বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সরল মেয়ে তমা- (৮ম পর্ব)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X কিন্তু হঠাৎ করে প্রিয়ম আমাকে হেচকা টানে তার সাথে মিশিয়ে নিলো। আমি কিছুক্ষণ ওর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিলাম, আমর ওকে অনেক ভালো লাগতো, ওকে ভালোবাসতাম ঠিকই, কিন্তু আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর প্রত্যেকটা লোককে, তাদের উদ্দেশ্যকে আমার কাছে ঐ এক রকমেই লাগতো। আমি লক্ষ প্রিয়ম দু হাতে আমার কোমর আকড়ে আছে। আমি থমথমে গলায় বললাম, -- হচ্ছে টা কি! -- কিছুই না! তো এখন বলো, তুমি কি করছিলে! -- কিছুই না। কথা বলছিলাম। -- ওওও। তাইতো বলি! তুমি তো আমার সাথে প্রেম করবে, -- মোটেও না। -- হ্যা। প্রিয়ম আমাকে ছেড়ে দিলো, আমি রেলিং এ হেলান দিয়ে দাড়িয়ে বললাম, -- এতো মেয়ে থাকতে আমার পিছনে কেনো পড়লে? প্রিয়ম আমার সামনে এসে দাড়ালো, তার দু হাত আমার দু পাশের খালি রেলিং টায় রেখে আমাকে প্রায় বন্দী করে নিলো। একটা হাসি দিয়ে বললো, -- কারণ তাদের থুতনিতে টোল নেই। তাদের চিবুকের নিচে তিল নেই। প্রিয়ম তিলটায় একটা চুমু খেলো। মাথা তুলে আমার দিকে তাকিয়ে হেসে নাকে ধরে বললো, -- কেউ তোমার বুচি নয়। আর কারো কাঁধে দুটো মন কাড়া তিলও নেই। আমি প্রিয়মের হাত সরিয়ে দিয়ে বললাম, -- ধ্যাত, তুমি কি সবার কাঁধ চেক করেছিলে নাকি! প্রিয়ম হেসে আমার কাঁধ জড়িয়ে বললো, -- এই না! তুমি তো আমার প্রিয়তমা, তাই শুধু তোমার কাঁধ দেখেছি। -- আমাকে সৃজন ভাইয়া প্রিয়তমা ডাকে। -- তাই তো ডাকি না। কিন্তু সত্যি বলতে কি তুমি আমার প্রিয়তমা তাই না! -- তুমি কখনো আমার গায়ে হাত দিয়ো না! তুমি গায়ে হাত দিলে আমি তোমাকে অন্য আরেকটা মানুষের সাথে গুলিয়ে ফেলি। আমি হুটহাট করেই কেনো জানি প্রিয়মকে এই কথা বলে ফেললাম।প্রিয়ম হাত আমার কাঁধ থেকে সরে গেলো। পরক্ষনেই আমার নাক ধরে বললো, -- নাকে তো ধরতেই পারি! বুচি আমি হেসে রুমে চলে আসলাম। আমি আস্তে আস্তে প্রিয়মকে জানার চেষ্টা করছিলাম, যাকে ভালোবেসেছি সে ভুল মানুষ নাকি!ভালো! আমি প্রিয়মকে ভালোবাসতে চাইনি, কিন্তু ঐ যে মন কখন কাকে ভালোবেসে ফেলে কেউ বলতে পারে নি। নাবার কাছ থেকে টুকটাক জেনে নিতাম। আমি নাবাকে বলতে চাইনি এই সম্পর্কের কথা, কিন্তু সে কিভাবে যেনো জেনে গেলো।ঐ যে কথায় আছে না গোপন কথাটি রবে না তো গোপন। যাই হোক প্রিয়মকে যতই জানছি,তত বেশিই ভালোবাসতে শুরু করেছি,শুধু ভালোবাসা না সম্মান ও করতাম। প্রিয়ম মানুষটা যেনো অন্যকোনো জায়গা থেকে এসেছে। তার আচার আচরণ যেনো সম্পূর্ণ অন্যরকম, আমি কারো সাথে তার মিল পেতাম না। সে যতক্ষণ আমার পাশে থাকতো, ততক্ষণ আমাকে ক্ষেপানোতেই ব্যস্ত থাকতো। মাঝে মাঝে চার পাতার ইয়া বড় বড় চিঠি লিখতো। এত বড় চিঠি দেখে আমি তো আমি হা করে থাকতাম। যদি জিজ্ঞেস করতাম, --চিঠি কেনো দিচ্ছো, মোবাইলে কথা বলো, আজকাল কার যুগে কেউ চিঠি লিখে নাকি! সে বলতো, -- কেউ লিখে না বলেই তো আমি লিখি। প্রত্যেকটা চিঠির খামের উপরে লিখা থাকতো, "প্রিয়তমার প্রিয়তম চিঠিটা তার প্রিয়তমাকে পাঠিয়েছে। " কথাটা আমার অনেক ভালো লাগতো। তবে একটা জিনিস মোটেও ভালো লাগতো না জিনিসটা হলো, আমাকে তার চিঠিগুলো পড়তে হতো, তারপর তাকেও এতো বড়ো বড়ো চিঠি লিখতে হতো।এটা তার নির্দেশ ছিলো। কিন্তু আমি কখনোই দুই তিন লাইনের বেশি লিখতে পারতাম না, দুই তিন লাইন লিখতেই আমার কথা শেষ হয়ে যেতো। কি লিখবো, কি লিখবো ভেবে ভেবে মাথার চুল ছিড়ে ফেলতাম। তারপর হঠাৎ করেই রাগ উঠে যেতো, ইচ্ছে মতো বকতে থাকতাম, আর ঐগুলোই লিখে ওকে পাঠিয়ে দিতাম। একদিন এমন করেই ও আমাকে চিঠি দিলো। সেই পড়ে শেষ করতে আমার দুই দিন লাগলো। সামনে পরীক্ষার পড়া পড়তে পড়তেই আমি শহীদ হয়ে যাচ্ছিলাম। যাই হোক প্রিয়মের চিঠি পড়ার পর আমি যথারীতি প্রিয়মের চিঠির উত্তর লিখতে বসলাম, যথারীতি কিছুক্ষণ চিঠি লিখার পর আমি কি লিখবো বুঝতে পারছিলাম না, হঠাৎ দেখি নাবা ঘুমাচ্ছে বই হাতে নিয়ে। আমি চিঠিতে লিখলাম, " নাবা বই হাতে নিয়ে ঘুমাচ্ছে। ও হা করে ঘুমাচ্ছে। ও মাঝে মাঝে নাক ও নাকে....আচ্ছা মিঃ লম্বু তুমি ও হা করে ঘুমাও!! খবরদার এখন হা করে ঘুমাবা না। হা করে ঘুমালে মুখে মশা ঢুকবে। এই তুমি মশা খাও?? আচ্ছা মশা খেতে কেমন লাগে! এই তুমি যদি মশা খাও, তাহলে আমাকে কি মশা রান্না করতে হবে! আচ্ছা মশা দিয়ে কি কি রেসিপি হবে! মশা ভাজি, মশার ঝোল, মশার মালাই কারি, মশার রোস্ট, মশার পায়েস। এই মশার পায়েস বানাতে গেলে দু কাপ চালের মধ্যে কতগুলো মশা দিতে হবে! " এর বেশি আর লিখতে পারলাম না,কারণ এই চিঠি পড়লে প্রিয়ম আমাকে মশার চরচরি খাওয়ায় দিবে। যাই ঠিক করলাম, সকাল সকাল নতুন করে আরেকটা চিঠি লিখে দিলে নাবা গিয়ে দিয়ে আসবে। এখন আপাতত এটাই খামের উপর রেখে দেই।যেই ভাবা সেই কাজ, আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেলো। একটু না, অনেকটায় দেরি হয়ে গেলো। নাবা সকালের প্রাইভেট পড়ে চলে আসছে। ঘুম থেকে উঠেই চোখটা টেবিলের উপর পরলো, আমি হাই তুলতে তুলতে ওয়াশরুমের দিকে যাচ্ছিলাম । হঠাৎ মনে হলো আমি দেখলাম টেবিলের উপর চিঠি আর চিঠির খাম নেই। দৌড়ে টেবিলের কাছে গেলাম, সত্যিই তো খামটা টেবিলের উপর নেই। তার মানে নাবা গিয়েছে। আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে রইলাম। নাবা না আসা অবধি চাতক পাখির মতো বসে রইলাম, নাবা বাসায় আসতেই আমি দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, -- ঐ আমার চিঠি কই? ফুপি অবাক হয়ে বললো, -- কিসের চিঠি! আমি জ্বিভে কামড় দিলাম, ফুপির সামনে কি বলে ফেলেছি! নাবা ফুপিকে বললো, -- আজকাল দেখি কানেও কম শুনো তুমি। চিঠির কথা বলে নি ও। ফুপি বললো, -- তাহলে কিসের কথা বলেছে! -- মিষ্টির কথা বলেছে! আমার মিষ্টি কই বলেছে। ফুপিকে কিছু বলার সু্যোগ না দিয়ে নাবা রুমে চলে গেলো।আমিও ওর পিছু পিছু রুমে যেতেই নাবা বললো, -- চিঠি যেই জায়গার যাওয়ার ঐ জায়গাতেই চলে গেছে মনে হয়।আরেকটু হলেই ধরা খেতেন। -- মা মানে! -- মানে আর কি। প্রিয়ম ভাইয়ার কাছে। আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে রইলাম, এখন অপেক্ষা শুধু প্রিয়মের ফোনের৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৬১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now