বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি নিরব হয়ে বসে রইলাম। চুপ থেকে সবই দেখার চেষ্টা করছি। তুহিকে এনে আমার পাশে বসানো হলো। তারপর সবার উপস্থিতিতে কাবিননামায় সই করিয়ে ইসলামি নিয়ম অনুসারে আমাদের বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। এরপর সবাই মিলে শ্বশুরবাড়িতে খাওয়া দাওয়া করলাম। দারুণ হাসি ঠাট্টাও চলছে। এদিকে আমার সহোদর শালী জোনাকি বারবার আমাকে উল্টো পাল্টা প্রশ্ন করে বিব্রত করছে। নতুন জামাই হিসেবে দাঁতের মধ্যে দাত চেপে সহ্য করে আছি। নয়তো আমিও খেলা দেখাইতাম। আমি কতটুক খেলা জানি সেটা হয়তো ওরা জানেনা! তাই না বুঝে আমার সাথে বোকামিটা করছে। রাত নয়টা পর্যন্ত এভাবেই সহ্য করে থাকতে হলো তারপর সবাই মিলে তুহিকে সাথে নিয়ে বাসার দিকে রওনা হলাম। গাড়ীতে বসে আছি, তুহি আমার পাশে বসা। নিজের অনুভূতি টা একদম অন্যরকম মনে হলো। কেমন জানি নিজেকে পরিপূর্ণ মনে হচ্ছে। তুহি লজ্জায় হয়তো মুখ নিচের দিকে করে রেখেছে, নয়তো নিয়ম রক্ষার্থে, বুঝতেছি না। আমি একটু সরে আসলাম ওর কাছ থেকে। শিমু কাছে আছে! না জানি কি করে ফেলবে? নিজেই সাবধান হওয়া অনেক ভালো। অতঃপর প্রায় দেড়ঘন্টা ভ্রমণের পর আমরা চলে আসলাম বাসায়। রাত ১০.৩০ ভেজে গেছে অলরেডি! বাসর ঘর আজ হবে কি না সেটাই নিয়ে বড় চিন্তায় আছি। তুহিকে নিয়ে সবাই কোথায় চলে গেল। আমি রুমে গিয়ে হাঁদারামের মতো শুয়ে আছি। মোবাইল বের করে ইন্টারনেটে প্রবেশ করলাম। 'বাসর ঘর' সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য সার্চ দিলাম। অনেক কিছু জানতে পারলাম। ঠ্যানঠ্যান করে কেউ ঘরের দিকে কেউ আসছে বুঝতে পারলে। শিমু দ্যা ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন শয়তান আসছে। এসেই চটাং চটাং করে বলে দিলো,
“ভাইয়া, এখানে বসে আছোস কেন?”(শিমু)
“আমার রুমে আমি থাকবো না তো কে থাকবে?”
“এখন থেকে এইটা তোর রুম নয়! জানালার পাশের রুমটা তোর। ঐখানেই তোর বাসরঘর সাজানো হইছে! এতো সুন্দর করে সাজিয়েছি, দেখলে তোর মন আনচান আনচান করবে।”(শিমু)
“আজকাল অনেক ফাজিল হয়ে গেছিস মনে হচ্ছে। ভাইয়ের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানোস না। আমাদের বাসায় কি বাসের ঘর আছে না কি? সবই তো পাকাঘর!”
“আমি মনে হয় ফিডার খাই! কিচ্ছু বুঝিনা, না! অনেক বড় হইছি আমি, আবোল তাবোল বুঝানো যাবেনা আমায়। সবই বুঝি।”(শিমু)
হইছে! এতো বেশি বুঝতে হবে না। এখন কি জন্য আসছিলি ঐটা বল।”
“নিচে সবাই ওয়েট করতেছে, মিষ্টিমুখ করতে হবে। তাড়াতাড়ি চলে আয়।”(শিমু)
“যা তুই, আসতেছি।”
মিষ্টিমুখ না করে কি বউ কাছে দেয়া যায়না? হুদাই সময় নষ্ট করতেছে সবাই। আমার কষ্টটা কেউ বুঝলোনা। যাক, বাধ্য হয়ে আমাকে যেতে হলো। তুহিকে আর আমাকে পাশাপাশি বসানো হলো। একজন আরকেজনকে মিষ্টির খাওয়াতে হবে এটাই নাকি নিয়ম! মনে মনে বললাম, 'নিয়মের গুষ্টি কিলাই'। আমার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। কখন যে ফজরের আজান হয়ে যাবে কে জানে? তারপরও নিয়ম রক্ষার্থে আমি তুহিকে মিষ্টি খাওয়ালাম, সে খাওয়ালো আমায়! দারুণ উপভোগ করলাম। দুজনের চারদিকে আত্মীয়দের ভীড়। কেউ কেউ শেয়ালের মতো চিৎকারও দিচ্ছেন। প্রায় সবাই হাসছেন আর চেচামেচি করছেন।
রাত যখন ১১.২০ বাজে তখন আমাদের সকল অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি করে আমাকে একা রেখে তুহিকে কোথায় জানি নিয়ে যাওয়া হলো।আমি অসহায়ের মতো চেয়ারে বসে আছি। প্রায় ১০ মিনিট পর, কোনো কথা নেই, বার্তাও নেই! পাশেরবাসার একজন ভাবী এসে আমার হাত ধরে কোথাও যেন টেনে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তুহিকে যেই রুমের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আমাকেও ঐদিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বুঝতেই পারলাম, শিমুর কথামতো নতুন রুমটাতে আজ থেকে আমাদের থাকতে হবে। বিয়ে করে নিজের এতোদিনের সাজানো রুমটা হারিয়ে ফেললাম। আমাকে নতুন রুম তথা আমার বাসর ঘরের সামনে এনে ভাবী বললেন, “দেবর মশাই এবার ভেতরে যাও, আর শোনো যা করার সাবধানে কইরো! সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে!”
“কিহ! সিসি ক্যামেরা! কেন?”
“ঠিকমতো সবকিছু হচ্ছে কিনা আমরা দেখবো তো তাই!”(ভাবী)
“সোনা ভাবী আমার, ক্যামেরাটা কই রাখছো বলো? এই দিনটাতে অন্তত এইরকম কইরো না।”
“এমনি বললাম। ভয় পাইয়ো না। যাও ভেতরে, কিছুই লাগানো হয়নি!”(ভাবী)
ভাবীদের বিশ্বাস করতে নাই, সত্যি হয়তো লাগাতে পারে। ভয়ে ভয়ে রুমে ডুকলাম। আসলেই অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। তুহি লাল সারি পরে বসে আছে, আমি দরজাটি শক্ত করে আটকালাম। তারপর খুজতে লাগলাম সিসি ক্যামেরা! চারদিকে খুজছি, কোথাও পেলাম না। এদিকে তুহি আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। কিন্তু কোনো কথা বলছেনা। ক্যামেরা না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে তুহির পাশে বসলাম। তুহি একটু নড়েচড়ে বসলো। এদিকে আমার ফোন আসছে মোবাইলে। মনে মনে ভাবলাম, হয়তো মাইশা ফোন দিয়েছে। ফোন বের করতে কিছুটা ভয় পেলাম। যদি তুহি কিছু মনে করে। তবুও ভয়ে ভয়ে ফোন বের করলাম, এ তো মাইশা নয়, সুহান ফোন দিয়েছে! যাক তাহলে বিপদ থেকে বাঁচলাম। তুহির কাছ থেকে একটু সরে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করলাম,
“ইডিয়ট! ফোন দেয়ার সময় পাস না মনে হয়! এইসময় কেউ ফোন দেয়?”
“মামা, চলতেছে তো! ভালোই এন্জয় করতেছো তাহলে..!”(সুহান)
“ফোন রাখ শালা! শুধু শুধু অসময়ে জ্বালাস!”
“ওকে মামা। ফোন রাখলাম এখন, কি হচ্ছে, কি হয় নি? মাঝে একটু আপডেট দিও তো।”(সুহান)
ফোনটা নিজ দায়িত্বে কেটে দিলাম। নয়তো বাঁদরটা আরও জ্বালাবে! এমনিতেই বহু সময় লস হয়ে গেছে! নাহলে, এতো সময়ে কতকিছু হতে পারতো। এবার কিছু করার পালা! তুহির দিকে লজ্জাভাব নিয়ে তাকালাম আর বললাম,
“তুহি চলো।”
“এইসময়ে কোথায় যাবে?”(তুহি)
“বাথরুমে যাবো!”
“যাবে তো যাও, আমাকে কেন বলছো।”(তুহি)
“আরে, তুমি বুঝবেনা! এখানে থাকাটা অনেক রিস্কি! আমাদেরকে বাথরুমে যাইতে হবে!”
“আমাদের মাঝে এমন কিছু হইছে কি? যে আমাদের বাথরুমে যাওয়া লাগবে! কেনো ফালতু সময় নষ্ট করছো?”(তুহি)
“কিছু হওয়ার জন্যই তো বাথরুমে যাবো! এখানে থাকলে কিছুই হবেনা। ভাবীরা হয়তো সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে রাখছেন!”
“সমস্যা নাই, সিসি ক্যামেরা লাগালেই কি আর না লাগালেই বা কি?”(তুহি)
“মানে?”
“মানে হলো, আজকে রাতটাতে তুমি যা চিন্তা করতেছো এইরকম কিছুই হবেনা!”(তুহি)
“কি বলো এটা? তাহলে কি হবে আজকে?”
“আজকে তোমাকে কিছু গল্প বলবো, আর তুমি সেটা মন দিয়ে শুনবে।”(তুহি)
“গল্প অন্যদিন শুনবো, আজ বাদ দাও, প্লিজ”
“নাহ, আজকেই শুনতে হবে।”(তুহি)
“বলো তাহলে।”
“মাইশাকে তো চিনো?”(তুহি)
তুহির মুখে মাইশার কথা শুনে কিছুটা ভীত হয়ে পড়লাম। তুহি কি মাইশাকে নিয়ে নতুন কিছু ভাবছে? বুকে সাহস নিয়ে বললাম,
“হ্যা, চিনি।”
“ও কি হয় তোমার?”(তুহি)
“আগে আমার প্রেমিকা ছিল এখন শুধুমাত্র খালাতো বোন।”
“এইটুকুই চেনো?”(তুহি)
“হ্যা, এরবেশি তো চেনার প্রয়োজন নেই।”
“নাহ, আরও চেনার প্রয়োজন আছে, জানারও প্রয়োজন আছে।”(তুহি)
“একটু খুলে বলোতো প্লিজ”
“শোনো তাহলে....
“চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now