বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দস্যি মেয়ে (০২)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হোমায়রা ইয়াসমিন (০ পয়েন্ট)

X কলেজের সেই ঘটনার তিন বছর পর........... মেঘ বধু সেজে বাসর ঘরে বসে আছে।এই তিন বছরে রোদকে অনেকটা ভুলে গেলেও আজকে ওর কথা খুব মনে পড়ছে মেঘের।মেঘের চোখ থেকে অঝরে পানি পড়ছে কোনো বাধ মানছে না।পারিবারিক ভাবে মেঘের বিয়েটা হচ্ছে।যার সাথের মেঘের বিয়ে হচ্ছে তাকে কখনো দেখে নাই আর সেই ছেলেটাও মেঘকে দেখে নাই।মেঘ রোদের কথা মনে করে কাঁদছে।এর মধ্যে দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করল মেঘের বর।মেঘ তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিলো।মেঘ উঠে সালাম করে বিছানায় বসল।মেঘের বর ওর পাশে গিয়ে বসল....... :আমার নাম আদনান হাবিব রোদ... (নামটা শোনার পর মেঘের হৃদ স্পন্দন যেন বেরে গেলো) বাবা মায়ের একমাএ ছেলে।বাবা-মায়ের পছন্দে বিয়ে করব বলে কখনো প্রেম করি নাই।আমার বাবা-মা আমার সব তাদেরকে ভালবাসতে পাড়লে তোমার জন্য আমার ভালবাসাও অফুরন্ত।আর অবশ্যই একজন ঘাটি বাঙালি মুসলমান মেয়ের মতো চলাফেরা করবে।অবশ্য আমার মা-বাবা তোমাকে তোমার সব গুন দেখে এনেছে ।তারপরও আমার কথা আমি বললাম।তোমার কোনো কথা আছে বলার। (মেঘ মাথা নাড়িয়ে না বলে দেয়।আর ভাবতে থাকে এর প্রতিটা কথার সাথে রোদের এতো মিল কোনো।তাহলে কি ওর সামনে বসা ছেলেটি রোদ।) :তোমাকে দেখার আগে তোমার হাতটা দেও এই আংটি টা পড়িয়ে দেই।অনেক আগে বানিয়ে রেখেছিলাম আজকের এইদিনের জন্য। মেঘ হাত বাড়িয়ে দেয়।আংটি পড়িয়ে দেওয়ার পর ছেলেটি মেঘের ঘুমটা আস্তে সরিয়ে ফেলে একরকম চিৎকার দিয়ে বলে.... :মেঘ তুমি!!!? :রোদ তুমি এখানে!? দু'জনে কিছুক্ষণ চুপ হয়ে যায়... :মেঘ তুমি জানতে আর এখন কিছু না বোঝার ভান ধরছো তাই না :আমি কি করে জানবো আমি তো বিয়ের আগে তোমাকে দেখি নাই আর..... :চুপ থাকো তোমাকে আমি ভালো করে চিনি।তোমার মতো দস্যি মেয়ে সব কিছু পারে।আমার বাবা-মার সাথে অভিনয় করে এই ঘরে আসছো।কিভাবে পারো এসব.... :তুমি কিন্তু বেশি বলছো আমি এই ব্যাপারে কিছু জানিনা।তোমার মামা এই বিয়ের ঘটক ছিলেন,তুমি তা জানো.. :চুপ থাক আমি খুব ভালো করে তোকে চিনি।তোর ভালো সাজার মুখোশ আমি সবার কাছে খুলে দিবো।আর তোর মতো মেয়ের সাথে সংসার করা আমার পক্ষে সম্ভব না।ছয়মাস তো একসাথে থাকতে হবে।এই কয়দিন তুই তোর মতো থাকবি আমি আমার মতো মনে থাকে যেন... মেঘের মুখ থেকে কোনো কথা বের হয় না।যেন বোবা হয়ে গেছে।সবকিছু ওর কাছে দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে মনে হয় ঘুমটা ভেঙে গেলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। রোদ পোশাক পাল্টে বিছানায় ঘুমাতে আসে।তারপর মেঘও বিছানায় শোয়ার জন্য যায়..... :শোন তুই আর আমি একসাথে থাকতে পারবো না ,হয় তুই বিছানায় থাকবি না হয় আমি :তুমি বিছানায় থাকো আমি নিচে ঘুমাবো মেঘ একটা বালিশ আর কাঁথা নিয়ে নিচে শুয়ে পরে।মেঘের শুকনো বালিসটা ধীরে ধীরে ভিজে যায় মেঘের বৃষ্টির স্রোতে। ফজরের আযানের সময় ঘুম ভাঙে মেঘের নামাজ পড়তে উঠে।রোদ তখন নামাযে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে চলে যায়।রোদ নামায শেষে এসে দেখে মেঘ কুরআন তেলাওয়াত করছে।রোদ একটু অবাক হয়। মেঘের কুরআন তেলাওয়াত শেষ হলে রুমটা পরিপাটি করতে থাকে।রোদ তখন বিছানায় শুয়ে আছে... :তুমি কুরআন পড়তে পারো তা শিখলে কবে। :আগে থেকেই পারি :ও আমি তো ভাবলাম আমার বাবা-মা কে পটানোর জন্য ধার্মিকতায় মন দিছো :তুমি যা ইচ্ছা মনে করতে পারো মেঘ কথাটুকু বলে বারান্দায় যায়।হিমেল হাওয়া বইছে।মেঘের চুল গুলো বাতাসে উড়ে এসে ওর মুখের সাথে লেপ্টে যাচ্ছে।চোখের পানিতে চুলগুলো চিবুকেই লেগে আছে।সরিয়ে দেওয়ার কেউ নেই।মেঘ ওখানে দাড়িয়ে ভোর হওয়া দেখে।মেঘের খুব ইচ্ছে ছিল বিয়ের পর প্রথম প্রভাতে দু'জনে হারিয়ে যাবে প্রকৃতির মাঝে।হাতে হাত রেখে খালি পায় ঘাসের উপর নরম পরশ বুলিয়ে হাটতে থাকবে নদীর তীর ধরে।মেঘ চিন্তার জগৎতে হারিয়ে যায়।এমন সময় মেঘের চাচাতো ননদ আসে..... :কি করছো ভাবি হঠাৎ কথা শুনে মেঘ চমকে উঠে.. :কি ভাবি ভয় পেলে নাকি।তোমাদের খাবার টেবিলে দিয়ে গেছি।আজকে দু'জনে একান্ত ভাবে খাওয়া-দাওয়া করো কালকে থেকে সবার সাথে খেতে হবে :তুমিও বসো তুবা আমাদের সাথে নাস্তা করবে :না না না তা হবে না।আমি কাবাবের ভিতর হাড্ডি হতে পারবো না তুবা চলে যাওয়ার পর মেঘ রোদকে ঘুম থেকে ডাকতে যায় কিন্তু সাহস পায় না।অনেক সাহস নিয়ে রোদকে ডাক দেয়.. :রোদ শুনছো নাস্তা দিয়ে গেছে খাবে না রোদের ঘুম ভাঙে না।তাই মেঘ হাত দিয়ে হালকা ধাক্কা দেয় রোদকে।রোদ ঘুমের ভিতর আনমনে মেঘের হাতটা ধরে।মেঘ ছারাবার চেষ্টা করতে থাকে এর ভিতর রোদের ঘুম ভেঙে যায়।রোদ মেঘের হাতটা ছেরে দেয়... :নাস্তা দিয়ে গেছে :হুম আমি ফ্রেস হয়ে আসছি রোদ ফ্রেস হয়ে এসে খেতে শুরু করে মেঘ চুপ করে বসে আছে নিচের দিকে.. :কি খাচ্ছো না কেন।ছয়মাস পর কি হবে তা নিয়ে এখন ভেবে খাওয়া বন্ধ করলে হবে রোদ এতটা নিষ্ঠুর আচরন কিভাবে করতে পারে মেঘ তাই ভাবে। আর কিছু না খেয়ে উঠে যায়।রোদ খাওয়া শেষ করে বাহিরে চলে যায়। দুপুরে রান্না মেঘ নিজ হাতে করে।সবাই দুপুরে একসাথে খেতে বসে.. :বৌমার হাতের রান্না তো অনেক মজা হইছে(রোদের বাবা বলে) :হুম ভাবি অসাধারণ রোদের এসব সহ্য হচ্ছে না।এতো তাড়াতাড়ি মেঘ কিভাবে সবার সাথে মিশে গেলো।রোদ খাবার পুরোটা না খেয়ে রুমে চলে যায়।বিকেলবেলা রোদ বাহিরে যায় আসে অনেক রাত করে যা বাড়ির সবার নজরে পরে।রাতে খাওয়া শেষ হলে সবাই যার যার রুমে যায়।মেঘ আর মেঘের শাশুড়ি তখনও রান্নাঘরে টুকটাক কাজ করছে.... :বৌমা এখানে তোমার সব কিছু ঠিক আছে তো :জ্বী মা :কোনো সমস্যা হলে অবশ্যই আমাকে বলবে কেমন :আচ্ছা মা :যাও এখন অনেক রাত হয়েছে মেঘ রুমে এসে দেখে রোদ ঘুমিয়ে পরেছে।মেঘ একটা বালিস নিয়ে মেঝেতে শুয়ে পরে পরের দিন বৌ-ভাত মেঘের বাড়ি থেকে মেঘকে নিতে আসে।রোদও যায় এটাই নিয়ম।আর শুধু বাবার কথা চিন্তা করে মেঘের বাড়িতে যায় রোদ।সারাদিন অনেক ব্যস্ততায় কাটে।রাতে দু'জন রুমে ঘুমাতে আসে.... :শোন মেঘ এখন তোমাদের বাড়িতে আসছি তো তুমি বিছানায় ঘুমাও আমি নিচে.... :না,আপনিও ঘাটে শুবেন আর আমিও :কি বলছো তুমি :কেন কানে শুনতে পাও নি :মেঘ মাথা গরম করবা না :কেন বলছো না আমি দস্যি মেয়ে তো দস্যিপনা তো দেখাতে হবে :আসলেই কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না।খারাপ কখনো ভালো হতে পারে না।বাবা-মার সামনে তাহলে ভালো সাজার মানেটা কি :হুম ঠিক বলছো খারাপ কখনো ভালো হয় না। তুমি ঘুমাও আমি একটু আসছি মেঘ একটা বই নিয়ে বারান্দায় চলে যায়।ইজি চেয়ারে বসে বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পরে... মেঘদের বাড়ি তিন-চার দিন থাকার পর রোদ মেঘকে নিয়ে ওদের বাসায় আসে। রোদ সারাদিন অফিসে থাকে আর রাতে বাসার এসে বই লেপটপ এসব নিয়ে থাকে খুব প্রয়োজন ছাড়া কথা হয় না ওদের। দেখতে দেখতে দু'মাস কেটে যায়।মেঘ আর রোদের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয় না।কিন্তু বাসার কেউ ওদের এই কথা জানতে পারে না। বাসার সবার অনুরোধে রোদ মেঘকে নিয়ে কক্সবাজার যেতে হয়।দু'জনের অনিচ্ছা স্বত্বেও যেতে হয় পরিবারকে বুঝাতে যে তারা একটা পরিপূর্ণ খুশি দম্পতি।ওরা বাসে করে যায়।যাওয়ার সময় মেঘ জানালার পাশে বসে।গাড়ির হালকা দোলনে দুলতে দুলতে মেঘ ঘুমিয়ে পরে।মেঘ ঘুমের ভিতর রোদের কাঁধে শুয়ে পরে মেঘের চুলগুলো রোদের মুখ ছুঁয়ে যায়।রোদ একবার ভাবে সরিয়ে দিবে কিন্তু মেঘের নিষ্পাপ মুখের দিক তাকিয়ে তা আর পারে না। গাড়ি এসে গন্তব্যে থামে।দু'জনে রিকশা করে হোটেলে যায়।বিশ্রাম নিয়ে বিকালে সৈকতে যায়।অন্যরকম একটা ভালো লাগা ছুঁয়ে যায় মেঘকে কিছুসময়ের জন্য ওর মনের সমস্ত মেঘ কেটে যায়।ও কোনো বাধা না মেনে রোদের হাত দুটো ধরে দৌড় দিয়ে সমুদ্রের জলে পা ভিজায়।হাত দিয়ে পানি ছিটিয়ে রোদকে ভিজিয়ে দেয়।এ যেন সেই আগের দুষ্ট মেঘ।মেঘের এই পাগলামো রোদের সহ্য হয় না।মেঘের হাত থেকে নিজের হাতটা ছারিয়ে নেয়.... :চল রুমে যাব :আর একটু থাকি রোদ :বলছি না চলো মেঘ মন খারাপ করে রোদের সাথে রুমে যায়। পরেরদিন হালকা ঘুরাঘুরি আর সবার জন্য কেনাকাটা করে।দু'জনের কথা খুব কম হয়।তিন দিন থাকার পর বাড়িতে চলে আসে ওরা। মেঘ দিন গুনতে থাকে আর ভাবে রোদ কি যা সিদ্ধান্ত নিছে তাই করবে।ও আমার জীবন থেকে আবারও হারিয়ে যাবে।কিভাবে থাকবো আমি। রোদের জন্মতারিখটা মেঘ আগে থেকেই জানে।আগে কখনো রোদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায় নাই মেঘ।এটাই যেহেতু রোদের সাথে প্রথম আর এটাই হয়তো শেষ।তাই মেঘ একটু আলাদা করে দিনটা পালন করবে বলে ভাবে।তাতে রোদ যা খুশি মনে করুক। রাতে রোদ অন্য রুমে বসে টিভি দেখছে।দেখা শেষ করে রুমের সামনে আসে।কিন্তু রুমের দরজা ভিতর দিয়ে বন্ধ করা।রোদ অনেক বার নক করো কিন্তু কোনে সারা শব্দ নেই।প্রায় দশ মিনিট দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকে।বাবাকে ডাকতে চায়।রোদ খুব ভয় পায় আর চিন্তিত হয়ে পরে।আবারও দরজায় নক করে আর দরজাটা মেঘ খুলে দেয় দরজা খোলার সাথে সাথে রোদ জোড়ে একটা থাপ্পড় মারে মেঘকে।মেঘ কিছু বলে না।শুধু রোদের হাতটা ধরে রুমের ভিতর এনে দরজা বন্ধ করে দেয় পুরো ঘরটা মোমবাতি আর ফুল দিয়ে সাজানো..... :হ্যাপি বার্থডে রোদ।শুভ জন্মদিন।তোমার আগামী দিনগুলো খুব ভালো কাটুক।আর মেঘ নামক ঝামেলাটা তোমার জীবন থেকে চিরতরে শেষ হয়ে যাক দোয়া করি। রোদ পুরাই অবাক হয়ে যায়।রোদ মেঘের দিকে তাকায় মোমের আলোতে অন্যরকম একটা সৌন্দর্য যেন ঘিরে আছে ওকে.... :দু'রাকাত নফল নামায পড়ে নতুন আর একটে দিন শুরু করবে চলো রোদ কিছু বলার ভাষা খুজে পায় না মেঘের সাথে নামায আদায় করে। :মেঘ :হুম :তোমাকে.. :দরকার নেই ধন্যবাদ দেওয়ার।অনেকদিন পর একটু না হয় দস্যিপনা করলাম।এটাই তো শেষ।ধন্যবাদ দিয়ে আমার এই আনন্দের দিনটা মলিন করবে না প্লিজ। একটা কথা বলব রোদ :হুম বলো :ভালো থেকো :হঠাৎ এইকথা কেন? :আজকে চার মাস হলো আর মাত্র দু'মাস তারপর তো..... (জোরে একটে নিঃশ্বাস ছাড়লো মেঘ) রোদ চুপ করে আছে ওর মনটাকেন জানি খারাপ হয়ে যায়।মেঘ আর থাকবে না ভাবতেই রোদের বুকটা খালিখালি লাগে।রোদ ঘুমিয়ে পরে একসময়।মেঘের রাতটা নির্ঘুম কাটে পরেরদিন রোদ অফিস থেকে ফেরার পথে... :এই যে রোদ,হ্যালো :আমাকে ডাকছেন :জ্বী,আপনি রোদ না?আমাদের সাথে পড়তেন :হ্যাঁ আমি রোদ আপনি? :আরে চিনো নাই আমি অহনা।মেঘের বান্ধবী :ও চিনছি।কেমন আছো? :ভালো।তুমি? :ভালো :ভালো তো থাকবাই।তোমার জন্য আমাদের বান্ধবীটা আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেলো।তিনটা বছর কোনো খোঁজ নাই ওর :মেঘ আমার সাথে আছে আমাদের বাসায়। তুমি ওর সাথে দেখা করতে চাইলে আমার সাথে আসতে পারো :অবশ্যই যাবো।কিন্তু ও তোমাদের বাসায় বুঝলাম না :বাসায় চলো সব বুঝবে (চলবে.........)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now