আসবে সদ্য সৃষ্ট এই
রোবটটা।
আর পারছে না রিশান, টিসু প্লানটেশন প্রসেস চালু
করে টলতে টলতে ল্যাবরেটরি থেকে বের
হয়ে বেডরুমে গিয়ে বিছানার উপর সটান পড়ে
যায়, টানা বিশ ঘণ্টা পর ঘুম ভাঙ্গে তার । ঘুম থেকে
উঠে বিছানার উপর চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থাকে
রিশান, বাহির থেকে দেখে বুঝার কোন উপায় নাই
যে তার হৃদকম্পন দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে।
খুব সন্তর্পণে বিছানা থেকে নেমে কাঁপাকাঁপা
পায়ে সে হেটে যায় ল্যাবরেটরির দিকে ।
ল্যাবরেটরির দরজা খুলার সাথে সাথে তার মুখ দিয়ে
অস্ফুট আওয়াজ বের হয়ে আসে "ওহঃ ঈশ্বর!
ওহঃ ঈশ্বর!"
তার সামনে দাড়িয়ে আছে পিয়েলা লিয়ান!
নিজেকে সংযত রাখতে খুবই কষ্ট হচ্ছিলো
রিশানের, কাঁপা কাঁপা হাতে আলতো করে পিয়েলার
হাতটা ধরে সে, তারপর আস্তে আস্তে কাঁধ, গাল,
কপালের উপর দিয়ে বুলাতে থাকে, আর
দু'চোখ বেরে বয়ে চলছে অঝোর ধারা ।
শেষ পর্যন্ত নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে
ফেলে রিশান, পিয়েলার মাথাটা ওর বুকে চেপে
ধরে আকাশের দিকে মুখ করে সর্বশক্তি দিয়ে
চিৎকার করে উঠে সে, যেন তার চিৎকারেই
জ্যান্ত হয়ে উঠবে নিথর যন্ত্র-মানবি ।
৪.
নেশা গ্রস্হের মত সারাদিন কাজ করে যাচ্ছে
রিশান, তার মাথায় একটাই চিন্তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব
পিয়েলার ইন্দ্রিয়গুলোকে সক্রিয় করতে হবে।
কলিং-বেলের শব্দে সংবিৎ ফিরে পায় রিশান, হঠাৎ
করে সতর্ক হয়ে যায় সে, হাজারটা চিন্তা তার মাথায়
আসতে থাকে, তার খোঁজে কে আসলো এই
নির্জন প্রান্তরে?
দরজায় খুলেই সে দেখে একজন সুদর্শন যুবক
মুখের মিটিমিটি হাসি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
রিশান জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালে সে
বলে, " স্যার, আপনি কি মিস্টার রিশান ক্লোস্টা?"
রিশান মাথা নেড়ে সম্মতি দিলে সে বলে, " স্যার,
আপনার মাসিক অর্ডার ছিলো আমাদের
কোম্পানিতে, আমি সেগুলো ডেলিভারি দিতে
এসেছি " ।
চেপে থাকা নিঃশ্বাসটা ছেড়ে ডেলিভারি বয়কে
স্টোররুমটা দেখিয়ে রিশান বললো , " এইখানে
সব কিছু রেখে যান, আমি রিসিভ লগে সাইন করে
দিচ্ছি" । আসলে রিশান কাজের চাপে ভুলেই
গিয়েছিলো যে, এই কোম্পানিকে দায়িত্ব
দিয়েছিলো তার প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রতি
মাসের প্রথম তারিখেই পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
ছেলেটা একটা একটা করে বক্স ভ্যানগাড়ি থেকে
নামিয়ে স্টোররুম পর্যন্ত নিয়ে আসছে আর
ফাঁকে ফাঁকে রিশনের সাথে কথা বলছে ।
- স্যার কি বাসায় একা থাকেন ?
হুমম।
- এই নির্জন জনবসতিহীন জায়গায় থাকতে ভয়
করে না ?
নাহ্ ।
- স্যার কি বিয়ে করেছেন ?
এইবার রিশান একটু চটে যায় । চোখেমুখে
গম্ভীর ভাব ফুটিয়ে তুলে কঠোরভাবে সে
বলে , " আপনি কথা কম বলেন, জলদি কাজ শেষ
করে এখান থেকে বিদায় হোন" ।
- ছেলেটা এই রকম ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত
ছিলো না, কিছুটা থতমত খেয়ে চুপ মেরে যায়,
তার পরপরই মুখে হাসি হাসি ভাব ফুটিয়ে তুলে বলে
, " স্যার আমার নাম, ভ্লাদিমির, এখন থেকে প্রতি
মাসে আমিই আপনার প্রয়োজনীও জিনিস নিয়ে
আসবো।"
রিশান বুঝতে পারে শুধু শুধুই একটু উত্তেজিত
হয়ে গিয়েছিলো, এবার নরম সূরে বলে, "ঠিক
আছে, আমি তো একা মানুষ, তাই প্রতিবার আসার
আগে আমাকে একটা ফোন করে আসবেন, এই
নিন আমার নাম্বার"
যতক্ষণ পর্যন্ত ভ্লাদিমিরের ভ্যান চোখের আড়াল
হয় ততক্ষণ পর্যন্ত রিশন রাস্তার দিকে তাকিয়ে
ছিলো, তারপর বাড়ির চারদিকে একবার আলতো
করে চোখ বুলিয়ে দরজা লাগিয়ে সে আবার
ল্যাবরেটরিতে ঢুকে যায় ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now