বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ দীর্ঘদিন পর জীবনের পুরোনো ক্ষত টা হঠাত করে জেগে উঠেছে আর তার কারণ টা হলো সুমনের সাথে দেখা হওয়া।
চোখের সামনে সোনামুড়ানো অতীত টা ভেসে উঠছে
আর সেখান থেকে একটি কথা বার বার কানে ভেসে আশছে""তুই খুনির ছেলে,তুই খুনির ছেলে,তুই খুনির ছেলে"""
না আর নিতে পারছে না জিবন মাথা ঘুরে পরে গেলো অফিসের করিডোরে।
একজন স্টাফ পরে যেতে দেখে দৌড়ে এসে জীবন কে উঠানোর চেষ্টা করছে।
মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তাকে নেওয়া হলো রংপুর সদর হাসপাতালে।
প্রায় ৩ ঘন্টা পর জীবনের জ্ঞান এলো।
চোখ খুলতেই দেখতে পেলো কে জেনো পাশে বসে মাথা নিচু করে কাঁদছে।
জিবন কে বলার সাথে উঠে চলে গেলো রিয়া।
জীবন ভেবে পায়না রিয়া মেয়ে টা কে এতবার তার সামনে আসতে না করা সত্বেও আসে কেনো।
(এ হলো রিয়া যে কিনা জীবনের কাছে প্রেম নিবেদন করে বার বার পেয়েছে শুধু অপমান)
জীবন মুখে বিরক্তি নিয়ে তার সহোযোগি কে ডাকতে লাগলো।
জীবন:খালিদ সাহেব আমি হাসপাতালে কেনো।
খালিদ সাহেব:স্যার আপনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পরে গিয়েছিলেন. জীবন:????ও ঠিক আছে আপনি আসতে পারেন আর ডাক্তার কে ডেকে দিন একটু।
রিয়া:আচ্ছা ডাক্তার ওনার মাথা ঘুরে পরে যাওয়ার কারণ কি?
ডাক্তার:দেখুন উনি একটা পুরোনো সৃতি নিয়ে মাঝে মাঝে টেনশন করে এই কারণে মাথায় সমস্যা হচ্ছে,এর জন্য এর আগেও বেশ কয়েক বার আমাদের সাইকোলজি বিভাগে এসেছিলো।
খালিদসাহেব:ডাক্তার আপনাকে স্যার ডাকছেন।
(ডাক্তারের পিছন থেকে)
ডাক্তার:ঠিক আছে মিস.রিয়া
যেটা বললাম তা আবার জীবন সাহেব জেনো জানতে না পারে।
রিয়া:আপনি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
খালিদ সাহেব:ম্যাডাম কিছু মনে না করলে একটা কথা বলবো।
রিয়া:কি বলবেন খালিদ সাহেব তা আমার অজানা নয়।
খালিদ সাহেব:জানেন যখন তখন কেনো এনার পিছনে পরে আছেন?
রিয়া: ???? মন দিয়েছি যে।
খালিদ সাহেব আর কিছু বলেন না।
কী জীবন সাহেব কি অবস্থা এখন: ডাক্তার
জীবন:জী আলহামদুলিল্লাহ আমি কি আজকে যেতে পারবো??
ডাক্তার: আরে এতো তড়া কিসের আর তাছাড়া এটা তো বেসরকারি হাসপাতাল না যে আপনার কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হবে।
জীবন:হাসালেন ডাক্তার আপনি জানেন যার টাকা,বাড়ী,গাড়ী কোনোটারি অভাব নেই সে করবে টাকা কে ভয়।
ডাক্তার:তো রিয়া কে বিয়ে করতে সমস্যা টা কী??মেয়ে টা কোন দিক থেকে কম।
জীবন:????দেখুন ডাক্তার এটা আমার ব্যাক্তি গত ব্যাপা,এ বিষয়ে কথা না বললে খুশি হবো তাছাড়া আপনি আমার সম্পর্কে কিছু টা হলেও জানেন।
ডাক্তার:তাই বলে এভাবে আর কতদিন?
জীবন:যতদিন পারা যায়।
ডাক্তার:দেখুন যদিও আপনার ব্যাক্তিগত বিষয় তবুও বলছি রিয়া মেয়ে টা আপনাকে একটু বেশিই ভালোবাশে হারিয়ে ফেলেবেনা থামুন থামুন আমাকে শেষ করতে দিন "'সবাই কিন্ত এক না "" এটা আমি বলছি বাকিটা আপনার ব্যাক্তি গত ব্যাপার,"""খুনির ছেলে"""
আশাকরি আমাদের আর দেখা হবেনা আর হ্যা আপনি আজকে চলে যেতে পারেন,বলে ডাক্তার চলে গলো (জীবন কিছু বলতে চাচ্ছিলো ডাক্তার তাকে থামিয়ে দিয়ে)।
জীবন কে ডাক্তারের শেষ কথাটা চিন্তায় ফেলে দিলো""আশা করি আমদের আার দেখা হবে না"" এটা বলে ডাক্তার কি বোঝাতে চাইছে।
জীবন:ধূর কি আবল তাবোল বলে গেলে তা নিয়ে মাথাখাটিয়ে লাভ নেই বাসায় যাওয়ার ব্যাবস্থা করতে হবে।
পরে জীবন খালিদ সাহেবের সাথে বাসায় গিয়ে ২দিন রেস্ট নিয়ে অফিসের কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।
এদিকে রিয়া জীবনের সমস্ত আত্মীয়, বন্ধুর,কাছে জীবনের সম্পর্কে জানতে চায় কিন্তু কেউয়ি কিছু জানে না।
শেষে রিয়া তার বাবাকে দিয়ে বলিয়ে তার সাথে দেখা করার কথা বলে। কারণ রিয়া জানে জীবন ভুলক্রমেও তার কথা মানবে না।
আজ জীবন রিয়ার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে যদিও বা তার কোনো ইচ্ছে ছিল না তবু্ও রিয়ার বাবার কথা রাখতে তাকে যেতে হচ্ছে। (কিছুক্ষন পরে রিয়াদের বাসায় পৌঁছে)
জীবন:আঙ্কেল রিয়া কোথায়?
রিয়ার বাবা:এসেছো তাহলে রিয়া যেভাবে বলছিল তাতে তো মনে হয়েছিলো আর আাসবেই না যাও রিয়া বাগানে বসে আছে।
জীবন: আঙ্কেল আপনার এমনটা মনে হবার কারন টা জানতে পারি কি?
রিয়ার বাবা: না না এমনিই বললাম আর কি কথা না বড়িয়ে তুমি বরং বাগানের দিকে যাও রিয়া অপেক্ষা করছে।
জীবনও আর কথা না বলে বাগানের দিকে হাটা দিল।
বাগানে ডুকতেই দেখলো বাগানের পশ্চিম দিকে রিয়া বসে আছে।
জীবন গিয়ে তার পাশের টুলটাতে বসলো আর সাথে সাথে রিয়া বলে উঠলো
রিয়া:তোমার সাহস কি করে হলো আমার পাশে বাসার।
জীবন রিয়ার এরকম আচরণে বেশ অবাক হলো যে মেটা তার সাথে পার্কে একসাথে বসে কথা বলার জন্য পাগল ছিলো সে কি না তার পাশে বসার জন্য অনুমতি নিতে বলছে।
জীবন;আমি কি বসতে পারি।
রিয়া: কোনে খুনির ছেলের সাথে আমার কোনো কথা থাকতে পারে না।
ঠাস,ঠাস,ঠাস (জীবন রিয়াকে চড় মেরে)
জীবন:এই মেয়ে কি পেয়েছো কি হ্যা তুমি আমার বাবা সম্পর্কে জানো টা কি হ্যা। আমার বাবা পরিস্থিতির শিকার আর কেউ না জানলেও আমি জানি আমার বাবা জেলির বাবা কে খুন করে নি বরং জেলির বাবাই আমার বাবা কে খুন করতে পিস্তল নিয়ে গুলি করতে চাইলে ২ জনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় আর তখনই হঠাৎ গুলি বেড়িয়ে জেলির বাবা মারা যায় আর মিথ্যা মামলায় ফাসির দড়িতে ঝুলে আমার বাবা।
বলে জীবন সামনের দিকে পা বাড়ায় আর তখনি ২টো হাত পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে জীবন কে আর বলে.....
রিয়া:আমি জানতাম সুমন ভাই কখনো মিথ্যা বলবে না।
জীবন অবাক হয়ে পিছন ফিরে জিজ্ঞাসা করে....
জীবন:সুমনের কি বলেছে তোমাকে?
রিয়া:তোমার বাবা খুনি না।
জীবন:কিন্তু সুমনের দেখা পেলে কি করে আর তোমাকে কে বললো আমি "" খুনির ছেলে"""।
রিয়া:ওটা বললে যে তুমি রেগেযাও তা ডাক্তার বলেছে আর তোমার সকল আত্মীয়, বন্ধুর কাছে থেকে যখন এ সম্পর্কে জানতে পারছিলাম না তখন হঠাৎ সুমন ভাই এর সাথে দেখা তারপর উনি সব বললেন আর ওনার সেদিনের ব্যাবহারের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
জীবন:আসলে দোষটা আমার আমি যদি বাবার মৃত্যুর পরে সুমন কে সত্যি টা বলে আসতাম তাহলে এতো কিছু হতো না।
রিয়া:হোইছে আর দোষ খুঁজে কাজ নাই বিয়ের জন্য সব কিছুই রেডি খালি কবুল বললেই শেষ।আর একবার বিয়ে টা হয়ে যাক তারপর দেখাবো কত ধানে কত চাল।
এই বলে জীবন কে টেনে নিয়ে গিয়ে জোর করেবিয়ে করায়।
জীবনও আর বাঁধাা দেয়না।
আজ রিয়া আর জীবনর প্রথম বিবাহ বার্ষীকি ছিলো তাই অনেকে এসেছেন আর সাথে এনেছে সুন্দর গিফট দিন শেষে দুজন মিলে তাই খুলে দেখছে।
হঠাত একটা গিফট খুলে জীবন চমকে উঠে গিফটা ছিলো ডাক্তারের। গিফটা খুলে দেখে ভিতরে একটা চিরকুট আর তাতে লেখা ছিলো
"খুনির ছেলে"""
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now