বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাভের বেলায় ঘন্টা -০২

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এই চাঁদ?’ তিনি উচ্ছ্বসিত হন– ‘এই চাঁদখানা তুমি পেতে চাও নিশ্চয়? এমন চাঁদ পাবার সাধ হয় না তোমার?’ প্রস্তাবটা শুনে মুক্তিপদ নাক সিঁটকোয়। চাঁদ নিয়ে সে কী করবে? মা যেমন খোঁপায় চুলদের আটকে রাখার জন্য চিরুনি লাগান, শিবঠাকুর তেমনি নিজের জটাজূট সামলাতে ঐ চাঁদটাকে লাগিয়েছেন। মুক্তিপদর তো ঝাঁকড়া চুলের বালাই নেই, দিব্যি ব্যাক-ব্রাশ চুল তার। চাঁদকে মাথায় করে রাখবার শখ নেইকো মোটেই। চাঁদ না হয়ে চন্দ্রপুলি হলে না হয় দেখা যেত। ‘ও তো আধখানা চাঁদ, ও নিয়ে আমি কী করব? আপনি বুঝি আমায় অর্ধচন্দ্র দিচ্ছেন? ঘুরিয়ে অপমান করছেন আমায়?’ ফোঁস করে ওঠে সে– ‘আপনি সোজাসুজিই বলতে পারতেন, আমার মন্দির থেকে বেরিয়ে যাও।’ ‘না না। তা বলব কেন? তা কি বলতে আছে?’ শিবঠাকুর শশব্যস্ত হন– ‘এত বড় ভক্ত তুমি আমার। তোমাকে আমি অমন কথা বলতে পারি কখনো? ভক্তাধীন ভোলানাথ, শোননি নাকি কথাটা?’ ‘তাই বলুন!’ ‘আমি ভাবছিলাম চাঁদের টুকরোটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে তুমি দেখতে যদি একবারটি। আর যদি তোমার পছন্দ হত…’ ‘চাঁদে হাত দিতে যাব কেন আমি? আমি কি বামন নাকি যে…? বামনরাই তো চাঁদের দিকে হাত বাড়ায়। আমি বেশ ঢ্যাঙা, দেখছ না? এর মধ্যেই পাঁচ ফুট সাড়ে চার ইঞ্চি। বাবা বলেছেন, আরো আমি ঢ্যাঙা হব। আমাদের বংশে সবাই নাকি তালগাছ!’ ‘তা হলে তো তুমি এমনিতেই চাঁদ পাবে। তালগাছের মাথাতেও চাঁদ থাকে। দেখা যায় প্রায়। দেখোনি তুমি?’ ‘পুকুরের জলের মধ্যেও দেখেছি। ডোবার মধ্যেও আবার।’ ‘চাঁদের সঙ্গে আমাকেও তুমি ডোবালে দেখছি! ভারি ফ্যাসাদে ফেললে আমায়। বর দেব বলে কথা দিয়েছি, অথচ কিছুই তোমায় দিতে পারছি না। কিছুই তুমি চাও না। অথচ দিতেই হবে আমায় কিছু। না দিয়ে উপায় নেই। নইলে আমার কথাটা মিথ্যে হয়ে যায়। মিথ্যে কথা আমি বলি না আবার। কী মুশকিলে যে পড়লাম! আচ্ছা, তুমি কি কিছু খেতে চাও?’ খাবারের কথায় তার উৎসাহ দেখা দেয়– ‘কী খাওয়াবেন বলুন?’ ‘কী খাওয়ানো যায় তোমায় ভাবচি তাই।’ শিবঠাকুর বলেন– ‘সত্যি বলতে, আমাকেই সবাই ভোগ দেয়, আমি কখনো কাউকে ভোগ দিইনি কোনো। এমনকি তোমার ওই পার্বতী ঠাকরুনকেও না। তোমার ভোগে কী লাগতে পারে ভেবে দেখি এখন…।’ তিনি ভাবতে থাকেন। ‘তারকেশ্বরের ডাব?’ হাতের কাছে প্রথমেই তিনি ডাবটা পান, সেটাই পাড়েন সবার আগে। ‘ডাব? ডাব কেন? আপনার সঙ্গে আমার তো আড়ি হয়নি যে ডাব দিয়ে ভাব পাতাতে হবে?’ ‘তা হলে বৈদ্যনাথধামের প্যাঁড়া?… কাশীর মালাই-লচ্ছি? কৈলাসের ভাং?’ ‘ভাংটা কী জিনিস?’ জানতে চায় মুক্তিপদ। কিন্তু মহাদেব ওর বেশি ভাঙতে যান না। ছোট্ট ছেলের কাছে নেশার কথা পাড়াটা ঠিক হবে না তাঁর মনে হয়।– নন্দী ভৃঙ্গী ঘোঁটে, তারাই বানায়, তারাই জানে কী জিনিস। তারপর ঘুরিয়ে বলেন কথাটা ‘ভাং মানে, এই সিদ্ধি আর কি– শুদ্ধ ভাষায়। তুমি কি সিদ্ধিলাভ করতে চাও?’ ‘একদম না। ও তো সাধক লোকেরা চায়। আমি কি সাধক? যোগী ঋষি আমি? তাহলেও শুনি তো–‘ ‘আমি খাই কেবল। মানে, আমি পান করি মাত্র।’ ‘খেতে কেমন? সিরাপের মতন কি? আখের রস যেমনধারা হয়ে থাকে? খেতে মিষ্টি হলে দিতে পারেন আমায়।’ ‘না, তা খেয়ে তোমার কাজ নেই। পানীয় তো আর খাদ্য নয়। ওতে পেট ভরে না। তোমাকে আর কী দেওয়া যায় দেখছি…’ মনে মনে তিনি দিগ্ধিদিক ঘোরেন, যে খাবারগুলো তার দিব্যনেত্রে দেখতে পান, আউড়ে যান… ‘মালদেহের খাজা খাবে? কেষ্টনগরের সরভাজা? বর্ধমানের মিহিদানা? রানাঘাটের ছানার জিলিপি? জনাইয়ের মনোহরা? পাঁশকুড়োর অমৃতি? নাটোরে দেদোমন্ডা…?’ ‘গন্ডা গন্ডা?’ মুক্তিপদ বাধা দিয়ে জানতে চায়। ‘যত চাও! বাগবাজারের রসগোল্লা? ভীমনাগের সন্দেশ?…’ শিবঠাকুরের ফিরিস্তি আর ফুরোয় না: ‘চাই তোমার? কোনটা চাই বলো আমায়? না, সবগুলোই চাও তুমি?’ ‘আমার জন্যে হয়রান হয়ে ঘুরে ঘুরে আপনি যোগাড় করবেন তা আমি চাই না, আপনার হাতের কাছে যা আছে তাই আমায় দিন।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now