বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নানুবাড়িতে গিয়েছিলাম কয়েকদিন আগে প্রায় দেড়বছর পর। আসলে,আমার মামাতো বোনসহ সমবয়সী সবাই এখন পড়ালেখা এবং আরো অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে তেমন থাকেনা। তাই আমারো যাওয়া হয়না। কারণ, ওরা না থাকলে নানুবাড়ি আমার কাছে ফাঁকাফাঁকা মনে হয়। কিন্তু এবার মামাতো ভাইবোন সবাই ছিলো তাই গিয়েছিলাম।
ওখানে থাকাবস্থায় পাশের বাসার এক মামীর বাসায় গিয়েছিলাম আমি আর আমার মামাতো বোন। ওখানে গিয়ে আমি, আমার মামাতো বোন আর যাদের বাসায় গিয়েছি সেই মামীর মেয়ে এই তিনজন মিলে হাসিঠাট্টায় বেশ মেতে উঠেছিলাম। ঠিক তার কিছুক্ষণ পর বাসায় গ্রাম্য একজন মহিলা আসে।
তিনি বাসায় ঢুকেই বেশ মনযোগ আর আগ্রহ নিয়ে আমাদের দেখছিলেন। ওভাবে এক ধ্যানে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে আমরা বেশ বিব্রতবোধ করছিলাম। পরে অবশ্য তার তাকিয়ে থাকার কারণ বুঝতে পারলাম। তিনি মূলত একজন মহিলা ঘটক। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাত্রী খুঁজছেন সম্বন্ধ করাবেন বলে। তো আমাদের কাছে ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং এবং একইসাথে অস্বস্তিকর মনে হলো। কারণ, এর আগে কখনোই এরকম পরিস্থিতে পড়িনি।
যাদের বাসায় গিয়েছিলাম, সেই মামী এই ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের তিনজনের সাথে বেশ মজা নিচ্ছিলেন। তিনি ঘটক মহিলাকে বললেন, "অনেকক্ষণ ধরেই তো পাত্রী দেখলেন। একজন নয়, তিন তিনজন পাত্রী। এবার বলুন তো, তিনজনের মধ্যে কোন জনকে মনে ধরেছে?" ঘটক মহিলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললো, "মাইয়া তিনটাই ভালোই আছে। সব চাইতে পছন্দ হইছে উনারে( আমাকে দেখিয়ে বললেন)।
এই কথা শুনার পর তো বাকি দুইটা ফাজিল হেসে কুটিকুটি। আর আমি তো পুরাই সাইলেন্ট মোডে চলে গেছি। যাইহোক! তারপর তিনি আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন, তোমার নাম কী? বাড়ি কোথায়? এই বাড়িতে কোন আত্নীয়ের বাসায় এসেছো? কীসে পড়ো? এইসব আর কী!! আমার আর কী করার!! ভদ্রতার কারণে বাধ্য হয়েই উত্তর দিলাম। নাম বললাম। বললাম যে, এইখানে আমার নানুবাড়ি, বেড়াতে এসেছি। পরে বললাম যে, আমি অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ি।
অনার্স থার্ড ইয়ারের কথা শুনে মহিলা বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বেশ ভেবেচিন্তে বললেন, আই. এ পাশ করছো তো?? উনার কথা শুনে আমরা তিনজনই পুরা তাজ্জব। পরে বুঝলাম উনি যেহেতু নিরক্ষর মানুষ তাই অনার্স মানেই বুঝতে পারেনি। পরে মামী বললো, মেয়ে আই. এ শেষ করে এখন বি. এ পড়ে। আর একবছর পর বি.এ পাশ করবে। এইবার তিনি বুঝলেন।
কিন্তু কী বুঝলেন আর আদৌ বুঝেছেন কিনা সেটাই ভাববার বিষয়। কারণ, এরপর যখন মামী জিজ্ঞেস করলেন, যেই পাত্রের জন্য মেয়ে দেখছেন সেই পাত্র কী করে?" তখন তিনি বললেন, "পাত্র বেশ ভালো। এর মতো ভালো পাত্র আর হয়না।" এই শুনে মামী তো বেশ আগ্রহী হয়ে উঠলেন পাত্রের ব্যাপারে। তখন তিনি হাসিমুখে জানালেন যে, পাত্র মেট্রিক পাশ করে বর্তমানে মাইক্রোর ড্রাইভার।
এই কথা শোনার পরে বজ্জাত দুইটা তো আরো বেশি করে হাহাহিহি করা শুরু করে দিলো। আর ওদের হাসি দেখে আমার প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হতে লাগলো। পরে অবশ্য আমাকে খ্যাপানোর মাশুল ওদেরকে সুদে-আসলে দিতে হয়েছে। রাতের বেলায় আমরা তিনজন প্রতিদিন একত্রে ঘুমিয়েছি। সেই সুযোগে একটাকে পাউডার মাখিয়ে, আরো অনেক অত্যাধিক উন্নত মেকআপ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ছবি তুলেছি। আর বাকি অন্যজনের অবস্থা আরো করুন করেছিলাম।
আর সেই ঘটক মহিলাকে মামী এই বলে বিদায় করলেন যে, "পাত্র তো অনেক বেশিই ভালো, তার উপর আবার মেট্রিক পাশও করেছে। আর মেয়ে তো শুধু অনার্স করছে। তাই অতো ভালো পাত্রের সাথে এই মেয়ে বিয়ে দেয়া ঠিক না। তিনি যেন তার অনেক ভালো পাত্রের জন্যে আরো অনেক বেশি ভালো পাত্রী খুঁজে নেয়।" মহিলা যেহেতু বোকাসোকা আর নিরক্ষর তাই বুঝতেই পারেনি।
SUBORNA AKHTER ZHUMUR
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now