বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাভের বেলায় ঘন্টা!—শিবরাম চক্রবর্তী (পর্ব ১)

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X লাভের বেলায় ঘন্টা! শিবরাম চক্রবর্তী ঘাটশিলার শান্তিঠাকুর বলেছিলেন আমায় গল্পটা… ভারি মজার গল্প। দারুণ এক দুরন্ত ছেলের কাহিনী… যত রাজ্যের দুষ্টবুদ্ধি খেলত ওর মাথায়। মুক্তিপদ ছিল তার নাম, আর দুষ্টুমিরাও যেন পদে-পদে মুক্তি পেত ওর থেকে। আর হাতে-হাতে ঘটত যত অঘটন! এই রকম অযথা হস্তক্ষেপ আর পদক্ষেপের ফলে একদিন যা একটা কান্ড ঘটল… গাঁয়ের শিবমন্দিরের ঘণ্টাটার ওপর ওর লোভ ছিল অনেক দিনের। শিবঠাকুরের মাথার ওপর ঘণ্টাটা থাকত ঝোলানো। শিবরাত্রির দিন ওটাতে দড়ি বেঁধে দেওয়া হত। ভক্তরা সেই দড়ি ধরে টান মেরে একবার করে বাজিয়ে যেত ঘণ্টাটা। কী মিষ্টি যে ছিল তার আওয়াজ! শিবরাত্রির পর্ব ছাড়া আর কোনোদিন ওটা বাজানো হত না কিন্তু। শিবঠাকুরের পাশেই ছিলেন পার্বতী দেবী। তাঁর মাথায় ঝকমক করত সোনার মুকুট। কিন্তু সেদিকে মুক্তিপদের মোটেই নজর ছিল না। মুক্তিপদ তক্কে তক্কে থাকত কী করে ঘণ্টাটা হাতানো যায়। একদিন সে দেখল পুজারি ঠাকুর কোথায় যেন বেরিয়েছে, মন্দির ফাঁকা পড়ে। চারধারে কেউ কোথ্থাও নেই। সুবর্ণসুযোগ জ্ঞান করে সে মন্দিরের ভেতরে গিয়ে সেঁধুল। কিন্তু হাত বাড়িয়ে দ্যাখে যে ঘণ্টাটা তার নাগালের বাইরে। যদ্দূর তার হাত যায়, তার থেকেও এক হাত ছাড়িয়ে উপরে রয়েছে ঘণ্টাটা। ওটাকে পাড়ার জন্য সে তাই শিবলিঙ্গের মাথার ওপরে খাড়া হল। কিন্তু তখনও সেটাকে হাত দিয়ে পাকড়ানো যায় না, আঙুলে ঠেকে, কিন্তু মুঠোর মধ্যে আনা যায় না ঘণ্টাটাকে। ভারি মুশকিল তো! কিন্তু এ কী…! শিবের মাথায় চড়ে দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটল সেই অঘটনটা! স্বয়ং শিবঠাকুর তার সম্মুখে আবির্ভূত! মুক্তিপদর পদক্ষেপেই দেবাদিদেব মুক্তি পেলেন নাকি? ‘বৎস, তোমার ভক্তিতে আমি প্রীত হয়েছি, তুমি বর প্রার্থনা করো।’ ‘অ্যাঁ?’ হকচকিয়ে গেছে মুক্তিপদ। ‘ভয় খেয়ো না। তুমি কি আমায় চিনতে পারছ না?’ ‘চিনব না কেন? তুমি শিবঠাকুর। দেখেই টের পেয়েছি। পটে দেখেছি তো। পটের সঙ্গে বেশ মিলে যায়।’ ‘তোর মতন ভক্ত আর হয় না।’ শিবঠাকুর বলেন, ‘লোকে আমার মাথায় ফুল বেলপাতা চড়ায়, তুই নিজেকেই আমার ওপর চড়িয়েছিস। তোর সবটাই দিয়েছিস আমায়। তোর মতন ভক্ত আমি দেখিনি। এখন বল্ তুই কী চাস?’ ‘কী আবার চাইব!’ থতমত খেয়ে সে বলে। ‘রাজা হতে চাস তুই?’ ‘রাজা!’ ‘অনেক লোক-লস্কর নিয়ে বিরাট রাজ্যের অধীশ্বর হবার বাসনা আছে তোর?’ মুক্তিপদ ভাবতে থাকে। ‘সে ভারি ঝামেলা!’ ভেবেচিন্তে সে জানায়: ‘রাজা হতে আমার প্রাণ চায় না। রাজ্যি চালানো আমার কম্মো নয়। কী করে রাজ্য চালায় তাই আমি জানিনে!’ ‘তা হলে কী চাস বল? পরমাসুন্দরী এক রাজকন্যে?’ ‘রাজকন্যে নিয়ে আমি কী করব?’ ‘কেন বিয়ে করে সুখে ঘরকন্না করবি? আবার কী?’ ‘বিয়ে! এখনই আমি বিয়ে করব কী! আমার গোঁফ বেরয়নি এখনও। তুমি বলছ কী ঠাকুর?’ ‘তা হলে হাতি ঘোড়া কী চাস বল্ তুই!’ বর দিতে এসে এমন বিড়ম্বনা শিবঠাকুরের বুঝি কখনও হয়নি।– ‘আমি তোকে বর দিতে চাই। বর না দিয়ে আমি ছাড়ব না।’ ‘হাতি ঘোড়া কি কেউ চায় নাকি আবার?’ ‘টাকাকড়ি ধনদৌলত?’ ‘রাখব কোথায়? বাবা টের পেলে মারবে না? একবার বাবার একটা টাকা সরিয়েছিলাম, তাইতেই এমন একখানা চড় খেয়েছিলাম যে!… এখনও আমার মনে আছে বেশ। না, টাকাকড়ি আমার চাইনে।’ ‘তোর দেখছি কামিনীকাঞ্চনে আসক্তি নেই। মুক্তপুরুষ মনে হচ্ছে। তা হলে তুই কী চাস– ভক্তি, মুক্তি?’ ‘সে তো আমার পাওয়া গো! আমার নামই মুক্তি। আর আমার বাবার নাম ভক্তিপদ– ভক্তি মুক্তি তো না-চাইতেই পেয়ে গেছি।’ ‘তা হলে তুই হয়তো চাস, মনে হচ্ছে, ত্যাগ, বৈরাগ্য, তিতিক্ষা–‘ ‘সে তো বিবেকানন্দরা চায়। পড়েছি বইয়ে। আমি বিবেকানন্দ হতে চাই না।’ ‘ভালো ফ্যাসাদ হল দেখছি!’ মহাদেব নিজের জটাজূট চুলকোন। ছেলেরা কী চাইতে পারে, কী তাদের চাওয়ানো যায়, কিছুই তিনি ভেবে পান না। নিজের ছেলেবেলায় কী সাধ ছিল তাঁর? তাও কিছু তাঁর স্মরণ নেই এখন। সেই সুদূর অতীত বাল্যকালের কথা তাঁর মনেই পড়ে না আর। কবে যে তিনি দুগ্ধপোষ্য বালক ছিলেন, আদৌ ছিলেন কি না কখনো– কিছুই তাঁর ঠাওর হয় না। কী চাইতে পারে ছেলেটা? কী পছন্দ হতে পারে ছেলেটার? তিনি খতিয়ে দেখতে যান। তাঁর আর তার টান সমান হবার কথা নয়। আদ্যিকালের তিনি আর সেদিনকার এই ছোঁড়ার রুচি কি এক হবে? যে বস্তু তার প্রিয় ওর কাছে হয়তো তা মূল্যহীন। ছেলেটা এই বয়সেই চোখে ধুতরো ফুল দেখতে রাজি হবে কি? বিল্বফলের জন্যেও সাধ করে হাত বাড়াবে না নিশ্চয়? মাথায় হাত দিয়ে তিনি ভাবতে থাকেন। কূল-কিনারা পান না কিছু। হঠাৎ নিজের কপালের চাঁদে তাঁর হাত ঠেকে যায়। হাতে যেন চাঁদ পান তখন। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now