বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লিডিয়া কাফেটেরিয়ার এক কোনায় বসে তার কফির কাপে চুমুক দিয়েচারপাশের মানুষগুলোকে লক্ষ্য করে। বাইশ বছরের একটা মেয়েকেসুন্দরী বলার জন্যে তার ভেতরে যে যে বৈশিষ্ট্যগুলো থাকতে হয় লিডিয়ারমাঝে তার সবগুলোই আছে কিন্ত তবুও কেউ কখনো তাকে সুন্দরী হিসেবেবিবেচনা করেনি । অন্য কেউ সেই কারণটা না জানলেও লিডিয়া জানে ।
কারণটা একটু বিচিত্র, একজন মানুষের ভেতরটুকু সুন্দর না হলে তারবাইরের সৌন্দর্যটুকু ঠিক করে প্রকাশ পায় না। লিডিয়ার ভেতরটুকুঅসুন্দর, এবং কদর্য । সে অসম্ভব বুদ্ধিমতী একটি মেয়ে কিন্তু তার ভেতরেবিবেক বলে কিছু নেই । মনোবিজ্ঞানীরা লিডিয়াকে নিয়ে গবেষণা করারসুযোগ পেলে তাকে নিশ্চিতভাবেই সাইকোপ্যাথ বলে চিহ্নিত করতো ।
লিডিয়া কখনো কোনো মনোবিজ্ঞানীর কাছে যায়নি, যাবার প্রয়োজনহয়নি । সে খুবই সাধারণ একটা পরিবারে জন্ম নিয়ে স্বাভাবিক একটাপরিবেশে বড় হয়েছে । খুব অল্প বয়সেই তার মা প্রথমে লিডিয়ার
ভেতরকার অস্বাভাবিকতাটুকু ধরতে পেরেছিলেন । তিনি কাউকে সেটিবলেন নি । একটু বড় হয়েই লিডিয়া তার পরিবারকে পরিত্যাগ করে নিজেএকা একা বড় হয়েছে । একজন মানুষের মাঝে যখন কোনো ভালোবাসা,মায়া মমতা নীতি কিংবা বিবেক থাকে না তখন তার বেচে থাকা খুবসোজা | লিডিয়া তার অস্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা নিয়ে খুব সফলভাবে বড়
হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করেছে । বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়েতার ভেতরে কোনো ভাবালৃতা নেই ৷ এই মুহুর্তে সে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের
ক্যাফেটেরিয়ার এক কোনার একটি টেবিলে বসে কফির কাপে চুমুক দিতেদিতে চারপাশের ছাত্র-ছাত্রীদের এক ধরনের কৌতুকের দৃষ্টিতে লক্ষ্য
করছে । ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্ছাস আগ্রহ, উৎসাহকে তার কাছে শিশুসুলভছেলেমানুষী মনে হয় ।
লিডিয়া তার কফির কাপে চুমুক দিয়ে সামনে তাকাতেই একজনমধ্যবয়স্ক মানুষকে খাবারের ট্রে নিয়ে এগিযে আসতে দেখল | কেউ বলেদেয়নি কিন্তু সাথে সাথে লিডিয়া বুঝে যায় মানুষটি তার কাছে আসছে ।
লিডিয়া ইচ্ছে করে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় এবং সরাসরি না তাকিয়েই বুঝতেপারে মানুষটি এগিয়ে এসে তার টেবিলের সামনে দাড়িয়েছে । পর মুহূর্তে
সে মানুষটির গলা শুনতে পেল, “আমি কী তোমার টেবিলে বসতে পারি?”
ছাত্রছাত্রীদের ক্যাফেটেরিয়াতে এরকম পোষাক পরা মানুষেরা খেতে আসেনা। লিডিয়া মানুষটির দিকে তাকাল,
বলল, “অনেক খালি টেবিল আছে।
তোমার এখানেই বসার কোনো প্রয়োজন নেই | তারপরও যখন এই টেবিলেবসতে চাইছ তার মানে তুমি নিশ্চয়ই আমার কাছে এসেছ?”
“লিডিয়া?”
“হ্যাঁ|”
“তাহলে আমি তোমার কাছেই এসেছি । ছবি দেখে মানুষের চেহারাবোঝা যায় না । তোমার ছবিতে তুমি অন্য রকম।”
এই কথাটি লিডিয়া অনেকবার শুনেছে । কথাটির প্রকৃত অর্থটিও সেজানে, প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ছবিতে তোমাকে সুন্দরী একটি মেয়ে বলে মনেহয় । বাস্তবে তুমি মোটেও সুন্দরী নও ।
মানুষটি টেবিলে খাবারের ট্রে টা রেখে লিডিয়ার দিকে হাত বাড়িয়েবলল, “আমার নাম রিকার্ডো |”
লিডিয়া খানিকটা অনিচ্ছা নিয়ে রিকার্ডো নামের মানুষটির হাত স্পর্শ করল, সে যে রকম অনুমান করেছিল ঠিক সেরকম তার হাত ভেজা এবং
নরম । ভেজা হাতের মানুষের করমর্দন করতে লিডিয়ার এক ধরণের ঘৃণাহয়।
“তুমি আমার কাছে কেন এসেছ?”
মানুষটি তার প্রশ্নের উত্তর.না দিয়ে তাকে পাল্টা প্রশ্ন করল, “থিসিস
জমা দিয়েছ?”
লিডিয়া মাথা নাড়ল । রিকার্ডো তার প্রেটের রোস্ট বীফের টুকরোটিরওপর মরিচের গুড়ো ছিটাতে ছিটাতে বলল, “থিসিসটি তুমি নিজে লিখলে
না কেন? তুমি নিজে লিখলে আরো অনেক ভালো থিসিস লিখতে পারতে ।”
লিডিয়া ভয়ংকরভাবে চমকে উঠলেও বাইরে সেটা প্রকাশ করল না ।বিদ্যুৎ ঝলকের মতো তার মাথায় অনেকগুলো চিন্তা খেলে গেলো । একটিমেধাবী ছেলের সাথে অস্তরঙ্গতায় ভান করে সে তাকে দিয়ে থিসিস লিখিয়েনিয়েছে । এ কথাটি সত্যি সে নিজে আরো ভালো লিখতে পারত কিন্তু এইধরণের আনুষ্ঠানিক কাজে সে কোনো আগ্রহ পায় না । কাজ শেষ হবার পরমেধাবী ছেলেটিকে সে অত্যন্ত নিষ্টুরভাবে পরিত্যাগ করেছে । তারপ্রয়োজন ছিল, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে হারিয়ে গেছে। কিন্তুএই বিষয়টি কেউ জানে না বলে লিডিয়ার ধারণা ছিল, দেখা যাচ্ছেধারণাটি সত্যি নয় । এই মানুষটি সেই ছেলেটির কেউ নয়, লিডিয়া জানেছেলেটির কেউ নেই । মানুষটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে আসে নি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে এই বিষয়টি নিয়ে কিছু করার ক্ষমতাওনেই । মানুষটি পুলিশ বা ডিটেকটিভ এজেন্সী থেকে হতে পারে, সেটিঘটবে যদি মানসিক ভারসাম্যহীন মেধাবী ছেলেটি নির্বুদ্ধিতা করেআত্মহত্যা করে থাকে এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে এই ঘটনাটির কথা লিখেগিয়ে থাকে | ছেলেটি ভীতু প্রকৃতির ছিল তার পক্ষে আত্মহত্যার মতোসাহসের কাজ করা সম্ভব বলে মনে হয়নি | যেটাই ঘটে থাকুক লিডিয়াকেসতর্ক থাকতে হবে | সে তার জীবনে এই প্রথম নিজের ভেতর এক ধরণেরভীতি অনুভব করল ।
রোস্ট বীফের একটা টুকরো মুখে ঢুকিয়ে মানুষটা হঠাৎ শব্দ করেহাসতে শুরু করে । হাসতে হাসতে লিডিয়াকে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে বলল,
“তোমার ভয় পাবার কিছু নেই । আমি পুলিশ থেকে আসিনি ।”
লিডিয়া বলল, “আমি ভয় পাইনি ।”
কথাটি বলতে গিয়ে লিডিয়া এক ধরণের অপমান অনুভব করে । তার জীবনে সে সবসময় অন্য মানুষকে
নিয়ন্ত্রণ করেছে, অন্য মানুষেরা কখনো তার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেনি।লিডিয়া তার জীবনকে একটা দুর্ভেদ্য দেয়াল দিয়ে আড়াল করে রেখেছে ।সে কখনো ভাবেনি কেউ সেই দুর্ভেদ্য দেওয়াল ভেদ করে তার জীবনের
ভেতরে উকি দিতে পারবে । দেখা যাচ্ছে তার জীবনের ভেতর কেউ না কেউউকি দিয়েছে । মানুষটি যদি তার থিসিস লিখিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটি জানে
তাহলে সম্ভবত আরো অনেক কিছু জানে | লিডিয়ার জীবনে অনেক ঘটনাআছে যেগুলো জানাজানি হলে তাকে দীর্ঘ দিন জেলখানায় জীবন কাটাতেহবে।“আমরা দীর্ঘদিন থেকে তোমার জন্যে অপেক্ষা করে আছি । তুমি তোমারথিসিস জমা দিয়েছ এখন কাজ শুরু করতে পারবে । আমি তোমাকে একটা
চাকরী দিতে এসেছি ।”
লিডিয়া একটু অবাক হয়ে মানুষটার দিকে তাকাল । মানুষটা বেশ তৃপ্তি নিয়ে রোস্ট বীফের টুকরোটা চিবোতে চিবোতে বলল, "আমরা তোমার লেখাপড়ার ক্ষতি করতে চাইনি, তাই আগে আসিনি । এখন এসেছি।”
লিডিয়া তার কফির মগটি টেবিলে রেখে বলল, “তোমরা কারা?”
“বলছি । আগে বলি কেন তোমার কাছে এসেছি ।”
লিডিয়া শান্ত মুখে রিকার্ডো নামের মানুষটির দিকে তাকিয়ে রইল ।
রিকার্ডো বলল, “বছর তিনেক আগে আফ্রিকার একটা দেশে দুর্ভিক্ষহয়েছিল । দুর্ভিক্ষের কারণ ছিল জনসংখ্যা | তখন তুমি একটা প্রবন্ধ লিখে
সমস্যাটার সমাধান দিয়েছিলে, মনে আছে?”
লিডিয়া কোনো কথা বলল না। কথাটি সত্যি যে জনসংখ্যা এবংদুর্ভিক্ষের সে একটি অত্যন্ত সহজ সমাধান দিয়েছিল । প্রবন্ধটি যে সেলিখেছে সেটি কারো জানার কথা নয় । মানুষকে যে গবাদি পশুর মতোখাবারের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে পৃথিবীর মানুষ সেইসত্যটি গ্রহণ করার জন্যে প্রস্তুত নয়। জনসংখ্যাই হচ্ছে সমস্যা, খাবার হিসেবে ব্যবহার করেসেই জনসংখ্যাই কমিয়ে দেয়া যায় সেটি কেন কারো চোখে পড়েনি সেটি লিডিয়া কখনো বুঝতে পারেনি । পৃথিবীর মানুষলিডিয়ার সমাধানটি গ্রহণ, করেনি কিন্তু সেটি নিয়ে সারা পৃথিবীতে প্রচণ্ড
আলোড়ন হয়েছিল। প্রবন্ধটি কে লিখেছিল সেটি কেউ জানতে পারেনি অন্তত লিডিয়া তাই ভেবেছিল । এখন দেখা যাচ্ছে আর কেউ না জানলেও এইমানুষটি জানে।
রিকার্ডো বলল, “তুমি যে পদ্ধতিতে তোমার পরিচয়টি গোপনরেখেছিলে সেটি অসাধারণ । কিন্তু দেখতেই পাচ্ছ আমরা জানি | কীভাবেজানি সেটাও তোমাকে বলতে পারি- আমাদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
ব্যবহার করতে হয়েছে । আমাদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী একটাসুপার কম্পিউটার আছে, সেটা ব্যবহার করে তোমার লেখার স্টাইল
শব্দচয়ন বাক্যগঠন এই সবকে প্যারামেট্রাইজ করেছি । তারপর পৃথিবীরসকল প্রকাশিত লেখার সাথে মিলিয়ে দেখেছি । সেখান থেকে শর্ট লিস্ট করেতাদের খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে তোমাকে আলাদা করেছি। তুমি জান না,
আমরা দুইবার তোমাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছি । একটু অসাবধান থাকারকারণে দুইবারই তুমি আইনী ঝামেলায় পড়ে যেতে পারতে ।”
লিডিয়া প্রায় নিঃশ্বাস বন্ধ করে রিকার্ডোর দিকে তাকিয়ে থাকে ।তারপর আবার জিজ্ঞেস করে, “তোমরা কারা?”
মানুষটি পকেট থেকে একটা প্রাস্টিকের কার্ড বের করে টেবিলেরাখে । তারপর একটা টোকা দিয়ে সেটাকে টেবিলের অন্যপাশে লিডিয়ারদিকে পাঠিয়ে দিল । কার্ডের ওপর ছোট করে লেখা "এপসিলন" | লিডিয়া
কখনো এই প্রতিষ্ঠানের নাম শুনেনি।
রিকার্ডো বলল, “এপসিলনের নাম সারা পৃথিবীর খুব বেশী মানুষজানে না । এপসিলন যেসব কোম্পানীর মালিক, কিংবা পরিচালনা করে তারনাম কিন্তু সবাই জানে । যুদ্ধ জাহাজ থেকে ভাইরাসের প্রতিষেধক সবকিছুআমরা তৈরি করি । সারা পৃথিবীতে আমাদের ব্যবসা । সত্যি কথা বলতে কীরাষ্ট্র নাম দিয়ে আমরা পৃথিবীর মাঝে যে বিভাজন করেছি সেটি আমাদের
কাছে হাস্যকর একটি বিভাজন! আমরা রাষ্ট্রের ওপরের স্তর । পৃথিবীর যেকোনো রাষ্ট্রকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি । ছোটখাটো রাষ্ট্রের পরিবর্তন করতে চাইলে আমরা এক সপ্তাহে করতে পারি । খুব বড় রাষ্ট্র হলেবছরখানেক লাগতে পারে ।”
“তুমি আমাকে এসব কেন বলছ?”
“তোমাকে দলে টানার জন্যে !”
“তাতে তোমাদের লাভ?”
“আমরা আমাদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছি তোমাদের মত কিছু মানুষদিয়ে ।”
সাথে চিবুতে চিবুতে গলা নামিয়ে বলল, “হ্যাঁ! তোমাদের মত মানুষ ।যাদের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, যারা অসম্ভব সৃজনশীল, যাদের উচ্চাকাংখারকোনো সীমা পরিসীমা নেই । কিন্তু যাদের ভেতর কোনো মানবতা নেই
তাদেরকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারে না । কারণ তাদের ভেতর বিবেক বলেকিছু নেই। তারা বিন্দুমাত্র অপরাধবোধ ছাড়া যে কোনো ধরণের অন্যায়
করতে পারে ! তুমি হচ্ছ সেরকম একজন মানুষ ।”
লিডিয়া স্থির চোখে রিকার্ডোর দিকে তাকিয়ে রইল, এর আগে কেউতাকে এতো সোজাসুজি এই কথাগুলো বলেনি । রিকার্ডো হাসার মত ভঙ্গীকরে বলল, “তুমি যদি এপসিলনের কোর টিমে যোগ দাও তাহলে হয়তো
তুমি বেঁচে যাবে, কারণ আমরা তোমাকে নিরাপত্তা দেব | যদি যোগ না দাওআজ হোক কাল হোক তুমি কোনো একটা ভুল করবে, ধরা পড়বে তারপরবাকী জীবনটা জেলখানায় কাটিয়ে দেবে ।”
লিডিয়া এবারেও কোনো কথা বলল না । রিকার্ডো ন্যাপকিন দিয়ে মুখমুছে নিচু গলায় বলল, “সাধারণ একজন মানুষ তার জীবনে কী চায়? একটাভালো চাকরী, ভালো বেতন, একটা পরিবার, ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, একটাবাড়ী, গাড়ী এইসব । আবার কিছু মানুষ কী চায়? খ্যাতি | বড় অভিনেতা,গায়ক, ফুটবল প্রেয়ার, লেখক, শিল্পী । আবার কিছু মানুষ কী চায়? নেতৃত্ব ।যাদের কথায় অন্য মানুষেরা উঠবে বসবে ।” রিকার্ডো এক মুহূর্ত চুপ করেসোজাসুজি লিডিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “আর তুমি কিংবা তোমার মত মানুষ কী চায়?”
লিডিয়া শীতল চোখে লিডিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল তারপর বলল, “তুমিই বল । আমি তোমার মুখ থেকেই শুনি |”
“তোমরা চাও চ্যালেঞ্জ । কিন্তু তোমরা যে চ্যালেঞ্জ চাও সেই চ্যালেঞ্জকেউ দিতে পারে না ।” রিকার্ডো বুকে হাত দিয়ে বলল, “আমরা পারি ।”
লিডিয়া তার কফির মগে একটা চুমুক দিয়ে বলল, “আমি যদিএপিসিলনে যোগ দিই আমাকে কী করতে হবে?”
“সেটা নির্ভর করবে তোমার ওপরে । তুমি যদি রাজনীতিতে আনন্দপাও তাহলে আফ্রিকা এশিয়ার দেশগুলোর সরকার পতন করাতে পার । যদিব্যবসাতে আনন্দ পাও তাহলে পৃথিবীর বড় বড় কোম্পানীকে কেনা বেচাকরতে পার । যদি বিজ্ঞানে আনন্দ পাও নৃতন কিছু তৈরী করে বাজারজাতকরতে পার ৷ এটা পুরোপুরি তোমার ইচ্ছের উপর নির্ভর করে । আমি শুধু
বলতে পারি যে বিষয়েই তোমার আগ্রহ থাকুক তুমি সেটা এখানে খুঁজেপাবে |”
“আমি কার সাথে কাজ করব?”
নিকার্ডো হাত নেড়ে পুরো বিষয়টি উড়িয়ে দিল, বল, "ডিটেলস। তুমি নিশ্চিত থাক এগুলো কোনো সমস্যা নয় । যে যেভাবে কাজ করতে চায়সে সেভাবে কাজ করবে । তোমাকে আমাদের সাথে তাল মিলাতে হবে না।আমরা তোমাদের সাথে তাল মিলাব ।”
লিডিয়া কোনো কথা বলল না, তার ভেতরে যে শেষ প্রশ্নটি ছিলরিকার্ডো নামের মানুষটা নিজেই তার উত্তর দিল, বলল, “আমরা কখনোকারো সাথে বেতন নিয়ে কোনো কথা বলিনি কারণ সেটা ইস্যু না । তোমাকে
যে প্রাস্টিকের কার্ডটা দিয়েছি সেটা একটা ক্রেডিট কার্ড । তুমি যত ইচ্ছাটাকা খরচ করতে পার ।”
“যত ইচ্ছা?”
“হ্যাঁ । যত ইচ্ছা । আমার কথা বিশ্বাস না করলে এখান থেকে বেরহয়ে বি.এম. ডব্লিউয়ের শো রুমে গিয়ে একটা গাড়ী কিনে দেখতে পার ।”
লিডিয়ার মুখে একটা সূক্ষ্ম হাসি ফুটে উঠল, সে হাসতে অভ্যস্ত নয়, তাই তার হাসিটিতে কোনো আনন্দের চিন্হ নেই | লিডিয়া প্রাস্টিকের কার্ডটাহাতে নিয়ে সেটাকে উল্টে পাল্টে দেখে আবার টেবিলে রেখে দিল ।
রিকার্ডো বলল, “আমি চাই তুমি একটা গাড়ী কিনো । তাহলে বুঝবতুমি এপসিলনে যোগ দেবে বলে ঠিক করেছ ।”
লিডিয়া বলল, “তুমি যা যা বলতে এসেছ তার সবকিছু কী বলেফেলেছ?”
“না । দুটি জিনিষ এখনো বলা হয়নি ।”
“কোন দুটি জিনিষ?”
“যিনি এপসিলনকে গড়ে তুলেছেন তার কথা বলা হয়নি। খুব বেশীমানুষ তাকে দেখেনি । তিনি কিন্তু সবাইকে দেখেন । এপসিলনে তুমি যদিযোগ দাও আর তুমি যদি খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পার তিনি হয়তোসরাসরি তোমার সাথে দেখা করবেন । তার সাথে হয়তো তোমার দেখাহবে ।”
লিডিয়াটা জিজ্ঞেস করল, “আর দ্বিতীয়টি |”
“দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, এপসিলন কিন্তু একমুখী রাস্তা । তুমি এখানেযোগ দিতে পারবে কিন্তু কখনো এপসিলন ছেড়ে যেতে পারবে না |”
“ছেড়ে যেতে পারব না?”
“না ।” এই প্রথম রিকার্ডোর মুখটা কঠিন হয়ে যায়, প্রায় শোনা যায়না এরকম গলায় বলল, “কেউ যে কখনো ছেড়ে যায়নি তা নয়। ছেড়েগিয়েছে । তারা এপসিলন আর পৃথিবী এক সাথে ছেড়ে গিয়েছে ।”
লিডিয়া কয়েকমুহুর্ত রিকার্ডোর দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর তার হাতের প্লাস্টিকের কার্ডটি রিকার্ডোর দিকে এহিয়ে দিয়ে বলল,
"আমি এপসিলনে যোগ দিতে চাই না।”
রিকার্ডো হা হা করে হেসে উঠল, বলল, “যোগ দিতে না চাইলে দিওনা। কিন্তু কার্ডটা রেখে দাও | কাজে লাগবে । তা ছাড়া--”
“তাছাড়া কী?”
“আমরা যখন কাউকে আমাদের কার্ড দিই আমরা সেটা আর ফিরিয়েনিই না।”
“তার মানে_”
রিকার্ডো হাত তুলে লিডিয়াকে থামাল । বলল, “তোমাকে মুখ ফুটেকিছু বলতে হবে না । সাধারণ মানুষেরা মুখ ফুটে কথা বলে । তোমার আমার
মত মানুষের মুখ ফুটে কথা বলতে হয় না। কথা না বলেই আমার তথ্যআদান প্রদান করতে পারি ।”
রিকার্ডো লিডিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল । কথা না বলে তথ্য আদানপ্রদান বলতে কী বোঝানো হয় বিষয়টা হঠাৎ করে লিডিয়া বুঝতে শুরুকরে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now