বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দস্যি মেয়ে (শেষ পর্ব)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হোমায়রা ইয়াসমিন (০ পয়েন্ট)

X অহনাকে পেয়ে মেঘ কান্নায় ভেঙে পরে।এযেন দুই বোনের অনেকদিন পর দেখা... :একটুও কাঁদবি না তুই।রোদের জন্য আমাদের সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে নিজেকে আড়াল করলি।এখন তো সেই রোদের সাথেই আছো :রোদের সাথে আমার বিয়ে হবে এটা আমি কল্পনাও করতে পারি নাই।আর ওর সাথেই আমার বিয়ে হয়েছে এটা আমি বিয়ের পর জানতে পারছি :তুই এমন করলি কেন মেঘ।এভাবে নিজেকে লুকালি কেন।আমরা তোকে কত খুঁজেছি... :ঐদিনের ঐ ঘটনার পর লজ্জায় আর কলেজে যেতে পারি নাই রে। আসলে রোদের কোনো দোষ ছিলো না আমি ওকে সত্যি খুব বেশি বিরক্ত করতাম.. :হুম তোর দোষ ছিল কিন্তু ও একটু বেশি বলেছিল :ওর ঐদিনের কথা গুলোর জন্যই আজ আমি নিজেকে এতটা পরিবর্তন করতে পারছি :হুম তো আপনাদের সংসার তাহলে ভালোই চলছে :হুম :শুধু হুম কিরে :আরে খুব ভালোই চলছে।এ বাসার সবাই আমাকে খুব ভালবাসে :আর রোদ? :হুম ভালবাসে,খুব ভালবাসে আমাকে।সব সময় আমার খেয়াল রাখে,সময় করে ঘুরতে নিয়ে যার আর কয়েদিন আগে তো কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসলাম... রোদ দরজার আড়ালে দাড়িয়ে সবকিছু শুনছিল।ওর চোখে পানি এসে যায়।মেঘ মিথ্যে কথাগুলো কত সুন্দর সাজিয়ে বলছে আমাকে বড় রাখার জন্য ।রোদ মনে মনে ভাবতে থাকে। অহনাকে রোদ এগিয়ে দিতে যায়।অহনা আর রোদ হাটছে..... :রোদ মেঘ তোমাকে খুব ভালবাসে ওরে কোনো কষ্ট দিও না। :হুম,ও সত্যি খুব ভালো একটা মেয়ে বুঝতে আমার একটু দেরি হয়েছে... :দেরি হলেও বুঝতে তো পারছো।আর শোন ও মনে হয় একটু অসুস্থ চেহারা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।খেয়াল রেখো।ভালো থেকো তোমারা। অহনা রিকশা নিয়ে চলে যায়। রোদ মেঘের জন্য বেলি ফুলের মালা কিনে নেয়।আজ নিজের হাতে বেলি ফুলের মালা মেঘের খোপায় পড়িয়ে দিবে।মেঘকে নিয়ে হাজারো ভাবনা ভাবতে ভাবতে রোদ বাসার যায়।দরজায় নক করে কেউ দরজা খুলে না পরে খেয়াল করে দরজায় তালা দেয়া।রোদ ওর মাকে ফোন দেয়.... :তোমরা কোথায়?দরজায় তালা কেন :তোর শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।আমরা সেখানে আছি :কোন ক্লিনিকে :বাসায় আনছে :ও আমি আসছি রোদ মালাটা পকেটে নিয়ে মেঘদের বাসায় যায়।মেঘ ওর মায়ের পাশে বসে আছে।মেঘকে দেখার পর রোদের যেন বুকটা চিনচিন করে উঠলো এমন অনুভূতি রোদের আর কখনো হয় নি।রোদ নিজের মনকে অনেক কষ্টে স্থির করে একটা চেয়ার নিয়ে শাশুড়ির কাছে বসে... :মা এখন কেমন লাগছে :এইতো বাবা ভালো :কি হয়েছিল :একটু মাথা ঘুরিয়ে পরে গেছিলাম সবাই কথা বলছে।কারো কথায় মন নেই রোদের ও শুধু একটু পর পর মেঘকে দেখছে যেন হাজার বছর দেখলেও তৃষ্ণা মিটবে না।রোদ কখনো বুঝতেই পারে নাই ও মেঘকে এতটা ভালবাসছে।ও একটু মেঘকে একান্তে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।কিছুক্ষণ পরে মেঘ ওর রুমে যায়।রোদও ওর পিছনে পিছনে যায়.... :কিছু বলবে :হুম :বলো :আজকে কি এখানে থাকবে :হুম থাকতে তো হবেই :ও আচ্ছা রোদ বিছানার উপর বসে।মেঘ রোদকে কিছু নাস্তা এনে দেয়.... :তুমি বসো মেঘ :বসলাম :তুমিও খাও :আমার খেতে ইচ্ছে করছে না :নেও তো রোদের ব্যবহার মেঘকে অবাক করে। :কি ভাবছো মেঘ :কিছু না :মেঘ আমি তোমার জন্য.... কথাটা শেষ করার আগেই মেঘকে ডাক দেয়।মেঘ মায়ের রুমে যায়।রোদ বেলি ফুলের মালাটা পকেট থেকে বের করে হাতে নিয়ে তাকিয়ে থাকে। অস্থিরতা ওকে ঘিরে ধরে। রাতে মেঘের শ্বশুর-শাশুড়ি বাসায় চলে যায়।আর রোদকে থাকতে বলে। রোদ রুমে মেঘের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পরে।সকালে নামায পড়ার জন্য যখন উঠে তখন দেখে মেঘ নিচে ঘুমিয়ে আছে।রোদের নিজের প্রতি খুব ঘৃনা হয়।এতটা নিষ্ঠুর কিভাবে হলো ভেবে পায় না রাগ মানুষকে কতটা নিচে নামাতে পারে রোদ সেটাই ভাবে.... :মেঘ নামায পড়বে না,ওঠো :হুম(ঘুমের ঘোরে বলল) রোদ এই প্রথম মেঘের চুল স্পর্শ করে।মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।হঠাৎ খেয়াল করে মেঘের গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।রোদ মেঘকে কোলে করে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দেয়।মাথায় জলপট্টি দিয়ে নামায পড়তে যায়।নামায পড়ে এসে দেখে মেঘ রুমে নাই।খুজে দেখে বারান্দায় দাড়িয়ে আছে... :জ্বর নিয়ে এই বাতাসে দাড়িয়ে আছো কেন :প্রতিদিন ভোর হওয়া দেখাটা অভ্যাস হয়ে গেছে :চলো শুয়ে থাকবে :তুমি যাও আমি আসছি :আমার সাথে আসবে মেঘ কিছু না বলে রোদের সাথে রুমে আসে... :জ্বর কয়দিন থেকে তোমার :জ্বর তো প্রতিরাতেই আসে :বলো নি কেন আমাকে মেঘ হাসে.. :হাসছো কেন :বলে কি হতো :ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতাম :তাই,আচ্ছা আমি একটু রান্নাঘরে যাই :তোমার তো জ্বর :জ্বর শুধু রাতেই দিনে থাকে না মিস্টার মেঘ মৌন একটা হাসি দিয়ে চলে যায়।রোদ নাস্তা করে বাসায় যায়। তিনদিন মেঘ ওদের বাসায় থাকে।মেঘের মা অনেকটাই সুস্থ তাই রোদ এসে মেঘকে নিয়ে যায়... সেইদিনের বেলি ফুলের মালাটা শুকিয়ে যায়।তাই রোদ একটা মালা নেয় আর নেয় মেঘের প্রিয় ফুল একগুচ্ছ কৃষ্ণচূড়া।রোদ মেঘকে ফোন দেয়.... :হ্যালো,মেঘ :বলো :আজকে রাতে আমার এক বন্ধুর বাসায় যাবো।দাওয়াত দিছে।তুমি তৈরি হয়ে থেকো আমি এসে নিয়ে যাবো :আমাকে নিয়ে যাবেন(অবাক হয়ে) :হুম,শোন নীল শাড়িটা পড়বে।আর চোখে কাজল পরবে :হুম :আর শোন :বলো :হালকা গোলাপি লিপস্টিক পড়বে :হুম,রাখি তাহলে :আচ্ছা মেঘ রোদের কথা শুনে অবাক।মেঘ ভাবছে সবকিছু কি তাহলে ঠিক হয়ে যাচ্ছে।মেঘ অনেকদিন পর মনে অনাবিল আনন্দ নিয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে মনের মতো করে পরিপাটি করছে।মেঘ আয়নার সামনে বসে যখন চোখে কাজল পরছে ওর মনে হলো রোদ ওর কানের কাছে মুখটা এনে ফিসফিস করে বলছে... "মেঘ তুমি এত সুন্দর কেন" মেঘ লজ্জায় হাত দিয়ে মুখটা ঢেকে ফেলে।হাতটা সরিয়ে যখন দেখে রোদ নেই তখন আনমনে হেসে ওঠে মেঘ। রোদ বাসায় আসে রুমে যেয়ে দেখে মেঘ সেজে বসে আছে।রোদ নিজের পোশাক পাল্টে নেয়... :চলো আমার হয়ে গেছে :হুম চলো :দাড়াও :কেন :আমার সামনে আসো মেঘ রোদের সামনে দাড়ায়।রোদ বেলি ফুলের মালাটা মেঘের খোপায় পরিয়ে দেয়।রোদ নিজের অজান্তে মেঘের কপালে একটা চুমু এঁকে দেয়।রোদের হঠাৎ এমন আচরনে মেঘ অবাক হয়ে যায়।দু'জন কিছুক্ষণ চুপ হয়ে দাড়িয়ে থাকে... :চলো দেরি হয়ে যাচ্ছে(রোদ) মেঘ আর রোদ বাবা-মা কে বলে বাসা দিয়ে বের হয়।দু'জনে চুপচাপ হাটতে থাকে... :রোদ আর কত দূর হাটবো,তোমার বন্ধুর বাসা কতদূর :আজকে রাতটা সুন্দর না :হুম,তোমাকে আমি কি বলি :কত সুন্দর জ্যোৎস্না রাত :তুমি কি সত্যি তোমার বন্ধুর বাসায় যাবে :না(রোদ মেঘের হাতটা ধরে) চলো হাটি অনন্ত পথ। :রোদ বাসায় চলো আমার ভালো লাগছে না :কেন? :আমার মাথা ঘুরাচ্ছে মেঘ কাশি দিতে শুরু করে।ইদানীং মেঘের কাশিটা বেড়ে গেছে।রোদ সোডিয়ামের আলোতে দেখলো মেঘের কাশির সাথে কালো কি যেন বের হচ্ছে।পরে মোবাইল দিয়ে লাইট জ্বালিয়ে দেখে রক্ত।মেঘ অজ্ঞান হয়ে পরে যায়। ডাক্তার মেঘের রিপোর্ট দেখছে।সামনে রোদ,রোদের বাবা আর শ্বশুর চিন্তিত মুখে বসে আছে। :ডাক্তার আমার মেয়ের কি হয়েছে :আপনাদের একটু শক্ত হতে হবে :কি হয়েছে আমার মেঘের :মেঘের.. :কি?(রোদ উত্তেজিত হয়ে) :মেঘের ব্লাড ক্যান্সার.. :চুপ করেন আপনি মিথ্যা বলছেন... :শান্ত হোন আপনারা।এই রোগী যে কোন সময় চলে যেতে পারে না ফেরার দেশে।আর ওর রোগটা এমন সময় ধরা পড়ছে আমাদের হাতে কিছু করার নেই।ওর জীবনের শেষ মুহূর্ত গুলো ওর সাথেই থাকার চেষ্টা করুন আপনারা মেঘ বেডে শুয়ে আছে সবাই ওকে ঘিরে বসে আছে।রোদ একটু দুরে দাড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে মেঘের দিক তাকিয়ে আছে। রাতে সবাই বাসায় চলে যায় শুধু রোদ থাকে।রোদ মেঘের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়.... :রোদ :বলো মেঘ :আমি আর বেশিদিন তোমাদের সাথে থাকতে পারবো না তাই না :কে বলছে এসব ফালতু কথা সামান্য অসুখ হয়েছে আর দু একদিন পর বাসায় যাবে তুমি :রোদ আমি সব জানি,লুকানোর কি আছে।তাছাড়া ভালোই হলো আর মাস খানেক পর তো তোমাকে ছেরে চলে যেতে হতো যা আমি সহ্য করতে পারতাম না।তার চাইতে একবারে চলে যাবো :চুপ থাকো মেঘ,তোমার কিছু হবে না :রোদ ভালো দেখে একটা মেয়ে বিয়ে করো আবার না দেখে আমার মতো দস্যি মেয়ে বিয়ে করো না :মেঘ আমি তোমাকেই চাই।আমি চাই তুমি সারাজীবন আমাকে বিরক্ত করো।মেঘ আমি তোমাকে ভালবাসি... :রোদ আমি ধন্য হলাম তোমার মুখ থেকে ভালবাসি শব্দটা শুনে।যে শব্দটা শোনার জন্য আমার এতো অপেক্ষা।রোদ আমার যে নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করছে।রোদ আমাকে তোমার বুকের ভিতর আটকিয়ে রাখতে পারবে না?মৃত্যুর কাছ থেকে জোর করে রাখতে পারবে না রোদ মেঘকে বুকে জরিয়ে ধরে... :পারবো মেঘ তোমাকে কেউ আমার কাছ থেকে নিতে পারবে না রোদ পারলো না কথা রাখতে।মৃত্যু ওদের শেষমুহুর্তের ভালবাসায় বাধা হয়ে দাড়ালো।রোদের বুকেই মেঘ তার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ছাড়ে..... :মেঘ কথা বলো মেঘ।মেঘ আমাকে আর একটা সুযোগ দেও।আমি তোমাকে আর কষ্ট পেতে দেবো না।কথা বলো মেঘ আমি যে আরও একটা বেলি ফুলের মালা আনছি তোমার খোপায় দেবো বলে,প্লিজ ওঠো মেঘ......... রোদের পকেটের বেলি ফুলের মালাটা যেভাবে শুকিয়ে যায় একসময় নানারকম ব্যস্ততায় মেঘ নামটিও হারিয়ে যেতে থাকে রোদের মন থেকে।মাঝে মাঝে শুধু সিগারেটের টানের সাথে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে রোদ। "সমাপ্ত"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now