বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"মেয়েটার নাম রূপা"

"মজার অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X - তা তোমার ডাকনাম টা যেন কি? - জ্বী শুভ। - বাহ চমৎকার। আমাদের মেয়ের ডাকনাম রূপা। শুভ-রূপা বেশ মিল। আমি ঠোটের কোণায় কৃত্তিম হাসি ফুটিয়ে হাতের পানির গ্লাস নিয়ে মনে মনে মেলাতে লাগলাম শুভর সাথে রূপা ঠিক কোথায় মেলে! হিমু-রূপা মিলতে পারে, সোনা-রূপা মিলতে পারে কিন্তু শুভ-রূপা! এমন সময় কাকা সজোরে পাশ থেকে বলে উঠল, - কি? কোপা?  বলে রাখি, উনি কানে একটু কম শোনেন। যার দরূন মাঝে মাঝেই এমন বিব্রতকর পরিবেশের সম্মুখিন হতে হয়। এবং এর জন্যেই গত ১৪ টি বিয়ে ভেস্তে গেছে এবং আমার ইচ্ছা পূরণ হয়ে এসেছে। এজন্য বাড়ির লোকের উর্ধ্বে গিয়েও আমি কাকাকে সাথে করে নিয়ে আসি। একটা পরিবার কিজন্য বা কার দুঃখে একটা ছেলেকে বিয়ে না দিয়ে পেটের ভাত হজম করতে পারে না এটা আমার মাথায় আসে না। আরে আমি বিয়ে করে করব টা কি? আমি করি ঘোরাফেরা। এদেশ ওদেশ এটাই আমার নেশা। এখন ঘরে আটকায় রাখার মানে কি? কে শোনে কার কথা, উঠতে, বসতে, খেতে, শুতে এমনকি টয়লেটে যেতে খোটা খেতে হবে জানলে শালা দেশেই ফিরতাম না। সে যাকগে আমরা কোপাকুপিতে ফিরে আসি আই মিন কাকার কথায় ফিরে আসি। শুভ-রূপার মিল খুজতে খুজতে সবে একঢোক পানি মুখে নিয়েছিলাম কাকার কথায় "ফ্রুত" করে সে পানি বৃষ্টির ন্যায় অতি সুক্ষ ফোটায় কন্যার শরীরে গিয়ে পড়ে কন্যাকে মাখিয়ে দিল। কাকা কন্যার আম্মার দিকে চাওয়া, আমি বিষ্ফোরিত চোখে একবার কন্যা একবার কাকার দিকে চাইছি, মুখে সামান্য পানি আছেই তাই মুখ হালকা ফোলা অবস্থায় আছি, রূপা মেয়েটা লাফ দিয়ে চেয়ার থেকে উঠে হাত দিয়ে শাড়ি থেকে পানি ঝাড়ার চেষ্টা করছে। বাকি সবাই হতভম্ব। এই পরিস্থিতিতেই আমি 'খুক' করে হেসে দিয়ে দুহাত দিয়ে প্রানপনে মুখ চেপে ধরেছি। কিন্তু তাতে হাসি আরো বেশি করে আসছে। কোনমতে ঢোক গিলে পানিটা শেষ করে বললাম, আমি ভিষন দুঃখিত। আমি আসলে, এটুকু বলেই হাসি আর থামাতে না পেরে হাসতে হাসতেই বললাম আমি আসলে, আমি আসলে, এটা একটা দূর্ঘটনা, দয়া করে কিছু মনে করবেন না। বলে হেসেই চলেছি। আম্মু চিৎকার দিয়ে বলল, শুভ। আমি বললাম, ক্ষমা চাইছি। আম্মু তাদের উদ্যেশ্যে বলল, কিছু মনে করবেন না আপা, আসলে আমার দেবরটা কানে একটু কম শোনে। আক্কেল একটু কম আছে তো... কাকা তার মধ্যেই আবার বলল, কার বেল কম পরছে? আর বেল ই বা কে আনল? কোথায় বেল! এবারে সবাই হেসে ফেলল, আম্মু কাকাকে অতি নিচূ কিন্তু রুক্ষ স্বরে বলল, তুই চুপ করবি? তোকে না বাসায় বলে আনলাম এখানে এসে মুখ খুলবি না, তারপর ও এটা সেটা বলেই যাচ্ছিস। তারপর আবার তাদের উদ্দেশ্যে বলল, দেখলেন তো আপা, মনে কিছু নিয়েন না। কন্যার মা বলল, না না, বুঝতে পেরেছি। শুধু কন্যার মুখ 'ব্যাজার'। এরপর কন্যার মা আমাকে বললেন, তোমরা গিয়ে নাহয় আলাদা করে কথা বলে আস বাবা, যাও। এই রূপা যা মা শুভকে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে কথা বল। মেয়েটা ব্যাজার মুখেই আমাকে বলল, আসুন। আমি পড়লাম মহাবিপদে, একেতো আমার মাথায় এখনো 'কোপা' বাজতেছে হাসি চাপিয়ে রাখছি কোনমত কষ্টেসৃষ্টে উপরন্তু আমি মেয়েদের সাথে কথা বলতে পারি না তার ও উপর কিছুক্ষন আগে মেয়েটার উপর কুলিই করে দিয়েছিলাম এখন গিয়ে কি কথা বলব? তবু বাধ্য এবং ভদ্র ছেলের ন্যায় মেয়ের সাথে সাথে গেলাম। রূপা বলল, - বলুন। - আপনার নাম রূপা? - না, আমার নাম কোপা। আপনি? (হাসতে হাসতে)  - জ্বী আমি শুভ। ভালো আছেন আপনি?  (রেগে সাদা গাল লাল করে) - আপনি হাসছেন কেন? অদ্ভুত তো! (আরো জোরে হাসতে হাসতে) - দুঃখিত। তবে কেন জানি না আমি হাসি থামাতে পারছি না। ক্ষমা চাইছি।  - খুব মজা না? - জ্বী! তা আমাকে আপনার পছন্দ হয়েছে? - জ্বী না! আপনারা চলে যাচ্ছেন না কেন বলুনতো? (অতি নিচু স্বরে, পাগল ছাগল যতসব) - আলহামদুলিল্লাহ। - মানে? - দয়া করে না করে দিবেন আপনার আম্মাকে। - বুঝলাম না। - কিছু মনে করবেন না। আপনাকে অপমান করতে চাই নি। তবে আমার আম্মুর জোড়াজুরিতে এই মেয়েদেখা। এবং দুনিয়ার চাইতে আমার কাছে আমার আম্মু অনেক বেশি দামি। তাই তাকে কষ্ট দিতে পারব না। এমনিতেও আমি বছরের ৮ মাস বাইরে ঘোরাঘুরি করি। বাসায় এসে আম্মুর হাসিখুশি মুখ না দেখলে দুনিয়া ওলট পালট লাগে। দয়া করে কিছু মনে করবেন না। আবার ও ক্ষমা চাইছি আপনার কাছে। এবং আন্টিকেও বলে দিবেন যাতে আমাকে গালাগালি করে, আমার পরিবারকে যেন না করে।  (হতভম্ব হয়ে)  - ঠিক আছে। - জ্বী আসি আজকে। আবার পথে কোনদিন দেখা হলে কথা হবে ইনশা আল্লাহ। মিস কোপা আই মিন রূপা। হে হে। - দয়া করে আসুন। বারান্দা থেকে বসার ঘরে এসে দেখলাম আম্মু এবং কন্যার মা বেশ হাসিখুশি ভাবে খোশগল্পে মেতে আছেন। নিজের কাছেই কেমন খারাপ লাগল। পিছনে ফিরতেই দেখি রূপা মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখাচুখি হতেই চোখ নামিয়ে নিল। মুখে বিষন্নতার ছাপ। এর আগে ১৪ জনের সবার মুখেই রাগ, ঘৃনা আর অসহ্যের চিহ্ন পেয়েছি। এই মেয়েটার মুখে বিষন্নতা কেন বুঝলাম না। আমার উদ্বিগ্নতার ভয়ংকর রোগ আছে, প্যানিক অ্যাটাকে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে হুট করেই। এখন যদি এই প্রশ্নটার উত্তর না পাই তো আমি পটল তুলতে পারি। তাই ওখানে দাড়িয়েই জিজ্ঞেস করলাম, বিয়ে করবেন আমাকে? উনি বেশ শক পেয়ে চোখ দুটো ইয়া বড় করে তাকালেন আমার দিকে। আমি প্রশ্নাতুর চোখে অস্বস্তি মুখে তাকিয়ে আছি ওনার দিকে। উনি ঘার কাত করে স্বম্মতি জানালেন। ঘর ভর্তি সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো এমন কি আমার কাকা ও।  দিন তারিখ পাকা করে গাড়ি নিয়ে আসতে আসতে রাস্তায় কাকা জিজ্ঞেস করল, ফেসে গিয়ে কেমন লাগছে? আমি বললাম, মন্দ না। কাকা বলল, বন্দনা? কিসের বন্দনা। আমি বললাম ধুর মিয়া, কই বার্সেলোনা, কই পাতিলের তলা! - মেয়েটার নাম রূপা। লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now