বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টিকটিকি সমাচার

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শেখ মোঃ নাঈম (০ পয়েন্ট)

X বারান্দা ভরে গেছে মানুষে। সবাই হায় হুতাশ করছে। আপসোসের শেষ সীমা যেনো অতিক্রম করবেই বলে তারা প্রতিজ্ঞা করেছে। গ্রামের মাতবর হিসেবে আদম সাহেবের বাড়িতেই সবাই এসেছে। যদিও কিছু করার নাই, তাও সকলেই জোট বেঁধে একসাথে কাঁদতে চায়। কথায় আছে," দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।" যদিও এক্ষেত্রে কাজটা বোকামী হলেও লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আদম সাহেব ঘরের ভিতরে বসে এই বিকাল-সন্ধ্যার সন্ধিক্ষণ সময়ে জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখেন। হাতে এক কাপ চা আর পাশে সাজানো কয়েকটা পান থাকে। এই সময়ে এই কাজগুলোই ওনার দৈনন্দিন রুটিন। এক্সিডেন্টে পা দুটো বিকল হওয়ার পর থেকে হুইল চেয়ারে বসে এই অভ্যাস করেছেন ৭বছর ধরে। কিন্তু আজ সেই ৭ বছরের রুটিনে যেনো ঘুণ ধরলো। বিকাল থেকেই বারান্দায় হইচই শুরু হয়ে গেছে। উনি মেয়ের সাহায্যে বারান্দায় গিয়ে বসলেন। জনা পঞ্চাশেক গ্রামেরই মানুষ। উনি জিজ্ঞেস করলেন,"হইছেডা কি তোমাগো?? এই অসময়ে এমন হায় হায় করতাছো কেন?? এই কালী সন্ধ্যার সময় এমন করা অলক্ষণ তোমরা কি বুইলা গেছো নাকি?" কিন্তু কেউ কোনো কথা বললো না। সবাই বাচ্চাদের মতো কাঁদতেছে আর কেউ কেউ মাটি চাপড়াইয়া হাহাকার করতেছে। আদম সাহেব এবার দিলেন ধমক, "হোই মিয়ারা, ঠাট্টা করার জায়গা পাও না?? মাইয়া মাইনষের মতো কান্তেছো ক্যান?? কি অইছে সেইডাও কও না, আবার চিল্লা পাল্লা করতেছো বাড়ির 'পর ??" একজন বললো," মাতবর সাব। চাষের জন্যে আমরা সবাই এক জোটে কাম করি সেইডা তো আফনে জানেনই? আফনের কতায়-ই তো আমরা ওই সুমবাই(সমবায়) না কি কইরে য্যান কাম করলে ভালা অয়? ওইডা করি।" মাতবর আদম সাহেব বললেন, -তো তাতে কি হইলো আবার? এতকাল ধইরাই তো করতেছো, আর লাভও হইতাছে তোমাগো। লস তো আর অয় নাই। -হ মাতবর সাব, হেইডাও হাছা কতা। কিন্তু এইবার তো আমাগো সর্বনাশ অইয়া গেলো। আমাগো মাথায় বারি মাতবর সাব। -আরে মিয়া হইছেডা কি সেইডাই তো কইতাছো না। মেজাজ খারাপ অইয়া যাইতেছে কিন্তু! কি অইছে সেইডা কও, নাইলে বাড়ি চইলা যাও। -মাতবর সাব, এইবার আমরা রহিম মুন্সীরে আমাগো সুমবাই(সমবায়) এর সভাপতি করছিলাম। আমাগো ট্যাকা পয়সা সব হের কাছে দিছিলাম। আপনিই তো কইছিলেন সুমবাই(সমবায়) সব একসাথে করে কাজ করলে উফোকার হয়। এতকাল তো তাই হইয়া আসতেছিলো, কিন্তু এইবার রহিম মুন্সী আমাগো ট্যাকা নিয়ে ভাগছে মাতবর সাব। আমরা তো শ্যাষ। আমাগো কি হইবো!! - ধুর মিয়ারা এতক্ষণ পর কি কও? তোমরা জানো না রহিম একটা গাছপাকা ছিটার। বাটপারের ঘরের বাটপার। ওরে সভাপতি করলা কেন, আর করছো ভালো কথা,তো ট্যাকা ওরে দিছো ক্যা? ওর কথা মিষ্টি কতায় বিশ্বাস করতে কইছে কেডায়? -মাতবর সাব,দোষ আমাগো না। সে আইসা সুন্দর সুন্দর কথা বললো। আমরা ভাবছিলাম যে মিথ্যে কইতেছে। কিন্তু তার কতা শ্যাষ অইতে না অইতেই একটা জেটি(টিকটিকি) ঠিক ঠিক কইলো। তারপর আর বিশ্বাস না কইরা কেমনে থাকি কন?? **** এরপর দৃশ্যপট গেলো পালটে, সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সবার মাথা থেকে হাত সরে গেলেও, আদম সাহেবের মাথায় হাত। কিন্তু ওনার মাথায় যে কেন হাত সেটাই রহস্য। বিষয়টা গভীর চিন্তার বিষয়। গবেষণা করতে হবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now