বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দস্যি মেয়ে (০১)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হোমায়রা ইয়াসমিন (০ পয়েন্ট)

X হ্যালো,মেঘ :হুম :কিরে এখনো ঘুমাস আজকে কলেজে নবীনবরণ ভুলে গেছিস নাকি? :হুম :আবারো কি হুম হুম করছিস।এই শোন আজকে আমরা সবাই শাড়ী পড়ব তুইও পড়বি কিন্তু। :মাথা খারপ নাকি তোর আমি পড়ব শাড়ী।আমি ওইসব পড়তে পাড়বো না তোরা পড়।আর শোন এতগুলো সুন্দরি পরী একসাথে থাকলে আমার মতো একজনের দরকার আছে। :তার মানে আজও তুই জিন্স টপস পড়বি? :অবশ্যই :তোর যা ইচ্ছা তৈরি হ রাখছি :বাই মেঘ পুরো নাম মেঘলা মেঘ।পুরোই দুষ্ট স্বভাবের মেয়ে।বাবা মার একমাত্র মেয়ে তাই বাবা রাখতে চেয়েছে ছেলদের মতো করে আর মা চেয়েছেন মেয়েদের মতো।শেষমেশ বাবার ইচ্ছাই সফল হলো।কলেজ শেষ করে পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়ার ইচ্ছা ছিলো মেঘের কিন্তু ওর বাবা মা রাজি হয় নি।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয় মেঘকে।একই কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়েছে ওরা তাই মোটামুটি সবাই পরিচিত। নবীনবণের দিন সবই খুব মজা করল।পরেরদিন সবাই ক্লাস করতে যায়।ক্লাসে শুরু হওয়ার অনেক পরে একটা ছেলে ক্লাসের দরজার সামনে দাড়ায়......... :আসতে পারি স্যার? :হুম আসো।এখানে দাড়াও।ক্লাস কয়টায় তোমার? :স্যার ১০টায় :এখন কত বাজে?প্রথম দিনেই দেরি। :স্যার এমনটা আর হবে না :ঠিক আছে।নাম কি তোমার? :আদনান হাবিব রোদ :আচ্ছা যাও বসো :ধন্যবাদ স্যার রোদ পিছনের দিকে বসল।স্যার ক্লাস শেষ করে চলে গেলেন।রোদের পাশে বসা ছিল অনি।রোদ আর অনির সাথে খুব ভাব হলো।এদিকে মেঘ রোদের সাথে কিভাবে মজা করা যায় তা নিয়ে বুদ্ধি আটতে থাকে। ক্লাস শেষ করে বাহির হওয়ার সময় মেঘ ইচ্ছা করে রোদের সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যায়। :ও বাবা রে মরে গেলাম(মেঘ) :সরি আমি দেখে দেই নাই(রোদ) :দেখে দেও নাই না।মেয়েদের দেখলেই ধাক্কা খেতে ইচ্ছা করে।চার চোখে দিয়েও দেখো না। মেঘের কথা শুনে সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠে। প্রথমদিন এরকম একটা ঘটনা ঘটবে রোদ বুঝতে পারে নি।রোদ লজ্জা পেয়ে চলে যায়। পরের দিন ক্লাসে রোদ আর অনি বসে গল্প করছে।এমন সময় ওদের সামনে মেঘ এসে বসল।রোদের চশমাটে খুলে নিয়ে নিজের চোখে পরে..... :তুমি আমার চশমা কেন নিয়েছো?(রোদ) :চশমাটা আমার চোখে তাই এটা আমার চশমা বেশি কথা বলছো তো স্যার কে বলব তুমি আমার চশমা নিয়েছো।(মেঘ) :মেঘ এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না রোদ এখানে নতুন আসছে ওর সাথে এমন করিস না।(অনি) :তুই চুপ থাক বেশি কথা যদি বল তাহলে কি করতে পারি বুঝোতো(মেঘ) স্যার ক্লাসে আসল সবাই যার যার জায়গায় বসল।মেঘ রোদের চশমা নিয়ে ওর জায়গায় বসল।ক্লাস শেষ হওয়ার পর মেঘ রোদের চশমা দিতে আসে রোদকে হাত আগাতে বলে কিন্তু রোদ যেদিকে হাত দেয় সেদিকে চশমা না দিয়ে অন্যদিকে দেয় আর চশমা নিচে পরে ভেঙে যায়।মেঘ চশমাটা রোদের হাতে দেয়.... :সরি রোদ আমি বুঝতে পারি নাই(মেঘ) :ঠিক আছে(রোদ) :কি ঠিক আছে তারমানে আমি তোমার চশমা প্রতিদিন ভাঙতে পারব।(মেঘসহ ক্লাসের সবাই হেসে দেয়।রোদ মন খারপ করে ক্লাস থেকে বের হয়।অনিও ওর সাথে বের হয়) :মন খারাপ করিস না ও এমনি(অনি) :আমার সাথে এমন করছে কেন।আমি ওরে কি করছি(রোদ) :আমিও তো বুঝলাম না কেন এমন করল তোর সাথে।থাক বাসায় চল। পরের দিন ক্লাস শেষ হওয়ার পর মেঘ ওর বান্ধবীদের নিয়ে ক্যান্টনে যায়।ওখানে বসেই সিংগারা খাচ্ছিল অনি আর রোদ।মেঘ ওদের পাশে একটা চেয়ার নিয়ে বসে।তারপর রোদের সিংগারা খেতে শুরু করে...... :কিরে মেঘ তুই রোদের খাবার খাচ্ছিস কেন?(অনি) gjমেঘ সিংগারা ঘুরিয়ে দেখে বলল)কই এখানে তো কারো নাম লেখা নেই।খাবার জিনিস ফেলে রাখতে হয় না। :মেঘ তোর সমস্যা কোথায় রোদের সাথে এমন করছিস কেন?তুই এমন কেন?(অনি) :কারন আমি এমনই(মেঘ হাসি দিয়ে উঠে গেলো) এভাবে চলতে থাকলো ওদের।মেঘ রোদকে বিরক্ত করে মজা পেত কারন রোদ বরাবরই নিরব।কখনো কোন প্রতিবাদ করত না। দেখতে দেখতে তিনটা বছর কেটে যায়।সবার সাথে সবার বন্ধুত্ব হলেও মেঘ আর রোদের বন্ধুত্ব হয়ে ওঠে না।প্রথম দিকে মেঘ রোদকে বিরক্তি করলেও পরে ঠিক হয়ে যায়।কিন্তু রোদ মেঘকে সহ্য করতে পারে না।মেঘ ওর সাথে অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। ইদানীং মেঘ রোদকে খুব অনুভব করতে থাকে।না দেখতে পারলে অস্থির হয়ে যায়।মেঘ অনির কাছ থেকে রোদের মোবাইল নাম্বার নেয়।রাতে খুব ভয় আর আতংক নিয়ে রোদকে কল করে। :হ্যালো(রোদ) :হ্যালো(কাঁপা গলায় মেঘ) :কে বলছেন? :আমি মেঘ :আমি কোনো মেঘকে চিনিনা :আমি মেঘলা মেঘ।তোমার সাথে পড়ি :ও কেন ফোন দিছো? :কথা ছিল।একটু সময় হবে ? :না।আমি ব্যস্ত আছি(রোদ ফোনের লাইন কেটে দেয়।মেঘ আর ঐরাতে ফোন দেয় না রোদকে) পরের দিন ক্লাস শেষে রোদ আর অনি ক্যাম্পাসে হাটতে থাকে এমন সময় রোদ এসে ওদের সামনে দাড়ায়। :অনি তুই একটু যা আমার রোদের সাথে কথা আছে(মেঘ) :তুই আবার কিছু করবি না তো ওরে(অনি) :কিছু করব না যা তো(মেঘ) :কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো(রোদ) :হুম বলব।চল সামনে বসি। :বসতে হবে কেন।এখানে বলো। (মেঘ রোদের হাত ধরে নিয়ে গাছের নিচে বেঞ্চিতে বসে) :রোদ আমি তোমাকে খুব বিরক্ত করছি।সেইজন্য সরি। :হুম ঠিক আছে। :কি!ঠিক আছে!আমি তাহলে তোমাকে সারাজীবন বিরক্ত করতে পারব। :আমি তা বলি নাই :তুমিতো বলছো ঠিক আছে :এইসব বলতে আমাকে এখানে নিয়ে আসছো। :না।আমার অন্য কথা আছে :হুম বল কি বলবা :রোদ আমি আসলে(মেঘ চুপ হয়ে যায়) :হুম কি বল :ইয়ে মানে আমি তোমাকে...... :কি আমাকে আবার বিরক্ত করবে তোমরা শহরের মেয়ে আর আমি গ্রামের ছেলে আমাদের মতো ছেলেদের নিয়ে মজা করা তো তোমাদের নিত্য দিনের কাজ।আর আছি তো একবছর সমস্যা নাই।এতদিন সহ্য করতে পারছি আর কয়টা দিনও পারব। :এতো কথা বলো কেন আমি কি তাই বলছি :তো কি বলবে তাড়াতাড়ি বল আমার বাসায় যেতে হবে :হুম বলছি(মেঘ ক্রমশ ঘামে ভিজে যাচ্ছে।অনেকক্ষণ চুপ থেকে...) :রোদ আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি।মানে ভালবাসি। gjরোদ নিরব) :কিছু বলো রোদ? :এটা সম্ভব না :কেন? :আমি এখানে পড়াশুনা করতে আসছি প্রেম করতে না। :তাতে কি হয়েছে পড়াশুনা তো পড়াশুনার জায়গায়।আর প্রেম প্রেমের জায়গায়।প্লিজ না করো না। :আমি তো বললাম সম্ভব না :আচ্ছা এসব ব্যাপারে তাড়াতাড়ি কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।তোমাকে রাতটা সময় দিলাম ভাবার জন্য। রোদ বাসায় চলে যায়।পরেরদিন ক্লাস ছুটির পর একরকম পালিয়ে চলে যায় রোদ।এদিকে মেঘ পুরো ক্যাম্পাসে রোদকে খুজতে থাকে।পরে না পেয়ে চলে যায়।এরপর শুক্রবার থাকায় কলেজ বন্ধ তাই মেঘ আর রোদের দেখা হয় না।মেঘ খুব অস্থিরতা অনুভব করে।নিজেকে আর বেধে রাখতে না পেরে রোদকে আবারও ফোন দেয়....... রোদের ফোন বাজতো থাকে কিন্তু ধরে না।মেঘ তিন-চার বার ফোন দিয়ে আর দেয় না।রোদের উপর খুব রাগ হয় মেঘের। শনিবার দিন ক্লাসের শেষে রোদের হাত ধরে মেঘ বাহিরে নিয়ে যায়...... :রোদ তুমি আমার ফোন রিসিভ করো নাই কেনো? :আমি অপ্রয়োজনীয় কল রিসিভ করি না :খুব ভাব তাই না।আচ্ছা এ ব্যাপারে কথা না বলি।আসল কথায় আসো সিদ্ধান্ত কি নিছো :সেটা তো আমি বলছি একবার :কি,সম্ভব না তাই :হুম :শোন রোদ সম্ভব কিভাবে করতে হয় আমি ভালো করে জানি।কিন্তু তার পরিণাম ভালো হবে না।তোমার সম্পর্কে আমি সব তথ্য জানি কারো সাথে প্রেম করো না তাও জানি।আর তাই আজ থেকে তুমি শুধু আমার।(মেঘ কথাগুলো বলে চলে যায় আর রোদ অবাক হয়ে দাড়িয়ে ভাবতে থাকে এটা কি মেয়ে নাকি দস্যি মেয়ে।এরভিতর মেঘ আবার চলে আসে.......... :আর শোনো কোনো মেয়ের সাথে যদি অস্বাভাবিকভাবে দেখি তাহলে ঐ মেয়ে আর তোমার কি করব কল্পনাও করতে পারবে না রাতে আবার মেঘ রোদকে ফোন দেয়।রোদ ফোন বন্ধ করে রাখে।রোদের উপর খুব রাগ হয় মেঘের।ছেলেটার এতো ভাব কেন বিড়বিড় করে বলতে থাকে মেঘ। কলেজে যাওয়ার পর মেঘ দেখে রোদ আর একটা মেয়ে পাশাপাশি বসে আছে।মেঘ মেয়েটাকে উঠিয়ে দিয়ে নিজে রোদের পাশে বসে।স্যার ক্লাসে আসলে বই বের করে সবাই কিন্তু মেঘ ইচ্ছে করে বের করে না ।একসাথে দু'জনে একটা বই দেখবে তাই।মেঘের এসব পাগলামি অসহনীয় পর্যায় চলে যায় রোদ সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একদিন রোদ,অনি আরও কজন বন্ধুরা একসাথে বসে আছে।এরমধ্য মেঘ এসে রোদের ফোনটা হাত থেকে নিয়ে নেয়.... :রোদ তোমার এতো বড় সাহস আমার পিকে কখনো লাইক দেও না আর অর্পার পিকে লাভ ইমোজি দেও।তোমার ফোন আজকে তুমি পাবে না। (রোদ খুব উত্তেজিত হয়ে পরে) :এই মেয়ে তোর কথা মতো আমাকে চলতে হবে কি মনে করিস নিজেকে। সেই কলেজের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অনেক বিরক্ত করছিস আমাকে।ঐ তোর মতো একটা থার্ড ক্লাস মেয়ের সাথে আমি প্রেম করবো কি করে ভাবলি :চুপ কর রোদ বেশি হচ্ছে(অনি) :তোরা চুপ থাক তোদের এই নিরবতা এইসব মেয়েদের সুযোগ করে দেয়।আর এই মেয়ে শোন তোর মতো এই রকম কোনো মেয়ে আমার জীবন সঙ্গী হবে না।সে অবশ্যই নম্র,ভদ্র,সত্যিকারের বাঙালি মেয়ে হবে।আর তোর যদি লজ্জা থাকে তাহলে আর আমার সামনে আসবি না রোদ মেঘের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে চলে যায়।মেঘ নিরবে দাড়িয়ে থাকে। (চলবে........)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now